বিশ্ব

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে চাপে বাংলাদেশ

বিদ্যুতের ক্রমাগত চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে মানিয়ে চলতে বেশ কয়েকটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার৷ কিন্তু অ্যাক্টিভিস্টরা পরিবেশের ক্ষতির কথা বলে সেগুলোর বিরোধিতা করে চলেছেন৷

সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ অরণ্য

বাংলাদেশের উপকূলঅঞ্চলে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা সম্প্রতি বড় ধরনের প্রতিবাদের মুখে পড়েছে৷ চট্টগ্রামের বাশখালিতে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরোধিতা করা চার প্রতিবাদকারী৷ গত মাসের শুরুর দিকের সেই ঘটনায় আহত হন বেশ কয়েকজন৷

বিদ্যুতের ঘাটতি এবং ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে আগামী ২০২২ সালে মধ্যে ২৫টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ সরকার, যেগুলো দিয়ে কমপক্ষে ২৩,৬৯২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে৷ দেশটির এক-তৃতীয়াংশ মানুষ এখনো বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে রয়েছে৷ তবে অ্যাক্টিভিস্টরা দাবি করেছেন, সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে গিয়ে পরিবেশের যে ক্ষতি হবে তা আমলে নিচ্ছে না৷

সুন্দরবন কি ঝুঁকিতে?

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে দেশটিতে যে আলোচনা বর্তমানে চলছে তার অনেকটাই বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবনের কাছে প্রস্তাবিত দু'টি কেন্দ্র নিয়ে৷ গত মার্চে একদল অ্যাক্টিভিস্ট ঢাকা থেকে রামপাল, যেখানে বিদ্যুৎকেন্দ্র দু'টি স্থাপনের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে, পর্যন্ত লংমার্চের আয়োজন করেন৷ এতে অনেকে অংশ নিয়ে সুন্দরবনের কাছে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিরোধিতা করেছেন৷

বাংলাদেশে সোলার এনার্জির ব্যবহার

যেসব বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই, সেখানে বিকল্প পদ্ধতি হিসেবে সোলার এনার্জি ব্যবহার করা হয়েছে

আনু মুহাম্মদ, যিনি একজন রাজনৈতিক অ্যাক্টিভিস্ট এবং লংমার্চের অন্যতম আয়োজক, ডয়চে ভেলেকে জানান, একাধিক স্বাধীন গবেষণায় দেখা গেছে বিদ্যুৎকেন্দ্র দু'টি সুন্দরবনের সর্বনাশ করতে পারে৷ তিনি বলেন, ‘‘জঙ্গলটি সংশ্লিষ্ট এলাকার লাখলাখ মানুষের জীবিকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ৷ তাছাড়া উপকূলীয় অঞ্চলের চার কোটির মতো মানুষকে প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে রক্ষায়ও ভূমিকা রাখছে সুন্দরবন৷''

বাংলাদেশের প্রখ্যাত পরিবেশবিদ আইনুন নিশাতও একইধরনের মতামত ব্যক্তি করেছেন৷ তবে তিনি মনে করেন, অ্যাক্টিভিস্টদের আরো সুনির্দিষ্ট ইস্যুতে কথা বলা উচিত৷ নিশাত বলেন, ‘‘তাদের উচিত যে কয়লা কেন্দ্রে পোড়ানো হবে তার উৎস এবং মান নিয়ে প্রশ্ন করা৷ পাশাপাশি সুন্দরবনের মধ্য থেকে নৌকা চলাচল এক বড় ইস্যু, কেননা বিদ্যুৎকেন্দ্র হলে প্রতিদিনি একটা বড় অংকের নৌকায় করে সুন্দরবনের মধ্য থেকে কয়লা পরিবহন করা হবে৷''

সুন্দরবনের কাছে রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র দু'টি তৈরি করা হচ্ছে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে৷ আনু মুহাম্মদ মনে করেন, ‘‘পুরো প্রকল্পটি গ্রহণ, স্থান নির্বাচন এবং প্রকল্পের শর্তাবলীর মধ্যস্থতা করা হয়েছে অস্বচ্ছ এবং যুক্তিহীনভাবে, যা মানুষ ও পরিবেশ বিরুদ্ধ৷''

