উদ্বাস্তু সংকট: ম্যার্কেল এক চুল নড়লেন না

বাভারিয়ার ভিল্ডবাড ক্রয়েথে সিএসইউ দলের সম্মেলনে আমন্ত্রিত সিডিইউ প্রধান ও চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল চলতি উদ্বাস্তু বা শরণার্থী সংকট সমাধানে তাঁর অবস্থানের কিছুমাত্র পরিবর্তনের আভাস দিলেন না৷

খ্রিষ্টীয় গণতন্ত্রী ইউনিয়ন সিডিইউ এবং খ্রিষ্টীয় সমাজিক ইউনিয়ন সিএসইউ, এই দু'টি দল পরস্পরকে ‘‘ভগিনী'' বলে অভিহিত করে থাকে৷ বস্তুত একই দল, তবে সিএসইউ-এর কর্মক্ষেত্র দক্ষিণের বাভারিয়া রাজ্যে সীমিত; সিডিইউ বাদবাকি জার্মানিতে সক্রিয়৷ সরকার গঠনের সময় অবশ্যই দু'টি দল এক দল হিসেবে কাজ করে থাকে – যেমন বর্তমান ফেডারাল সরকারের বৃহৎ জোট গঠিত হয়েছে একদিকে সিডিইউ-সিএসইউ, অন্যদিকে এসপিডি বা সামাজিক গণতন্ত্রীদের নিয়ে৷

আপনি কী ভাবছেন?

এখানে ক্লিক করুন ও আলোচনায় যোগ দিন

আপাতত দুই ‘‘ভগিনী'' দলের মধ্যে গোঁসা ও কোঁদল যেন ধীরে ধীরে পৃথগান্নের দিকে চলেছে, বলে মনে হতে পারে, যার একমাত্র কারণ হল উদ্বাস্তু নীতি৷ জার্মানিতে যে হাজার হাজার উদ্বাস্তু আসছেন, তারা প্রধানত ঢোকেন অস্ট্রিয়া থেকে বাভারিয়া হয়ে৷ কাজেই বাভারিয়ায় ক্ষমতাসীন সিএসইউ দল – খানিকটা তৃণমূলে কান রেখেও – উদ্বাস্তুদের আগমন হ্রাস করতে আগ্রহী৷ সংখ্যা বলতে গেলে, সিএসইউ চায়, উদ্বাস্তুদের জন্য মুক্ত দুয়ার নীতি পরিবর্তন করে বছরে দু'লাখের মতো একটি ঊর্ধ্বসীমা নির্দিষ্ট করা হোক৷ মুশকিল এই যে, ম্যার্কেল সেদিকে যেতে রাজি নন৷ বলতে কি, ম্যার্কেলের উদ্বাস্তু নীতি নিয়ে বিরোধ এখন শুধু খ্রিষ্টীয় ইউনিয়ন দলগুলিকেই নয়, গোটা জার্মান জাতিকে বিভক্ত করেছে৷ দ্য গার্ডিয়ান লিখছে, ‘উদ্বাস্তু প্রসঙ্গে জার্মানির মনোভাবকে কেন্দ্র করে আঙ্গেলা ম্যার্কেল নিজের দলে বিদ্রোহের মুখোমুখি৷'

দ্য ইকনমিস্ট লিখছে, ‘উদ্বাস্তুদের নেওয়া সম্পর্কে আঙ্গেলা ম্যার্কেলের আশাবাদিতা তাচ্ছিল্যের সঙ্গে তাঁর দিকে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হচ্ছে৷'

বুধবার মিউনিখের কাছে ভিল্ডবাড ক্রয়েথে ছিল সিএসইউ-এর দলীয় সম্মেলনে৷ এর ঠিক আগেই অস্ট্রিয়া উদ্বাস্তুদের সংখ্যা সীমিত করার একটি পরিকল্পনা ঘোষণা করে: চলতি বছরে অস্ট্রিয়া রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের সংখ্যা ৩৭,৫০০-য় সীমিত রাখবে; তার পর চার বছর ধরে প্রতিবছর সেই সংখ্যা কমে দাঁড়াবে ২০১৯ সালে বছরে পঁচিশ হাজারে৷ নির্দিষ্ট সংখ্যার বেশি রাজনৈতিক আশ্রয় অভিলাষীরা এলে, তাদের কি হবে, সে বিষয়ে অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর ভ্যার্নার ফাইমান কিছু বলেননি – সেটা নাকি সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা করে দেখবেন৷

ড্রেসডেনে ইসলাম বিরোধী পেগিডা গোষ্ঠীর বিক্ষোভ সমাবেশে গত সোমবার প্রায় ন’হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন৷ বিক্ষোভকারীরা মূলত চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল-কেই বর্তমান উদ্বাস্তু সংকটের জন্য দায়ী করছেন৷

টুরিঙ্গিয়ায় এর আগেও উদ্বাস্তু আবাস হিসেবে চিহ্নিত বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে শরণার্থীদের আসা বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে৷ যেমন বিশহাগেন-এর এই বাড়িটির ছাদ পুরোপুরি পুড়ে গিয়েছে৷ গত সোমবার এখানে প্রথম উদ্বাস্তুদের আসার কথা ছিল৷

