ব্লগ

অতীতের মূল্য জানে জার্মানি

প্রাগৈতিহাসিক আমল থেকে নাৎসি বন্দিশিবির ও তার পরবর্তী যুগ অবধি কোনো স্মৃতি বা স্মৃতিসৌধই যে ফেলে দেবার নয়, এ কথা জানেন জার্মানরা৷ তাই সব কিছু সযত্নে বাঁচিয়ে রাখেন৷

মিউনিখ শহরের একটি দৃশ্য

সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বলতে জার্মানির মতো একটি সমৃদ্ধিশালী দেশে যে কী বোঝায়, তার সবচেয়ে বড় নিদর্শন বোধহয় পথে-ঘাটে বহু পুরনো বাড়ির গায়ে ‘ঐতিহাসিক ভবন' হিসেবে লটকে দেওয়া সরকারি তকমা বা ফলক৷ সে ধরনের বাড়ির সংখ্যাও খুব কম নয়৷

বলতে কি, ইউরোপের আবহাওয়ার কারণেই হয়ত এদেশে যুগের পর যুগ চলে যায়, কিন্তু বাড়িঘরের তেমন ক্ষতি হয় না৷ বাড়িঘর তৈরিতে পাথর ও কাঠের – কড়িকাঠের – ব্যবহার বেশি; সেটাও একটা কারণ হতে পারে৷ আর্দ্রতা কম বলে হয়তো ইট বা পলেস্তারায় নোনা ধরে না৷

দ্বিতীয়ত, জার্মানিতে বিংশ শতাব্দীর সূচনা থেকেই আইন করে ঐতিহাসিক ভবন ও স্মৃতিসৌধ ইত্যাদির সংরক্ষণ শুরু হয়েছে৷ আজও স্মৃতিসৌধ সংরক্ষণের ব্যাপারটি কেন্দ্রের নয়, রাজ্যগুলির হাতে – তারাই এই সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন করে এবং আঞ্চলিক কার্যালয়ের মাধ্যমে সেই আইন বলবৎ করে৷

তৃতীয়ত, স্মৃতিসৌধ সংরক্ষণ হলো এমন একটি বিষয়, যেখানে সরকার এবং জনসাধারণের মধ্যে কোনো মতবিরোধ নেই, উভয়পক্ষই এ বিষয়ে পুরোপুরি উদ্বুদ্ধ, এমনকি জনসাধারণের মধ্যে যারা বিত্তশালী নন, তারাও৷ হয়ত এদেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও পাঠক্রমে এমন কিছু আছে, যা মানুষের মনে ঢুকিয়ে দেয় যে, তোমার অতীত তোমার সত্তার অঙ্গ, অতীত ছাড়া তুমি নেই, তোমার জাতি নেই, পরিচয় নেই৷

দশ লাখ ‘ডেঙ্কমাল'

তাই জার্মানিতে সরকারিভাবে স্বীকৃত ও নথিভুক্ত ‘ডেঙ্কমাল' বা স্মৃতিসৌধের সংখ্যা প্রায় দশ লাখ৷ এর মধ্যে পড়ে নানা প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান, অসংখ্য গির্জা – অন্যদিকে চাষবাসের খামারবাড়ি থেকে শুরু করে কারখানার শ্রমিকদের আবাসিক এলাকা; সেই সঙ্গে দুর্গ-প্রসাদ, উদ্যান বা বাগান, শিল্পকারখানা বা সরকারি ভবন: এ সবই ঐতিহাসিক স্মৃতিসৌধ৷

এই সব স্মৃতিসৌধের মধ্যে বেশ কিছু স্মৃতিসৌধ কিন্তু বেসরকারি বা ব্যক্তিগত মালিকানায় রয়েছে – তার মধ্যে কিছু পুরনো বাড়ি হয়ত ভাড়া দেওয়া হয়েছে: কিন্তু সেগুলোরও তো মেরামতি, রক্ষণাবেক্ষণের দরকার৷ বাইরে থেকে সে সব বাড়ি বদলানো চলবে না; ভেতরে রদবদল করতে গেলে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে৷

বাড়ির মালিকরা যাতে তাদের ‘স্মৃতিসৌধগুলোর' ঠিকমতো দেখাশোনা করেন, সেজন্য তাদের কর ছাড় দেওয়া হয়: স্মৃতিসৌধ সংরক্ষণ আইনে সুরক্ষিত বাড়িগুলির দেখাশোনায় যা খরচা হবে, তার একাংশ আয়কর হিসেবের সময় বাদ দেওয়া চলবে৷

ইউনেস্কোর তালিকায়

ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ লিস্টে যে ৮৯০টি ‘মনুমেন্ট' বা স্মৃতিসৌধ আছে তার মধ্যে ৩৩টি হল জার্মানিতে৷ অর্থাৎ যে ১৮৬টি দেশ ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ চুক্তিটিতে স্বাক্ষর করেছে, স্বীকৃত হেরিটেজ সাইটের সংখ্যার বিচারে প্রথম পাঁচটি দেশের মধ্যে পড়ে জার্মানি৷

অরুণ শঙ্কর চৌধুরী

অরুণ শঙ্কর চৌধুরী, ডয়চে ভেলে

বিখ্যাত, সমাদৃত ঐতিহাসিক স্মৃতিসৌধের কথা উঠলে বলতে হবে যে, এক্ষেত্রে জার্মানি ইটালি বা ফ্রান্সের চেয়ে স্বাভাবিকভাবেই পিছিয়ে; কিন্তু জার্মানির মতো এত বেশি স্বীকৃত ও সংরক্ষিত ঐতিহাসিক স্মৃতিসৌধ আর কোনো দেশে নেই৷ এবং এই সংখ্যার আসল গুরুত্ব হলো এই যে, এই সংখ্যা থেকে দেশের সামগ্রিক সচেতনতার একটা আন্দাজ পাওয়া যায়: অর্থাৎ দেশের মানুষরা তাদের নিজেদের ইতিহাস, সেই ইতিহাসের বিভিন্ন নীরব সাক্ষী ও সেগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার গুরুত্ব সম্পর্কে ঠিক কতটা সচেতন৷

আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন মন্তব্যে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

Albanian Shqip

Amharic አማርኛ

Arabic العربية

Bengali বাংলা

Bosnian B/H/S

Bulgarian Български

Chinese (Simplified) 简

Chinese (Traditional) 繁

Croatian Hrvatski

Dari دری

English English

French Français

German Deutsch

Greek Ελληνικά

Hausa Hausa

Hindi हिन्दी

Indonesian Bahasa Indonesia

Kiswahili Kiswahili

Macedonian Македонски

Pashto پښتو

Persian فارسی

Polish Polski

Portuguese Português para África

Portuguese Português do Brasil

Romanian Română

Russian Русский

Serbian Српски/Srpski

Spanish Español

Turkish Türkçe

Ukrainian Українська

Urdu اردو