অভিবাসন বিরোধী এএফডি দলের নতুন তারকা ভাইডেল

একটি জার্মান পত্রিকার বর্ণনায় ‘তরুণ, বুদ্ধিমতী, সমকামী' এএফডি রাজনীতিক অ্যালিস ভাইডেল আজ পপুলিস্টদের গর্ব৷ কিন্তু কে ইনি? কী তাঁর বক্তব্য?

চট করে তাঁকে বিব্রত করা যায় না৷ অপরদিকে তাঁর রোষ ঢাকার চেষ্টা করেন না ভাইডেল: জার্মানি যে গ্রিসের আর্থিক ত্রাণে সায় দিয়েছে; জার্মানিতে প্রবীণ ও পেনশনভোগীদের অভাব-অনটন – কিন্তু যে বিষয়টি নিয়ে ভাইডেল সরকারের উপর সবচেয়ে বেশি রুষ্ট, সেটি হলো উদ্বাস্তু নীতি৷

আপনি কী ভাবছেন?

এখানে ক্লিক করুন ও আলোচনায় যোগ দিন

‘‘জার্মানিতে যে ১৪ লাখ রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী রয়েছে, জার্মান আইন অনুযায়ী তাদের মধ্যে মাত্র আধ শতাংশ অ্যাসাইলাম পাবার যোগ্য৷ দেখে মনে হয়, দেশে হচ্ছেটা কী?'' ট্রিয়ার শহরের জনসভায় মাইকে হুঙ্কার দেন ভাইডেল৷ ‘‘এটা একটা কেলেঙ্কারি!''

জন্ম ১৯৭৯ সালে উত্তর-পশ্চিম জার্মানির গ্যুট্যার্সলো শহরে৷ পড়াশুনায় চিরকালই ভালো; বায়রয়েথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজনেস ম্যানেজমেন্ট আর অর্থনীতিতে ডিগ্রি নিয়েছেন৷ ২০১১ সালে তাঁর ডক্টরাল থিসিসের বিষয় ছিল চীনে পেনশন প্রণালী৷ গবেষণার কাজে ছ'বছর চীনে কাটিয়েছেন, ভালো ম্যান্ডারিন চাইনিজ বলেন৷ এএফডি দলে যোগ দেন ২০১৩ সালে৷ তাঁর সঙ্গিনী নাকি রাজনীতির ওপর লেকচার শুনে শুনে ক্লান্ত হয়ে বলেছিলেন, ‘তুমি রাজনীতিতেই যাও!'

AfD Spitzenkandidaten Alice Weidel und Alexander Gauland

আলেক্সান্ডার গাউল্যান্ড এবং অ্যালিস ভাইডেল, এএফডির দুই তুখোড় নেতা

৩৮ বছর বয়সি ভাইডেল তাঁর সঙ্গিনী আর দুই পুত্রকে নিয়ে সুইজারল্যান্ডের বিয়েল শহরে থাকেন৷ তাঁর নির্বাচনি এলাকা হলো দক্ষিণ জার্মানিতে লেক কনস্টান্সের কাছে৷ পড়াশুনোর পর পেশাতেও ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছেন: গোল্ডম্যান স্যাক্স আর অ্যালিয়ান্স কোম্পানির হয়ে কনসালটেন্সির কাজ করেছেন৷

দক্ষিণপন্থি এএফডি দলে এ সবের যতই ধার ও ভার থাকুক না কেন, প্রশ্ন থেকে যায়: একজন সমকামী মহিলা, যিনি জীবনসঙ্গিনী ও দুই পুত্রকে নিয়ে জীবনযাপন করছেন, তিনি এএফডি-র মতো একটি সমকামিতা বিরোধী রাজনৈতিক দলের যুগ্ম মুখ্য প্রার্থী হতে পারেন কী করে? সমকামী বিবাহ নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করার কথাও বলেছে এএফডি৷

ভাইডেলকে যে এ নিয়ে প্রশ্ন শুনতে হয়নি, এমন নয়, কিন্তু তাঁর বিশেষত্বই হলো প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া বা সরাসরি উত্তর না দেওয়া, তা সমকামিতা বিষয়েই হোক বা তাঁর দলের একাধিক সদস্যের নব-নাৎসি সুলভ বাগাড়ম্বর নিয়েই হোক৷

ভাইডেল বাগাড়ম্বর করেন না বা উত্তেজিত হন না: উদ্বাস্তুদের দুর্দশার ছবি দেখে তাঁর ‘‘বুক ফেটে যায়''; অপরদিকে জার্মানির পক্ষে তো আর সকলকে সাহায্য করা সম্ভব নয়৷ কিংবা: ভাইডেলের মতে ইসলাম জার্মানি অঙ্গ নয়, কেননা ইসলাম বলে কোনো একটি ধর্ম নেই৷

মিডিয়া যুদ্ধে অচল থাকার প্রতিভাই হয়ত ভাইডেলকে ওপরে তুলে দিয়েছে৷ ট্রিয়ারে তাঁকে জনতার সামনে পেশ করা হয় এমন এক রাজনীতিক হিসেবে, যিনি ‘পলিটিক্যাল করেক্টনেস'-এর ধার ধারেন না৷

