আহা সবাই যদি পাঁচ বছরের মেয়েটির মতো ভাবত!

নাম তাঁর ব্রুক ব্লেয়ার৷ বয়স পাঁচ৷ ইংল্যান্ডে থাকে৷ গৃহহীনদের বাড়ি তৈরি করে দিতে সে দেশের প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছে৷ আগামী বড়দিনে তাদের উপহার দিতে ব্রুক নিজেও অর্থ জমাচ্ছে৷

এজন্য সে তার জন্মদিনের কেকের এক টুকরো তার বাবার কাছে বিক্রি করেছে৷ এছাড়া যেখান থেকেই সে ও তার ছোট বোন টাকা পাচ্ছে তা জমাচ্ছে৷ ব্রুকের মা জানিয়েছেন এসব তথ্য৷ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে'র প্রতি ব্রুকের অনুরোধের ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে৷ ব্রিটিশ গণমাধ্যমে তাকে নিয়ে হৈচৈ হওয়ায় তার সম্পর্কে আমরা জানতে পেরেছি৷

আপনি কী ভাবছেন?

এখানে ক্লিক করুন ও আলোচনায় যোগ দিন

কেন ঘটনাটি বললাম হয়ত অনেকে বুঝতে পারছেন৷ বাচ্চা মেয়েটি গৃহহীনদের দুরবস্থা দেখে উপলব্ধি করতে পেরেছে যে, তাদের পক্ষে হয়ত আগামী বড়দিন উদযাপন সম্ভব হবে না৷ তাই সে তাদের উপহার দেয়ার পরিকল্পনা করেছে৷ সবাই মিলে সে উৎসবটি পালন করতে চায়৷

রাজনীতি

ঈদুল ফিতর

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশে মুসলমানদের অন্যতম দুই বাৎসরিক ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আযহা ব্যাপক আকারে উদযাপন করা হয়৷ ঈদুল ফিতরের আগে একমাস সিয়াম সাধনায় অংশ নেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা, ফলে সেই সাধনার পর ঈদ পায় বাড়তি গুরুত্ব৷

রাজনীতি

ঈদুল আযহা

ঈদুল আযহায় পশু কোরবানি দেন মুসলমানরা৷ সাধারণত সমাজের সুবিধাবঞ্চিত, দরিদ্র মানুষদের এই দিনে কোরবানি দেয়া পশুর মাংস বিলিয়ে দেন সমাজে অপেক্ষাকৃত ভালো অবস্থানে থাকা মুসলমানরা৷

রাজনীতি

দুর্গা পূজা

হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গা পূজা৷ এই উৎসবের সময় বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্র পূজামণ্ডপ দেখা যায়৷

রাজনীতি

সরস্বতী পূজা

হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব সরস্বতী পূজা৷ এই উৎসবের দিন সন্ধ্যায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়৷

রাজনীতি

দোলযাত্রা

দোলযাত্রার সঙ্গে হোলি উৎসবের একটি সম্পর্ক রয়েছে৷ মূলত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব হলেও হোলি খেলা গোটা বিশ্বেই ছড়িয়ে পড়েছে৷ বাংলাদেশ, ভারত ছাড়াও জার্মানিসহ অনেক দেশেই এই উৎসব বিশেষভাবে পালন করা হয়৷

রাজনীতি

বৌদ্ধ পূর্ণিমা

বৌদ্ধদের এই ধর্মীয় উৎসবের দিনে বাংলাদেশে সরকারি ছুটি উদযাপন করা হয়৷

রাজনীতি

বড়দিন

খ্রিষ্টানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বড়দিন বাংলাদেশেও বড় করে উদযাপন করা হয়৷ দিনটিতে সরকারি ছুটি থাকে৷

এরকমইতো হওয়া উচিত৷ তাই না? উৎসব তো সবার জন্যই৷ আমার টাকা আছে তাই আমি ভালো জিনিস কিনবো, ভালো খাবার খাবো; আর গরিবদের সেই সামর্থ্য নেই তাই তারা উৎসব করতে পারবে না, তা তো ঠিক নয়৷

ঈদের কথাই ধরুন৷ ঈদ এলেই আমরা সবাই কার, কত সম্পদ আছে তা দেখাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ি, এবং সেটি করতে গিয়ে পারলে অনেক সময় সামর্থ্যের উপরে উঠে অনেক কিছু করার চেষ্টা করি৷

