বিশ্ব

উৎসব আসছে, তাই উদ্বিগ্ন ও সতর্ক জার্মানি

অভিবাসীদের ঘিরে উদ্বেগ ও সতর্কতার বাতাবরণ৷ কার্নিভাল শুরুর আগে এমনই ইঙ্গিত৷ ডানপন্থি এক নেত্রী মনে করেন, সীমান্তে প্রয়োজনে পুলিশকে অভিবাসন প্রত্যাশীদের ওপর গুলি চালানোর অনুমতিও দিতে হবে৷ এ নিয়েও শুরু হয়েছে বিতর্ক৷

Karneval 2015 Rosenmontag Sicherheit Polizei

৩১ ডিসেম্বর রাতের ঘটনার রেশ এখনো কাটেনি৷ এক হাজারের মতো নারীর যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার রহস্যের কোনো কুলকিনারা করতে পারেনি পুলিশ৷ অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করার কাজে অগ্রগতিও খুব উল্লেখযোগ্য নয়৷ এমন এক অবস্থাতেই আবার বড় এক গণজমায়েতের প্রস্তুতি নিচ্ছে কোলন৷

বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে কার্নিভাল৷ এ উৎসবে সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখার দায়িত্বে এবার থাকছে আড়াই হাজার পুলিশ৷ সংখ্যাটি গত বছরের তিনগুণ৷ নিরাপত্তা বাজেটও এবার বাড়িয়ে ৩ লক্ষ ৬০ হাজার ইউরো করা হয়েছে৷

কার্নিভালে সিরিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব আফ্রিকার দেশগুলো থেকে আসা অভিবাসন প্রত্যাশীদের শান্তিপূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উদ্যোগও নেয়া হচ্ছে৷ জার্মানরা কীভাবে এ উৎসব উদযাপন করে, বিয়ার বা অন্য ধরনের অ্যালকোহল পান যে এ উৎসবের জন্য বাধ্যতামূলক নয়, উৎসবের সময় নারীর অনুমতি সাপেক্ষে পুরুষ যে ঘনিষ্ঠ হয়েও শুভেচ্ছা জানাতে পারে, জোর করে ঘনিষ্ঠ হতে যাওয়া যে যৌন হয়রানির শামিল – এ সব বোঝানোর জন্য নেয়া হচ্ছে নানান উদ্যোগ৷

জার্মানি মনে করে, এখানকার শিক্ষা, সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা নিয়ে অভিবাসন প্রত্যাশীদের মূল ধারার জার্মানদের সঙ্গে মানসিকভাবে সম্পৃক্ত হওয়াটা খুব জরুরি৷

জার্মানির শ্রম মন্ত্রী বলেছেন, অভিবাসন প্রত্যাশীদের নিজেদের স্বার্থেও জার্মানদের সঙ্গে মিলেমিশে থাকার জন্য ভাষা শেখা, সংস্কৃতিকে জেনে তার প্রতি শ্রদ্ধা দেখানো – এ সব চেষ্টা করা উচিত৷ তিনি বলেছেন, অভিবাসন প্রত্যাশীদের মধ্যে যাঁরা জার্মান সমাজে নিজেদের সম্পৃক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগগুলো নিতে অনীহা প্রকাশ করবেন, তাঁদের আর্থিক সুযোগ-সুবিধা কমানোর কথা ভেবে দেখা হবে৷

জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল বলেছেন, সিরিয়া এবং ইরাকে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় যাঁরা জার্মানিতে এসেছেন, তাঁদের জার্মানিতে স্থায়ী না হওয়াই ভালো৷ ম্যার্কেল আশা করছেন, যুদ্ধ শেষ হলে সিরীয় এবং ইরাকিরা নিজেদের দেশে ফিরে যাবেন৷

শরণার্থী সংকট সমাধানে ম্যার্কেলের উদারনীতি বহির্বিশ্বে খুব প্রশংসিত হলেও, জার্মানিতে পরিস্থিতি অনেকটা উল্টো৷ এই ইস্যুতে এ মুহূর্তে চাপের মুখেই আছেন ম্যার্কেল৷ অন্যদিকে অভিবাসীবিরোধী ডানপন্থিদের জনপ্রিয়তা বাড়ছে৷ এক জরিপে দেখা গেছে, এ মুহূর্তে কমপক্ষে ১৩ শতাংশ জার্মান ডানপন্থি দল এএফডি-কে সমর্থন করছে৷ অলটারনেটিভ ফর জার্মানি, সংক্ষেপে এএফডি নামের দলটি অভিবাসন ইস্যুতে খুবই কট্টর৷ সম্প্রতি দলটির নেত্রী ফ্রাউকে পেট্রি বলেছেন, জোর করে কেউ সীমান্ত অতিক্রম করতে চাইলে তাকে গুলি করার অনুমতি পুলিশকে দেয়া উচিত৷ দলের অন্যান্য নেতারা তাঁকে সমর্থন করলেও জার্মানির অধিকাংশ রাজনৈতিক দল এবং পুলিশ এর বিরোধিতা করেছে৷ এক বিবৃতিতে জার্মান পুলিশ ইউনিয়ন জানিয়েছে, ‘পুলিশ অভিবানস প্রত্যাশীদের ওপর গুলি চালাতে প্রস্তুত নয়৷'

সব মিলিয়ে অভিবাসন ইস্যু নিয়ে এক ধরণের সংকটকালই পার করছে জার্মানি৷ বিষয়টি নিয়ে ডয়চে ভেলের প্রধান সম্পাদক আলেক্সান্ডার কুডাশেফও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন৷ তাঁর মতে, অভিবাস ইস্যুতে এখন কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি জার্মান সমাজ৷

সংকলন: আশীষ চক্রবর্ত্তী

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

নির্বাচিত প্রতিবেদন

Albanian Shqip

Amharic አማርኛ

Arabic العربية

Bengali বাংলা

Bosnian B/H/S

Bulgarian Български

Chinese (Simplified) 简

Chinese (Traditional) 繁

Croatian Hrvatski

Dari دری

English English

French Français

German Deutsch

Greek Ελληνικά

Hausa Hausa

Hindi हिन्दी

Indonesian Bahasa Indonesia

Kiswahili Kiswahili

Macedonian Македонски

Pashto پښتو

Persian فارسی

Polish Polski

Portuguese Português para África

Portuguese Português do Brasil

Romanian Română

Russian Русский

Serbian Српски/Srpski

Spanish Español

Turkish Türkçe

Ukrainian Українська

Urdu اردو