বিশ্ব

কিভাবে শরণার্থী সংকট সামলাচ্ছে ইইউ

রেজিস্ট্রেশন সেন্টারে ভিড়, অন্যদিকে স্বাগতিক কেন্দ্র৷ উদ্বাস্তুদের সমাজের অঙ্গ করে তোলা, নাকি বহিষ্কার করা? শরণার্থীরা অনেক আশা নিয়ে ইউরোপে পৌঁছাচ্ছেন, কিন্তু দেশ অনুযায়ী ব্যবহার পাচ্ছেন৷

Griechenland Kos Flüchtlinge im Stadion

নেদারল্যান্ডস – সবচেয়ে কড়া অ্যাসাইলাম নীতি

মানবাধিকার সংগঠনগুলির তীব্র সমালোচনা সত্ত্বেও নেদারল্যান্ডস ২০১০ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সবচেয়ে কড়া ‘অ্যাসাইলাম' আইন পাশ করে৷ রাজনৈতিক আশ্রয়ের প্রতি তিনটি আবেদনের মধ্যে দু'টি বাতিল হয়ে থাকে৷ আবেদন বাতিল হওয়ার পর আবেদনকারীকে ২৮ দিনের মধ্যে নেদারল্যান্ডস ছাড়তে হবে৷

উদ্বাস্তুদের সর্বনিম্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়, যার নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘‘বিছানা, স্নান, রুটি''৷ ডর্মিটরিতে এক রাত ও পরদিন সকালে প্রাতরাশের পর কেন্দ্রটি ছেড়ে অন্যত্র যেতে হবে৷ যাদের রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে, তারা দেশ ছেড়ে না গেলে, কালে সবরকমের সাহায্য হারায় – অর্থাৎ তাদের বাস কিংবা খাবার-দাবারের কোনো সংস্থানই করা হয় না৷

২০১৩ সালে নেদারল্যান্ডস প্রথম ইইউ দেশ হিসেবে উদ্বাস্তুদের সোমালিয়া ফেরত পাঠাতে শুরু করে৷ তা সত্ত্বেও নেদারল্যান্ডসে শরণার্থীদের সংখ্যা বেড়ে চলেছে৷

Infografik Flüchtlinge in die EU Ursprungsländer Englisch

চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে ২৬,৬০০ উদ্বাস্তু নেদারল্যান্ডসে পদার্পণ করেছে – যা কিনা গোটা ২০১৪ সালের চেয়ে বেশি৷ তাদের অধিকাংশই এসেছে সিরিয়া থেকে – ৩৮ শতাংশ – বাকিরা ইরিট্রিয়া থেকে৷

সুইডেন – তালিকার শীর্ষে

সুইডেনের অ্যাসাইলাম নীতি অপেক্ষাকৃত উদার বলে ধরা হয়৷ ইইউ দেশগুলির মধ্যে দেশের জনসংখ্যার অনুপাতে সবচেয়ে বেশি উদ্বাস্তু নিয়ে থাকে সুইডেন৷ রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের কাছে জার্মানির পরেই অভীপ্স গন্তব্য হলো সুইডেন৷ ২০১৪ সালে ৮১,৩০০ শরণার্থী সুইডেনে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন – যাদের মধ্যে ৩০,৬০০ জনকে সঙ্গে সঙ্গে গ্রহণ করা হয়৷

অভিবাসীদের যত শীঘ্র সম্ভব শ্রম বাজারে অন্তর্ভুক্ত করা হলো সুইডিশ সরকারের লক্ষ্য৷ এ জন্য অভিবাসীদের ভাষাশিক্ষা ও সাংস্কৃতিক পাঠক্রমের ব্যবস্থা করা হয় – সেই সঙ্গে চাকুরির প্রস্তুতি ও ইন্টার্নশিপ৷ ওদিকে বাসস্থান, অর্থাৎ ফ্ল্যাটের অভাব; অভিবাসীদের মধ্যে বেকারত্ব অনেক বেশি৷

সব মিলিয়ে সুইডিশ সমাজও শরণার্থীদের প্রশ্নে দ্বিধাবিভক্ত, রাজনীতিতেও যার প্রতিফলন ঘটতে শুরু করেছে৷

অস্ট্রিয়া – শরণার্থীদের প্রিয়

অস্ট্রিয়ার জনসংখ্যা মাত্র ৮৪ লক্ষ৷ উদ্বাস্তুদের কাছে আল্পস পর্বতমালার কোলঘেঁষা দেশটি ইউরোপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় গন্তব্যগুলির মধ্যে পড়ে৷ চলতি বছরের প্রথম ছ'মাসে ২৭ হাজারের বেশি উদ্বাস্তু এখানে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছেন – তাদের অধিকাংশই এসেছেন সিরিয়া, আফগানিস্তান বা ইরাক থেকে৷

তবে দেশের ন'টি রাজ্যের মধ্যে তিনটি রাজ্য তাদের কোটা অনুযায়ী উদ্বাস্তু নিয়েছে, অন্য রাজ্যগুলি গড়িমসি করছে৷ কাজেই অস্ট্রিয়া সরকার সংবিধান সংশোধন করে রাজ্যগুলিকে উদ্বাস্তু নিতে বাধ্য করতে চান৷ ফলে কিছু কিছু রাজ্যে বহিরাগত বিরোধী প্রতিবাদ দানা বেঁধেছে, দক্ষিণপন্থি ফ্রিডম পার্টি যার সুবিধা নিচ্ছে৷

