সংবাদভাষ্য

চলুন পর্যটনবান্ধব নাগরিক হই

এর দুটি সুবিধা আছে৷ বেশি করে বিদেশি পর্যটক টানা যাবে৷ আর দেশ হয়ে উঠবে পরিপাটি ও পরিচ্ছন্ন৷ তাই পর্যটন বছরে এই হোক বাংলাদেশের সব নাগরিকের অঙ্গীকার৷

Bangladesch feiert den Tag der Unabhängigkeit (DW)

পর্যটন খাতের বিকাশে সরকার ২০১৬ সালকে ‘পর্যটন বর্ষ' ঘোষণা করেছে৷ তবে এই শিল্পের উন্নয়নে যতটুকু উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন, তা নেয়া হয়নি৷ যেমন অনেক পর্যটন স্পটে যাওয়া, থাকা-খাওয়ার ভালো সুবিধা নেই৷ নেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা৷ একজন বিদেশি পর্যটককে বাংলাদেশের আকর্ষণীয় স্থানগুলোর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়ারও যথেষ্ট উদ্যোগ নেই৷

চাই ‘ব্র্যান্ডিং'

সরকারি হিসেব বলছে, প্রতিবছর ৫-৬ লাখ বিদেশি পর্যটক আসেন বাংলাদেশে৷ বাংলাদেশের সৌন্দর্য্যের বিচারে সংখ্যাটি খুবই কম৷ বিদেশি পর্যটকরা যেন বাংলাদেশ সম্পর্কে জানতে পারেন সেজন্য আন্তর্জাতিকভাবে বহুল প্রচারিত গণমাধ্যম (টেলিভিশন ও পত্রপত্রিকা) ও সামাজিক মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচার করা যেতে পারে৷ সেই সঙ্গে বাংলাদেশের একটি ‘নাম' ঠিক করতে হবে৷ যেমন মালয়েশিয়া বললে অনেকের কানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘ট্রুলি এশিয়া' কথাটি বেজে ওঠে৷ কারণ টিভিতে মালয়েশিয়ার পর্যটন বিষয়ক বিজ্ঞাপনের শেষে এই শব্দ দুটি ব্যবহৃত হয়েছে৷ অন্যান্য কয়েকটি দেশেরও এমন ‘নাম' আছে - যেমন ইনক্রেডিবল ইন্ডিয়া, রিফ্রেশিংলি শ্রীলঙ্কা, অ্যামেজিং থাইল্যান্ড ইত্যাদি৷ বাংলাদেশেরও এরকম নাম প্রয়োজন৷ টিভি বিজ্ঞাপন হিসেবে ‘বিউটিফুল বাংলাদেশ' এর মতো ভিডিও ব্যবহার করা যেতে পারে৷ নাম হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে বিউটিফুল বাংলাদেশ, ডিজিটাল বাংলাদেশ, স্টেবল বাংলাদেশ, ভাইব্রেন্ট বাংলাদেশ ইত্যাদি৷

ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে কোনো পর্যটক যখন বাংলাদেশ সম্পর্কে আগ্রহী হয়ে উঠবেন তখন তিনি আরও তথ্যের জন্য বিভিন্ন ওয়েবসাইট খোঁজা শুরু করবেন৷ ফলে মানসম্পন্ন, তথ্যসমৃদ্ধ ও পারলে ইন্টারঅ্যাকটিভ ওয়েবসাইটের ব্যবস্থা করতে হবে৷

উপরের ধাপগুলো পার হবার পর একজন পর্যটক যখন বাংলাদেশে পৌঁছবেন তখনই আসল কাজ শুরু হবে৷ কারণ তাঁকে এমন অভিজ্ঞতার স্বাদ দিতে হবে যেন তিনি বারবার (বাংলাদেশে) ভ্রমণের ইচ্ছা পোষণ করেন৷ শুধু তাই নয়, তিনি যেন বাংলাদেশ নিয়ে তাঁর সুখের অভিজ্ঞতা পরিচিতজনদের সঙ্গে শেয়ার করে তাঁদেরও বাংলাদেশ ভ্রমণের প্রতি উৎসাহী করে তোলেন৷

এ জন্য যা করতে হবে

একজন পর্যটককে পর্যটনবান্ধব পরিবেশ উপহার দিতে হবে৷ শুরুটা হতে হবে বিমানবন্দর দিয়ে৷ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিচারে ঢাকা বিমানবন্দরের বর্তমান যে অবস্থা তাতে একজন বিদেশি পর্যটক প্রথমেই বাংলাদেশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পেয়ে যাবেন৷ সুতরাং পর্যটনের উন্নতি করতে চাইলে বিমানবন্দর থেকেই শুরু করতে হবে৷

