কেমন আছে গ্রিক দ্বীপের শরণার্থী শিশুরা?

গ্রিক দ্বীপ কিয়স৷ সেখানে রয়েছে বেশ কয়েকটি শরণার্থী শিবির৷ শরণার্থী শিশুদের জন্য একটি প্রকল্প চালু হয়েছে সেখানে৷ এ প্রকল্পের আওতায় শিশুদের নানা ধরণের শিক্ষা দেয়া হচ্ছে৷

একটি শরণার্থী শিবিরের বাইরে দাঁড়িয়ে আছে ছোট্ট রোজা৷ পিঠে ঝোলানো ব্যাগ৷ আনন্দে লাফাচ্ছে সে৷ বলছে, ‘‘ভালো স্কুল, ভালো স্কুল''৷ রোজা আসলে সিরিয়া থেকে আসা শরণার্থী৷ তার মতো আরো কিছু শিশু শরণার্থী এখন স্কুলে যায়৷ ২৭০টি শিশু রয়েছে এই দ্বীপে, যারা ইংরেজি শিখছে, পাশাপাশি শিখছে অংক, শিল্পকলা এবং অন্যান্য শিক্ষা৷

একটি সুইস বেসরকারি সংস্থা ‘বি অ্যাওয়ার অ্যান্ড শেয়ার' বিএএএস বা ‘বাস' চলতি বছরের মে মাস থেকে শরণার্থী শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছে৷ পুরোনো একটি রেঁস্তোরাকে বদলে স্কুল বানানো হয়েছে৷ ২০ টি শক্তিশালী দল এই শিশুদের শিক্ষার দায়িত্ব নিয়েছে৷ ৬ থেকে ১২ বছর বয়সি শিশুদের পড়ালেখা শেখানো হচ্ছে৷ আর কিশোর কিশোরীদের জন্য আছে হাতে কলমে ব্যবহারিক শিক্ষা পদ্ধতি৷ রান্না থেকে বাজার করা পর্যন্ত সবকিছু শেখানো হয় এই কার্যক্রমে৷ এছাড়া আছে পরিচ্ছন্নতা শিক্ষা৷

ব্রিটিশ স্বেচ্ছ্বাসেবী নিকোলাস মিলেত জানালেন, ‘‘আমাদের কার্যক্রম অন্য আর দশটা সাধারণ স্কুলের মতো নয়৷ আমাদের পাঠ্যসূচি আছে, তবে আমরা যেসব শিক্ষা দিই, তাতে এই শিশুরা নিজেদের দেশেই আছে এমনটা অনুভব করে৷ ''

‘বাস' এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক জার্মান তরুণ জ্যাকব রোহদে সংবাদ সংস্থা এএফপিকে জানালেন, ‘‘এটা ঠিক যে এই শিশুদের গ্রিসের সাধারণ স্কুলে পড়ালেখা করাটাও জরুরি, কেননা, এতে গ্রিক শিশুদের সঙ্গে মিশে তাদের এখানকার সমাজ সংস্কৃতি সম্পর্কে একটা ধারণা হবে৷''

২৮ বছর বয়সি জেনেবা অন্য একটি শরণার্থী শিবিরে থাকেন, এসেছেন মালি থেকে৷ তিনি এএফপিকে জানালেন, তিনি চান তার শিশু সেরাটা যেন পায়, কেননা, মেয়েটির জন্যই তার এখানে আসা৷ বড় মেয়েটি যৌনাঙ্গচ্ছেদের পর সংক্রমণে মারা যাওয়ায় এই মেয়েটিকে ঘিরেই তার যত স্বপ্ন৷ গ্রিসে বর্তমানে ৬০ হাজার শরণার্থী রয়েছে৷ এদের মধ্যে অনেক শিশু রয়েছে, যাদের মধ্যে অন্তত ২ হাজারের বয়স ৮ বছরের নীচে৷

অন্যদিকে, গ্রিসের শিক্ষা মন্ত্রণালয় গত সপ্তাহ থেকে ‘আফটার আওয়ার' ক্লাস শুরু করেছে, কেবল শরণার্থীদের জন্য৷ অর্থাৎ সাধারণ স্কুলগুলোতে ক্লাস শেষ হওয়ার পর এই শরণার্থীরা পড়ালেখা করবে৷ দেশের এমন ২০টি স্কুলে এখন পড়ালেখা করছে ১৫০০ শরণার্থী শিশু৷

কী ভয়ঙ্কর!

