সাক্ষাৎকার

এখনো গড়ে পাবলিক সেক্টরে বেতন বেশি

বেসরকারি সেক্টরে ‘ওয়েজ' বা বেতন নির্ভর করে প্রোডাক্টিভিটির উপরে৷ এখানে বেতন বাড়াতে হলে শিক্ষা ও দক্ষতা বাড়ানো ছাড়া কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. সাদিক আহমেদ৷

default

বাংলাদেশে চাকরিজীবীদের মধ্যে সর্বোচ্চ আড়াই শতাংশ চাকরি করেন পাবলিক সেক্টরে৷ বেসরকারি সেক্টরে চাকরি করেন ৯৭ শতাংশের চেয়েও বেশি৷ প্রাইভেট সেক্টরের ব্যাংকিংয়ে, আইসিটিতে এমনকি প্রাইভেট প্রফেশনাল সার্ভিসে বেতন অনেক বেশি৷ তবে এমন জায়গাও আছে যেখানে বেতন অনেক কম৷ তবে গড় হিসেবে পাবলিক সেক্টরের বেতনই বেশি৷ ডয়চে ভেলের সঙ্গে আলাপকালে এরকমই নানা তথ্য জানান বিশ্বব্যাংকের সাবেক পরিচালক (দক্ষিণ এশিয়া) ও বর্তমানে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. সাদিক আহমেদ৷

ডয়চে ভেলে: বাংলাদেশে কত ধরনের মজুরি কাঠামো আছে?

ড. সাদিক আহমেদ: মজুরি কাঠোমোর দিক দিয়ে বাংলাদেশকে দু'ভাগে ভাগ করা যায়৷ একটা পাবলিক সেক্টর এবং আরেকটা প্রাইভেট সেক্টর৷ পাবলিক সেক্টরে বেতন কাঠামো নির্ধারণ করে সরকার৷ সেটা সর্বশেষ হয়েছে ২০১৫ সালে৷ এটা নির্দিষ্ট সময় পরপর হয়৷  এছাড়া প্রাইভেট সেক্টরে কিছু আছে অর্গানাইজ ওয়েজবোর্ড৷ বাকিটা মার্কেট বা বাজারের ওপর নির্ভর করে৷ সরকারের সর্বনিম্ন বেতন নির্ধারণ করা আছে৷ তবুও বেশিরভাগই নির্ভর করে বাজার দামের ওপর৷ প্রাইভেট সেক্টরের বেতন কাঠামো যদি বুঝতে হয়, তাহলে মার্কেটে কীভাবে চলে সেভাবেই দেখতে হবে৷

সবচেয়ে কম মজুরি এবং সবচেয়ে বেশি মজুরি পান কারা?

গড়ে যদি বলি পাবলিক সেক্টরের অ্যাভারেজ ওয়েজ প্রাইভেট সেক্টরের চেয়ে বেশি৷ তবে যদি প্রতিষ্ঠানিকভাবে বলি, তাহলে সবচেয়ে বেশি বেতন পাওয়া যায় অর্থনৈতিক সেক্টরে৷ প্রাইভেট ব্যাংকিংয়ে সবচেয়ে বেশি, তারপর আইসিটিতে৷ সেটাও প্রাইভেট সেক্টরে৷ তৃতীয় হলো প্রাইভেট প্রফেশনাল সার্ভিসে৷ যেমন ধরেন আইনজীবী, চিকিৎসক, সিনিয়র অধ্যাপক, রিসার্চার, ইকোনোমিস্টরা৷ এদিক দিয়ে পাবলিক সেক্টর পিছিয়ে আছে৷ তবে গড় করলে পাবলিক সেক্টরের বেতন বেশি৷ তবে পাবলিক সেক্টরে টোটাল মার্কেটের মাত্র আড়াই শতাংশ কাজ করে৷ সেখানে সিনিয়র অনেক কম৷ এর কারণও আছে৷ আমরা গবেষণা করে দেখেছি, যেখানে প্রোডাক্টিভিটি বেশি, সেখানে বেতনও বেশি৷ এছাড়া পাবলিক সেক্টরে প্রোডাক্টিভিসির সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই৷ একটা রাজনৈতিক সরকার তার অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে বেতন ঘোষণা করেন৷

মজুরি নির্ধারণে কোন বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়?

