বিশ্ব

কাটালুনিয়া স্বাধীন হলে কোন দেশে খেলবে বার্সেলোনা?

রবিবার ন্যু ক্যাম্পে দর্শকদের বাদ দিয়েই খেলে বার্সেলোনা ফুটবল ক্লাব৷ আজ মঙ্গলবার কাটালুনিয়ায় সাধারণ ধর্মঘটে যোগ দিচ্ছে এই কিংবদন্তিপ্রতিম ক্লাব৷ কিন্তু আগামীতে কোথায় খেলবে ‘বার্সা?

Fußball Spanien La Liga FC Barcelona vs Las Palmas (Reuters/A. Gea)

সোমবারেই প্রশ্নটা তোলেন এফ সি বার্সেলোনার প্রেসিডেন্ট হোসেপ মারিয়া বার্তোমিউ৷ ‘‘(কাটালুনিয়ার) স্বাধীনতার ক্ষেত্রে (বার্সেলোনা) ক্লাব ও তার সদস্যদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আমরা কোন (ফুটবল) লিগে খেলব,'' একটি বোর্ড মিটিংয়ের পর সাংবাদিকদের বলেন বার্তোমিউ৷

‘‘আমরা একটি সংকটপূর্ণ ও জটিল মুহূর্তের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি এবং ভবিষ্যতে কী ঘটতে পারে, সে প্রসঙ্গটি আমরা শান্তি ও বিজ্ঞতার সঙ্গে বিবেচনা করব,'' বলেন বার্তোমিউ৷

কাটালান ক্রীড়ামন্ত্রী জেরার ফিগেরাস গত সপ্তাহেই স্পষ্ট করে দেন যে, কাটালুনিয়া স্পেন থেকে স্বাধীনতা পেলে, বার্সেলোনা অন্য কোনো দেশেও খেলতে পারে৷

‘‘স্বাধীনতার ক্ষেত্রে লা লিগার কাটালান দলগুলিকে – অর্থাৎ বার্সেলোনা, এস্পানিওল ও জিরোনা-কে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তারা কোথায় খেলতে চায়: স্পেনীয় লিগে, নাকি ইটালি বা ফ্রান্সের মতো কোনো প্রতিবেশী দেশে, নাকি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে,'' বলেন ফিগেরাস৷

দর্শকবিহীন ন্যু ক্যাম্পে খেলা

রবিবার বার্সেলোনা তাদের নিজেদের মাঠে খেলে বটে, কিন্তু দর্শক ছাড়াই৷ সে খেলায় লিওনেল মেসির কল্যাণে বার্সেলোনা লা পালমাস দলকে ৩-০ গোলে হারালেও, স্পেন যে কাটালুনিয়ার স্বাধীনতা সংক্রান্ত গণভোট রোখার জন্য ব্যাপক বলপ্রয়োগ করেছে, তার বিরুদ্ধে বিশ্বখ্যাত ফুটবল ক্লাবটির এই প্রতিবাদই মূল খবর হয়ে দাঁড়ায়৷

বার্সা লা লিগা কর্তৃপক্ষের কাছে রবিবারের খেলাটি পিছিয়ে দেওয়ার জন্য আবেদন করেছিল৷ কিন্তু ফুটবল এবং পুলিশ কর্তৃপক্ষ সে আবেদন প্রত্যাখ্যান করে৷ অপরদিকে ফিক্সচার অনুযায়ী না খেললে শাস্তি হিসেবে বার্সার ছয় পয়েন্ট খোয়ানোর ভয় ছিল৷

Fussballspiel - FC Barcelona vs Las Palmas -Sieg für Barcelona

বার্সার প্রেসিডেন্ট বার্তোমিউ দাবি করেন যে, দর্শক ছাড়া খেলার সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য ছিল, কাটালুনিয়ায় যা ঘটেছে ও ঘটছে, তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো৷ এছাড়া বিভিন্ন বার্সা সমর্থক গোষ্ঠী মাঠে ঢুকে খেলা ভণ্ডুল করার হুমকি দিয়েছিল বলেও বার্তোমিউ জানান৷

সব সত্ত্বেও দর্শকবিহীন খেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে দৃশ্যত বার্সার পরিচালকমণ্ডলীতে মতপার্থক্য ছিল, কেননা, সোমবার বোর্ডের একটি জরুরি বৈঠকের পর বার্তোমিউ দু'জন বোর্ড সদস্যের পদত্যাগের কথা ঘোষণা করেন৷ তাঁরা হলেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট কার্লেস ভিলারুবি ও  পরিচালক ইয়র্দি মোনেস৷