পুরনো একটি গাড়ির চাকায় হাওয়া ভরে ছোট্ট দুই শিশু পানির ওপরে ভেসে যাচ্ছে৷ চাকার মধ্যে জড়ো হয়ে বসে এভাবেই তারা প্রতিদিন স্কুল থেকে বাড়ি ফেরে৷ এতে স্কুলের ইউনিফর্ম যতই ভিজুক না কেন, রাতের মধ্যে তা শুকাতেই হবে৷ কারণ পরেরদিন সকালে যে আবার ঐ পোশাকই ওদের পরতে হবে!

৮০০ মিটার উঁচু খাড়া পাহাড় পেরিয়ে স্কুলে...

চীনের সিচুয়ান প্রদেশের লিয়াংশান জেলার একটি পাহাড়ি গ্রাম আটুলের৷ সেখানকার এই রাস্তাটাই হচ্ছে শিশুদের স্কুলে যাওয়ার জন্য বিশ্বের সবচেয়ে দুর্গম পথ৷ প্রতিদিন ছোট্ট ছোট্ট শিশুদের এই পথ দিয়ে পাহাড়ে উঠে বহু কষ্টে যেমন করে স্কুলে যেতে হয়, তেমনি ফিরতেও হয় ঐ একই পথ ধরে৷

নীচে তাকালেই যে বিপদ!

ঝুলন্ত দড়ির মই বেয়ে প্রতিদিন ৯০ মিনিট ধরে স্কুলে যেতে হয় এই শিশুদের৷ শিশুদের জন্য এভাবে পথ চলা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ৷ এর জন্য এ অঞ্চলে আগে অনেক দুর্ঘটনা ঘটেছে, মারাও গেছে অনেকে৷ তবে আশার কথা, এতদিনে সিচুয়ান প্রদেশের টনক নড়েছে৷ শোনা যাচ্ছে শীঘ্রই এখানে একটি পাতের সিঁড়ি তৈরি করা হবে৷

কাঠের রাস্তা

দক্ষিণ চীনের প্রত্যন্ত অঞ্চল গুয়াংশির একটি গ্রামের শিশুদের স্কুলে যাওয়ার জন্য রোজ নংইয়ং পর্যন্ত যেতে হয়৷ এর জন্য প্রতিদিন দুই ঘণ্টা কাঠের সিঁড়ি বেয়ে পাহাড়ে উঠতে হয় তাদের৷ শুধু তাই নয়, কাঠের এই সিঁড়িগুলোতে কোনো রেলিং পর্যন্ত নেই!

তারের সেতু

ইন্দোনেশিয়ার লেবাক অঞ্চলের শিশুদের স্কুলে যেতে হলে একসময় তারের এই ঝুলন্ত সেতুটির ওপর দিয়ে যেতে হতো৷ নীচেই নদী, তাই এ পথও ছিল যথেষ্ট দুর্গম৷ এখন অবশ্য এখানে নতুন রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে৷

ভেলায় চড়ে স্কুলে যাওয়া

শুনলেই রোমাঞ্চকর মনে হতে পারে৷ কিন্তু ফিলিপাইন্সের একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদের এমনটা প্রতিদিন করতে হয় প্রয়োজনে, সাধ করে নয়৷ হ্যাঁ, গ্রাম থেকে রিজাল প্রদেশে যেতে ভেলায় চড়ে রোজ নদী পার হতে হয় তাদের৷ সেখানেই রয়েছে এলাকার একমাত্র স্কুলটি৷ তাই লাখো শিশু এভাবেই ভেসে ভেসে স্কুলে যায় প্রতিদিন৷

শিক্ষার আলো পেতে পাহাড়ে ওঠো!