আসলে কেউ তো রেগুলেশন করে মজুরি নির্ধারণ করে না৷ পাবলিক সেক্টরে সরকার পারছে সিভিল সার্ভিস তাদের আন্ডারে আছে বলে৷ কিন্তু প্রাইভেট সেক্টরে সরকারের ভূমিকা খুবই সীমিত৷ এখানে সরকার সর্বনিম্নটা নির্ধারণ করতে পারে৷ তবে এখানে ডিমান্ড, সাপ্লাই বা প্রোডাক্টিভিটির উপর নির্ভর করে, তাই সরকারের ভূমিকা কম৷ আসলে আমি উচ্চ বেতন দেবো তখনই যদি আমার লাভ হয়৷ এটা নিয়ে আইএলও সঙ্গে অনেক আলোচনা হচ্ছে আরএমজির ব্যাপারে৷ এখানে আসলে বেতন ঠিক হয় নেগোশিয়েট করে৷ এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন প্রোডাক্টিভিটি৷ প্রোডাক্টিভিটি না বাড়ালে বেতন বাড়বে না৷ এটা সারা বিশ্বেই এমনই৷

অডিও শুনুন 12:15

‘মাথাপিছু আয় মাসে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা লাগে জনপ্রতি’

একজন মানুষের ন্যুনতম ব্যয় কত? এই ধরনের কোনো গবেষণা আছে?

২০১০ সালে এটা নিয়ে একটা গবেষণা হয়েছিল৷ ২০১৫-২০১৬ সালেও একটা হয়েছে, তবে এই রিপোর্ট এখনো আসেনি৷ বিশ্বব্যাংক এটাকে পভার্টি ইনকাম বলে৷ আসলে মাথাপিছু আয় মাসে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা লাগে পার পার্সনের জন্য৷ এটাকে ডিসেন্ট লিভিং বলা যেতে পারে৷ একটা পরিবার যদি চারজনের হয়, তাহলে তাদের ২০ হাজার টাকা লাগবে৷ এটা তো সব সময় সম্ভব হচ্ছে না৷ পভার্টি লাইনটা একেবারে বেসিক৷ এখানে এত বেশি হিসাব করা হয় না৷

আমাদের ব্যয়ের সঙ্গে কি আয় বাড়ছে?

হ্যাঁ বাড়ছে৷ তবে আয়ের চেয়ে আমাদের ব্যয় বেশি৷ এর মূল কারণ হলো রেমিটেন্স৷ এখান থেকে আমরা বিপুল পরিমাণ টাকা পাচ্ছি৷ এটা বেড়ে বর্তমানে ১৪-১৫ বিলিয়ন ডলার হয়ে গেছে৷ এই টাকার ৬০ ভাগই যাচ্ছে গ্রামীণ এলাকায়, যেখানে অনেক বেশি মানুষ গরিব৷ অনেকে মনে করেন, যারা সবচেয়ে বেশি গরিব তারা হয়ত খুব বেশি সুবিধা পাচ্ছেন না৷ কারণ তাদের ছেলে-মেয়েরা তো বাইরে যেতে পারছে না৷ তারপরও এর প্রভাবটা বেশ ইতিবাচক৷ মূল কথা হলো, আমাদের ইনকামও বেড়েছে, খরচও বেড়েছে৷

মজুরির বৈষম্যের চিত্রটা যদি বলেন...

মজুরি বৈষম্যটা তো প্রোডাক্টিভিটির উপর নির্ভর করে৷ এটা তো এভাবে মূল্যায়ন করা যাবে না৷ পাবলিক সেক্টরে একটা ফর্মুলা আছে৷ প্রতিটি পদে বেতন ঠিক করা আছে৷ আসলে প্রোডাক্টিভিটির সঙ্গেই এর বৈষম্য নির্ভর করে৷ সব দেশেই বেতন বৈষম্য কমাতে হলে প্রোডাক্টিভিটি বাড়াতে হবে৷ এর জন্য দরকার শিক্ষা ও দক্ষতা প্রয়োজন৷ উচ্চ শিক্ষিত ও অশিক্ষিতদের মধ্যে গ্যাপ কমাতে হবে৷ যদিও সরকার অতিদরিদ্রদের জন্য সোশ্যাল সিকিউরিটি হিসেবে যেটা খরচ করছে, সেটা দিয়েও খানিকটা কভার হতে পারে৷ তবে আমাদের সোশ্যাল সিকিউরিটি সিস্টেমটা অতটা গভীর না৷ স্বাস্থ্য বিমাসহ এ সব খাতে আমাদের বেশি জোর দিতে হবে৷

বর্তমান সময়ে একজন মানুষের ন্যূনতম বেতন কেমন হওয়া উচিত?

