বিশ্ব

‘কান পাতলে সুন্দরবনের কান্না শোনা যায়'

রামপাল কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ বন্ধের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে যে মিছিল বের হয়েছিল, তা কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে পুলিশ৷ এতে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন বলে খবর৷

রামপাল কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ বন্ধের দাবিতে প্রতিবাদ

ফাইল ফটো

সুন্দরবন রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়েছিল জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে৷ তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মো. শহিদুল্লাহ ও সদস্য সচিব আনু মুহাম্মদের নেতৃত্বে এই কর্মসূচি শুরু হয়৷ কিন্তু শাহবাগে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল (সাবেক শেরাটন)-এর সামনে থামিয়ে দেয়া হয় বিক্ষোভ মিছিলটি৷ পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর লাঠিচার্জ করে ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়৷ আহতদের অনেকে এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন৷

‘সুন্দরবন ধ্বংস করে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র চাই না' – এই নামে ফেসবুকে একটি পাতা খোলা হয়েছে৷ যেখানে ঘটনার সব ছবি শেয়ার হয়েছে৷

মন্তব্যের ঘরে কাজী সফিকুল ইসলাম লিখেছেন, ‘‘বাংলাদেশ আমার মা হলে, সুন্দরবন আমার মায়ের আঁচল৷ আমার মায়ের আঁচল রক্ষা আমার বা আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার৷ মায়ের আঁচল রক্ষার এই শান্তিপূর্ণ অধিকারে পুলিশের হামলা কেন? টিয়ারশেল-এর বিষাক্ত ধোঁয়া দিয়েছিস দে, কয়লা দিয়ে মায়ের আঁচল পুড়তে দিব না৷''

সুন্দরবন রক্ষায় গত এক মাস ধরেই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন সাধারণ মানুষ৷ নাজমুল হাসান অপু টুইটারে লিখেছেন, ‘‘সুন্দরবনের বদলে বিদ্যুৎ আমাদের দরকার নেই৷''

আসিফ মোহাম্মদ লিখেছেন, ‘‘আমাদের বাস্তুসংস্থান নিয়ে ভাবতে হলে সন্দুরবনকে বাঁচাতে হবে৷''

কল্লোল মোস্তফা ফেসবুক পাতায় লিখেছেন, সুন্দরবনের উপর রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রভাব নিয়ে ওয়াশিংটন পোস্টের রিপোর্টটিতে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট উঠে এসেছে৷

তাঁর কথায়, ‘‘বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থানীয় পানিপ্রবাহে অকল্পনীয় বিরূপ প্রভাব ফেলবে৷ প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য প্রয়োজনীয় পানি নেয়া হবে কাছের পশুর নদ থেকে, পরবর্তীতে ব্যবহৃত পানি নিষ্কাশন করা হবে একই নদীতে৷ পরিবেশবাদীরা উদ্বিগ্ন যে, নিষ্কাশিত দূষিত বর্জ্য পানিপ্রবাহে মিশে গিয়ে ম্যানগ্রোভ বনটিতে বিদ্যমান জীবজন্তু এবং মাছ শিকার ও কৃষিকাজে নির্ভরশীল সংলগ্ন এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকার ক্ষতির কারণ হতে পারে৷''

ডক্টর শেখ ফরিদও প্রতিবাদ জানিয়েছেন টুইটারে৷

মো. শাহাদাতের শেয়ার করা ছবিটি অনেক কিছুই বলে দেয়৷

একজন বিদেশি সংবাদকর্মীর সুন্দরবন নিয়ে বিশ্লেষণ শেয়ার করেছেন মুসা ইব্রাহীম৷

ফেসবুক পাতায় অভিনু কিবরিয়া ইসলাম লিখেছেন একটি কবিতা

‘‘আমাদের নাড়ির শেকড় উপড়ে ফেলে, পাপড়িগুলো বৃন্ত থেকে খুবলে খেলে
তোমার আমার মাটির সাথে যোগ থাকে না, প্রাণ প্রকৃতির স্বপ্ন সবুজ মন থাকে না
কুমিরের গায়ের কাঁটার বর্ম গায়ে, মানুষগুলো গাছের মতো সটান দাঁড়াক৷
সুন্দরিরো বনেতে, গেওয়া গরান ছায়াতে, হরিণের শিংগুলো সব
ছুরি হয়ে যাক, ছুরি হয়ে যাক৷ ধ্বংস নেশার সব আয়োজন দূর হয়ে যাক৷''

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সুন্দরবন রক্ষায় একটি গান বানিয়েছেন৷ তাঁরা ইউটিউবে লিখেছেন, ‘‘প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ুক গানে, নাটকে, কবিতায়, কথায়, রাস্তায়...সুন্দরবন ধ্বংস করে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র চাই না৷''

নাজমুল আলম তুহিন ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আবেদন জানিয়ে লিখেছেন,

‘‘জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘চ্যাম্পিয়ন অফ দ্য আর্থ'-এর মর্যাদা ধরে রাখতে অন্তত রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল করুন এবং প্রকৃতিকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করুন৷ এটি দেশনেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমার আকুল আবেদন৷''

সংকলন: অমৃতা পারভেজ

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

নির্বাচিত প্রতিবেদন

Albanian Shqip

Amharic አማርኛ

Arabic العربية

Bengali বাংলা

Bosnian B/H/S

Bulgarian Български

Chinese (Simplified) 简

Chinese (Traditional) 繁

Croatian Hrvatski

Dari دری

English English

French Français

German Deutsch

Greek Ελληνικά

Hausa Hausa

Hindi हिन्दी

Indonesian Bahasa Indonesia

Kiswahili Kiswahili

Macedonian Македонски

Pashto پښتو

Persian فارسی

Polish Polski

Portuguese Português para África

Portuguese Português do Brasil

Romanian Română

Russian Русский

Serbian Српски/Srpski

Spanish Español

Turkish Türkçe

Ukrainian Українська

Urdu اردو