1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

চাকরি এবং বিয়ের নামে পতিতাবৃত্তি

২৬ আগস্ট ২০১০

সম্প্রতি বন শহরের পুলিশ কর্তৃপক্ষ বেশ কিছু নারী পাচারকারীদের ধরতে সক্ষম হয়েছে৷ উদ্ধার করা হয়েছে বুলগেরিয়ার বেশ কিছু তরুণীকে৷ এসব তরুণীকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে এবং পরে পতিতা হিসেবে কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছে৷

https://p.dw.com/p/Owoq
রাস্তার ধারে এভাবেই অপেক্ষা করে যৌনকর্মীরাছবি: picture-alliance / ZB

এ ধরণের ঘটনা কিন্তু এই প্রথম নয়৷ বুলগেরিয়া থেকে মিথ্যে স্বপ্ন দেখিয়ে বেশ কিছু মেয়েকে নিয়ে আসা হয়েছিল জার্মানিতে৷ বলা হয়েছিল, তাদের জন্য অপেক্ষা করে আছে জার্মান কিছু তরুণ৷ কিছু মেয়েকে বলা হয়েছিল, চাকরির সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে জার্মানিতে৷ মেয়েগুলো বিশ্বাস করেছিল৷ পা রেখেছিল এই ফাঁদে৷ দারিদ্র্যের তাড়নায় এসব মেয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল৷

কিন্তু বাস্তব চিত্র এই মেয়েগুলোর কাছে ধরা পড়েছিল ভিন্নভাবে৷ বিয়ে বা চাকরি – কোনোটাই তাদের হয় নি৷ প্রতিদিন তাদের ওপর চালানো হত অমানবিক নির্যাতন৷ বনে নারী পাচারকারীদের কাজই ছিল পূর্ব ইউরোপ থেকে অল্পবয়স্ক মেয়েদের ধরে আনা, নির্যাতন করা এবং পতিতা হিসেবে কাজে লাগানো৷ পুলিশ কমিশনর রাইনার বেল জানালেন, কীভাবে মেয়েদের আটকে রাখা হয়েছিল৷

Sextourimus Prostitution Thailand
এখানেই আসে খদ্দেররাছবি: picture alliance/ dpa

রাইনার বেল জানান, ‘‘যেসব জায়গায় মেয়েদের রাখা হয়েছিল, সেগুলো ছিল পুরনো বাড়ি বা পুরোনো হোটেল৷ একেকটি ঘরে বেশ কয়েকজন মেয়েকে আটকে রাখা হয়েছিল৷ সবাইকে একটি ঘরে থাকতে হয়েছে – সেটা খুবই অস্বাস্থ্যকর একটি পরিবেশ৷ সেসব মেয়েকে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে – কখনো কোলনে, কখনো বন শহরে৷ শুধু ঘুমানোর জন্য তারা বাড়িতে বা হোটেলে ফিরে আসে৷ দিনের পর দিন এভাবেই চলতো৷''

২০০৯ সালে মানুষ পাচারকারীর ওপর একটি জরিপ প্রকাশিত হয়েছে৷ তাতে উল্লেখ করা হয়, জোর করে পতিতাবৃত্তিতে নিয়োগ করা হয়েছে – এমন ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত এবং এসব তদন্তের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১১ শতাংশ৷ প্রায় ৫৩৪টি বিভিন্ন ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে৷ তবে তদন্তের আড়ালে রয়ে গেছে বেশির ভাগ ঘটনাই৷ সেগুলোর খবরও কেউ জানে না৷

বন-কোলনের যৌন পল্লী

বন শহরের পুলিশ কর্তৃপক্ষ বেশ কয়েক বছর ধরেই বন ও কোলনে এই ধরণের কার্যকলাপের উপর নজর রাখছিল৷ কোনো স্থায়ী যৌনপল্লিতে নয় – অনেক নির্জন রাস্তার ধারে বড় গাড়ির মধ্যেই চলে এমন কার্যকলাপ৷ এর ফলেই তারা ধরতে পেরেছে পাচারকারীদের৷ তারা বুলগেরিয়ার নাগরিক৷ তাদের হাত থেকে ১০ থেকে ১৫ জন যৌন কর্মীকে উদ্ধার করা হয়৷ তাদের মধ্যে একজনের বয়স মাত্র ১৭৷

Bordell in Frankfurt am Main
যৌনকর্মীরা এভাবেই দৃষ্টি আকর্ষণ করে পথচারীদেরছবি: picture alliance/dpa

ঐ জরিপে আরো বলা হয়, যারা এসব কাজের সঙ্গে জড়িত, তারা এবং যাদের ধরে আনা হয় – তারা বুলগেরিয়া এবং রোমানিয়ার নাগরিক৷ দারিদ্র্যের হাত থেকে মুক্তি পেতে এই মেয়েগুলো দেশ ছেড়েছে৷ কথাগুলো জানান রাইনার বেল৷ যে লোকটি মেয়েদের মিথ্যে কথা বলে নিয়ে এসেছে, সে নিজেই গ্রামে গ্রামে যেয়ে মেয়েদের বাছাই করে৷ এভাবেই সে ধরে এনেছিল বুলগেরিয়ার ইভা জাহারিয়েভাকে৷ ইভার বয়স ২৬৷ সৌভাগ্যবশত তাকে আর পতিতা হয়ে কাজ করতে হবে না৷ তাকে উদ্ধার করা হয়েছে৷ সে ফিরে যেতে পারবে তাঁর গ্রামে, স্লিভেনে৷

ইভার ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা

ইভা বললেন তাঁর ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা,‘‘ বুলগেরিয়ার অসহায়, দরিদ্র মেয়ে খুঁজে বের করা খুব সহজ৷ আমার বাবা-মা কখনোই আমার দিকে নজর দেয়নি৷ আমার বয়স যখন মাত্র ৮, তখন আমার মা সব সময়ই আমাকে একা ফেলে রেখে যেত৷ অথবা আমাকে বাবার কাছে রেখে যেত৷ আমার বাবা সারাক্ষণই মদ খেয়ে চুর হয়ে থাকতো আর আমাকে মারতো৷ আমার বয়স যখন ১৫ তখন আমি একটি ডিস্কো বারে কাজ শুরু করি৷ একদিন ভোরে আমি কাজ শেষে ট্যাক্সির জন্য অপেক্ষা করছিলাম৷ তখন একটি লোক আমার দিকে এগিয়ে আসে৷ সে কোনো কথা না বলেই সোজা একটি চড় কষে দেয়৷ আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমাকে জোর করে গাড়িতে তোলা হয়৷ আমাকে নিয়ে যাওয়া হয় জঙ্গলে৷ বলা হয়, নেদারল্যান্ডসে আমাকে পতিতা হিসেবে কাজ করতে হবে৷ আমি যতবারই চিৎকার করে এই কাজ করতে অস্বীকার করছিলাম ততবারই লোকটি আমাকে মারছিল৷''

Symbolbild Prostitution Bordell
বার্লিনের একজন যৌনকর্মীছবি: picture alliance/dpa

ইভার মত আরো অনেক মেয়েকে পুলিশ উদ্ধার করেছে৷ তাদের কারো কাছেই পাসপোর্ট নেই৷ তাদের ভাগ্যে ভবিষ্যতে আর কী লেখা রয়েছে কেউ-ই জানে না৷ সবাই ভয় পাচ্ছে দেশে ফিরে যেতে৷ কারণ পতিতাবৃত্তির সঙ্গে জড়িত এমন লোকের অভাব নেই দেশে৷

প্রতিবেদন: মারিনা জোয়ারদার

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য