কিন্তু ইসলাম বলে অন্য কথা৷ আনন্দের সময়টুকু যেন সবাই একসঙ্গে উপভোগ করতে পারে, সেজন্য সামর্থ্যবানদের ‘ফিতরা' দিতে বলা হয়েছে৷ এছাড়া আছে যাকাতের বিধান, যা অনেকেই দেন না৷ আবার অনেকে আছেন, যতটুকু যাকাত দেয়ার কথা ততটুকু দেন না৷ অথচ ঠিকই ছেলেমেয়েকে প্রতি ঈদে দু-তিনটি করে জামাকাপড় কিনে দেন, যা হয়ত তাদের প্রয়োজনও নেই৷ কারণ সারা বছরই তো তারা পোশাক পেয়ে থাকে৷ তারপরও ঈদ এলেই শিশু-কিশোরদের মধ্যে পোশাক কেনার প্রতিযোগিতা শুরু হয়৷ বন্ধুদের মধ্যে কে বেশি জামা পেলো তা নিয়ে আলোচনা হয়৷ অথচ এই শিশু-কিশোরদের যদি বোঝানো যায় যে, নিজের জন্য একটি অতিরিক্ত পোশাক না কিনে ঐ টাকা দিয়ে গরিব এক শিশুকে নতুন পোশাক কিনে দেয়াতেই বেশি আনন্দ, তাহলে হয়ত তারা পরবর্তীতে সেটিই করবে৷ ছেলেমেয়েকে বোঝানোর এই দায়িত্বটি মা-বাবাকেই নিতে হবে৷

আর মা-বাবাকেও প্রতিবছর ঠিকমতো যাকাত দিতে হবে এবং সে ক্ষেত্রে একটু পরিকল্পনার প্রয়োজন আছে৷ যাকাতের পুরো টাকা কয়েকজনের মধ্যে ভাগ করে না দিয়ে একেক বছর একেকজনকে সেটি দেয়া যেতে পারে৷ এতে করে গরিব ঐ লোকটি পুরো টাকা দিয়ে নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার মতো কিছু একটা করতে পারবে৷ ফলে পরবর্তীতে হয়ত দেখা যাবে ঐ গরিব লোকটিই অন্য কাউকে যাকাত দেয়ার মতো সামর্থ্যবান হয়ে উঠছে৷

বড়দিনের আগে শুরু হয় বড়দিন

বড়দিনের চার সপ্তাহ আগেই উৎসব শুরু হয় জার্মানিতে৷ ‘আডভেন্ট’ মৌসুম বা খ্রিষ্টের আগমনের সময় অনুসারে বিশেষ ক্যালেন্ডার পাওয়া যায়, বিশেষ করে বাচ্চাদের জন্য৷ বড়দিনের সময় গণনার এই ক্যালেন্ডারে ২৪টি খোপ থাকে, ১লা ডিসেম্বর থেকে ক্রিসমাস ইভ বা ২৪ তারিখ পর্যন্ত৷ সাধারণত খোপগুলো পূর্ণ থাকে চকলেটে৷ অনেকে অবশ্য নানা উপহার দিয়ে নিজের হাতেই এটা তৈরি করেন৷

স্যান্টা ক্লজের চেয়ে এগিয়ে সেন্ট নিক

ডিসেম্বরের ৬ তারিখ সকালে জুতো পরার আগে সেটা পরখ করে নিন৷ সেদিন জুতো ভর্তি চকলেটে থাকতে পারে৷ এ দিনটা আসলে ‘সেন্ট নিকোলাস ডে’৷ প্রায় বড়দিনের মতোই গুরুত্বপূর্ণ একটি দিবস৷ বাচ্চারা এ দিন উপহার প্রত্যাশা করে৷ বিশ্বের অনেক দেশে স্যান্টা ক্লজ গুরুত্ব পেলেও, জার্মানিতে সেন্ট নিকোলের জনপ্রিয়তা কিন্তু বেশি৷

