গোরোঙ্গোসা অভয়ারণ্যের মহিলা রেঞ্জার

মোজাম্বিকের বৃহত্তম ন্যাশনাল পার্কের মহিলা রেঞ্জাররা চোরাশিকারিদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে পিছপা হন না৷ কঠিন এ সংগ্রামে তাঁরা কিছু নতুন পন্থাও প্রয়োগ করে থাকেন৷

গোরোঙ্গোসা ন্যাশনাল পার্কে কান্দিদা মারকেশ কাবেসা-র প্রতিদিনের কাজ হলো চোরাশিকারিদের পাতা ফাঁদগুলোকে সরানো৷ মোজাম্বিকের বৃহত্তম অভয়ারণ্যের রেঞ্জারদের মধ্যে মহিলা রেঞ্জার খুব বেশি নেই৷ কান্দিদা খুব অল্প সংখ্যক মহিলা শিকারিদের একজন৷ চোরাশিকারের বিরুদ্ধে সংগ্রামে অপরাধীদের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষের বিপদ থাকে৷ কিন্তু তাতে ভয় করলে চলে না৷

সমাজ সংস্কৃতি | 29.04.2011

কান্দিদা বলেন, ‘‘আমরা চুপি চুপি চোরাশিকারিদের শ'দুয়েক মিটারের মধ্যে পৌঁছাই৷ তারপর হামাগুড়ি দিয়ে একেবারে কাছে গিয়ে হাঁক দিই, ‘‘থামো!'' সাধারণত ওতেই ওরা থতমত খেয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে আর ওদের গ্রেপ্তার করা যায়৷ কখনো-সখনো ওরা আমাদের আক্রমণ করে৷ তখন আমরা যেভাবে আমাদের শেখানো হয়েছে, সেভাবে আত্মরক্ষা করি৷''

 পুরুষ রেঞ্জাররা তাঁদের নতুন মহিলা সহকর্মীদের পেয়ে খুশি, কেননা, এর ফলে চোরাশিকারিদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে নতুন পন্থা অবলম্বন করা যায়৷ রেঞ্জার সিকো বোনিফাসিও কোম্পানিয়া কান্দিদার মতো জাতিতে পর্তুগিজ৷ তিনি জানালেন, ‘‘মাঝেমধ্যে আমরা মহিলা রেঞ্জারদের চর হিসেবে ব্যবহার করি৷ তখন তাঁরা ভান করেন, যেন তাঁরা রেঞ্জার নন, সাধারণ মানুষ৷ এভাবে চোরাশিকারিদের কাছে আসা আর তাঁদের গ্রেপ্তার করা সহজ হয়৷''

চোরাশিকারিদের একটি প্রধান শিকার হলো হরিণ, কেননা হরিণের মাংস বেচে জীবনধারণ করা যায়৷ কিন্তু গোরোঙ্গোসা ন্যাশনাল পার্কের অন্যান্য জীবজন্তুও বিপন্ন – যদিও ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটছে বলে রেঞ্জারদের ধারণা৷ 

ভিডিও দেখুন 03:20
এখন লাইভ
03:20 মিনিট
অন্বেষণ | 25.09.2017

অভয়ারণ্যের নির্ভিক নারী

সিকো বলেন, ‘‘হাতিদের উপরেও চোরাশিকারিদের নজর পড়েছে বলে আমরা জানি৷ কিন্তু আমরা আমাদের কাজ করে যাই; চোরাশিকারিদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে যাই৷ যার ফলে বেআইনি শিকার ধীরে ধীরে কমে আসছে৷''

বেআইনি মাছ ধরা

২০১৭ সালের প্রথম চার মাসে রেঞ্জাররা গত বছরের প্রথম চার মাসের তুলনায় ৬০ শতাংশ বেশি বেআইনি শিকার ধরার ফাঁদ বিনষ্ট করেছেন৷ নদীতে টহল দেওয়াও রেঞ্জারদের কাজ৷ ন্যাশনাল পার্কে বেআইনি মাছ ধরার চল কিছু কম নয়৷

চোরাশিকারিরা একটি মাছ ধরার জাল ফেলে গেছে৷ রেঞ্জারদের আসতে দেখে তারা উধাও হয়েছে৷ কান্দিদা জানালেন, ‘‘আমরা জাল আর মাছ নিয়ে যাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যাতে আমরা গেলেই ওরা আবার বেআইনি মাছ ধরা শুরু না করতে পারে৷ এ ধরণের জালও আসলে নিষিদ্ধ, বিনা অনুমতিতে মাছ ধরা তো বটেই৷''

