অভিবাসন নীতি কি ম্যার্কেলকে বিপদে ফেলতে পারে?

জার্মানির জাতীয় নির্বাচনের দিন ঘনানোর সঙ্গে সঙ্গে ম্যার্কেলের উপর শরণার্থী নীতি নিয়ে চাপ বাড়ছে৷ প্রতিদ্বন্দ্বী মার্টিন শুলৎস সপ্তাহান্তে এ বিষয়ে ম্যার্কেলের কড়া সমালোচনা করেছেন৷ তাঁর নিজ দলের মধ্যেও তৈরি হয়েছে বিভেদ৷

গত কয়েকমাস ধরেই সামাজিক গণতন্ত্রী দল এসপিডি-র চ্যান্সেলর প্রার্থী মার্টিন শুলৎস এমন কোনো কিছু খুঁজছেন যা দিয়ে ম্যার্কেলকে ঘায়েল করা যায়৷ এখন অবধি যে অবস্থা তাতে টানা তৃতীয়বার চ্যান্সেলর পদে থাকা ম্যার্কেলের চতুর্থবার জয়ের পথ রুদ্ধ করার মতো বড় কিছু পাননি তিনি৷ তারপরও চেষ্টায় কমতি নেই৷

সপ্তাহান্তে জার্মানির বিল্ড পত্রিকাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে শুলৎস ম্যার্কেলের শরণার্থী নীতির সমালোচনা করেছেন৷ জার্মান চ্যান্সেলর গত দু'বছরে এই ইস্যুতে কম কথা শোনেননি৷ শরণার্থীদের বিষয়ে বেশ উদার তিনি, যা জার্মানির অনেক রাজনীতিবিদই পছন্দ করছেন না৷ মার্টিন শুলৎসও আছেন সেদলে৷ বিল্ড পত্রিকাকে তিনি বলেন, ‘‘২০১৫ সালে এক মিলিয়নের বেশি শরণার্থী জার্মানিতে প্রবেশ করেন, যাদের অধিকাংশই এসেছেন সরকারের কোনরকম মনিটরিং ছাড়াই৷''

ভিডিও দেখুন 00:57
এখন লাইভ
00:57 মিনিট
Web-videos | 24.07.2017

Schulz slams Merkel's migration policies

শুলৎস বলেন, ‘‘আমাদের চ্যান্সেলর মানবিক কারণে অস্ট্রিয়ার সঙ্গে সীমান্ত খুলে দিয়েছেন৷ কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হচ্ছে, ইউরোপে আমাদের সঙ্গীদের সঙ্গে কোনোরকম আলোচনা ছাড়াই তিনি তা করেছিলেন৷ আমরা যদি এখনই এই বিষয়ে উদ্যোগ না নেই, তাহলে সেই পরিস্থিতির আবারো পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে৷''

ম্যার্কেল অবশ্য জার্মান ভোটারদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, ২০১৫ সালের মতো পরিস্থিতি আর ঘটবে না৷ সেসময় যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া থেকে প্রাণ বাঁচাতে অনেক মানুষ বিপদশঙ্কুল পথে ইউরোপে প্রবেশ করে জার্মানিতে আশ্রয় গ্রহণ করে৷ এরপর গতবছর অবশ্য অভিবাসী আসার সংখ্যা অনেক কমে যায়৷ তবে চলতি বছর তা আবারও বাড়ছে৷ বর্তমানে নাইজেরিয়া এবং ইরিত্রিয়ার মতো রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং অর্থনৈতিক দুরাবস্থার মধ্যে থাকা দেশগুলো থেকে অনেকে লিবিয়া হয়ে ইউরোপে, বিশেষ করে জার্মানিতে আসছে৷

চলতি বছরের প্রথমার্ধে ৭০ হাজারের মতো মানুষ ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইটালিতে প্রবেশ করেছে৷ গত বছরের তুলনায় তা ২৫ শতাংশ বেশি৷ ইটালি পরিস্থিতি সামাল দিতে ইইউভূক্ত দেশগুলোর সহায়তা চেয়েছে৷

জার্মানিকে চাই...

