আলাপ

চর্মশিল্পের ভালো ও মন্দ দিক

যে শিল্প থেকে বাংলাদেশের মতো একটি দরিদ্র দেশ বছরে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি রোজগার করে থাকে, তাকে গাল দিয়ে লাভ নেই৷ চর্মশিল্প আছে ও থাকবে৷ পরিবেশ আর শ্রমিকদের কি হবে, সেটাই একমাত্র প্রশ্ন৷

প্রতীকী ছবি

তৃতীয় বিশ্বের কোনো দেশে যদি কোনো শিল্প এই বিশ্বায়িত প্রতিযোগিতার যুগেও টিকে থাকতে পারে – শুধু টিকে থাকা নয়, একটানা বেড়ে চলতে পারে, তাহলে তার নিশ্চয় কতগুলো কারণ থাকে৷ সভ্যতা, ভব্যতা, পলিটিক্যাল করেক্টনেস ইত্যাদির কথা ভুলে সেই কারণগুলো একবার চোখের সামনে রাখলে কোনো দোষ নেই৷

বাংলাদেশের চর্মশিল্প হাজারিবাগ ছেড়ে সাভারে যাচ্ছে, খুব ভালো কথা৷ সাভারের সেন্ট্রাল এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট বা সিইটিপি, সে তো আরো ভালো কথা৷ সবচেয়ে ভালো কথা, এর ফলে বাংলাদেশের লেদার ইন্ডাস্ট্রির ভাবমূর্তি একটা নতুন পালিশ পাচ্ছে – কেননা এর আগে ধরেই নেওয়া হতো, পরিবেশের স্বাস্থ্য আর শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের তোয়াক্কা না করে, সরকারি আইনকানুনকে কলা দেখিয়ে দেশের চর্মশিল্প ফুলে-ফেঁপে উঠছে৷ যেন চর্মশিল্পের যা কিছু ভালোর সঙ্গে চর্মশিল্পের যা কিছু খারাপ, তারএকটা অবিচ্ছেদ্য সংযোগ আছে৷

Bangladesch, Umweltverschmutzung

বাংলাদেশের চর্মশিল্প হাজারিবাগ ছেড়ে সাভারে যাচ্ছে, খুব ভালো কথা

বিশ্বায়নের যুগে তৃতীয় বিশ্বের শিল্পায়ন যেন ওভাবে ছাড়া আর কোনো পন্থায় হতে পারে না৷ ইতিহাস যেন বলে দিয়েছে, শিল্পোন্নত দেশগুলি ট্যানারির মতো নোংরা কাজগুলি নিজেদের দেশে বন্ধ করে, সেই কাজ ও তার ফলশ্রুতিকে তৃতীয় বিশ্বে পাচার করবে৷ সেখানে লোক বেশি, কাজের সুযোগ কম; পরিবেশ নিয়ে অত মাথা ঘামানো নেই; আইনকানুন থাকলেও, তার এনফোর্সমেন্ট দুর্বল৷ এর ওপর আবার যদি পশ্চিমের ক্রেতারা মিডলম্যান ব্যবহার করে, হোলসেল অর্ডার দিয়ে সবরকম দায়িত্ব থেকে রেহাই পান, তাহলে তো সোনায় সোহাগা৷

নিউ ইয়র্কের ব্ল্যাকস্মিথ ইনস্টিটিউট তাদের ২০১৩ সালের নভেম্বর মাসের রিপোর্টে পৃথিবীর সবচেয়ে দূষিত দশটি জায়গার মধ্যে ফেলেছিল ঢাকার হাজারিবাগকে৷ দিনে নাকি তখন ২২ হাজার কিউবিক মিটার পরিবেশ দূষণকারী তরল বর্জ্য পদার্থ হেক্সাভ্যালেন্ট ক্রোমিয়াম সুদ্ধু বুড়িগঙ্গায় গিয়ে পড়তো৷ এতো গেল পরিবেশ৷ ট্যানারির ভিতরের পরিবেশ কিছু কম বিপজ্জনক নয়৷ শিশুশ্রম তো ছিলই; যা ছিল না, তা হলো শ্রমিকদের জন্য সুরক্ষা-পরিধান; ঘণ্টার পর ঘণ্টা নানা ধরনের রাসায়নিক নিয়ে ঘাঁটাঘাটি – যার মধ্যে সবার আগে আসে ক্রোমিয়াম৷ অথচ ভেজিটেবল ট্যানিং, সিন্থেটিক ট্যানিং, অ্যালাম ট্যানিং, অ্যালডেহাইড ট্যানিং, এ সব ছেড়ে বিশ্বের সবচেয়ে প্রচলিত ট্যানিং পদ্ধতি হল ক্রোমিয়াম ট্যানিং, যা কিনা সবচেয়ে বিষাক্ত৷

