ইউরোপে থাকতে পারবে ৩২ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী

ইইউ অঞ্চলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা ৪০ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশীর ‘ভাগ্য' নির্ধারণ করতে বসেন ব্রাসেলসে৷ বৈঠকে ভাগ্যান্বেষণে ইউরোপে আসা ৩২ হাজার মানুষকে স্থান দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে৷ বাকি ৮ হাজারের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত৷

সোমবার বেলজিয়ামের রাজধানীতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সবচেয়ে বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশী নিতে রাজি হয়েছে জার্মানি৷ ৩২ হাজারের মধ্যে ১০ হাজারই নেবে জার্মানি৷ ২২ হাজার ৫০৪ জনকে ভাগাভাগি করে নেবে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত কয়েকটি দেশ৷ ইইউ বহির্ভূত ইউরোপীয় দুই দেশ সুইজারল্যান্ড এবং নরওয়েও এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছে৷ নরওয়ে সাড়ে তিন হাজার মানুষের দায়িত্ব নিচ্ছে, সুইজারল্যান্ড নেবে ৫১৯ জনকে৷

আগের মতো গ্রিস এবং ইটালিতে ঢুকে পড়া এই ৪০ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশীর ব্যাপারেও ইউরোপের সব দেশ ভূমিকা রাখতে রাজী নয়৷

শরণার্থী কারা?

ইউএনএইচসিআর-এর সংজ্ঞা অনুযায়ী, কেউ যদি জাতি, ধর্ম, গোষ্ঠী বা কোনো শ্রেণিগত বৈষম্য কিংবা কোনো মতপার্থক্যের কারণে ভীত হয়ে নিজের ঘর বা দেশ ছাড়তে বাধ্য হন, তাহলে তিনি শরণার্থী৷ প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট দুর্যোগের কারণে দেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়া মানুষদেরও শরণার্থী হিসেবে গণ্য করে ইউএনএইচসিআর৷ ছবির এই শিশু তুরস্কে আশ্রয় নেয়া সিরীয় শরণার্থী৷

সহিংসতার কারণে গৃহহারা

ইউএনএইচসিআর-এর প্রতিবেদন বলছে, এ মুহূর্তে বিশ্বের কমপক্ষে ৫ কোটি ১০ লাখ মানুষ সহিংসতার কারণে শরণার্থী৷ সহিংসতা বা বিরোধের কারণে ঘর ছেড়ে নিজের দেশেরই অন্য কোথাও আশ্রয় নেয়া মানুষদেরও রাখা হয়েছে এই হিসেবে৷ ওপরের ছবির মানুষগুলো আফ্রিকার দেশ ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোর, সেনাবাহিনীর এবং বিদ্রোহীদের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর রুৎশুরু শহরের আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হন তাঁরা

রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী

অনেকেই অন্য দেশে গিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেন৷ সব শর্ত পূরণ না হওয়ায় তাদের বেশির ভাগই হয়ে যান শরণার্থী৷

সংখ্যাধিক্যই বড় সমস্যা

শরণার্থী সমস্যা বিশ্বের অনেক দেশের জন্যই বড় সংকট হয়ে উঠছে৷ শরণার্থীদের সংখ্যা এত দ্রুত বাড়ছে যে সংকটের আশু নিরসন দুরূহ হয়ে পড়ছে৷ পরিসংখ্যান বলছে, এ মুহূর্তে মোট শরণার্থীর সংখ্যা স্পেন, ক্যানাডা বা দক্ষিণ কোরিয়ার মোট জনসংখ্যার চেয়েও বেশি!

আফগানিস্তান, সিরিয়া এবং সোমালিয়া

২০১৪ সালের জুন পর্যন্ত বিশ্বের মোট শরণার্থীর শতকরা পঞ্চাশ ভাগেরও বেশি ছিল আফগান, সিরীয় এবং সোমালীয়৷ অর্থাৎ এই তিন দেশের মোট শরণার্থী বিশ্বের মোট শরণার্থীর অর্ধেকেরও বেশি৷ ছবিতে পাকিস্তানে আশ্রয় নেয়া এক আফগান পরিবার৷

স্বদেশেই শরণার্থী

আশ্চর্যজনক হলেও সত্য যে, অন্য দেশে আশ্রয় নেয়া মানুষের চেয়ে নিজের দেশেই শরণার্থী হয়ে যাওয়া মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি৷ ২০১৩ সালে অন্য দেশে আশ্রয় নিয়েছিলেন ১ কোটি ৬৭ লাখ মানুষ, অন্যদিকে নিজের দেশে গৃহহারার সংখ্যা ছিল ৩ কোটি ৩৩ লাখ৷

আশ্রয় শিবিরের বাইরে...