আমি তো মনে করি, ২০ হাজার টাকার নীচে হলে একটি পরিবারের চলে না৷ এর নীচে হলে কোনোভাবেই একটি পরিবারের চলার কথা না৷

প্রাইভেট সেক্টরে কি এটা মানা হয়?

কেউ পিওনকে ২০ হাজার টাকা দেয় কিনা, সেটা আমার জানা নেই৷ তবে আমাদের অফিসে আমরা কিন্তু পিওনকে ২০ হাজার টাকা বেতন দেই৷ এখানে অবশ্য সাপ্লাই-ডিমান্ডের ব্যাপার আছে৷ যখন কম টাকা হলেও লোক পাওয়া যায়, তখন কেন পিওনকে ২০ হাজার টাকা বেতন দেবে? কোয়ালিটি না বাড়ালে মার্কেটে ডিসেন্ট বেতন কাঠামো রাখা কঠিন৷ কিছু কিছু সেক্টরে এটা হচ্ছে৷ তবে অর্থনীতিতে এটা আনা কঠিন হবে৷

বাংলাদেশে মাথাপিছু আয় বাড়ছে৷ তবে সেটা সবার ক্ষেত্রে নয়৷ এ সম্পর্কে কিছু বলুন৷

মাথাপিছু আয় বাড়া মানে গড় আয় বৃদ্ধি পাওয়া৷ ২০১৫ সালে পার ক্যাপিটা ইনকাম ছিল ১ হাজার ৪০০ ডলারের মতো৷ এটা ১২ দিয়ে ভাগ দিলে দেখা যাবে ২০০ ডলারের কম হবে৷ অর্থাৎ আমাদের এখনো মাথাপিছু আয় কম৷ লিভিং স্ট্যান্ডার্ড বাড়াতে হলে এটার ইমপ্রুভমেন্ট করতে হবে৷ ১৯৭২ সালে আমাদের মাথাপিছু আয় ছিল ১০০ ডলারের কম৷ এখন সেটা ২০০ ডলার হয়েছে৷ এতে বোঝা যাচ্ছে যে, আমাদের মাথাপিছু আয় বাড়ছে৷ তবে আরো বাড়াতে হবে৷ ঢাকা শহরে তো এখন বাড়ি ভাড়াই পাওয়া যায় না৷ এক কামরার রুম নিলেও ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা লাগে৷ মাথাপিছু আয়ের সঙ্গে সঙ্গে লিভিং কস্টও বেড়েছে৷ বিদ্যুৎ আছে, পানি আছে, পরিষ্কার একটা বাথরুম আছে – এমন একটা বাসায় থাকতে গেলে ২০ হাজার টাকার নীচে সেটা পাওয়া সম্ভব নয়৷

সাক্ষাৎকারটি কেমন লাগলো? এ নিয়ে আপনার কিছু বলার থাকলে লিখুন নীচে মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

Albanian Shqip

Amharic አማርኛ

Arabic العربية

Bengali বাংলা

Bosnian B/H/S

Bulgarian Български

Chinese (Simplified) 简

Chinese (Traditional) 繁

Croatian Hrvatski

Dari دری

English English

French Français

German Deutsch

Greek Ελληνικά

Hausa Hausa

Hindi हिन्दी

Indonesian Bahasa Indonesia

Kiswahili Kiswahili

Macedonian Македонски

Pashto پښتو

Persian فارسی

Polish Polski

Portuguese Português para África

Portuguese Português do Brasil

Romanian Română

Russian Русский

Serbian Српски/Srpski

Spanish Español

Turkish Türkçe

Ukrainian Українська

Urdu اردو