সাক্ষাৎকার

‘গুমের বিচার না হলে অপরাধীরা রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে গিলে খাবে’

‘‘এক দশক ধরে বাংলাদেশে গুম ও নিখোঁজের অভিযোগ বেশি পাওয়া যাচ্ছে৷ এমনটা চলতে থাকলে অপরাধীরাই রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে গিলে খাবে’’, বলেন মানবাধিকার কর্মী নূর খান৷ গুম সম্পর্কে আরো অনেক কথা উঠে এসেছে তাঁর কথায়৷

default

প্রতীকী ছবি

ডয়চে ভেলে: গুমের বিষয়টা আমরা সবাই জানি৷ সরকার অবশ্য গুম স্বীকার করে না৷ তারা বলে, এটা নিখোঁজ৷ তা বাংলাদেশে এই গুমের চিত্রটা এখন কেমন?

নূর খান: নিখোঁজ বলতে আমরা যেটা বুঝি, নানাভাবে নিখোঁজ হতে পারে, সিভিলিয়নদের দ্বারা নিখোঁজ হতে পারে, নিজে নিখোঁজ হতে পারে৷ কিন্তু গুম বলতে আমরা যেটা বুঝতে চেষ্টা করি সেটা হচ্ছে কারুর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাঁকে যখন কেউ নিয়ে যাচ্ছে বা তাঁর কোনোরকম স্বাধীনতা থাকছে না৷ তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে সমস্ত কাজ করানো হচ্ছে অথবা তাঁকে হত্যা করা হচ্ছে৷ এই জায়গাটিকে আমরা গুম মনে করছি৷

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা গুমের ব্যাপারে যে তথ্য দিয়ে থাকে তা কতটা প্রাসঙ্গিক?

শুধু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বা সংস্থা গুমের বিষয়ে বলছে না, আমাদের দেশের যে মানবাধিকার সংগঠনগুলো কাজ করছে বা দেশের মিডিয়া যে সংখ্যা বলছে, তা আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর তুলনায় কোনো অংশেই কম নয়৷

অডিও শুনুন 11:20

‘রাষ্ট্র এটার গুরুত্ব না দেয়ার কারণে অপরাধীরা বেপরোয়া হচ্ছে’

সরকার সবসময় গুমের তথ্য প্রত্যাখান করে, এটা আসলে কীসের ভিত্তিতে?

যিনি সরকারের থাকেন, তিনি আসলে গুমের বিষয়টা স্বীকার করতে চান না৷ কারণ এটা সরকারের একটা ব্যর্থতা বা এটা সরকারের একটা অনৈতিক কার্যক্রম৷

আপনারা যাঁরা মানবাধিকার সংগঠনে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন, তাঁরা কি কখনও গুম হওয়া ব্যক্তির বিষয়ে অনুসন্ধান করেছেন?

হ্যাঁ, আমরা একাধিক বিষয়ে তথ্য অনুসন্ধারের চেষ্টা করেছি৷ গুম থেকে ফিরে এসেছে এমন মানুষের সঙ্গেও কথা বলার চেষ্টা করেছি৷ দু-একজন তাঁদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেও অধিকাংশ এ ব্যাপারে কিছু বলতে চান না৷ কারণ হিসেবে আমরা মনে করছি, ঐ সময় তাঁরা এমন একটা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করেন তাতে তাঁদের স্বাভাবিক স্বাধীনচেতার বিষয়টি খর্ব করা হয়৷ এতে তাঁরা খুব সহসাই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারেন না

এ ব্যাপারে এই মুহূর্তে কোনো তথ্য দেয়া কি সম্ভব?

গত এক দশকে দেশে কয়েকশ' মানুষ গুম হয়েছেন৷ তাঁদের গুমের ধরনটা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই একরকম৷ যাঁদের উঠিয়ে নেয়া হয়েছে তাঁদের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষদর্শী বা যাঁদের বাড়ি থেকে তুলে নেয়া হয়েছে তাঁদের পরিবারের সদস্যরা যে তথ্য দিয়েছেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ঘটনাগুলো একই ধরনের৷ যারা তুলে নিয়ে যাচ্ছে তাদের বয়স ২০ থেকে ৩৫ বা ৪০ বছর৷ তাদের চুলের কাটিংটা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মতো৷ তারা যে গাড়ি ব্যবহার করে সেটা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মতো৷ কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষদর্শীরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়ির বর্ণনা দিয়েছেন৷ এ সব ক্ষেত্রে তারা যে অস্ত্র প্রদর্শন করেছে সেটাও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হওয়ার সম্ভবনা৷ কারণ অস্ত্রগুলো নতুন এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাদা কালি দিয়ে অস্ত্রে মার্কিং করা৷ গাড়ির ক্ষেত্রে অন্তত একটা ঘটনা তদন্ত করে আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে সেটা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ছিল৷ আমরা কিন্তু সব গুম নিয়ে প্রশ্ন তুলিনি৷ যেগুলোর ব্যাপারে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে, শুধুমাত্র সেগুলো নিয়েই কথা বলেছি আমরা৷ সংখ্যার দিক দিয়ে আজকাল বেশি শিকার হচ্ছেন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা, বিশেষ করে বিরোধী দলের৷

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বরাবরই বলা হচ্ছে, তাদের নাম ব্যবহার করে অপরাধীরা এটা করছে৷ এই দাবি কতটা সত্য?