সেই ছবি৷ বুদাপেস্টে তখন শরণার্থীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে৷ অস্ট্রিয়া বা জার্মানির উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করতে না পারায় তাঁরা ক্ষুব্ধ৷ সবাই ছুটছিলেন প্ল্যাটফর্মের দিকে৷ পুলিশ ফিরিয়ে দিলো৷ স্টেশনের বাইরে শুরু হলো বিক্ষোভ৷ কারো কারো হাতে তখন ট্রেনের টিকিট৷ কেউ ক্ষোভ জানালেন কোলের সন্তানকে নিয়ে৷ অনেক শিশুর হাতে দেখা গেল, ‘উই ওয়ান্ট জার্মানি’ লেখা কাগজ৷ ইউরোপে এত দেশ থাকতে কেন জার্মানি?

আছে নব্য নাৎসি, পুড়েছে শরণার্থী শিবির, তবুও...

জার্মানির কোথাও কোথাও শরণার্থীবিরোধী বিক্ষোভ দেখা গেছে৷ অনেক জায়গায় রাতের অন্ধকারে আশ্রয় শিবিরে লেগেছে আগুন৷ তারপরও অভিবাসনপ্রত্যাশীরা জার্মানিকেই বেছে নিতে চায়৷

বড় কারণ ম্যার্কেল এবং...

অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ব্যাপারে শুরু থেকেই উদার জার্মানি৷ চ্যান্সেলর ম্যার্কেল সবসময়ই অভিবাসী এবং অভিবাসনপ্রত্যাশীদের পাশে ছিলেন৷ পেগিডা আন্দোলনের সময়ও সরকারের অভিবাসীদের পাশে থাকার কথা স্পষ্ট করেই বলেছেন ম্যার্কেল৷ পাশে থেকেছেও৷ জার্মানির সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষও ছিল তাঁর পাশে৷ এখনও আছে৷ এই বিষয়গুলোও মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা থেকে আসা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মনে জার্মানির প্রতি আরো আস্থাশীল করেছে৷

তোমাদের স্বাগত

অভিবাসনপ্রত্যাশীরা জার্মানিতে পা রেখেই দেখেছে অবাক হওয়ার মতো দৃশ্য৷ এখানে তাঁরা অনাহূত নয়৷ নিজের দেশ থেকে প্রাণ নিয়ে পালিয়ে এসে জার্মানিতে পাচ্ছেন সাদর সম্ভাষণ!

জার্মানির নেতৃত্বে ম্যার্কেল, ইউরোপের নেতৃত্বে জার্মানি

বৃহস্পতিবার আঙ্গেলা ম্যার্কেল বলেছেন, শরণার্থীদের বিষয়ে জার্মানির ভূমিকা হতে হবে অনুসরণীয়, দৃষ্টান্তমূলক৷ জার্মানির সংসদের নিম্নকক্ষ বুন্ডেসটাগে বক্তব্য রাখার সময় তিনি আরো বলেন, অভিবাসন সংকট মোকাবেলায় ইউরোপকেও সফল হতে হবে৷

শরণার্থীদের পাশে ম্যার্কেল

বৃহস্পতিবার কয়েকদিন আগেই জার্মানিতে আসা অভিবাসন প্রত্যাশীদের দেখতে গিয়েছিলেন আঙ্গেলা ম্যার্কেল৷

শরণার্থীর ‘বন্ধু’ ম্যার্কেল

দেশের সবচেয়ে ক্ষমতাধর মানুষটিকে শরণার্থীরা নিজেদের একজন হিসেবেই বরণ করে নিয়েছিলেন৷ শরণার্থীদের সঙ্গে বন্ধুর মতোই সময় কাটিয়েছেন ম্যার্কেল৷ কয়েকজন শরণার্থী তাঁর সঙ্গে সেলফি তুলতে চেয়েছিলেন৷ সানন্দে তাঁদের আশা পূরণ করেছেন ম্যার্কেল৷

