চলে গেলেন ‘পুনর্মিলনের চ্যান্সেলর’ হেলমুট কোল

আধুনিক জার্মানির ইতিহাসের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও প্রাক্তন চ্যান্সেলর হেলমুট কোল পরলোক গমন করেছেন৷ মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর৷

‘‘আমরা যদি সুযোগের সদ্ব্যবহার না করি, জার্মানি ও ইউরোপের ঐক্য হতে না দেই, জার্মান ইউরোপীয় এবং ইউরোপীয় জার্মান হওয়ার পথে না এগোই – তাহলে তা হবে এই ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে আমাদের চরম ব্যর্থতা৷’’

কথাগুলো হেলমুট কোল-এর৷ যে শান্তিপূর্ণ বিপ্লবের ঢেউ শুরু হয়েছিল সাবেক পূর্ব জার্মানির পথে-পথে, তা খরস্রোতে পরিণত হবার পর অভিজ্ঞ কাণ্ডারীর মতো হাল ধরেছিলেন এই মানুষটি, জার্মানির ‘পুনর্মিলনের চ্যান্সেলর’৷

বিস্ময়কর সব রাজনৈতিক অর্জন

১৯৯০ সালের ৩রা অক্টোবর হেলমুট কোল-এর রাজনৈতিক জীবন তার শিখরে পৌঁছায়, সফল হয় তাঁর সারা জীবনের স্বপ্ন৷ দুই জার্মানির পুনরেকত্রীকরণ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাফল্যের পেছনে বিশাল অবদান ছিল হেলমুট কোল-এর৷ কিন্তু অন্যদিকে খ্রিষ্টীয় গণতন্ত্রী দলের চাঁদা কেলেঙ্কারির কারণে সক্রিয় রাজনীতি থেকে তাঁর প্রস্থান সেই গৌরবের ওপর কিছুটা কালো ছায়া ফেলেছিল বৈকি৷ তারপরও আজকের ইউরোপ তথা জার্মানির রাজনীতিতে যেসব মৌলিক বিষয় নিয়ে বিতর্ক দেখা যাচ্ছে, তার প্রেক্ষাপটে কোল-এর মতো দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ও বিশাল মাপের নেতার অভাব বোধ করছেন অনেকেই৷

সমাজ-সংস্কৃতি

আর কেউ এতদিন চ্যান্সেলর থাকেননি

১৯৮২ সালের ১লা অক্টোবর হেলমুট কোল প্রথমবার চ্যান্সেলর হন৷ ১৬ বছর ধরে এই পদে অধিষ্টিত ছিলেন, অন্য যে কোনো চ্যান্সেলরের চেয়ে বেশি৷ তাঁর রাজনৈতিক জীবনের পরম মুহূর্ত ছিল বার্লিন প্রাকারের পতন এবং জার্মানির পুনর্মিলনে৷ ১৯৯৮ সালের নির্বাচনে তাঁর দল ব্যাপকভাবে হারার পর কোল সিডিইউ সভাপতি হিসেবে পদত্যাগ করেন - যে পদ তিনি ২৫ বছর ধরে অলঙ্কৃত করেছেন৷

সমাজ-সংস্কৃতি

আডেনাউয়ার-এর আমলে রাজনৈতিক উত্থান

১৯৪৭ সালে হেলমুট কোল সিডিইউ-তে যোগদান করেন৷ তিনি তাঁর জন্মের শহর লুডভিগসহাফেনে ‘যুব ইউনিয়ন’ প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করেছিলেন৷ ১৯৫০ সালে আইন পড়তে শুরু করেন, পরে তার সঙ্গে যোগ হয় ইতিহাস ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান৷ দলে খুব তাড়াতাড়ি পদোন্নতি ঘটে কোল-এর৷ ১৯৬৬ সাল থেকেই তিনি সিডিইউ দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য৷