আগামী ২৪শে সেপ্টেম্বরের নির্বাচনে এএফডি ১০ শতাংশ ভোট পেয়ে সংসদে তৃতীয় বৃহত্তম দল হতে চলেছে – সেক্ষেত্রে ভাইডেলকে শীঘ্রই বুন্ডেসটাগে ভাষণ দিতে শোনা যাবে৷

ক্যাথলিন শুস্টার/এসি

ডিজিটাল বিশ্ব

খ্রিষ্টীয় গণতন্ত্রী দল (সিডিইউ)

টানা তিনবার ক্ষমতায় থাকা জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল নির্বাচনি পোস্টারে এখন আর কোনো অপরিচিত মুখ নন৷ তাঁর দল সিডিইউ ২০ মিলিয়ন ইউরো খরচ করে গোটা জার্মানিতে ২২,০০ প্ল্যাকার্ড বসাচ্ছে৷ এতে জার্মান চ্যান্সেলরের ছবির ব্যাকগ্রাউন্ডে জার্মান পতাকা ব্যবহারে করে দলটির দেশপ্রেম বোঝানো হয়েছে৷ আর স্লোগানে প্রাধান্য পেয়েছে নিরাপত্তা, পরিবার এবং কাজের মতো বিষয়৷

ডিজিটাল বিশ্ব

সামাজিক গণতন্ত্রী (এসপিডি)

সামাজিক গণতন্ত্রীরা তাদের দীর্ঘদিনের লাল আর বর্গাকারের লোগোকে পোস্টারে প্রাধান্য দিয়েছে৷ তাদের পোস্টারে শিক্ষা, পরিবার, পেনশন, বিনিয়োগ এবং বেতন বৈষম্যের মতো বিষয়াদি গুরুত্ব পাচ্ছে৷ ২৪ মিলিয়ন ইউরোর নির্বাচনি প্রচারণার পর নির্বাচনের ঠিক আগে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে নাকি একটি বোমা ফাটাতে পারে এসপিডি, তবে সেসম্পর্ক কিছু এখনো জানা যায়নি৷

ডিজিটাল বিশ্ব

মুক্তগণতন্ত্রী দল (এফডিপি)

মুক্তগণতন্ত্রীদের নির্বাচনি প্রচারণায় খরচ হচ্ছে পাঁচ মিলিয়ন মার্কিন ডলার৷ সাদাকালো ফটোশুটের মাধ্যমে পোস্টারে আধুনিক মার্কেটিংয়ের ছাপ ফুটিয়ে তুলেছে সেদেল৷ তাদের পোস্টারে শোভা পাচ্ছেন একজন: ক্রিস্টিয়ান লিন্ডার৷ তবে পোস্টারে ছোট করে লেখা নানা কথা পড়তে ভোটারদের বেশ কষ্টই করতে হবে৷ ‘অস্থিরতাও একটা গুণ’, লেখা হয়েছে পোস্টারে৷

ডিজিটাল বিশ্ব

সবুজ দল

সবুজ দল তাদের দলীয় নীতিকেই নির্বাচনের পোস্টারে তুলে ধরছেন৷ সেদলের স্লোগানে জায়গা করে নিয়েছে পরিবেশ, ইন্টিগ্রেশন এবং শান্তির মতো বিষয়৷ তাদের স্লোগান হচ্ছে, ‘‘পরিবেশই সবকিছু নয়, তবে পরিবেশ ছাড়া সবকিছুই অর্থহীন৷’’

ডিজিটাল বিশ্ব

জার্মানির জন্য বিকল্প (এএফডি)

তবে আসন্ন নির্বাচনের সবচেয়ে বিতর্কিত প্ল্যাকার্ড তৈরি করেছে ডানপন্থি এএফডি পার্টি৷ আপাত দৃষ্টিতে এই পোস্টারটি দেখলে মনে হবে এক অন্তঃসত্ত্বা নারী হাসছেন৷ কিন্তু স্লোগান কী বলছে জানেন? ‘‘নতুন জার্মান? তাদের আমরাই তৈরি করবো৷’’ দলটির আরেক পোস্টারে বিকিনি পরা তিন নারীকে দেখা গেছে৷ আর তাতে লেখা: ‘‘বোরকা? আমরা বিকিনি পছন্দ করি৷’’

ডিজিটাল বিশ্ব

বামদল

বামদলের পোস্টারে বিভিন্ন ফস্টের বর্ণিল উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে৷ ‘‘[বর্নিল] মানুষ৷ স্পষ্টভাবে ডানপস্থি ঘৃণার বিরোধী’’, বলছে তাদের স্লোগান৷ দলটির নির্বাচনি প্রচারণায় গুরুত্ব পাচ্ছে সাশ্রয়ী ভাড়া, আরো স্বচ্ছ পেনশনের নিশ্চয়তা এবং অস্ত্র রপ্তানি বন্ধের মতো বিষয়৷

জার্মান নির্বাচন নিয়ে আপনার কোনো প্রশ্ন থাকলে লিখুন নীচে, মন্তব্যের ঘরে৷

সংশ্লিষ্ট বিষয়