মার্টিন শুলৎসও মনে করেন, ইইউ-র উচিত শরণার্থী বা অভিবাসী নেয়া দেশগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেয়া৷ তবে একইসঙ্গে তিনি, আসন্ন নির্বাচনের আগে এই বিষয়ে জার্মান সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে ধীরে আগাচ্ছে বলে দাবি করেছেন৷ শুলৎস বলেন, ‘‘যারা সময়ক্ষেপণ করছেন এবং নির্বাচনের আগ অবধি এই বিষয়টিকে এড়িয়ে যেতে চাচ্ছেন, তারা আসলে নিজের স্বার্থটাই রক্ষার চেষ্টা করছেন৷''

প্রসঙ্গত, ম্যার্কেলের বাভারিয়ার সহযোগী দল সিএসইউও চাচ্ছে, শরণার্থী নীতিতে আরো কঠোর হোক ম্যার্কেল৷ বিশেষ করে, প্রতিবছর দুই লাখের বেশি শরণার্থী নেয়া হবে না, এমন এক সীমা নির্ধারণ করে দেয়ার পক্ষে সিএসইউ৷ তবে ম্যার্কেল সেরকম কোনো সীমা নির্ধারণের ঘোর বিরোধী৷ আর তাঁর এই নীতির কারণে জার্মানির ডানপন্থি পপুলিস্ট পার্টি অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি বা এএফডি সুবিধা পাচ্ছে বলে মন করছেন সিএসইউ-র শীর্ষ নেতারা৷

এএফডি মূলত ম্যার্কেলের বিভিন্ন মুসলিম দেশের শরণার্থীদের প্রতি উদার নীতি এবং সামগ্রিকভাবে জার্মানির বর্তমান অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে নিজদের শক্ত অবস্থানের জানান দিয়ে ভোটারদের দলে ভেড়াতে চাচ্ছে৷ ইতোমধ্যে কয়েকটি রাজ্যের নির্বাচনে প্রতাশ্যার বেশি ভোট পেয়েছে দলটি৷ সিএসইউ-র শঙ্কা দলটি যদি জাতীয় নির্বাচনে পাঁচ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে যায়, তাহলে সেটি সংসদে প্রবেশে সক্ষম হবে যা সিডিইউ-সিএসইউ-র জন্য ইতিবাচক হবে না৷

ম্যার্কেল অবশ্য শুলৎসের সাম্প্রতিক মন্তব্যের কোনো জবাব দেননি৷ তিনি বর্তমানে ছুটিতে রয়েছেন৷ আর জনমত জরিপও শুলৎসের চাইতে তাঁকে ১৫ শতাংশ এগিয়ে রেখেছে৷ ফলে দৃশ্যত সমালোচনার শিকার হলেও কার্যত চতুর্থবার ক্ষমতায় যাওয়া থেকে তাঁকে রুখবার মতো কাউকে এখনো পাওয়া যাচ্ছে না৷

জেফারসন চেজ/এআই

রাজনীতি

জার্মানির বড় নির্বাচনের বছর

জার্মানিতে চলতি বছর আয়োজন করা হচ্ছে একের পর এক নির্বাচন৷ একদিকে জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল চতুর্থবারের মতো চ্যান্সেলর পদে লড়ছেন, অন্যদিকে পপুলিস্ট পার্টি অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) অভিবাসীবিরোধী অবস্থানের কারণে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে৷ বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এটা নিশ্চিত যে, ২০১৭ সালের শেষে জার্মানির রাজনৈতিক অবস্থা এখনকার মতো থাকবে না৷

রাজনীতি

জুন ১৯: দলের মনোনয়ন জমা দেয়ার দিন ছিল

জার্মানির সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য আবেদনের শেষ দিন ছিল জুন ১৯৷ সেদিন সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে আগ্রহী দলগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়ার আবেদন জানাতে হয়েছে৷

রাজনীতি

জুলাই ৭: কোন কোন দল লড়ছে?

সংসদ নির্বাচনে কোন কোন দল অংশ নিতে পারবে তা ঘোষণা করা হবে এই দিনে৷ যদি কোন দল নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট না হয় তাহলে পরবর্তী চারদিনের মধ্যে জার্মানির সাংবিধানিক আদালতে নালিশ করতে পারবে৷

রাজনীতি

জুলাই ১৭: কারা কারা থাকছেন?