বাংলাদেশের আরো বিদ্যুৎ দরকার

১৬ কোটি মানুষের দেশ বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম জ্বালানি-দরিদ্র দেশ হিসেবে পরিচিত৷ দেশটিতে উৎপাদিত বিদ্যুৎ এবং চাহিদার মধ্যে বিস্তর ব্যবধান রয়ে গেছে৷ দেশটিতে জনপ্রতি বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ কম হওয়া সত্ত্বেও বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে এবং সরকার উৎপাদন বাড়াতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে৷ দুর্বল ব্যবস্থাপনা এবং পুরনো অবকাঠামো পরিস্থিতি আরো জটিল করে তুলছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা৷

আইনুন নিশাত, যিনি ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর এমিরিটাস, জানান যে ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশকে অবশ্যই বিদ্যুৎ উৎপাদনে বাড়াতে হবে৷ তিনি বলেন, ‘‘২০১৬ সালেও লোডশেডিং হচ্ছে, যার অর্থ সরকারকে দ্রুত বাণিজ্যিক জ্বালানির উৎপাদন বাড়াতে হবে৷''

সরকার অবশ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর একমাত্র উপায় হিসেবে দেখছে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র৷ সরকারের পাওয়ার ডিভিশনের সচিব মনোয়ার ইসলাম তাঁর দেশকে বর্ণণা দিয়েছেন, ‘‘একটি ‘জ্বালানি-ক্ষুধার্ত' দেশ হিসেবে, যেটির উন্নয়নে বিপুল বিদ্যুৎ প্রয়োজন৷''

‘‘বর্তমানে বাংলাদেশের মাত্র দুই শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে কয়লার মাধ্যমে'', থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশনকে বলেন ইসলাম৷ তিনি দাবি করেন, ‘‘বর্তমানে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে যে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে তা অ্যাক্টিভিস্টদের দাবি করা পরিবেশের ক্ষতি লাঘবে সক্ষম হবে৷''

তবে আনু মুহাম্মদ এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন৷ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপক মনে করেন, কয়লা বাংলাদেশের জন্য সমাধান নয়৷ তিনি বলেন, ‘‘আমাদের জন্য সবচেয়ে ভালো সমাধান হচ্ছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি৷ আর এই খাতে আমাদের স্বভাবনা প্রচুর৷ মোটের উপর, গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রও ব্যবহার করা যেতে পারে কেননা ‘অফশোরে' গ্যাসের ভালো মজুদ রয়েছে৷ সেই রিসোর্স ব্যবহারে আমাদের ভালো নীতি এবং ইন্সটিটিউট দরকার৷''

অনলাইনে চলছে প্রতিবাদ

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে সরকার অনড় থাকলেও অ্যাক্টিভিস্টরা হাল ছেড়ে দিতে রাজি নন৷ ইংরেজিতে #সেভসুন্দরবনস এবং #স্টপরামপাল হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন৷ ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি ফেসবুক পাতাও তৈরি হয়েছে সুন্দরবন বাঁচাও আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করতে৷ এরকম এক পাতার মডারেটর জুবায়ের এইচ কিরন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারী তাদের প্রোফাইল এবং কভার ছবিতে রামপাল বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছেন৷ কেউ কেউ ফেসবুকে ডাকা আহ্বানে সাড়া দিয়েছে রাজপথের আন্দোলনেও যাচ্ছেন৷''

বাঁশখালীর ঘটনার পর সরকার সেখানকার বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ কিছুদিন স্থগিত রয়েছে৷ তবে পর্যবেক্ষকরা বিশ্বাস করেন, শীঘ্রই কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ আবারো পুরোদমে শুরু হবে, কেননা বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ানোর চাপ কর্তৃপক্ষের উপর বাড়ছে ক্রমশই৷

বন্ধু, আপনি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রস্থাপনের পক্ষে না বিপক্ষে? মতামত জানান, লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

Albanian Shqip

Amharic አማርኛ

Arabic العربية

Bengali বাংলা

Bosnian B/H/S

Bulgarian Български

Chinese (Simplified) 简

Chinese (Traditional) 繁

Croatian Hrvatski

Dari دری

English English

French Français

German Deutsch

Greek Ελληνικά

Hausa Hausa

Hindi हिन्दी

Indonesian Bahasa Indonesia

Kiswahili Kiswahili

Macedonian Македонски

Pashto پښتو

Persian فارسی

Polish Polski

Portuguese Português para África

Portuguese Português do Brasil

Romanian Română

Russian Русский

Serbian Српски/Srpski

Spanish Español

Turkish Türkçe

Ukrainian Українська

Urdu اردو