যখন মানুষ মনে করে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এই ঘটনা ঘটাচ্ছে তখন আমরা দেখি যে কয়েকজনকে ধরা হচ্ছে৷ কিন্তু কিছুদিন পর তারা আবার ছাড়াও পেয়ে যাচ্ছে৷ আসলে পুরো বিষয়টিকে হালকা করার জন্য এটা হতে পারে বলে অনেকে মনে করেন৷ 

আমরা অনেক সময় দেখেছি, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে৷ সেক্ষেত্রে তাদের মধ্যে শাস্তির মাত্রা কতটুকু?

দু-একটি ক্ষেত্রে আমরা দেখেছি বিভাগীয় শাস্তি হয়েছে৷ কিন্তু সেটা প্রকাশ হয়নি৷ যখন কোনো পরিবার বা রাজনৈতিক দল থেকে এই ধরনের অভিযোগ আনা হয়, তখন সরকারের তরফ থেকে বিষয়টিকে হাস্যকর করে উপস্থাপন করা হয়৷ বিষয়টিকে যদি রাষ্ট্রের তরফ থেকে গুরুত্ব না দেয়া হয় তাহলে একসময় এটা বুমেরাং হবে এবং এই অপরাধীরা রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে গিলে খাবে৷ আমরা মনে করি, কয়েকশ' মানুষ আজ গুমের শিকার, যাঁদের পরিবার আজও তাঁদের অপেক্ষায় আছে৷ তাঁরা মনে করেন, যদি তাঁদের স্বজনকে হত্যাও করা হয় তাহলে তাঁর কবর কোথায় দেয়া হয়েছে, সেটা যেন জানানো হয়৷ তাই এখনই যদি তদন্ত করে দোষীদের বিচারের আওতায় না আনা হয় তাহলে এটা মহামারী আকার ধারণ করবে এবং অনেকে এর শিকার হবেন৷

আপনারা তো অনেক ঘটনার তদন্ত করেছেন৷ তা আসলে এ সমস্ত গুমের পেছনে মূল কারণ রাজনৈতিক না পারিবারিক?

গুমের আসলে অনেকগুলো কারণ থাকে৷ জমি-জমা নিয়ে যে বিরোধ আমরা তার কথা কিন্তু বলছি না৷ আমি বলছি সেটার কথা, যেটার সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ন্যূনতম সম্পর্কের অভিযোগ উঠেছে৷

কোনো গুমের ঘটনায় এ পর্যন্ত কি কোনো বিচার হয়েছে?

এ পর্যন্ত কোনো বিচারের কথা আমাদের জানা নেই, মানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ক্ষেত্রে৷ তবে অন্যান্য ক্ষেত্রে কিছু বিচার হয়েছে৷

নারায়ণগঞ্জের ঘটনায় তো বিচার হচ্ছে?

হ্যাঁ, ঐ মামলাটার বিচার হচ্ছে৷ এ ঘটনাটা প্রথমে গুম, পরে হত্যাকাণ্ড৷ এর বিচার বর্তমানে উচ্চ আদালতে হচ্ছে৷ এই ঘটনার মধ্য দিয়ে অন্তত সন্দেহ করার অনেক কারণ রয়েছে যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একটা অংশ এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত৷ কিন্তু রাষ্ট্র এটার গুরুত্ব না দেয়ার কারণে অপরাধীরা বেপরোয়া হচ্ছে৷

গুমের এই পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার জন্য আপনার পরামর্শ কী?

পরামর্শ একটাই৷ বিচার বিভাগীয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে যে ঘটনাগুলো ঘটেছে তার তথ্য অনুসন্ধান করা এবং অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা৷ অপরাধীদের দিয়ে এটা শুরু হয়েছিল, এখন সাধারণ মানুষ এটার শিকার হচ্ছেন৷ অর্থাৎ এখন ধরন পালটাচ্ছে৷ তারা এমনভাবে এখন এটা করছে যাতে ভিকটিমকেই মানুষ সন্দেহ করে৷ এমনভাবে এটা করা হচ্ছে যে দেখে মনে হবে অপহৃত ব্যক্তি নিজস্ব কোনো কারণে এর শিকার হয়েছেন৷

আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

Albanian Shqip

Amharic አማርኛ

Arabic العربية

Bengali বাংলা

Bosnian B/H/S

Bulgarian Български

Chinese (Simplified) 简

Chinese (Traditional) 繁

Croatian Hrvatski

Dari دری

English English

French Français

German Deutsch

Greek Ελληνικά

Hausa Hausa

Hindi हिन्दी

Indonesian Bahasa Indonesia

Kiswahili Kiswahili

Macedonian Македонски

Pashto پښتو

Persian فارسی

Polish Polski

Portuguese Português para África

Portuguese Português do Brasil

Romanian Română

Russian Русский

Serbian Српски/Srpski

Spanish Español

Turkish Türkçe

Ukrainian Українська

Urdu اردو