অভয়ারণ্যের ১৫০ জন রেঞ্জারের একজন হবার জন্য কান্দিদাকে অন্যান্য সহকর্মীর মতোই কঠোর প্রশিক্ষণ নিতে হয়েছে৷ কান্দিদার মতে, ‘‘পুরুষ বা মহিলা, তাতে কিছু এসে যায় না৷ কাজের সময় পুরুষদের মতো আমরাও একই কাজ করি৷''

রেঞ্জারের কাজে বিপদ থাকে, ক্যাম্পে থাকার কষ্টও কম নয়৷ বাকি সকলের মতো কান্দিদা একটানা তিন সপ্তাহ কাজ করেন, তারপর এক সপ্তাহের ছুটি পান৷ কান্দিদা বললেন, ‘‘এতদিন ধরে পরিবার-আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে দূরে থাকাটা আমাদের অভ্যাস হয়ে গেছে৷ আমরা ভয় পাই না৷ আমরা সব রকমের চ্যালেঞ্জ আর সমস্যার জন্য প্রস্তুত৷''

সমাজ

বিশ্রামাগার

চীনের বন্দরনগরী তিয়ানজিনে পরিযায়ী পাখিদের জন্য অভয়ারণ্য তৈরি করা হচ্ছে৷ অঞ্চলটি ‘ইস্ট এশিয়ান-অস্ট্রেলেশিয়ান ফ্লাইওয়ে’র মধ্যে অবস্থিত৷ পরিযায়ী পাখিরা বিশ্বের যে নয়টি ফ্লাইওয়ে ব্যবহার করে, এটি তার একটি৷ প্রতিবছর ৫০ মিলিয়ন পরিযায়ী পাখি এই ফ্লাইওয়ে দিয়ে যায়৷

সমাজ

প্রথম

বলা হচ্ছে, এটি হবে পাখিদের জন্য তৈরি বিশ্বের প্রথম বিমানবন্দর৷ একটুখানি কল্পনার আশ্রয় নিয়ে উপরের নকশাটি দেখলে বুঝতে পারবেন, পাখিদের জন্য টেক অফ আর ল্যান্ডিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে সেখানে৷ প্রায় ৫০ প্রজাতির (যাদের কয়েকটি বিলুপ্তির মুখে) পরিযায়ী জলচর পাখি সেখানে আশ্রয় নেবে বলে আশা করা হচ্ছে৷

সমাজ

পাখিদের জন্য আবাসস্থল

অভয়ারণ্যটি ৬১ হেক্টর জায়গার উপর গড়ে তোলা হবে৷ সেখানে পাখিদের আশ্রয় নেয়ার জন্য বেশ কিছু ব্যবস্থা রাখা হবে৷ পাখিগুলো প্রধানত জলচর হওয়ায় সেখানে থাকবে লেক, থাকবে ঘাসের মতো ছোট উদ্ভিদের সমারোহ ইত্যাদি৷ এছাড়া প্রায় ২০ হেক্টর এলাকা জুড়ে থাকবে বন৷

সমাজ

টার্মিনাল

যেহেতু বিমানবন্দর তাই টার্মিনালতো থাকবেই৷ কিন্তু সেখানে থাকবে না কোনো চেক-ইন কাউন্টার বা ডিউটি-ফ্রি শপ৷ এর পরিবর্তে ‘লিনগাঙ বার্ড স্যাংচুয়ারি’র টার্মিনাল থেকে পর্যটকরা পাখি দেখতে পারবেন৷

সমাজ

গবেষণা কেন্দ্র

‘ওয়াটার প্যাভিলিয়ন’ নামে একটি গবেষণা কেন্দ্র থাকবে ঐ অভয়ারণ্যে৷ এর মাধ্যমে পাখি বিষয়ক গবেষণায় নিজের নাম প্রতিষ্ঠা করতে চায় চীন৷ এছাড়া সেখানে হাঁটা ও সাইকেল চালানোর পথও তৈরি করা হবে৷

সমাজ

২০১৮ সালে চালু

পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগোলে ২০১৮ সালে অভয়ারণ্য প্রতিষ্ঠার কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে৷

গ্লোরিয়া সুজা/এসি

সংশ্লিষ্ট বিষয়