যীশু নিয়ে আসেন উপহার

সেন্ট নিকোলাস কিংবা স্যান্টা ক্লজ – কেউই বড়দিন উপলক্ষ্যে জার্মান বাচ্চাদের জন্য উপহার নিয়ে আসে না৷ এই দায়িত্বে আছেন ‘যীশু শিশু’৷ আর তাঁকে প্রতিনিধিত্ব করে এক সোনালি নারী দেবদূত৷ দৃশ্যত এক রাতেই গোটা দেশে ঘুরে বেড়াতে পারদর্শী সে৷ তবে বাচ্চাদের জন্য আসলে যে বাবা-মাই উপহার কিনে আনেন – সে কথা তো বুঝতেই পারছেন৷

উপহারের রাত

জার্মানিতে বড়দিনের উপহার আদান প্রদান করা হয় ২৪শে ডিসেম্বর রাতে, মানে ক্রিসমাস ইভে৷ এই প্রথা বাচ্চাদের কাছে বেশ প্রিয়৷ সাধারণত পরিবারের সকল সদস্য রাতে ডিনারের পর উপহার খুলতে বসেন৷ তাই রাতে খাবারের পরিমাণ কম হলেই খুশি হয় শিশুরা৷ কারণ এতে করে উপহার খুলতে সময় একটু বেশি পাওয়া যায়৷

বড়দিনের পানীয়

আডভেন্ট মৌসুমে সাধারণ মানুষ প্রায়ই স্থানীয় ক্রিসমাস মার্কেটে হাজির হন ‘গ্ল্যুওয়াইন’ পান করতে৷ রেড ওয়াইন, চিনি এবং বিশেষ মসলার মিশ্রণে তৈরি এই গরম পানীয় পান করতে হয় ধীরে ধীরে৷ এটা খেতে তো ভালোই, শীতের কনকনে ঠান্ডা থেকেই রেহাই পাওয়া যায় খানিকটা৷

চকলেট মেলে আগে, তবে গাছ নয়

চকলেট দিয়ে সাজানো আডভেন্ট ক্যালেন্ডার বড়দিন শুরুর মোটামুটি চার সপ্তাহ আগে থেকেই পাওয়া যায়৷ তবে জার্মানিতে ‘ক্রিসমাস ট্রি’ সাজানো হয় ২৪শে ডিসেম্বর সকালে বা তার আগের দিন৷ ‘টানেনবাউম’ বা ‘ভাইনাখট্সবাউম’ সাধারণত জানুয়ারির ৬ তারিখ, ‘থ্রি কিংস ডে’ পর্যন্ত রেখে দেয়া হয়৷

অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা

বড়দিনের উৎসব উদযাপনের সময় বাড়তি সতর্কতা এবং নিরাপত্তা অবলম্বন করতে পরামর্শ দেয়া হয়৷ তবে ক্রিসমাস ট্রি সাজানোর ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়৷ তাই পাইন গাছ সাজাতে লাল গ্লাস বল এবং কাঠের ‘ট্রিঙ্কেটের’ পাশাপাশি লাল বা সাদা মোমবাতি ব্যবহার করা হয়৷ শুনতে বিপজ্জনক মনে হলেও, জার্মানরা অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা সঙ্গে রাখেন৷ তাই বিপদের ঝুঁকি কম৷

খাবার-দাবার জমিয়ে রাখুন

জার্মানিতে বড়দিনের উৎসব একদিন হয় না, বরং হয় তিনদিনব্যাপী৷ ডিসেম্বরের ২৪ তারিখ কার্যত একটি ছুটির দিন, যদিও সেদিন সকালের দিকে মুদির দোকান খোলা থাকে৷ তবে ২৫ এবং ২৬শে ডিসেম্বর সব কিছু বন্ধ থাকে৷ আপনি যদি আডভেন্ট ক্যালেন্ডার থেকে পাওয়া ক্যালোরির ওপর নির্ভর না করে থাকতে চান, তাহলে বুদ্ধিমানের কাজ হবে ২৩ তারিখই আগামী কয়েকদিনের জন্য বাজার করে রাখা৷

পরের দিন ঘুমান

বিশ্বের কিছু দেশের মানুষ বড়দিনের পরের দিন সকালেই শপিং মলে দৌঁড়ান গিফট কার্ড থেকে পছন্দের গিফট কিনতে কিংবা অপছন্দের উপহারটি ফেরত দিতে৷ জার্মানিতে এমনটা করার উপায় নেই৷ কেননা শপিং মল আবারো খোলে ২৭ তারিখ৷ তাছাড়া গিফট কার্ড বড়দিনের উপহার হিসেবে তেমন একটা জনপ্রিয় নয় এদেশে৷ তাই নিশ্চিন্তে ২৫ তারিখের সকালটা ঘুমিয়ে কাটাতে পারেন৷

