জার্মানি

অভিবাসন নীতি কি ম্যার্কেলকে বিপদে ফেলতে পারে?

জার্মানির জাতীয় নির্বাচনের দিন ঘনানোর সঙ্গে সঙ্গে ম্যার্কেলের উপর শরণার্থী নীতি নিয়ে চাপ বাড়ছে৷ প্রতিদ্বন্দ্বী মার্টিন শুলৎস সপ্তাহান্তে এ বিষয়ে ম্যার্কেলের কড়া সমালোচনা করেছেন৷ তাঁর নিজ দলের মধ্যেও তৈরি হয়েছে বিভেদ৷

ম্যার্কেল

গত কয়েকমাস ধরেই সামাজিক গণতন্ত্রী দল এসপিডি-র চ্যান্সেলর প্রার্থী মার্টিন শুলৎস এমন কোনো কিছু খুঁজছেন যা দিয়ে ম্যার্কেলকে ঘায়েল করা যায়৷ এখন অবধি যে অবস্থা তাতে টানা তৃতীয়বার চ্যান্সেলর পদে থাকা ম্যার্কেলের চতুর্থবার জয়ের পথ রুদ্ধ করার মতো বড় কিছু পাননি তিনি৷ তারপরও চেষ্টায় কমতি নেই৷

সপ্তাহান্তে জার্মানির বিল্ড পত্রিকাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে শুলৎস ম্যার্কেলের শরণার্থী নীতির সমালোচনা করেছেন৷ জার্মান চ্যান্সেলর গত দু'বছরে এই ইস্যুতে কম কথা শোনেননি৷ শরণার্থীদের বিষয়ে বেশ উদার তিনি, যা জার্মানির অনেক রাজনীতিবিদই পছন্দ করছেন না৷ মার্টিন শুলৎসও আছেন সেদলে৷ বিল্ড পত্রিকাকে তিনি বলেন, ‘‘২০১৫ সালে এক মিলিয়নের বেশি শরণার্থী জার্মানিতে প্রবেশ করেন, যাদের অধিকাংশই এসেছেন সরকারের কোনরকম মনিটরিং ছাড়াই৷''

ভিডিও দেখুন 00:57

শুলৎস বলেন, ‘‘আমাদের চ্যান্সেলর মানবিক কারণে অস্ট্রিয়ার সঙ্গে সীমান্ত খুলে দিয়েছেন৷ কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হচ্ছে, ইউরোপে আমাদের সঙ্গীদের সঙ্গে কোনোরকম আলোচনা ছাড়াই তিনি তা করেছিলেন৷ আমরা যদি এখনই এই বিষয়ে উদ্যোগ না নেই, তাহলে সেই পরিস্থিতির আবারো পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে৷''

ম্যার্কেল অবশ্য জার্মান ভোটারদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, ২০১৫ সালের মতো পরিস্থিতি আর ঘটবে না৷ সেসময় যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া থেকে প্রাণ বাঁচাতে অনেক মানুষ বিপদশঙ্কুল পথে ইউরোপে প্রবেশ করে জার্মানিতে আশ্রয় গ্রহণ করে৷ এরপর গতবছর অবশ্য অভিবাসী আসার সংখ্যা অনেক কমে যায়৷ তবে চলতি বছর তা আবারও বাড়ছে৷ বর্তমানে নাইজেরিয়া এবং ইরিত্রিয়ার মতো রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং অর্থনৈতিক দুরাবস্থার মধ্যে থাকা দেশগুলো থেকে অনেকে লিবিয়া হয়ে ইউরোপে, বিশেষ করে জার্মানিতে আসছে৷

চলতি বছরের প্রথমার্ধে ৭০ হাজারের মতো মানুষ ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইটালিতে প্রবেশ করেছে৷ গত বছরের তুলনায় তা ২৫ শতাংশ বেশি৷ ইটালি পরিস্থিতি সামাল দিতে ইইউভূক্ত দেশগুলোর সহায়তা চেয়েছে৷

মার্টিন শুলৎসও মনে করেন, ইইউ-র উচিত শরণার্থী বা অভিবাসী নেয়া দেশগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেয়া৷ তবে একইসঙ্গে তিনি, আসন্ন নির্বাচনের আগে এই বিষয়ে জার্মান সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে ধীরে আগাচ্ছে বলে দাবি করেছেন৷ শুলৎস বলেন, ‘‘যারা সময়ক্ষেপণ করছেন এবং নির্বাচনের আগ অবধি এই বিষয়টিকে এড়িয়ে যেতে চাচ্ছেন, তারা আসলে নিজের স্বার্থটাই রক্ষার চেষ্টা করছেন৷''

প্রসঙ্গত, ম্যার্কেলের বাভারিয়ার সহযোগী দল সিএসইউও চাচ্ছে, শরণার্থী নীতিতে আরো কঠোর হোক ম্যার্কেল৷ বিশেষ করে, প্রতিবছর দুই লাখের বেশি শরণার্থী নেয়া হবে না, এমন এক সীমা নির্ধারণ করে দেয়ার পক্ষে সিএসইউ৷ তবে ম্যার্কেল সেরকম কোনো সীমা নির্ধারণের ঘোর বিরোধী৷ আর তাঁর এই নীতির কারণে জার্মানির ডানপন্থি পপুলিস্ট পার্টি অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি বা এএফডি সুবিধা পাচ্ছে বলে মন করছেন সিএসইউ-র শীর্ষ নেতারা৷

এএফডি মূলত ম্যার্কেলের বিভিন্ন মুসলিম দেশের শরণার্থীদের প্রতি উদার নীতি এবং সামগ্রিকভাবে জার্মানির বর্তমান অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে নিজদের শক্ত অবস্থানের জানান দিয়ে ভোটারদের দলে ভেড়াতে চাচ্ছে৷ ইতোমধ্যে কয়েকটি রাজ্যের নির্বাচনে প্রতাশ্যার বেশি ভোট পেয়েছে দলটি৷ সিএসইউ-র শঙ্কা দলটি যদি জাতীয় নির্বাচনে পাঁচ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে যায়, তাহলে সেটি সংসদে প্রবেশে সক্ষম হবে যা সিডিইউ-সিএসইউ-র জন্য ইতিবাচক হবে না৷

ম্যার্কেল অবশ্য শুলৎসের সাম্প্রতিক মন্তব্যের কোনো জবাব দেননি৷ তিনি বর্তমানে ছুটিতে রয়েছেন৷ আর জনমত জরিপও শুলৎসের চাইতে তাঁকে ১৫ শতাংশ এগিয়ে রেখেছে৷ ফলে দৃশ্যত সমালোচনার শিকার হলেও কার্যত চতুর্থবার ক্ষমতায় যাওয়া থেকে তাঁকে রুখবার মতো কাউকে এখনো পাওয়া যাচ্ছে না৷

জেফারসন চেজ/এআই

নির্বাচিত প্রতিবেদন

Albanian Shqip

Amharic አማርኛ

Arabic العربية

Bengali বাংলা

Bosnian B/H/S

Bulgarian Български

Chinese (Simplified) 简

Chinese (Traditional) 繁

Croatian Hrvatski

Dari دری

English English

French Français

German Deutsch

Greek Ελληνικά

Hausa Hausa

Hindi हिन्दी

Indonesian Bahasa Indonesia

Kiswahili Kiswahili

Macedonian Македонски

Pashto پښتو

Persian فارسی

Polish Polski

Portuguese Português para África

Portuguese Português do Brasil

Romanian Română

Russian Русский

Serbian Српски/Srpski

Spanish Español

Turkish Türkçe

Ukrainian Українська

Urdu اردو