চলতি বছরের ১৭ জুলাইয়ের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের কোন কোন প্রার্থী কোন কোন এলাকায় লড়বেন, তা চূড়ান্ত করতে হবে৷ জার্মানিতে একসঙ্গে দু’টি ভোট দেয়ার সুযোগ রয়েছে৷ প্রথমটি প্রার্থীকে, দ্বিতীয়টি দলকে৷

রাজনীতি

জুলাই ২৭: ব্যালটে নাম উঠানোর লড়াই

যেসব রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিতে সাংবিধানিক আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে, তাদের বিষয়ে রায় ঘোষণা করা হবে এই দিনে৷ ২০১৩ সালে এই পন্থা চালু করা হয়েছিল৷ সেবছর এগারোটি দল আদালতের স্মরণাপন্ন হলেও কেউই মামলা জেতেনি৷

রাজনীতি

আগস্ট ১৩: আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা

জার্মানিতে নির্বাচন শুরুর ছয় সপ্তাহ আগ পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলো আনুষ্ঠানিক প্রচারণার পোস্টার বা টেলিভিশন বিজ্ঞাপন প্রচার করতে পারে না৷ চলতি বছরের জাতীয় নির্বাচনের জন্য আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরুর তারিখ ১৩ আগস্ট৷ এই দিন থেকে দলগুলো তাদের প্রচারণায় কোনো ঘাটতি রাখবে না৷

রাজনীতি

আগস্ট ২০: কে ভোট দিতে পারবেন?

নির্বাচনের মাসখানেক আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তালিকা চূড়ান্ত হবে৷ ভোটার লিস্ট ঘোষণা করবে নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ৷ জার্মানিতে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সি যে কোনো জার্মান নাগরিক ভোট দিতে পারবেন৷ সে হিসেবে চলতি বছর ভোটারের সংখ্যা সাড়ে ৬১ মিলিয়ন৷

রাজনীতি

সেপ্টেম্বর ৩: তিন সপ্তাহ বাকি

এই সময়ের মধ্যে সকল ভোটার পোস্টে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনে ভোট দেয়ার সার্টিফিকেট পাবেন৷ যারা তখন অবধি ভোটার লিস্টে নিজেদের নাম পাননি, তারা রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ পাবেন৷ আর যারা পোস্টের মাধ্যমে ভোট দিতে চান, তারা ব্যালট পেপার চাইতে পারেন৷

রাজনীতি

সেপ্টেম্বর ২৪: নির্বাচনের দিন

অবশেষে সেই মহেন্দ্রক্ষণ৷ জার্মানির জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২৪ সেপ্টেম্বর৷ সেদিন সকাল আটটায় নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হবে, চলবে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত৷ ভোটগণনা সেদিনই শেষ হবে এবং নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ রাতে প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণা করবে৷

রাজনীতি

সেপ্টেম্বর ২৫: বিজয়ী এবং বিজিত

সকল প্রতিনিধি এবং দলগত ভোট গণনা শেষে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা দেয়া হবে ২৫ সেপ্টেম্বর৷ যদি কোনো প্রার্থী তাঁর নির্বাচনী এলাকায় জিততে ব্যর্থ হন, তা সত্ত্বেও দলগত জয়ের কারণে তিনি সংসদে একটি আসন পেতে পারেন৷

রাজনীতি

অক্টোবর ২৪: নতুন সাংসদরা সংসদে

নির্বাচন শেষ হওয়ার এক মাসের মধ্যে নতুন সাংসদদের সংসদে মিলিত হওয়ার নিয়ম রয়েছে৷ এ বছর সেই দিনটি হচ্ছে অক্টোবর ২৪৷ সেদিন গোপন ব্যালটের মাধ্যমে জার্মানির পরবর্তী চ্যান্সেলর নির্বাচিত হবেন৷

রাজনীতি

নভেম্বর ২৪: সবকিছু কি সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ হয়েছে?

যদি কেউ জাতীয় নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে চান, তাহলে তার হাতে সময় থাকে নির্বাচন পরবর্তী দুই মাস৷ ভোটাররাসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট যে কেউ নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার রাখেন এই সময়ের মধ্যে৷