ব্লগ

আয় আর সেবা দিন, তারপর আয়কর নিন

সব দেশের মানুষই কর ফাঁকি দিতে চায়৷ তা সত্ত্বেও অনেক দেশ নাগরিকদের কাছ থেকে প্রাপ্যটা ঠিকই আদায় করে নেয়৷ এর পাশাপাশি সবার জন্য ন্যূনতম আয় এবং নাগরিক সুবিধাও নিশ্চিত করে তারা৷ বাংলাদেশ সরকারেরও নেয়ার আগে দেয়া উচিত৷

জার্মানির একটি হাসপাতাল

জার্মানিতে কর না দিয়ে থাকা মুশকিল৷ কর দিতে সবাই একরকম বাধ্য৷ প্রতিমাসে বেতনের প্রায় প্রায় অর্ধেক টাকা কেটে বাকি টাকার একটা হিসেব ধরিয়ে দেয়া হয়৷ প্রায় চার বছর ধরে আমিও এই নিয়মের অধীন৷ ধরিয়ে দেয়া হিসেবে পরিষ্কার লেখা থাকে, প্রকৃত বেতন কত আর সব কাটাকুটির পরে পাবো কত৷ প্রথমে বেশ আফসোস হতো, ভাবতাম, ‘‘ইশ, এতগুলো টাকা কেটে নেয়!''

অবশ্য টাকাটা হঠাৎ কাটতে শুরু করেনি৷ নিয়োগপত্রেই বিষয়টির উল্লেখ ছিল৷ প্রতিমাসে কোন খাতে কত টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে তার অনুপুঙ্খ বর্ণনা থাকে৷ সেখানে স্বাস্থ্য বীমা, অবসর ভাতা, বেকার ভাতা, জার্মানির পূর্বাঞ্চলের উন্নয়ন কর-সহ সব খাতেরই উল্লেখ থাকে৷

এতগুলো টাকা যে কেটে নিচ্ছে, তা নিয়ে কি মনে কোনো অসন্তোষ আছে? এখন আর একদমই নেই৷ না থাকার একটাই কারণ – পারিশ্রমিক থেকে যে টাকা কেটে নেয়া হয়, সময়মতো সমানুপাতিক বা তার চেয়ে বেশি হারে তা ফিরিয়েও দেয় জার্মান সরকার৷

ব্যাপারটা বোঝাতে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে শুধু দু'টো উদাহরণ দেবো৷

২০১৪ সালে আমার একটা হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল৷ এমন বিপদ কখনো বলে-কয়ে আসে না৷ হঠাৎ ঝড়ের মতো এসে সব তছনছ করে দিয়ে যায়৷ কিন্তু হয়ত জার্মানিতে ছিলাম বলেই ঝড়টা শরীর টের পেলেও, মনের ওপর বা পরিবারে তার তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি৷ ডাক্তার রোগ নির্ণয়ের পরই অ্যাম্বুলেন্স ডেকেছিলেন৷ অ্যাম্বুলেন্সটাই ছিল মিনি হাসপাতাল৷ ছোট হাসপাতালে শুয়ে কয়েক মিনিটেই পৌঁছে যাই এই বন শহরেরই একটি হাসপাতালে৷ দুপুরে অ্যাম্বুলেন্সে উঠলাম, বিকেল গড়ানোর আগেই অস্ত্রোপচার শেষ৷ কেউ একবার এসে বলেওনি, অপারেশনে কত টাকা লাগবে৷ বলার দরকারই পড়েনি৷ ডাক্তার শুধু দেখেছেন আমার হেল্থ ইনস্যুরেন্স কার্ড৷ ঐ কার্ডই আমার হয়ে কথা বলেছে, বলেছে, ‘‘এই রোগী জার্মানিতে আসার পর থেকে তাঁর কষ্টের উপার্জন দিয়ে এই দিনটির জন্য কিছু টাকা জমা করেছে৷ সুতরাং তাঁকে সারিয়ে তোলাই প্রথম ও শেষ দায়িত্ব৷ এর মাঝে কোনো কথা নেই৷ চিকিৎসার খরচ নিয়ে কোনো দরাদরির প্রশ্ন নেই৷ প্রশ্ন একটাই –রোগীকে কত তাড়াতাড়ি সারিয়ে তোলা যাবে?''

আশীষ চক্রবর্ত্তী

আশীষ চক্রবর্ত্তী, ডয়চে ভেলে

সারিয়ে তুলতে প্রথমে দরকার ছিল অপারেশন৷ তা তাঁরা কাল বিলম্ব না করেই করেছেন৷ তারপর দরকার ছিল বাকি জীবন নিজেকে সুস্থ রাখার বিষয়ে রোগীকে সচেতন করা, কিছু প্রশিক্ষণ দেয়া৷ তা-ও তাঁরা দিয়েছেন৷ জার্মান সরকার বা চিকিৎসাসেবকদের কাছ থেকে এর বেশি কী চাইতে পারি আমি?

হার্ট অ্যাটাকের পরেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, প্রবাসে আর একা থাকা নয়৷ তা পরিবার যদি নিয়ে আসি, চলব কীভাবে? বেতন থেকে যে এতগুলো টাকা কেটে নেয়, বাকি টাকায় সংসার চালানো যাবে? সহকর্মীরা বললেন, ‘‘সে চিন্তা সরকারের৷ পরিবার এলে এত টাকা কাটবে না৷ কম কাটবে৷ ফলে আয় বেড়ে যাবে৷''

সত্যিই তাই৷ পরিবারের সদস্যদের নাম এখানে নথিভুক্ত হওয়ার পরই মাস শেষে একটু বেশি টাকা ব্যাংকে জমা হতে লাগল৷ কিছুদিন পর টাকার অঙ্কটা আরেকটু বাড়ল৷ কেন জানেন? আমার সন্তান যে স্কুলে যায়! তার একটা খরচ আছে না? সেই খরচের একটা অংশ দেয়ার দায়িত্ব আপনাআপনিই নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে জার্মান সরকার৷ আমি শুধু নিয়ম মেনে জানিয়েছিলাম, সন্তান স্কুলে যাচ্ছে, লেখাপড়া করছে৷

কর সব দেশের সব উপার্জনক্ষম নাগরিকেরই দেয়া উচিত৷ তবে জীবনের মৌলিক চাহিদা পূরণের ন্যূনতম সামর্থ্য না থাকলে মানুষ কর দেবে কী করে? তাই সেদিকটা মাথায় রাখতে হবে৷ আর কর নেয়ার আগে যথেষ্ট নাগরিক সেবার নিশ্চয়তা দিতে হবে সরকারকে৷

বন্ধু, আশিষ চক্রবর্ত্তীর এই ব্লগ পোস্টটা আপনার কেমন লাগলো? জানান আমাদের, লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

Albanian Shqip

Amharic አማርኛ

Arabic العربية

Bengali বাংলা

Bosnian B/H/S

Bulgarian Български

Chinese (Simplified) 简

Chinese (Traditional) 繁

Croatian Hrvatski

Dari دری

English English

French Français

German Deutsch

Greek Ελληνικά

Hausa Hausa

Hindi हिन्दी

Indonesian Bahasa Indonesia

Kiswahili Kiswahili

Macedonian Македонски

Pashto پښتو

Persian فارسی

Polish Polski

Portuguese Português para África

Portuguese Português do Brasil

Romanian Română

Russian Русский

Serbian Српски/Srpski

Spanish Español

Turkish Türkçe

Ukrainian Українська

Urdu اردو