খ্রিষ্টীয় গণতন্ত্রী ইউনিয়ন সিডিইউ এবং খ্রিষ্টীয় সমাজিক ইউনিয়ন সিএসইউ, এই দু'টি দল পরস্পরকে ‘‘ভগিনী'' বলে অভিহিত করে থাকে৷ বস্তুত একই দল, তবে সিএসইউ-এর কর্মক্ষেত্র দক্ষিণের বাভারিয়া রাজ্যে সীমিত; সিডিইউ বাদবাকি জার্মানিতে সক্রিয়৷ সরকার গঠনের সময় অবশ্যই দু'টি দল এক দল হিসেবে কাজ করে থাকে – যেমন বর্তমান ফেডারাল সরকারের বৃহৎ জোট গঠিত হয়েছে একদিকে সিডিইউ-সিএসইউ, অন্যদিকে এসপিডি বা সামাজিক গণতন্ত্রীদের নিয়ে৷

আপাতত দুই ‘‘ভগিনী'' দলের মধ্যে গোঁসা ও কোঁদল যেন ধীরে ধীরে পৃথগান্নের দিকে চলেছে, বলে মনে হতে পারে, যার একমাত্র কারণ হল উদ্বাস্তু নীতি৷ জার্মানিতে যে হাজার হাজার উদ্বাস্তু আসছেন, তারা প্রধানত ঢোকেন অস্ট্রিয়া থেকে বাভারিয়া হয়ে৷ কাজেই বাভারিয়ায় ক্ষমতাসীন সিএসইউ দল – খানিকটা তৃণমূলে কান রেখেও – উদ্বাস্তুদের আগমন হ্রাস করতে আগ্রহী৷ সংখ্যা বলতে গেলে, সিএসইউ চায়, উদ্বাস্তুদের জন্য মুক্ত দুয়ার নীতি পরিবর্তন করে বছরে দু'লাখের মতো একটি ঊর্ধ্বসীমা নির্দিষ্ট করা হোক৷ মুশকিল এই যে, ম্যার্কেল সেদিকে যেতে রাজি নন৷ বলতে কি, ম্যার্কেলের উদ্বাস্তু নীতি নিয়ে বিরোধ এখন শুধু খ্রিষ্টীয় ইউনিয়ন দলগুলিকেই নয়, গোটা জার্মান জাতিকে বিভক্ত করেছে৷ দ্য গার্ডিয়ান লিখছে, ‘উদ্বাস্তু প্রসঙ্গে জার্মানির মনোভাবকে কেন্দ্র করে আঙ্গেলা ম্যার্কেল নিজের দলে বিদ্রোহের মুখোমুখি৷'

দ্য ইকনমিস্ট লিখছে, ‘উদ্বাস্তুদের নেওয়া সম্পর্কে আঙ্গেলা ম্যার্কেলের আশাবাদিতা তাচ্ছিল্যের সঙ্গে তাঁর দিকে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হচ্ছে৷'

বুধবার মিউনিখের কাছে ভিল্ডবাড ক্রয়েথে ছিল সিএসইউ-এর দলীয় সম্মেলনে৷ এর ঠিক আগেই অস্ট্রিয়া উদ্বাস্তুদের সংখ্যা সীমিত করার একটি পরিকল্পনা ঘোষণা করে: চলতি বছরে অস্ট্রিয়া রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের সংখ্যা ৩৭,৫০০-য় সীমিত রাখবে; তার পর চার বছর ধরে প্রতিবছর সেই সংখ্যা কমে দাঁড়াবে ২০১৯ সালে বছরে পঁচিশ হাজারে৷ নির্দিষ্ট সংখ্যার বেশি রাজনৈতিক আশ্রয় অভিলাষীরা এলে, তাদের কি হবে, সে বিষয়ে অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর ভ্যার্নার ফাইমান কিছু বলেননি – সেটা নাকি সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা করে দেখবেন৷

অস্ট্রিয়ার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে সিএসইউ; ম্যার্কেল কিন্তু সেই সিদ্ধান্তকে ‘নট হেল্পফুল' বা কাজের নয়, বলে সমালোচনা করেছেন৷ ওদিকে নতুন বছরেও দিনে প্রায় তিন হাজার করে উদ্বাস্তু জার্মানিতে এসে পৌঁছাচ্ছেন৷ এই পরিস্থিতিতেও ভিল্ডবাড ক্রয়েথে ম্যার্কেলকে শুধুমাত্র বলতে শোনা গেছে যে, তাঁর সরকার ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষবৈঠকে কিছু নতুন প্রস্তাব পেশ করবেন৷ ‘‘তা থেকে একটা মধ্যকালীন সিদ্ধান্তে আসা যাবে, তারপর আরো একটি মধ্যকালীন সিদ্ধান্ত, তারপর দেখা যাবে, পরিস্থিতি কি'' – বলেছেন ম্যার্কেল৷ সূচনা থেকেই বোঝা গেছিল, এর চাইতে বেশি আশা করা উচিত নয়৷