পোল্যান্ড শুধু খ্রিষ্টানদের নিতে চায়

পোল্যান্ডে যারা রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন, তারা আসেন মূলত ইউক্রেন, রাশিয়া ও তাজিকিস্তান থেকে৷ আবেদনকারীদের প্রায় অর্ধেক রাশিয়ার নাগরিক, যাদের মধ্যে প্রায় ৯১ শতাংশ জাতিতে চেচেন৷ গত বছর মোট ৮,০২০ জন উদ্বাস্তু পোল্যান্ডে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন, তাদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এসেছিলেন ইউক্রেন থেকে৷

Österreich Flüchtlingsunterkunft in Traiskirchen

অস্ট্রিয়ায় চলতি বছরের প্রথম ছ'মাসে ২৭ হাজারের বেশি উদ্বাস্তু এসেছেন

২০১৪ সালে পোল্যান্ড মাত্র ৩২৫ জন রুশিকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেয়; সেই সঙ্গে ১৩০ জন সিরীয় রাজনৈতিক আশ্রয় পান৷

পোল্যান্ড উদ্বাস্তুদের প্রতি যে আচরণ করে, মানবাধিকার সংগঠনগুলি তার বিশেষ সমালোচনা করেছে৷ উদ্বাস্তুদের জন্য সৃষ্ট অভ্যর্থনা কেন্দ্রগুলি প্রাক্তন সেনা ছাউনি কিংবা শ্রমিকদের ছুটি কাটানোর আবাসিক কেন্দ্রগুলিতে হওয়ার ফলে বহিরাগতরা স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মেলামেশার কোনো সুযোগ পান না৷ অপরদিকে উদ্বাস্তুরাও পোল্যান্ডকে ট্র্যানজিটের জন্যই ব্যবহার করে থাকেন, অর্থাৎ তারা এখান থেকে পশ্চিমের কোনো সমৃদ্ধ দেশে যেতে চান৷

পোল্যান্ড সম্প্রতি ইটালি ও গ্রিস থেকে আরো দু'হাজার উদ্বাস্ত নেবার কথা ঘোষণা করেছে৷ কিন্তু গত জুলাই মাসের একটি জরিপ অনুযায়ী দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ কোনো মুসলিম বা আফ্রিকান দেশ থেকে আগতদের নিতে চান না৷ অপরদিকে সিরীয় উদ্বাস্তুরা স্বাগত, কেন না তারা খ্রিষ্টান৷

Polen Protest gegen Aufnahme von Flüchtlingen

একটি জরিপ অনুযায়ী পোল্যান্ডের ৭০ শতাংশ মানুষ কোনো মুসলিম বা আফ্রিকান দেশ থেকে আগতদের নিতে চান না

স্পেন – নো এন্ট্রি টু ইউরোপ

আফ্রিকায় স্পেনের দু'টি ছিটমহল – সেউটা ও মেলিয়া – আফ্রিকার উদ্বাস্তুদের ইউরোপে আসার প্রচেষ্টার কেন্দ্রস্থল হয়ে দাঁড়িয়েছিল৷ কিন্তু গত তিন মাসে স্পেনের উপর চাপ কমেছে৷ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত সুরক্ষা সংস্থা ফ্রন্টেক্স-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১৪ সালে প্রায় আট হাজার উদ্বাস্তু বেআইনিভাবে স্পেনে ঢোকেন – ২০০৬ সালে যে সংখ্যা ছিল প্রায় ৪০ হাজার৷

এর কারণ মরক্কোর সঙ্গে একটি সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ সহযোগিতা চুক্তি – জানিয়েছে স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়৷ তার সঙ্গে যোগ হয়েছে সেনেগাল, মৌরিটানিয়া ও নাইজেরিয়ার সঙ্গে ডিপোর্টেশন বা বহিষ্কার চুক্তি৷ এছাড়া যেহেতু বর্তমানে প্রধানত সিরিয়া ও ইরাক থেকেই উদ্বাস্তুরা ইউরোপে আসছেন – ভূমধ্যসাগরের পূর্বাঞ্চল ও বলকান দেশগুলি হয়ে – ফলে স্পেন তাদের যাত্রাপথে পড়ছে না৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

Albanian Shqip

Amharic አማርኛ

Arabic العربية

Bengali বাংলা

Bosnian B/H/S

Bulgarian Български

Chinese (Simplified) 简

Chinese (Traditional) 繁

Croatian Hrvatski

Dari دری

English English

French Français

German Deutsch

Greek Ελληνικά

Hausa Hausa

Hindi हिन्दी

Indonesian Bahasa Indonesia

Kiswahili Kiswahili

Macedonian Македонски

Pashto پښتو

Persian فارسی

Polish Polski

Portuguese Português para África

Portuguese Português do Brasil

Romanian Română

Russian Русский

Serbian Српски/Srpski

Spanish Español

Turkish Türkçe

Ukrainian Українська

Urdu اردو