সব শরণার্থী কিন্তু আশ্রয় শিবিরে থাকেন না৷ বরং বিশ্বের মোট শরণার্থীর তিন ভাগের দুইভাগই বাস করছেন আশ্রয় শিবিরের বাইরে৷ শহর বা গ্রামের কোনো ফাঁকা জায়গায়, কিংবা কোনো অ্যাপার্টমেন্টে গাদাগাদি করে থাকতে দেখা যায় তাঁদের৷

শিশুদের দুর্বিষহ জীবন

মোট শরণার্থীর শতকরা ৪৬ ভাগই শিশু৷ ঘরছাড়া এই শিশুদের জীবনে লেখাপড়া নেই, কোনো সাধ-আহ্লাদও নেই৷ ছবির এই মা, শিশু সিরিয়ার৷ গ্রিসের লেসবসে আশ্রয় নিয়েছে তারা৷

নির্যাতনের শিকার

৫ কোটি ১০ লাখ শরণার্থীর অন্তত ৩৫ ভাগই কোনো-না-কোনোভাবে নির্যাতনের শিকার৷ শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতনের শিকারদের অনেকেই স্বাভাবিক হতে পারছেন না৷ যু্দ্ধ আর নির্যাতনের আতঙ্ক অনুক্ষণ তাড়া করে তাঁদের!

শেষ আশ্রয় যুক্তরাষ্ট্র!

সহিংসতা বা বিরোধের কারণে একবার দেশ ছাড়লে খুব কম মানুষই আবার নিজের দেশে ফিরতে চান৷ অথচ যে দেশে থাকতে চান বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সে দেশ তাঁদের দায়িত্ব নিতে চায় না৷ এমন পরিস্থিতিতে আশ্রয়প্রার্থীদের নতুন কোনো দেশে পাঠানোর চেষ্টা করে ইউএনএইচসিআর৷ তবে খুব কম শরণার্থীই সেই সুযোগ পায়৷ তবে এমন শরণার্থীদের সবচেয়ে বেশি আশ্রয় দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র৷ সংখ্যাটা অবশ্য নগন্য, বিশ্বের মোট শরণার্থীর মাত্র ১ শতাংশ!

হাঙ্গেরি, অস্ট্রিয়া, স্লোভেনিয়া, স্লোভাকিয়া, স্পেন, এস্টোনিয়া, লাটভিয়া এবং লিথুয়ানিয়া আগেই এ দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে৷ এ বছর এর আগেও অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের জন্য বৈঠকে বসেছিলেন ইউরোপীয় অঞ্চলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা৷ সেই দফায় মোট ২১ হাজার অভিবাসপ্রত্যাশীর দায়িত্ব নেয়ার অঙ্গিকার করেছিল জার্মানি ও ফ্রান্স৷

সোমবারের বৈঠক শেষে জার্মানির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের এক মুখপাত্র জানান, আগামী অক্টোবর বা নভেম্বর মাসে বাকি অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নিয়েও বৈঠক হবে৷ অভিবাসীদের আন্তর্জাতিক সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী এ বছর এ পর্যন্ত দেড় লাখেরও বেশি মানুষ পূর্ব আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে গ্রিস এবং ইটালিতে প্রবেশ করেছে৷ ভূমধ্যসাগর দিয়ে ইউরোপে আসার পথে ডুবে মারা গেছে অনেক মানুষ৷ গত ৬ মাসে কমপক্ষে ১৯০০ জনের প্রাণ গেছে এভাবে৷

এসিবি/ডিজি (ডিপিএ, রয়টার্স, এপি)

সোমবার বেলজিয়ামের রাজধানীতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সবচেয়ে বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশী নিতে রাজি হয়েছে জার্মানি৷ ৩২ হাজারের মধ্যে ১০ হাজারই নেবে জার্মানি৷ ২২ হাজার ৫০৪ জনকে ভাগাভাগি করে নেবে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত কয়েকটি দেশ৷ ইইউ বহির্ভূত ইউরোপীয় দুই দেশ সুইজারল্যান্ড এবং নরওয়েও এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছে৷ নরওয়ে সাড়ে তিন হাজার মানুষের দায়িত্ব নিচ্ছে, সুইজারল্যান্ড নেবে ৫১৯ জনকে৷