শিশুরা না গাওয়া পর্যন্ত শেষ নয়

আডভেন্ট ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নভেম্বরের শেষ রবিবার জার্মানিতে শুরু হয় বড়দিনের উৎসব৷ এরপর বড়দিনের সময় তিন দিন থাকে ছুটি৷ তবে তারপরই কিন্তু উৎসব শেষ হয়ে যায় না৷ বড়দিনের উৎসব কার্যত শেষ হয় জানুয়ারির ৬ তারিখ৷ সেদিন ‘থ্রি কিংস ডে’৷ এই দিনে শিশুরা গান গায়, পরে ক্রিসমাস ট্রি-টিও ফেলে দেওয়া হয়৷ আর এভাবেই শেষ হয় বড়দিন৷

ইদানিং দেখি ধনি ব্যক্তিদের অনেকে যাকাত দেয়ার নামে বিভিন্ন ‘লোক দেখানো' কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন৷ শহরময় মাইকিং করে গরিব লোকদের নিজের বাড়ির সামনে জড়ো করে যাকাতের শাড়ি, লুঙ্গি দিচ্ছেন৷ এর মাধ্যমে তিনি পুরো শহরকেই যেন নিজের ‘উদারতা'র কথা জানাতে সচেষ্ট হয়ে ওঠেন৷

‘লোক দেখানো'র এই বিষয়টি চোখে পড়ে কোরবানির ঈদের সময়ও৷ কে, কার চেয়ে বড় কোরবানির পশু কিনলেন সেটি আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে৷ অথচ আলোচনার বিষয় হওয়া উচিত ছিল, কীভাবে পরিবেশ রক্ষা করেও পশু কোরবানি দেয়া যায়, সেটি৷ কেননা কোরবানির পর অনেকেই পশুর রক্ত ও অন্যান্য বর্জ্য ঠিকভাবে পরিষ্কার করেন না৷ এতে করে আশেপাশের পরিবেশ দুর্গন্ধময় হয়ে উঠে৷ এছাড়া জমে থাকা রক্ত রোগজীবাণুর বংশবিস্তারে সহায়তা করে৷

তাই সবাই যেন পরিবেশসম্মত উপায়ে কোরবানি দেন তা নিয়ে নিজ নিজ সমাজে আলোচনা করতে হবে৷ এ ব্যাপারে সবাইকে সচেতন করার উদ্যোগ নিতে হবে৷ সরকারকেও গত বছর এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে দেখা গেছে৷ ঢাকায় পশু কোরবানির জন্য নির্ধারিত স্থান ঠিক করে দেয়া হয়েছিল৷ সবাইকে সেখানে পশু নিয়ে যেতে বলা হয়েছিল৷ তবে তথ্যটি নগরবাসীর অনেকে জানতেন না বলে উদ্যোগটি ততটা ফলপ্রসূ হয়নি৷ এছাড়া নির্দিষ্ট স্থানটি বাসা থেকে কিছুটা দূরে হওয়ায় সেখানে অনেকে কোরবানির পশু নিয়ে যাননি বলে শোনা গেছে৷ এ বছরও ১১টি সিটি করপোরেশনে ২,৯৪৩টি স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছিল সরকার

DW Bengali Mohammad Zahidul Haque

জাহিদুল হক, ডয়চে ভেলে

সরকারের উদ্যোগটি প্রশংসনীয়৷ এটি যেন সফল হয় সে ব্যাপারে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে৷ এক্ষেত্রে সবাই যেন কোরবানির পশু নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যায় তা আইন করে বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে৷ সব নাগরিককে তাদের কোরবানির নির্দিষ্ট স্থানটি কোথায় তা সময়মতো জানানোর উদ্যোগ নিতে হবে৷ আর সারা দেশে এরকম স্থান নির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে৷ সরকারের এই পদক্ষেপ পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার আগ পর্যন্ত নাগরিকদের পশু কোরবানির পর সেই স্থান যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পরিষ্কার করে ফেলতে হবে৷ এক্ষেত্রে ছোটবেলায় শোনা সেই কথা - পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ - সবাই মেনে চললেই যথেষ্ট৷

আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