সমাজ-সংস্কৃতি

তরুণ মুখ্যমন্ত্রী

১৯৬৬ সালে হেলমুট কোল রাইনল্যান্ড-প্যালেটিনেট রাজ্যে সিডিইউ দলের সভাপতি হন, এবং তার তিন বছর পরে, ১৯৬৯ সালের মে মাসে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী পেটার আল্টমায়ার-এর স্থলাভিষিক্ত হন৷ দু’বছর পরে আরেক সাফল্য: হেলমুট কোল-এর নেতৃত্বে সিডিইউ দল ১৯৭১ সালের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়৷

সমাজ-সংস্কৃতি

সুখি পরিবার

বিশেষ করে ছুটি কাটানোর ফটোগুলিতে হেলমুট কোল একটি সুখি পরিবারের ছবি তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন কিন্তু বাস্তবে তাঁর স্ত্রী হানেলোরে এবং দুই পুত্র ভাল্টার ও পেটার বাবা বাড়িতে না থেকে কাজে থাকায় কষ্ট পেয়েছেন৷ ভাল্টার কোল পরে সেই স্মৃতিচারণ করেন৷

সমাজ-সংস্কৃতি

পঁচিশ বছর ধরে সিডিইউ প্রধান

১৯৭৩ সালের জুন মাসে হেলমুট কোল খ্রিষ্টীয় গণতন্ত্রী দলের সভাপতি নির্বাচিত হন৷ ২৫ বছর ধরে তিনি এই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন৷ প্রথমবারের সেই নির্বাচন ছিল বন শহরে, একটি বিশেষ দলীয় সম্মেলনে৷ কোল-এর অভিব্যক্তিতে বিজয়োল্লাস৷

সমাজ-সংস্কৃতি

জীবন যেরকম

১৯৮২ সালে এসপিডি-এফডিপি সরকারি জোটে ভাঙণ ধরার পর মুক্ত গণতন্ত্রীরা ঝোঁকেন খ্রিষ্টীয় গণতন্ত্রীদের দিকে৷ তৎকালীন চ্যান্সেলর হেলমুট স্মিট-কে আস্থাভোটে পরাজিত করে উভয় দল হেলমুট কোল-কে নতুন সরকারপ্রধান নির্বাচিত করে৷ স্মিট স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে কোল-কে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন৷

সমাজ-সংস্কৃতি

অন্য এক পুনর্মিলন

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রঁসোয়া মিতেরঁ এবং জার্মান চ্যান্সেলর হেলমুট কোল পরমসখার মতো হাতে হাত ধরে? ছবিটি বিশ্বের সর্বত্র ছাপা হয়েছিল৷ সময়: ১৯৮৪ সাল৷ স্থান: ভ্যার্দঁ-তে জার্মান-ফরাসি মৈত্রী অনুষ্ঠান, যে অনুষ্ঠানে দুই নেতা পরস্পরের দিকে হাত বাড়িয়ে দেন৷

সমাজ-সংস্কৃতি

জার্মান পুনর্মিলন

১৯৮৯ সালে বার্লিন প্রাচীরের পতনের পর কোল বিভক্ত জার্মানির পুনর্মিলনের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যান৷ ১৯৯০ সালের ৩রা অক্টোবর সাবেক পূর্ব জার্মানি ফেডারাল জার্মান প্রজাতন্ত্রে যোগদান করে – কোল তাঁর রাজনৈতিক জীবনের তুঙ্গে পৌঁছন৷ বার্লিনে রাইশটাগ-এর সোপান থেকে হাত নাড়ছেন কোল ও তাঁর তৎকালীন স্ত্রী হানেলোরে৷

সমাজ-সংস্কৃতি

ম্যার্কেলের গুরুপ্রতিম

হেলমুট কোল ছাড়া বর্তমান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল জার্মান রাজনীতিতে এতোবড় ভূমিকা নিতে পারতেন কিনা, বলা শক্ত৷ নব্বইয়ের দশকে কোল সাবেক পূর্ব জার্মানির রাজনীতিকটিকে প্রথমে ফেডারাল পরিবার মন্ত্রক, পরে পরিবেশ মন্ত্রকের দায়িত্ব দেন৷