একইসঙ্গে বার্তোমিউ এ-ও ঘোষণা করেন যে, বার্সা মঙ্গলবারের সাধারণ ধর্মঘটে অংশগ্রহণ করবে৷ এস্পানিওল ও জিরোনা ক্লাব দু'টিও সোমবার ঘোষণা করে যে, তারা মঙ্গলবারের সাধারণ ধর্মঘটে অংশ নিচ্ছে৷ বার্সার সোমবারের বিবৃতি অনুযায়ী, ‘‘এফসি বার্সেলোনা ‘গণতন্ত্রের টেবিল' আন্দোলনের ডাকা সাধারণ ধর্মঘটে যোগ দিচ্ছে৷ কাজেই আগামীকাল ক্লাব বন্ধ থাকবে৷ (ক্লাবের) পেশাদারি বা যুব দলগুলি  আগামীকাল ট্রেনিং করবে না৷'' প্রসঙ্গত, লিওনেল মেসি ও জেরার্ড পিকেসহ বার্সেলোনার ফুটবল তারকাদের অনেকেই মঙ্গলবার ক্লাবের হয়ে চ্রেনিং করতেন না, কেননা, তাঁরা সেদিন নিজের নিজের জাতীয় দলের সঙ্গে রয়েছেন৷

পিকের চোখে জল

বার্সেলোনা ও স্পেন জাতীয় দলের খেলোয়াড় জেরার্ড পিকে কাটালুনিয়ার স্বনির্ধারণের অধিকারের জ্বলন্ত প্রবক্তা – রবিবার সন্ধ্যায় তাঁর চোখে জল৷ কিন্তু সেদিন সকালে পিকে বিনা বাধায় গণভোটে তাঁর ভোট দিতে পেরেছেন৷

‘‘আমি কাটালুনিয়া ও তার সব মানুষের জন্য খুবই গর্বিত,'' দর্শকশূন্য ন্যু ক্যাম্পে লাস পালমাস-এর বিরুদ্ধে ৩-০ গোলে জয়ের পর সাংবাদিকদের বলেন পিকে৷ আরো বলেন, ‘‘স্পেন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সব প্ররোচনা সত্ত্বেও, তারা শান্তিপূর্ণ ভাবে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন৷''

রবিবারের খেলা শুরু হওয়ার আধ ঘণ্টার কম আগে দর্শকদের মাঠে না ঢুকতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়৷ ৯৯,০০০ দর্শকের স্টেডিয়ামের সামনে ফ্যানরা তখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে৷ ‘‘আমি হলে খেলতাম না,'' কাটালুনিয়ার একটি বেতার কেন্দ্রকে বলেছেন ম্যানচেস্টার সিটির ম্যানেজার পেপ গুয়ার্দিওলা৷

 অপরদিকে স্পেনের জাতীয় দলে পিকে'র ভূমিকা নিয়ে আবার বিতর্ক শুরু হয়েছে৷ সোমবার পিকে জাতীয় দলের একটি ট্রেনিং সেশনে যোগদান করেন; সেখানে মাত্র কয়েকশ' দর্শক থাকলেও, পিকে-কে ধ্বনি শুনতে হয়, ‘‘পিকে, জাতীয় দল ছাড়ো!'' পিকে ইতিমধ্যেই বলেছেন যে, প্রথমত তিনি আগামী বছরের বিশ্বকাপের পরেই জাতীয় দল থেকে অবসর গ্রহণের অভিপ্রায় রাখেন; দ্বিতীয়ত, জাতীয় দলের কোচ অথবা দেশের ফুটবল ফেডারেশন তাঁর রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিকে সমস্যাকর মনে করলে, তিনি তার আগেও যেতে রাজি৷ ইত্যবসরে পিকে যথারীতি কাটালুনিয়ায় পুলিশি নির্মমতা নিয়ে টুইট করে চলেছেন৷

এসি/এসিবি (এএফপি, রয়টার্স, এপি) 

 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

Albanian Shqip

Amharic አማርኛ

Arabic العربية

Bengali বাংলা

Bosnian B/H/S

Bulgarian Български

Chinese (Simplified) 简

Chinese (Traditional) 繁

Croatian Hrvatski

Dari دری

English English

French Français

German Deutsch

Greek Ελληνικά

Hausa Hausa

Hindi हिन्दी

Indonesian Bahasa Indonesia

Kiswahili Kiswahili

Macedonian Македонски

Pashto پښتو

Persian فارسی

Polish Polski

Portuguese Português para África

Portuguese Português do Brasil

Romanian Română

Russian Русский

Serbian Српски/Srpski

Spanish Español

Turkish Türkçe

Ukrainian Українська

Urdu اردو