উদ্বাস্তু শিবিরে দাঙ্গা

হামবুর্গ শহরের ভিলহেল্মসবুর্গ এলাকায় শরণার্থীদের প্রাথমিক আশ্রয়কেন্দ্রটি ভরে যাওয়ায় আগন্তুকদের তাঁবুতে থাকার ব্যবস্থা করা হয়৷ মঙ্গলবার (৬ই অক্টোবর) সেখানে আফগানিস্তান ও আলবেনিয়া থেকে আগত উদ্বাস্তুদের মধ্যে ব্যাপক দাঙ্গা বাঁধে৷ লোয়ার স্যাক্সনি-র ব্রাউনশোয়াইগ-এও অনুরূপভাবে আলজিরীয় ও সিরীয় উদ্বাস্তুদের মধ্যে দাঙ্গা বাঁধে একটি চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে৷

ইসলাম বিরোধীরা আবার মাথা চাড়া দিয়েছে

ড্রেসডেনে ইসলাম বিরোধী পেগিডা গোষ্ঠীর বিক্ষোভ সমাবেশে গত সোমবার প্রায় ন’হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন৷ বিক্ষোভকারীরা মূলত চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল-কেই বর্তমান উদ্বাস্তু সংকটের জন্য দায়ী করছেন৷

ম্যার্কেল লাগাম টানলেন

চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল দৃশ্যত তাঁর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টোমাস ডেমেজিয়ের-এর গুরুত্ব কিছুটা খর্ব করে চ্যান্সেলরের দপ্তরের প্রধান পেটার আল্টমায়ার-কে শরণার্থী সংক্রান্ত কর্মকাণ্ড সমন্বয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন৷

উদ্বাস্তুর লাশ

টুরিঙ্গিয়া রাজ্যের সালফেল্ড-এ অবস্থিত একটি রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী আবাসে সোমবার একটি অগ্নিকাণ্ডের পর ২৯ বছর বয়সি এক ইরিট্রিয়ান উদ্বাস্তুর লাশ পাওয়া যায়৷ কিভাবে এই শরণার্থী প্রাণ হারিয়েছেন, তা এখনও অজ্ঞাত৷ তবে আবাসটিতে ইচ্ছাকৃতভাবে অগ্নিসংযোগের কোনো হদিশ পুলিশ এখনও পায়নি৷

যে কোনো পন্থায়

টুরিঙ্গিয়ায় এর আগেও উদ্বাস্তু আবাস হিসেবে চিহ্নিত বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে শরণার্থীদের আসা বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে৷ যেমন বিশহাগেন-এর এই বাড়িটির ছাদ পুরোপুরি পুড়ে গিয়েছে৷ গত সোমবার এখানে প্রথম উদ্বাস্তুদের আসার কথা ছিল৷

ঘরে বাইরে

শরণার্থী সংকট এখন জার্মানির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও টান ধরাচ্ছে৷ চ্যান্সেলর ম্যার্কেলের সিডিইউ দলের জোড়োয়া দল বাভারিয়ার সিএসইউ৷ তাদের প্রধান হর্স্ট জেহোফার সেপ্টেম্বর মাসের শেষে একটি দলীয় সম্মেলনে বক্তা হিসেব আমন্ত্রণ জানান হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অর্বান-কে, যিনি সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে উদ্বাস্তুর স্রোত আটকানোর চেষ্টা করেছেন৷

হাওয়া যদি বদলায়

বাভারিয়ার অর্থমন্ত্রী মার্কুস জ্যোডার ইতিপূর্বেও বলেছেন: ‘‘আমরা (অর্থাৎ জার্মানি) বিশ্বকে বাঁচাতে পারি না৷’’ এমনকি তিনি অস্ট্রিয়া সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কথাও চিন্তা করেছেন৷ তবে জ্যোডার যখন সম্প্রতি রাজনৈতিক আশ্রয় প্রাপ্তির সাংবিধানিক অধিকার সীমিত করার কথা বলেন, তখন জেহোফার স্বয়ং সাথে সাথে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন৷

স্বভাবতই সম্মেলনের পরে সিএস ইউ প্রধান হর্স্ট জেহোফার ‘‘হতাশ'', যেমন তিনি বলেছেন এআরডি টেলিভিশনকে৷ ওদিকে ডাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে জার্মান প্রেসিডেন্ট ইওয়াখিম গাউক মন্তব্য করেছেন যে, উদ্বাস্তুদের সংখ্যা সীমিত করা ‘‘নৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে প্রয়োজনীয়'' হতে পারে৷ সেটাও কি ম্যার্কেলের ওপর পরোক্ষ চাপ নয়?

এসি/ডিজি (রয়টার্স, ডিপিএ)

বন্ধুরা, ম্যার্কেলের এখন ঠিক কী করা উচিত বলে আপনারা মনে করেন? জানান নীচের ঘরে৷