মরক্কোয় স্কুলে যাওার এই রাস্তাটা চীনের সিচুয়ান প্রদেশের লিয়াংশান জেলার মতো এতটা ঝুঁকিপূর্ণ না হলেও, কষ্টকর বটে৷ জাহিরা নামের ছোট্ট এই মেয়েটিকে স্কুলে যাতায়াতের জন্য প্রতিদিনই অন্তত চার ঘণ্টা পাথর বিছানো এই উঁচু-নীচু পথে হাঁটতে হয়, তাও আবার দীর্ঘ ২২ কিলোমিটার৷

‘শরণার্থী সাপোর্ট নেটওয়ার্ক'-এর সদস্য কাটসিভেলি জানালেন, শরণার্থী শিশুদের বাসায় বসে কিছু করার থাকে না৷ এটা তাদের জন্য খুবই খারাপ, কারণ এখনই তাদের মানসিক বৃদ্ধির সময়৷ আর সামনেই শীত আসছে, তখন তারা খেলাধুলাও করতে পারবে না৷ তাই তাদের স্কুলে যাওয়াটা জরুরি৷ ‘সাপোর্ট নেটওয়ার্ক' এবার নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিল৷

অক্টোবরের শেষ নাগাদ অন্তত ১০ হাজার শরণার্থী শিশুকে গ্রিসের বিভিন্ন স্কুলে ভর্তি করা হবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়৷ তবে এরই মধ্যে বিভিন্ন স্কুলে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেছেন অভিভাবকরা৷

এপিবি/এসিবি (এপি, এএফপি)

জগৎসেরা হাসি

বাবা-মা-এর কাছে পাসপোর্ট নেই বলে জার্মান পুলিশ তাদের আটকে রেখেছে৷ ফুটফুটে শিশু দুটোর তো তা বোঝার সাধ্য নেই, তাই মিউনিখের কেন্দ্রীয় রেল স্টেশনে দিব্যি খেলে বেড়াচ্ছে ওরা৷

তবু যেতে হয়....

বুদাপেস্ট রেল স্টেশন থেকে সবাইকে বেরিয়ে যেতে বলেছে পুলিশ৷ অন্যদের সঙ্গে এই মেয়েটিও চেয়েছিল ট্রেনে চড়ে জার্মানি বা অস্ট্রিয়ায় যেতে৷ যাওয়া হলো না৷ মন খারাপ করে ফিরে যাচ্ছে মেয়েটি৷

উল্লাসে বেঁচে থাকা

হাঙ্গেরিতে ঢোকাও খুব কঠিন৷ সিরিয়ার এই পরিবারটিও অনেক কষ্টের পথ পাড়ি দিয়ে, অনেক বাধা পেরিয়ে এই মাত্র এসেছে হাঙ্গেরির সীমান্তে৷ বাবা-মায়ের আগে কাঁটাতার ডিঙ্গিয়ে ঢুকেছে মেয়েটি, চোখে-মুখে দেহভঙ্গিতে সেই আনন্দ৷

অসহায় শিশু, অসহায় কান্না

গ্রিসের সীমান্ত৷ হঠাৎ বৃষ্টি নেমেছে৷ ভয়ে কাঁদতে শুরু করেছে এক শিশু৷

মা-মেয়ে

মেসিডোনিয়ার পুলিশের পাশ দিয়ে যেতে ভয় করছিল তাদের৷ কোথায় মা অভয় দেবে মেয়েকে, তা নয়, মায়ের কান্না দেখে মেয়েই সামলাচ্ছে তাঁকে৷

হাতিয়ার

বুদাপেস্ট রেল স্টেশন থেকে ওদেরও বের করে দেয়া হয়েছে৷ ট্রেনের টিকেট দেখিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছে অনেকে৷ অনেকে আবার শিশুকে তুলে ধরে জানাচ্ছেন প্রতিবাদ৷

দরদি পুলিশ

ছোট্ট একটি মেয়ে অন্যদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলতে পারছিলনা৷ মেসিডোনিয়ার এক মহিলা পুলিশ কোলে তুলে নিলো তাকে৷

ভয়

গ্রিসের কস দ্বীপে নাম, পরিচয় নথিভুক্ত করানোর সময় বাবার সঙ্গে কী নিয়ে যেন ঝগড়া লেগেছে পুলিশের৷ হৈ-চৈ শুনে ভয়ে কাঁদতে শুরু করেছে সিরীয় পরিবারটির শিশু সন্তান৷

তুমি অজেয়

গ্রিসে ওর পরিবারের জীবনযুদ্ধ সবে শুরু হয়েছে৷ জয়-পরাজয় তো অনেক পরের কথা৷ কিন্তু কার কাছ থেকে যেন ‘বিজয় চিহ্ন’ দেখাতে শেখা মেয়েটি যখন-তখন যাকে-তাকে দু আঙুল তুলে দেখিয়ে দিচ্ছে ‘ভি’৷ এমন শিশুকে কেইবা হারাতে চায়!