বিশ্ব

গ্রিস থেকে ফিরে যেতে হবে শরণার্থীদের

গ্রিস থেকে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের তুরস্কে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে তুরস্ক আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে৷ ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত ইইউ সম্মেলন শেষে ইইউ কমিশনের প্রেসিডেন্ট জঁ-ক্লোদ ইয়ুংকার এ কথা জানান৷

Grenze Griechenland Mazedonien Flüchtlinge

সোমবার দীর্ঘ আলোচনা শেষে ইইউ-এর সঙ্গে শরণার্থী ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছায় তুরস্ক৷ ইইউ-র ২৮ সদস্য দেশের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী আহমেদ দাভুতোগলু গুরুত্বপূর্ণ এ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন৷

ইউরোপের শরণার্থী সংকটে তুরস্ক এখন অনেকাংশেই নিয়ন্তার অবস্থানে৷ সিরিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার কয়েকটি দেশ থেকে তুরস্ক হয়েই গ্রিসে প্রবেশ করছে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা৷ সে কারণেই তুরস্কের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে শরণার্থী সংকট নিরসনের এই উদ্যোগ৷

মঙ্গলবার জঁ-ক্লোদ ইয়ুংকার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ব্রাসেলসের বৈঠকে এ সংকট নিরসনের পথে অনেকটাই অগ্রসর হওয়া গেছে৷ তিনি জানান, গ্রিস থেকে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়েছে তুরস্ক৷

জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলসহ ইইউ-র অন্যান্য নেতারাও মনে করছেন, ইইউ-তুরস্কের এই সমঝোতার মাধ্যমে শরণার্থী সংকটে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসতে চলেছে৷ এর ফলে ইউরোপে অবৈধ অভিবাসীদের আগমন বন্ধ হবে বলেও তাঁদের আশা৷

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর অবশ্য বলকান অঞ্চল দিয়ে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ইউরোপে প্রবেশ বন্ধ করার উদ্যোগের বিরুদ্ধে৷ সিরিয়ার চলমান যুদ্ধের কারণে যারা ইউরোপে আশ্রয় নিতে চান তাদের জন্য অভিবাসনের সুযোগ থাকা উচিত বলে সংস্থাটি মনে করে৷

ব্রাসেলসের বৈঠকে অবশ্য সিরীয় অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ইউরোপে আগমন বন্ধ হয়ে যায়নি৷ বরং ইইউ বলছে, অবৈধভাবে অভিবাসী হওয়ার লাগামহীন অপপ্রয়াস রুখতেই এবারের এই উদ্যোগ৷ এ উদ্যোগের প্রথম ধাপে গ্রিসে আসা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের তুরস্কে ফেরত পাঠানো হবে৷ তার পরে শুরু হবে তুরস্ক থেকে বৈধ উপায়ে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ইউরোপে পাঠানো৷ সেই পর্যায়ে সিরিয়া সংকটের প্রকৃত শিকাররাই অভিবাসনের সুযোগ পাবেন, অন্যরা নয়৷ সুতরাং বলকান অঞ্চল দিয়ে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ইউরোপে প্রবেশ আপাতত বন্ধ হলেও, দীর্ঘ দিনের জন্য বন্ধ হচ্ছে না৷

ইউরোপকে শরণার্থী সংকট নিরসনে সহায়তা করার পাশাপাশি শরণার্থীদের কারণে নিজেদেরও যে সংকট তৈরি হয়েছে তা থেকে বেরিয়ে আসার পথ তুরস্কও খুঁজছে৷ গ্রিস থেকে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ফিরিয়ে নেয়ার বিনিময়ে আগের অঙ্গীকারের বাইরেও ৩ বিলিয়ন ইউরো দাবি করেছেন আহমেদ দাভুতোগলু৷ তুর্কি প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, তুরস্কে এ মুহূর্তে যে ২৭ লাখ সিরীয় শরণার্থী রয়েছে, তাদের পেছনে ১০ বিলিয়ন ডলার খরচ হবে৷ সুতরাং ইউরোপ আর তুরস্কের মধ্যে শরণার্থীর দায়িত্ব ভাগাভাগি করার স্বার্থেই একটা সুন্দর সমঝোতা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন৷

সোমবার ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত বৈঠকের সিদ্ধান্তই অবশ্য চূড়ান্ত নয়৷ আগামী ১৭ ও ১৮ই মার্চে অনুষ্ঠেয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরবর্তী বৈঠকে গ্রিসে প্রবেশ করা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ভাগ্য চূড়ান্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে৷

এসিবি/ডিজি (ডিপিএ, রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

Albanian Shqip

Amharic አማርኛ

Arabic العربية

Bengali বাংলা

Bosnian B/H/S

Bulgarian Български

Chinese (Simplified) 简

Chinese (Traditional) 繁

Croatian Hrvatski

Dari دری

English English

French Français

German Deutsch

Greek Ελληνικά

Hausa Hausa

Hindi हिन्दी

Indonesian Bahasa Indonesia

Kiswahili Kiswahili

Macedonian Македонски

Pashto پښتو

Persian فارسی

Polish Polski

Portuguese Português para África

Portuguese Português do Brasil

Romanian Română

Russian Русский

Serbian Српски/Srpski

Spanish Español

Turkish Türkçe

Ukrainian Українська

Urdu اردو