1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

মুসলিমরা জিহাদি হচ্ছে কেন?

১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অনেক তরুণ আফ্রিকান চরমপন্থি গোষ্ঠীতে যোগ দিয়ে দারিদ্র্য ও হতাশা থেকে মুক্তি পাবার স্বপ্ন দেখছে এবং এ প্রবণতা বাড়ছে বলে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে৷

https://p.dw.com/p/2jrqc
ছবি: Getty Images/AFP/M. Abdiwahab

আফ্রিকার মুসলিম তরুণরা বোকো হারামের মতো জিহাদি সংগঠনগুলির সঙ্গে জড়ায় কেন? খাদিজা হাওয়াজা গাম্বো বহু বছর ধরে এই প্রশ্নটির উত্তর খুঁজছেন৷

‘‘বহু নাইজেরীয় তরুণ এতই হতাশ যে, তারা প্রাণপণে পালানোর কোনো পন্থা খুঁজছে,’’ নাইজেরিয়ার মানবাধিকার আন্দোলনকারী গাম্বো ডয়চে ভেলের একটি সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন৷ তাঁর মতে, ‘‘তাদের অধিকাংশই সেই পথ না খুঁজে পেয়ে আরো ক্রুদ্ধ, আরো হতাশ, সমাজের প্রতি আরো আগ্রাসী হয়ে পড়ে৷’’ এই মানসিক অবস্থা থেকে সহজেই উগ্রপন্থি হওয়া যায়৷ গাম্বো নিজে মুসলিম৷ তিনি এসেছেন মধ্য নাইজেরিয়ার জস শহর থেকে, যেখানে ইসলামি সন্ত্রাসী সংগঠন বোকো হারাম গত বছর একাধিক আক্রমণ চালায়

এ পর্যন্ত ১৭,০০০-এর বেশি নাইজেরীয় জিহাদি সন্ত্রাসের শিকার হয়েছেন৷ প্রধানত উত্তর নাইজেরিয়া থেকে প্রায় ২৮ লাখ মানুষ ঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন৷ বোকো হারামের নামে অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোররা বারংবার আত্মঘাতী সন্ত্রাসী আক্রমণ চালিয়েছে৷

 Townhall-Debate "Migration Dilemma" in Jos, Nigeria
নাইজেরিয়ার মানবাধিকার আন্দোলনকারী গাম্বোছবি: DW/H. Fischer

ধর্মীয় প্রেরণা থেকে নয়: জাতিসংঘ

উগ্রপন্থি ইসলামি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সমস্যা শুধু নাইজেরিয়ার নয়, উত্তর-পূর্ব নাইজেরিয়া ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে বোকো হারামের গতিবিধির পাশাপাশি আল-শাবাব জঙ্গি গোষ্ঠীও বহু বছর ধরে সোমালিয়ায় ক্ষমতা দখলের যুদ্ধ চালিয়ে আসছে৷ মালিতে আল-কায়েদার একটি শাখা ছাড়া অপরাপর গোষ্ঠী সক্রিয়৷ জাতিসংঘের বিবৃতি অনুযায়ী, ২০১১ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে আফ্রিকায় প্রায় ৩৩,০০০ মানুষ চরমপন্থি সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছেন৷

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, আফ্রিকার তরুণ মুসলিমরা ধর্মপরায়ণতার চেয়ে দারিদ্র্য ও সুযোগের অভাবের  কারণেই জঙ্গিবাদের দিকে বেশি ঝুঁকছে৷ ‘জার্নি টু এক্সট্রিমিজম ইন আফ্রিকা’ শীর্ষক রিপোর্টটির জন্য জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি ইউএনডিপি-র তরফ থেকে দু'বছর ধরে আফ্রিকার বিভিন্ন উগ্রপন্থি গোষ্ঠীর প্রায় ৫০০ জন সাবেক সদস্যের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়৷

খাদিজা হাওয়াজা গাম্বো মনে করেন ১২৮ পাতার রিপোর্টের সিদ্ধান্তসমূহ সঠিক৷ যাঁরা বাস্তবিক ইসলাম বোঝেন, তাঁদের কাছে বোকো হারাম গোত্রীয় গোষ্ঠীগুলির ইসলামের ব্যাখ্যা গভীরভাবে অনৈসলামিক৷

গাম্বো বলেন, ‘‘কোনো ব্যক্তি ইসলাম সম্বন্ধে যত কম জানে, ততই সে সন্ত্রাসী সংগঠনগুলির আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়৷ যারা ইসলাম সম্পর্কে কিছু জানে না, তারা ঐসব গোষ্ঠী যা বলে, তা-ই বিশ্বাস করে৷’’ ইউএনডিপি-র সমীক্ষা গাম্বোর ধারণাকেই প্রতীত করছে৷ জরিপের ৫০০ সাবেক ইসলামি জঙ্গির ৫৭ শতাংশ ইসলামধর্মের আকরগ্রন্থ বা তার বয়ান সম্পর্কে প্রায় কিছুই জানে না৷ জাতিসংঘের জরিপ অনুযায়ী, ছয় বছর বা তার বেশি সময় ধরে ইসলাম শিক্ষা জঙ্গি হওয়ার সম্ভাবনাকে ৩২ শতাংশ কমিয়ে দেয়৷

ধর্ম নয়, হতাশা

চরমপন্থি সংগঠনগুলির কর্মীরা ধর্মের দ্বারা অনুপ্রাণিত নয়, বরং তারা হতাশাগ্রস্থ তরুণ৷ তারা নিজেকে অবহেলিত ও পরিত্যক্ত বলে মনে করছে বলে প্রতিবেদনের রচয়িতারা মনে করেন৷ বিশেষ করে আফ্রিকার দরিদ্রতম প্রত্যন্ত এলাকার তরুণ ও কিশোররা চরমপন্থিদের বাগাড়ম্বরে মোহিত হয়, যার একটি নিদর্শন হলো আল-শাবাব৷ জঙ্গি সংগঠনটি ২০০৬ সাল থেকে সোমালিয়ার গৃহযুদ্ধের জন্য যোদ্ধা সংগ্রহ করে আসছে৷ আল-শাবাবের লক্ষ্য হলো, হর্ন অফ আফ্রিকায় ইসলামি শাসন চালু করে বিশ্বব্যাপী জিহাদে অংশগ্রহণ করা৷

‘‘তরুণদের কর্ম ও অর্থের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়; তারা ভাবে, এই সব গোষ্ঠীতে যোগদান করলে তাদের অবস্থার উন্নতি ঘটবে ও তারা তাদের পরিবারবর্গকে সাহায্য করতে পারবে,’’ বলেন মোম্বাসাভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ‘হাকি আফ্রিকা’-র সালমা হিমিদ৷ তাঁরও ধারণা, ধর্মীয় বা আদর্শগত কারণের চেয়ে অর্থনৈতিক কারণেই যুব জনতা জিহাদি গোষ্ঠীগুলিতে বেশি যোগদান করে৷ তিনি আরো মনে করেন, আফ্রিকার সরকারবর্গকে এ বিষয়ে সচেতন করা উচিত৷

আন্তোনিও কাসকেইস/এসি