সমাজ-সংস্কৃতি

১৬ বছর চ্যান্সেলর থাকার পর বিদায়

১৯৯৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসের সংসদীয় নির্বাচনে সিডিইউ দলের পরাজয় ঘটে, আসে চ্যান্সেলর গেয়ারহার্ড শ্র্যোডার-এর লাল-সবুজ সরকার৷ প্রথা অনুযায়ী সামরিক প্যারেড সহ বিদায় দেওয়া হয় হেলমুট কোল-কে৷

সমাজ-সংস্কৃতি

স্ত্রীবিয়োগ

২০০১ সালে আত্মহত্যা করেন হেলমুট কোল-এর ৪১ বছরের সহধর্মিনী হানেলোরে কোল৷ একটি দুরারোগ্য ব্যাধির কারণে তিনি সূর্যালোক সহ্য করতে পারতেন না৷

সমাজ-সংস্কৃতি

নবজীবন

হানেলোরোর মৃত্যুর চার বছর পরে হেলমুট কোল তাঁর চেয়ে ৩৪ বছর কম বয়সের মাইকে রিশটার-কে বিবাহ করেন৷

শীতল যুদ্ধের অবসান থেকে শুরু করে জার্মানি তথা ইউরোপীয় ঐক্যের ইতিহাস আজ আমাদের সবার জানা৷ কিন্তু প্রায় দু’দশক আগের সেই যুগান্তকারী ঘটনা এত দ্রুত ঘটেছিল যে, সেদিনের নেতাদের প্রতিটি সিদ্ধান্তের ওপর এই যুগান্তকারী প্রক্রিয়ার সাফল্য বা ব্যর্থতা নির্ভর করছিল৷ দলীয় রাজনীতি, ভোট ব্যাংক, নিজস্ব রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ – এ সবের ঊর্ধ্বে উঠে সঠিক ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বুঝে ওঠাই ছিল প্রধান চ্যালেঞ্জ৷ হেলমুট কোল সেদিন সেই অসাধ্য সাধন করতে পেরেছিলেন৷ অথচ তাঁর মতো মানুষের কাছে এমন প্রত্যাশা কেউ করেনি৷ নিজস্ব ক্ষমতার বিষয়ে তিনি এতটাই সচেতন ছিলেন যে, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সেই ক্ষমতাকেন্দ্রকে অটুট রাখতে যে কোনো মূল্য দিতে প্রস্তুত ছিলেন৷ 

পুনরএকত্রিত জার্মানি | 03.03.2014

জার্মান ও ইউরোপীয় ঐক্যের প্রতি অগাধ বিশ্বাস ছিল কোল-এর৷ ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যে বিশেষ সম্পর্ক আরও জোরদার করা থেকে শুরু করে অভিন্ন মুদ্রা ‘ইউরো’ চালু করার প্রক্রিয়া – প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি সর্বশক্তি প্রয়োগ করে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন৷

মানুষ হেলমুট কোল

মানুষ হিসেবেও কোল-এর এই দৃঢ় চিত্ত নানাভাবে সবার নজর কেড়েছে৷ তবে শেষ পর্যন্ত সেই অনড় অবস্থানের কারণেই তাঁকে সক্রিয় রাজনীতি থেকে বিদায় নিতে হয়৷ দলের বে-আইনি গোপন তহবিলে কারা চাঁদা দিয়েছে, সেই প্রশ্নের জবাব দিতে তিনি অস্বীকার করেছিলেন৷ তাঁদের পরিচয় গোপন রাখার প্রতিশ্রুতি তাঁর কাছে সেদিন অনেক বেশি জরুরি ছিল৷

হেলমুট কোল-এর জন্ম ৩রা এপ্রিল ১৯৩০, জার্মানির লুডভিগ্সহাফেনে, একটি রোমান ক্যাথলিক পরিবারে৷ বাবা হান্স কোল আর মা সেসিলি-র তৃতীয় সন্তান ছিলেন তিনি৷ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তাঁর বড়ভাই যুদ্ধক্ষেত্রে মৃত্যুবরণ করলেও, কোল-কে কোনো যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করতে হয়নি৷ 