তারপর পর্যটক যেখানে যেতে চাইবেন সেখানে যেন সহজে ও নির্বিঘ্নে যেতে পারেন, তার ব্যবস্থা থাকতে হবে৷ যাওয়ার পথে সর্বত্রই তিনি যেন একটি সুন্দর বাংলাদেশের ছবি দেখতে পান সেটি নিশ্চিত করতে হবে৷ আর এজন্য নাগরিকদের পর্যটনবান্ধব হয়ে উঠতে হবে৷

এটি যে খুব কঠিন কাজ, তা নয়৷ শুধু একটু সচেতন হতে হবে আর জীবনযাপনের অভ্যাসে পরিবর্তন আনতে হবে৷ আপনি যেখানে বাস করছেন, সেই এলাকাটি যেন সুন্দর থাকে, তা দেখতে হবে৷ এজন্য আপনি যেমন ময়লা ফেলার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট স্থান খুঁজবেন, তেমনি অন্য কেউ যেন যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলে সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে৷

যাঁরা শিল্প কারখানার মালিক, তাঁদের খেয়াল রাখতে হবে যেন বর্জ্য পদার্থ সঠিক স্থানে গিয়ে পড়ে, নদী-নালা কিংবা পাশের জমিতে নয়৷ মোট কথা, সব নাগরিক যদি তার আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্যোগ নেন, তাহলে মুহূর্তেই পুরো বাংলাদেশ আরও সুন্দর হয়ে উঠবে৷ আর তাহলেই বিদেশি একজন পর্যটক ছবির মতো একটি দেশ দেখতে পাবেন, যা তাঁর মন ভরিয়ে দেবে৷

DW Bengali Mohammad Zahidul Haque (DW/Matthias Müller)

জাহিদুল হক, ডয়চে ভেলে

এছাড়া পর্যটন স্পটগুলোতে বিভিন্ন দেশের পর্যটকদের চাহিদার কথা বিবেচনায় নিয়ে খাবারসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে৷ ডয়চে ভেলের সঙ্গে কথা বলার সময় বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান ড. অপরূপ চৌধুরী পর্যটনের উন্নয়নে বেশ কিছু উদ্যোগের কথা বলেছেন৷ সেগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে৷

দেশি পর্যটক

বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে অন্যতমভূমিকা রাখছেন তরুণরা৷ তাঁদের মধ্যে ঘুরে বেড়ানোর অভ্যাস গড়ে উঠেছে৷ পর্যটনের নতুন ‘নতুন' স্পটও খুঁজে বের করছেন তাঁরা৷ সরকারের উচিত হবে, নতুন স্পটগুলোতে যেন তরুণদের পাশাপাশি সব বয়সের পর্যটকরাও যেতে পারেন, থাকতে পারেন, তার ব্যবস্থা করা৷

পর্যটন শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি সংগঠন ‘টুর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ (টোয়াব) এবং ‘অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্ট অব বাংলাদেশ’ (আটাব) এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ১৫ থেকে ২০ লাখ লোক প্রতিবছর দেশের বাইরে বেড়াতে যান৷ আর বর্তমানে দেশি পর্যটকের সংখ্যা ৮০ লাখ৷ অথচ দেশের ভেতরেই যদি পর্যটন স্পটগুলো আরো আকর্ষণীয় করে তোলা যায়, তাহলে দেশীয় পর্যটকের সংখ্যা আরো বাড়বে৷ মনে রাখতে হবে, পর্যটন খাতের বিকাশে বিদেশিদের পাশাপাশি দেশি পর্যটকের ভূমিকাকেও গুরুত্ব দিতে হবে৷ 

আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

Albanian Shqip

Amharic አማርኛ

Arabic العربية

Bengali বাংলা

Bosnian B/H/S

Bulgarian Български

Chinese (Simplified) 简

Chinese (Traditional) 繁

Croatian Hrvatski

Dari دری

English English

French Français

German Deutsch

Greek Ελληνικά

Hausa Hausa

Hindi हिन्दी

Indonesian Bahasa Indonesia

Kiswahili Kiswahili

Macedonian Македонски

Pashto پښتو

Persian فارسی

Polish Polski

Portuguese Português para África

Portuguese Português do Brasil

Romanian Română

Russian Русский

Serbian Српски/Srpski

Spanish Español

Turkish Türkçe

Ukrainian Українська

Urdu اردو