আলাপ

চামড়া শিল্প: রপ্তানি আয়ে নতুন সম্ভাবনা

বাংলাদেশে চামড়া শিল্পের ব্যাপক সম্ভাবনার কথা বলছেন বিশ্লেষকরা৷ বিশ্ববাজারে চামড়ার পাশাপাশি বাংলাদেশে তৈরি চামড়াজাত পণ্যের চাহিদা বাড়ছে৷ এছাড়া বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের চামড়াজাত পণ্য তৈরির প্রতিষ্ঠানও গড়ে উঠেছে৷

ট্যানারিতে কাজ করছেন চর্মশিল্পের শ্রমিকরা

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ১ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলারের চামড়া এবং চামড়াজাত পণ্য রপ্তনি করা হয়েছে৷ আগের অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ১ দশমিক ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য৷ তাছাডা় এখন তৈরি পোশাকের পরই বৈদেশিক মূদ্রা অর্জনে চামড়া শিল্পের অবস্থান৷

বাংলাদেশ থেকে পাকা চামড়ার পাশাপাশি এখন জুতা, ট্রাভেল ব্যাগ, বেল্ট, ওয়ালেট বা মানিব্যাগ বিদেশে রপ্তানি হয়৷ এছাড়াও চামড়ার তৈরি নানা ‘ফ্যান্সি' পণ্যেরও চাহিদা রয়েছে৷ বাংলাদেশে প্রচুর হস্তশিল্প প্রতিষ্ঠান আছে, যারা এ সব পণ্য তৈরি করে বিশ্বের বাজারে পাঠাচ্ছে৷

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের চামড়া এবং চামড়াজাত পণ্য রপ্তনি হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় শতকরা ৭ দশমিক ২৮ ভাগ বেশি৷

বাংলাদেশের চামড়া এবং চামড়াজাত পণ্যের বড় বাজার হলো ইটালি, যুক্তরাজ্য, স্পেন, ফ্রান্স, জার্মানি, পোল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র এবং ক্যানাডা৷ এর বাইরে জাপান, ভারত, নেপাল ও অস্ট্রেলিয়াতেও বাজার গড়ে উঠছে সাম্প্রতিক সময়ে৷

তবে বিশ্বে বাংলাদেশি পণ্যের সবচেয়ে বড় ক্রেতা জাপান৷ মোট রপ্তানি পণ্যের ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ তাই যায় জাপানের বাজারেই৷ এর অন্যতম কারণ, বাংলাদেশি চামড়ার জুতার ক্ষেত্রে শুরু থেকেই জাপান ‘ডিউটি ফ্রি' ও ‘কোটা ফ্রি' সুবিধা দিয়ে আসছে৷

বিশ্বে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের বাজার এখন ২১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের৷ বাংলাদেশ বিশ্ব বাজারের শতকরা ০.৫ ভাগ রপ্তানি করে৷ তবে এটা আরো বাড়াতে চায় বাংলাদেশ৷ ২০১৭ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ চামড়া এবং চামড়াজাত পণ্য থেকে রপ্তানি আয় ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করতে চায়৷

চীনের চামড়া শিল্প নিয়ে এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১২-১৩ সালে চীনে চামড়ার তৈরি জুতা শিল্পের উৎপাদন ৫ দশমিক ২৯ শতাংশ থেকে ৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ কমেছে৷ তাই বিশ্বে চীনের ছেড়ে দেওয়া জুতার বাজারের অংশটি ধরতে চাইছেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা৷ এক্ষেত্রেও বাংলাদেশের সুবিধা সস্তা শ্রম এবং নিজস্ব চামড়া৷ তাছাড়া সরাসরি কাঁচা চামড়া রপ্তানি বন্ধ করে দেয়ায় চামড়াজাত পণ্যের উৎপাদনও বাড়ছে৷

বাংলাদেশে প্রতিবছর ১ কোটি ৬৫ লাখ ‘পিস' কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করা হয়৷ এর মধ্যে ছাগলের চামড়া ১ কোটি, গরু ৫০ লাখ, ভেড়া ও মহিষ মিলে ১৫ লাখ পিস৷ অর্থাৎ সব মিলিয়ে প্রায় ২২ কোটি বর্গফুট চামড়া পাওয়া যায়৷ আর এই চামড়ার প্রায় অর্ধেকই পাওয়া যায় কোরবানির ঈদের সময়৷

১৯৯০ সাল পর্যন্ত কাঁচা চামড়া বা ‘ওয়েট-ব্লু লেদার' এবং প্রক্রিয়াজাত চামড়া বা ‘ক্রাস্ট লেদার' রপ্তানি করে আসলেও, এখন বেশি রপ্তানি হয় ‘ফিনিশড লেদার'৷ বাংলাদেশে প্রতিবছর গড়ে ২০০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন বর্গফুট ফিনিশড লেদার উৎপাদন হয়, যার বেশির ভাগটাই রপ্তানি করা হয়৷ ২০১৪ সালে যেখানে ২৮০ মিলিয়ন বর্গফুট ফিনিশড লেদার উৎপাদিত হয়েছে, সেখানে রপ্তানি হয়েছে ২৬০ মিলিয়ন বর্গফুট৷