Bildergalerie Bangladesch Müllhalden

যে শিল্প থেকে বাংলাদেশের মতো একটি দরিদ্র দেশ বছরে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি রোজগার করে থাকে, তাকে গাল দিয়ে লাভ নেই

এবার আসা যাক একটি বুনিয়াদি প্রশ্নে: কাদের জন্য এই ট্যানিং? বাংলাদেশের চর্মশিল্পের উৎপাদনের আশি ভাগ রপ্তানি হয় বিদেশে৷ চীন আর ভারত ধীরে ধীরে যে সব কাজ ছাড়ার কথা ভাবছে, বাংলাদেশের মতো ছোট দেশগুলি সেই বোঝা কাঁধে করার জন্য এগিয়ে আসবে কেন? বাঁচার তাগিদে৷ হ্যাঁ, পশ্চিমি বিশ্ব – যেমন ইটালি – তাদের নিজের প্রয়োজনেই ক্রোমিয়াম রিসাইক্লিং, বর্জ্য পানি পরিষ্কার করার প্ল্যান্ট ইত্যাদি আবিষ্কার করে চলেছে৷ বাংলাদেশের চর্মশিল্পের শ্রমিক আর ইউরোপের গ্রাহক, এদের কেউই পরিবেশ অথবা নিজের কিংবা পরের স্বাস্থ্যের হানি কামনা করেন না৷ কিন্তু একদিকে যেমন বাঁচার তাগিদ, অন্যদিকে তেমন সস্তায় কেনার প্রবৃত্তি – এই দুইয়ের সুযোগ নিয়ে বিশ্বায়িত চর্মশিল্প দিব্যি বেঁচে-বর্তে রয়েছে ও থাকবে৷

Deutsche Welle DW Arun Chowdhury

অরুণ শঙ্কর চৌধুরী, ডয়চে ভেলে

আশার আলোক তিনটি: প্রথমত সাভারে রিলোকেশন বা পুনর্স্থাপন, সেই সঙ্গে বর্জ্য পানি পরিশোধনের ব্যবস্থা৷ দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের চর্মশিল্পের পরিবেশ সংক্রান্ত ভাবমূর্তির উন্নতি ঘটার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশি চর্মশিল্প ফিনিশড লেদারের পরিবর্তে ক্রমেই আরো বেশি লেদার গুডস ও ফুটওয়্যার রপ্তানি করছে৷ মজার কথা, বাংলাদেশ এখন ফ্যাব্রিক-বেজড ফুটওয়্যার, অর্থাৎ ক্যাম্বিসের জুতোর ক্ষেত্রেও এইডঅ্যান্ডএম, ফিলা বা পুমা-র মতো গ্লোবাল রিটেইলারদের হয়ে জুতো তৈরি করছে – যা কিনা উন্নততর, পরিবেশ সম্মত চর্মশিল্পের একটা স্পিন-অফ বলে ধরা যেতে পারে৷

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গার্মেন্টস শিল্প ও চর্মশিল্পের যা গুরুত্ব, তা-তে উভয় ক্ষেত্রেই উন্নতি না করে উপায় নেই – এই হয়ত বিশ্বায়নের শিক্ষা৷ পশ্চিমের ক্রেতারা তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য নিয়ে আলাদা করে ভাববেন৷

বন্ধু, অরুণ শঙ্কর চৌধুরী এই বক্তব্যের সঙ্গে কি আপনি একমত? লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

Albanian Shqip

Amharic አማርኛ

Arabic العربية

Bengali বাংলা

Bosnian B/H/S

Bulgarian Български

Chinese (Simplified) 简

Chinese (Traditional) 繁

Croatian Hrvatski

Dari دری

English English

French Français

German Deutsch

Greek Ελληνικά

Hausa Hausa

Hindi हिन्दी

Indonesian Bahasa Indonesia

Kiswahili Kiswahili

Macedonian Македонски

Pashto پښتو

Persian فارسی

Polish Polski

Portuguese Português para África

Portuguese Português do Brasil

Romanian Română

Russian Русский

Serbian Српски/Srpski

Spanish Español

Turkish Türkçe

Ukrainian Українська

Urdu اردو