আলাপ

আগামী নির্বাচন নিয়ে আশাবাদী হওয়ার কারণ নেই

নির্বাচন করবে নির্বাচন কমিশন৷ সংবিধান নির্বাচন কমিশনকে সেই ক্ষমতা দিয়েছে৷ সরকার নির্বাচন কমিশনের কাজে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না৷ প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থাকবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে৷

Bangladesch Polizei Symbolbild

এর বাইরে বিজিবি বা সেনাবাহিনীর সহায়তার প্রয়োজন হলে সরকার দিতে বাধ্য থাকবে৷ এ সব কিতাবের কথা৷ বাস্তবে বাংলাদেশে নির্বাচন, নির্বাচন কমিশন করে না৷ নির্বাচন করে সরকার৷ সরকারের যদিও এই এখতিয়ার নেই৷ তাহলে কীভাবে সম্ভব হয়? নির্বাচন কমিশন তাহলে কী করে?

এর পরের নির্বাচন ২০১৯ সালে৷ সেই নির্বাচনটিও কী ২০১৪ সালের নির্বাচনের মতো হবে? নির্বাচনটিকে সুষ্ঠু-গ্রহণযোগ্য করতে হলে কী করতে হবে? নির্বাচন কমিশনকে আরও শক্তিশালী, না আবার সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা? বাংলাদেশের নির্বাচন, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে ভারতের নির্বাচন কমিশন, নির্বাচনের তুলনামূলক আলোচনা করলে, বোঝা সহজ হবে৷

১. আমাদের এই অঞ্চলে শক্তিশালী নির্বাচন কমিশনের সবচেয়ে বড় উদাহরণ ভারত৷ ভোটার সংখ্যার ভিত্তিতে সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশ৷ বহুমাত্রিক সমস্যার মধ্যেও ভারতের নির্বাচন নিয়ে তেমন কোনো প্রশ্ন ওঠে না বললেই চলে৷ কিছু অনিয়ম এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে৷ নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থাও নেয়৷ সবচেয়ে বড় কথা, রাজনৈতিক দল এবং জনগণের আস্থা আছে নির্বাচন কমিশনের উপর৷ রাজনৈতিক দল এবং প্রশাসন, নির্বাচন কমিশনকে সমীহ করে চলতে বাধ্য হয়৷ নির্বাচন কমিশন নিজেদের এই দৃঢ়তা প্রমাণ করতে পেরেছে৷ প্রশাসন এবং রাজনৈতিক নেতা অনিয়ম-অনৈতিক কিছু করলে, নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা নেবে – এই ভয় বা বিশ্বাস সবার মধ্যে আছে৷ প্রধানমন্ত্রী বা বিরোধী দলীয় নেত্রীর দায়িত্ব পালন করা নেতাদের বিরুদ্ধেও নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা নিতে কার্পণ্য করবে না, এটা সবাই বিশ্বাস করেন৷

ভারতের নির্বাচন কমিশন নিয়ে এত কথা বলছি, কারণ, বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন লোকবল এবং সাংবিধানিক ক্ষমতার দিক থেকে ভারতের চেয়েও শক্তিশালী৷ এ দেশের স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ সবাই তা বিভিন্ন সময়ে উদাহরণ দিয়ে বলেছেন৷ বেশি শক্তিশালী হয়েও বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন যা পারে না, তুলনামূলক কম শক্তিশালী হয়েও ভারতের নির্বাচন কমিশন তা পারে৷ কীভাবে?

কারণ কয়েকটি...

ক. ভারত সরকার আন্তরিকভাবে একটি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছে৷
খ. যাদের নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়, বিশেষ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে একজন যোগ্য-দক্ষ-সাহসী, জাঁদরেল ব্যক্তিকে বাছাই করা হয়৷
গ. এই প্রক্রিয়ায় ভারতের নির্বাচন কমিশন এতটাই শক্তিশালী হয়ে গেছে যে, কোনো সরকার তার কাজে হস্তক্ষেপ করতে চায় না বা পারে না৷ আর প্রশাসন নির্বাচন কমিশনের আদেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে বাধ্য হয়৷ সামান্য ত্রুটির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয় নির্বাচন কমিশন৷

২. এবার আসি বাংলাদেশ প্রসঙ্গে৷ এযাবতকালে বাংলাদেশের কোনো সরকার চায়নি নির্বাচন কমিশন শক্তিশালী হোক৷ ব্যতিক্রম ২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ের শামসুল হুদার নির্বাচন কমিশন৷ বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে যোগ্যতা এবং সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন তারাই৷ এর পেছনেও ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আন্তরিকতা৷ তারা নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিয়েছেন, সহায়তা করেছেন, হস্তক্ষেপ করেননি৷ যদিও বিএনপি ভাঙার চেষ্টার দায় তাদের নিতে হয়৷