সমাজ-সংস্কৃতি

বিশ্বের ইতিহাস বদলে দেয়া আন্দোলন

২৫ বছর আগে পূর্ব জার্মানির লাইপশিস শহরে শান্তিপূর্ণ মিছিলের মধ্য দিয়ে এক আন্দোলন শুরু হয়েছিল, যে মিছিলে অংশ নিয়েছিলো ৭০,০০০ মানুষ৷ সেই মিছিলের ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছিল অন্যান্য শহরেও৷ ভেঙে গিয়েছিল বার্লিন প্রাচীর৷ বিশ্বের ইতিহাসে জন্ম নিয়েছিল এক নতুন ইতিহাস৷

সমাজ-সংস্কৃতি

‘চেক পয়েন্ট চার্লি’

বার্লিন প্রাচীর ঘেঁষে ছিল এই সীমান্ত পাহারা কেন্দ্রটি, যেটা চেক পয়েন্ট চার্লি নামেই পরিচিত ছিল৷ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মিত্র বাহিনীর সেনা এবং কূটনীতিকরা যাতায়াত করতেন এই রাস্তা দিয়ে৷ রাস্তাটি ছিলো ১৯৬১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত৷ বর্তমানে এই ঐতিহাসিক জায়গায় একটি মিউজিয়াম তৈরি করা হয়েছে৷

সমাজ-সংস্কৃতি

এখন তাঁরা সবাই এক জনগোষ্ঠী

যে প্রাচীর টপকাতে গেলেই মৃত্যুর ভয় ছিলো সে প্রাচীর খুলে দেওয়ার ৪৮ ঘণ্টা পরই সমস্ত ভয় কেটে যায় জার্মান জনগণের৷ প্রাচীরের সামনে পেছনে, ওপরে, সব জায়গায়ই যেন আনন্দের বন্যা বইছিল৷ এখন পূর্ব আর পশ্চিমের মানুষ বলে কিছু নেই, এখন তাঁরা সবাই এক জনগোষ্ঠী৷

সমাজ-সংস্কৃতি

সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ

নভেম্বর মাসের প্রথম দিকে প্রতিবাদ আন্দোলন পোঁছে পূর্ব জার্মানির রাজধানী পূর্ব বার্লিনে৷ হাজার হাজার মানুষ সংস্কার ও সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে৷ তবে তাঁদের লক্ষ্য ছিলো, এসময় যেন কোনো হিংসাত্মক ঘটনা না ঘটে৷ এটা ছিলো পূর্ব জার্মানি ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ৷

সমাজ-সংস্কৃতি

বিরোধীরা আরো সক্রিয় হয়

পূর্ব বার্লিনের আলেকজান্ডার প্লাৎসে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভটি সরাসরি টিভিতে সম্প্রচার করা হয়৷ বিক্ষোভকারীরা ভ্রমণ ও সমাবেশ অনুষ্ঠানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি জানায় সেখানে৷

সমাজ-সংস্কৃতি

স্বপ্ন যখন সত্য হয়

১৯৮৯ সালের ৯ নভেম্বর রাতে অনেক স্মরণীয় ঘটনা ঘটে৷ মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পূর্ব জার্মানির শত শত নাগরিক হেঁটে, সাইকেলে এবং ট্রামান গাড়িতে করে পশ্চিম বার্লিনে প্রবেশ করে৷ সেদিন চেক পয়েন্ট চার্লি বা সীমান্ত পাহাড়া কেন্দ্রে মানুষ আনন্দ উল্লাসে মেতে ওঠে, ঠিক যেন কোলনের কার্নিভালের মতো৷

সমাজ-সংস্কৃতি

বার্লিন প্রাচীরের আসল টুকরো

ইতিহাসকে স্মরণীয় করে রাখতে রাজনীতিকদের লক্ষ্য ছিলো ১৯৬১ সালে বার্লিন প্রাচীর তৈরির সময়কার কিছু ইটের নমুনা যেন বন শহরের ইতিহাস বিষয়ক মিউজিয়ামে স্থান পায়৷ আজ সেই স্মৃতিচিহ্ন মিউজিয়াম দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কেড়ে নেয়৷