ট্যানারি ছাড়াও বাংলাদেশে ১১০টি জুতাসহ চামড়াজাত পণ্য উৎপাদনের শিল্প কারখানা আছে৷ চামড়া প্রক্রিয়াজাত করার জন্য আছে ২০৭টি শিল্প-কারখানা৷ সঠিক কোনো পরিসংখ্যান না থাকলেও প্রতিবছর ২০০ থেকে ২৫০ মিলিয়ন জোড়া জুতা তৈরি হয় বাংলাদেশে৷ বলা বাহুল্য, অভ্যন্তরীণ চাহিদার শকতরা ৫০ ভাগই মেটানো হয় দেশের তৈরি জুতা দিয়ে৷

বাংলাদেশের জুতা তৈরি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে আছে ‘অ্যাপেক্স'৷ গাজীপুরে অ্যাপেক্স-এর নিজস্ব কারখানায় প্রতিদিন ২০ হাজার জোড়া জুতা তৈরি হয়৷ দেশীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি টিম্বারল্যান্ড, এলডো ও এবিসি মার্টের মতো বিশ্বখ্যাত কোম্পানির জন্যও জুতা তৈরি করে অ্যাপেক্স৷

বাংলাদেশ ট্যানার্স এসোসিয়েশন-এর সভাপতি শাহীন আহমেদ ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘আমাদের প্রধান সুবিধা হচ্ছে, চামড়া আমরা অভ্যন্তরীণ উৎস থেকেই পাই৷ তার ওপর এখানে শ্রমিকের মজুরিও কম৷ ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে আমরা তুলনামূলকভাবে কম দামে চামড়া এবং চামড়াজাত পণ্য দিতে পারি৷''

তিনি বলেন, ‘‘আমরা মান নিশ্চিত করি৷ যারা বাইরের বাজারের ক্রেতা, তাদের চাহিদা অনুযায়ী আমরা পণ্য তৈরি করি৷ তারা যে মানের পণ্য চান আমরা সেই মান নিশ্চিত করি৷ বায়াররা উপস্থিত থেকেই মান পরীক্ষা করেন৷''

অডিও শুনুন 04:33

‘হাজারিবাগ থেকে চামড়া শিল্প সরিয়ে নিতে সরকারের সহযোগিতা দরকার’

শাহীন আহমেদের কথায়, ‘‘আমরা প্রধানত এশিয়া এবং ইউরোপের বাজারেই রপ্তানি করি৷ অ্যামেরিকার বাজার এখনো আমাদের বাইরে রয়েছে৷ তবে ভবিষ্যতে সেখানেও আমরা রপ্তানির চেষ্টা করছি৷''

তবে বাংলাদেশের চামড়া শিল্প নিয়ে বড় অভিযোগ হলো, এটা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এবং এখানে অবাধ শিশুশ্রম দেখা যায়৷ শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের চর্মশ্রমিকদের অত্যন্ত ঝঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে হয়৷ ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ হাজারিবাগ এলাকাতেই প্রায় ৯০ ভাগ চামড়া শিল্প রয়েছে৷ এখানকার শিল্প-কারখানাগুলো বছরের পর বছর মাটি, পানি, বাতাস বিষাক্ত করছে৷ ঢাকার অদূরে সভারে চামড়া শিল্পের জন্য আলাদা শিল্প এলাকা তৈরি করা হলেও, সেখানে যেতে আগ্রহ নেই অধিকাংশ শিল্প মালিকদের৷

কিন্তু কেন? জবাবে শাহীন আহমেদ জানান, ‘‘আমরা হাজারিবাগ থেকে চামড়া শিল্প সরিয়ে নিতে চাই৷ এ জন্য সরকারের সহযোগিতা দরকার৷ সরিয়ে নিতে আমাদের ৫ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে৷ তাই আমরা চাই সরকার আমাদের এ জন্য স্বল্প সুদে ব্যাংকঋণের ব্যবস্থা করুক৷ কারণ ব্যাংকের শতকরা ১২ ভাগ সুদ দিয়ে আমাদের পক্ষে ঋণ নেয়া কঠিন৷''

তিনি আরো বলেন, ‘‘চড়া সুদে ঋণ নিয়ে যদি আমরা চামড়া শিল্প স্থানান্তর করি, তাহলে আমাদের এই সম্ভাবনাময় শিল্পটি ক্ষতিগ্রস্ত হবে৷''

হাজারিবাগ থেকে ট্যানারি চড়া সুদে স্থানান্তরিত করলে সত্যিই কি চামড়া শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে? লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

Albanian Shqip

Amharic አማርኛ

Arabic العربية

Bengali বাংলা

Bosnian B/H/S

Bulgarian Български

Chinese (Simplified) 简

Chinese (Traditional) 繁

Croatian Hrvatski

Dari دری

English English

French Français

German Deutsch

Greek Ελληνικά

Hausa Hausa

Hindi हिन्दी

Indonesian Bahasa Indonesia

Kiswahili Kiswahili

Macedonian Македонски

Pashto پښتو

Persian فارسی

Polish Polski

Portuguese Português para África

Portuguese Português do Brasil

Romanian Română

Russian Русский

Serbian Српски/Srpski

Spanish Español

Turkish Türkçe

Ukrainian Українська

Urdu اردو