এছাড়া সাবেক সচিব আবু হেনা এবং টিএইচ সাঈদ প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছিলেন৷ যা সরকার পছন্দ করেনি, তিক্ততা তৈরি হয়েছে৷ এছাড়া বর্তমানসহ অন্যসব নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণরূপে সরকারের আজ্ঞাবহ হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছে৷ বর্তমান নির্বাচন কমিশন তো চূড়ান্ত রকমের অযোগ্য-অথর্ব৷

৩. বর্তমান নির্বাচন কমিশন দিয়ে কোনোভাবেই ২০১৯ সালের নির্বাচন সুষ্ঠু-গ্রহণযোগ্য করা সম্ভব নয়৷ তাদের আন্তরিকতা তো নেই-ই, সাহস এবং যোগ্যতাও নেই৷ যোগ্যতা-দক্ষতা না থাকলে, যত ক্ষমতাই দেয়া হোক, পালন করা যায় না৷ বর্তমান নির্বাচন কমিশন তা বারবার প্রমাণ করেছে৷ সরকার যা চাইবে, যেভাবে চাইবে, বর্তমান নির্বাচন কমিশন ঠিক তা-ই করবে৷ সরকার সুষ্ঠু নির্বাচন চাইবে, তা বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই৷

৪. তাহলে ২০১৯ সালের নির্বাচন কেমন হবে? নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করা হলে কি সুষ্ঠু হবে নির্বাচন? না, তা-ও হবে না৷ সরকার এমন কোনো ব্যক্তিকে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেবেন না, যিনি তার কথা শুনবেন না৷ বর্তমান ব্যবস্থাপনায় সরকার যদি আন্তরিকভাবে চান যে, নির্বাচন সুষ্ঠু হতে হবে, তাহলে বর্তমান নির্বাচন কমিশন দিয়েও তা সম্ভব৷ না চাইলে, বর্তমান-নতুন যা-ই হোক সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না

Bangladesh Journalist Golam Mortoza

গোলাম মোর্তোজা, সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদক এবং টিভি টকশো-র মডারেটর

৫. বাংলাদেশে সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্যে সরকারব্যবস্থা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ৷ ক্ষমতাসীন সরকার সুষ্ঠু নির্বাচন চায় না বা চাইবে না৷ তাহলে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার জন্যে বাকি থাকে ‘তত্ত্বাবধায়ক' সরকার ব্যবস্থা৷ বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কোনো বিধান নেই৷ সংবিধান সংশোধন করে বর্তমান সরকার তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনবে না, কারণ, সুষ্ঠু নির্বাচন তো বর্তমান সরকার চাইলেই করতে পারে, তারা আবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনবেন কেন?

এমতাবস্থায় হয়ত একটু বেশি আগে মন্তব্য করা হয়ে যায় যে, ২০১৯ সালের নির্বাচন ২০১৪ সালের নির্বাচনের চেয়েও খারাপ হবে৷ ব্যতিক্রম কিছু নির্ভর করবে ‘যদি'র উপর৷

ক. ‘যদি' বিরোধী দল আন্দোলন করে সরকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনতে বাধ্য করতে পারে৷
খ. বিদেশিরা চাপ দিয়ে ‘যদি' সরকারকে বাধ্য করে৷ বিরোধী দল সরকারকে চাপ দিয়ে বাধ্য করতে পারবে বলে মনে হয় না৷
গ. বিরোধী দল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পরিবেশ তৈরি করতে না পারলে

বিদেশিরাও সরকারকে চাপ দেবে না বা দিতে পারবে না৷ ভারত সরকারের পাশে আছে৷ পাশে থেকে বিদেশি চাপ মোকাবিলায় সরকারকে কার্যকরভাবে সহায়তা করবে৷

৬. মধ্যবর্তী নির্বাচনের সম্ভাবনা আছে বলে মনে করি না৷ ২০১৯ সালের নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কিনা, সেই সিদ্ধান্ত এই আলোচনা থেকে পাঠক খুব সহজে বুঝে নিতে পারবেন বলে বিশ্বাস করি৷

আপনি কি গোলাম মোর্তোজার সঙ্গে একমত? লিখুন নীচে, মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

Albanian Shqip

Amharic አማርኛ

Arabic العربية

Bengali বাংলা

Bosnian B/H/S

Bulgarian Български

Chinese (Simplified) 简

Chinese (Traditional) 繁

Croatian Hrvatski

Dari دری

English English

French Français

German Deutsch

Greek Ελληνικά

Hausa Hausa

Hindi हिन्दी

Indonesian Bahasa Indonesia

Kiswahili Kiswahili

Macedonian Македонски

Pashto پښتو

Persian فارسی

Polish Polski

Portuguese Português para África

Portuguese Português do Brasil

Romanian Română

Russian Русский

Serbian Српски/Srpski

Spanish Español

Turkish Türkçe

Ukrainian Українська

Urdu اردو