1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

আরব বসন্তের পাঁচ বছর

১৪ জানুয়ারি ২০১৬

২০১০ সালের ১৭ই জানুয়ারি টিউনিশিয়ার সিদি বুজিদ শহরে মোহামেদ বুয়াজিজি নামের এক ফেরিওলা নিজের গায়ে আগুন ধরিয়ে প্রতিবাদ জানান৷ ২০১১ সালের ১৪ই জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট বেন আলিকে সরে দাঁড়াতে হয়৷

https://p.dw.com/p/1HcxD
Bildergalerie Blumen der Revolution - Symbolbild
ছবি: AFP/Getty Images/M. Bureau

WorldLink: Rapping against IS

বেন আলি ২৩ বছর ধরে টিউনিশিয়ার প্রেসিডেন্ট ছিলেন৷ তাঁকে যে প্রতিবাদের জোয়ার ভাসিয়ে নিয়ে যায়, তার ছোঁয়া লাগে একের পর এক আরব দেশে, সব মিলিয়ে যার নাম দাঁড়ায় আরব বসন্ত৷

বসন্ত মানে আশা, আকাঙ্খা, উদ্দীপনা৷ কিন্তু আরব বসন্ত নিয়ে সাংবাদিক-পর্যবেক্ষক-বিশ্লেষকরা আজ যখন লেখেন, তখন তারা যেন খরগ্রীষ্ম কিংবা শীতেরই ছোঁয়াচ পান৷ কেননা আরব বসন্ত আশাপূরণের পরিবর্তে আশাভঙ্গের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে৷

Demonstranten am Tahrir Platz in Ägypten
ছবি: Reuters

‘দ্য ইকনমিস্ট' পত্রিকায় প্রকাশিত একটি মানচিত্র এখন বার বার রি-টুইট হচ্ছে, আয়ান ব্রেমার যেমন করেছেন৷ মানচিত্রে দেখা যাচ্ছে আরব বসন্তের পাঁচ বছর পরে আরব দুনিয়ার পরিস্থিতি: একটি দেশ – টিউনিশিয়ায় – গণতন্ত্র বজায় আছে; নয়ত পাঁচটি দেশে স্বৈরতন্ত্র কায়েম ও তিনটি দেশ বস্তুত ‘ফেইল্ড স্টেট' বা ব্যর্থ রাষ্ট্র, যারা রাষ্ট্রের কোনো দায়িত্ব পালন করতে অক্ষম৷ অর্থাৎ আরব বসন্তের সামগ্রিক খতিয়ান খুব গৌরবজনক নয়৷

মিশরে হোসনি মুবারককে বিদায় করে বিশেষ লাভ হয়নি৷ আরেক সামরিক প্রধান আবদেল ফাতাহ আল-সিসি দেশের প্রথম বেসামরিক এবং গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুর্সিকে কারাবন্দি করে মুসলিম ব্রাদারহুডের সমর্থকদের বিরুদ্ধে কড়া হাতে দমন অভিযান চালাচ্ছেন৷

লিবিয়ায় ন্যাটোর সাহায্যপুষ্ট সশস্ত্র বিপ্লবে মুয়ম্মর আল-গদ্দাফিকে বিতাড়ন ও হত্যা করা সম্ভব হলেও, তারপর শুধুমাত্র সংঘাত ও রাজনৈতিক অরাজকতা চলেছে৷ ইয়েমেনেও দীর্ঘকালের প্রেসিডেন্ট আলি আবদুল্লাহ সালেহ গণপ্রতিবাদের মুখে সরে দাঁড়ান৷ তাঁর উত্তরসূরি আবেদরাব্বো মনসুর হাদিকে হুথি বিদ্রোহীদের ভয়ে রাজধানী ছেড়ে পালাতে হয়৷ আপাতত সৌদি আরব ও তার সহযোগীরা ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে৷

Symbolbild Arabischer Frühling Ägypten
মুর্সির বিরুদ্ধে সেই প্রতিবাদ...ছবি: picture-alliance/AP Photo/Khalil Hamra

আরব বসন্তের ব্যর্থতার একটি দিক হলো জনগণের আশা পূর্ণ না করতে পারা৷ অপরদিকে সিরিয়া বা ইরাকের দিকে যদি তাকানো যায়, তাহলে আরব বসন্তের আর একটি বিভীষণ ফলশ্রুতি চোখে পড়বে, যার নাম হলো ইসলামি জঙ্গিবাদ, তথাকথিত ইসলামিক স্টেট যার সবচেয়ে বড় প্রতিভু৷ ব্যঙ্গচিত্র হিসেবে এই বিকাশধারাটি দেখতে পাওয়া যাবে ক্রিস্টিন ডেভিডসনের টুইট করা একটি কার্টুনে৷

বস্তুত আরব বিশ্বে যা কিছু ঘটছে, তার সঙ্গে আরব বসন্তের কোনো না কোনো সংযোগ খুঁজে পাচ্ছেন পর্যবেক্ষকরা৷ যেমন ‘কোয়ার্ৎস' টুইট করেছেন: ‘ইরান-সৌদি আরব সংকট আরব বসন্তের রক্তাক্ত উত্তরাধিকারের প্রমাণ৷'

আরব বসন্তের পাঁচ বছর পরে বাকি বিশ্বের মনোভাব কী হওয়া উচিত, তার একটা আভাস পাওয়া যাবে ডেভিড জোন্স-এর টুইটে: ‘আরব বসন্ত যে সুশাসন আনতে ব্যর্থ হয়েছে, সেটা বিয়োগান্ত৷ কিন্তু আমাদের আরব বসন্তের আদর্শগুলিকে সমর্থন করে যেতে হবে৷'

এসি/ডিজি (এএফপি, রয়টার্স)

বন্ধুরা, আরব বসন্তের ব্যর্থতার সবচেয়ে বড় দিক কোনটা? জানান নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য

এই বিষয়ে আরো তথ্য

আরো সংবাদ দেখান