সমাজ-সংস্কৃতি

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা

১৯৮৯ সালের ৯ নভেম্বরের রাতে ডয়চে ভেলের বিভিন্ন ভাষা বিভাগের কর্মীরা সরাসরি সম্প্রচার করার জন্য ‘ভ্রাম্যমাণ ট্রান্সমিটার’ নিয়ে উপস্থিত ছিলেন ডুডারস্টাট শহরের সীমান্তে৷ সে দলের সঙ্গী হয়ে ছিলাম আমিও৷ পূর্বের মানুষেরা এত বছর পর কীভাবে মিলিত হচ্ছেন পশ্চিমের মানুষদের সঙ্গে সেটা দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল আমার৷ সবার চোখে ছিল জল আর ঠোঁটে হাসি৷ স্বচক্ষে দেখা এ ঘটনা কোনোদিনই ভোলার নয়!

সমাজ-সংস্কৃতি

কলকাতায় উদযাপন

বার্লিনের প্রাচীর পতনের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে জার্মান কনসুলেটের উদ্যোগে কলকাতায় নানা অনুষ্ঠান হচ্ছে৷ এর মধ্যে আন্তর্জাতিক গ্রাফিতি ও হিপ হপ কর্মশালা উল্লেখযোগ্য৷ ছবির এই দেয়ালচিত্রটি কলকাতা থেকেই পাঠানো৷

সমাজ-সংস্কৃতি

কূটনীতিকদের বাগানে রিফিউজি ক্যাম্প

১৯৮৯ সালের গ্রীষ্মে সাবেক পূর্ব জার্মানির জনগণের কাছে এই জায়গাটি খুবই জনপ্রিয় ছিলো৷

প্রথমে রুপরেশট এলিমেন্টারি স্কুল, তারপর মাক্স-প্লাঙ্ক-গিমনাসিয়ুমে স্কুলের পাঠ৷ পরে হেসে রাজ্যের ফ্রাংকফুর্ট শহরে আইন নিয়ে এবং হাইডেলব্যার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেন হেলমুট কোল৷ অবশ্য পড়াশোনার সঙ্গে সঙ্গেই চলে রাজনীতি৷ ১৯৪৬ সেলে সদ্য প্রতিষ্ঠিত খ্রিষ্টীয় গণতন্ত্রী ইউনিয়নে যোগ দেন৷ একটা সময় সেই সিডিইউ দলেরই প্রধান পদে অধিষ্ঠিত হন কোল, সভাপতিত্ব করেন দীর্ঘ ২৫ বছর৷ আর জার্মানির চ্যান্সেলর পদ অলঙ্কৃত করেন একটানা ১৬ বছর৷ অবিশ্বাস্য অধ্যবসায়, নিজের অভিমত আরোপ করার ক্ষমতা, রাজনৈতিক ক্ষমতা পাবার উদগ্র বাসনা – তবে সেটা গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে৷

এ সবের জন্যই হয়ত চারবার চ্যান্সেলার নির্বাচিত হন কোল৷ তাই পাঁচ বছর আগে যেদিন আশি বছরে পা দিয়েছিলেন তিনি, সেদিনও হুইলচেয়ারে বসে শত শারীরিক কষ্ট সত্ত্বেও না-কাঁপা গলায় বলেছিলেন – ‘আমি যখন আশিতে পৌঁছে আমার জীবনের হালখাতা লেখার চেষ্টা করি, তখন শুধু এটুকু বলতে পারি: আমি এই জীবনের জন্য গর্বিত এবং কৃতজ্ঞ৷’’

বলা বাহুল্য, জার্মানির ইতিহাসে চিরকাল অমর হয়ে থাকবেন হেলমুট কোল৷ 

সংশ্লিষ্ট বিষয়