আলাপ

চা করে চাকর, পান করেন সাহেব

চা এমন একটি পানীয়, ইউরোপীয়রা গোড়া থেকেই যার ভক্ত৷ যে কারণে চা-বাগান আসামেই হোক আর সিলেটেই হোক, চা ব্যবসায় ব্রিটিশ কোম্পানি আর ব্রিটিশ ব্র্যান্ডগুলি আজও ‘সব মাথা ছাড়িয়ে'৷

পশ্চিমবঙ্গের একটি চা বাগান

খ্রিষ্টজন্মের প্রায় ২,৭০০ বছর আগে চা আবিষ্কৃত হয়, অর্থাৎ মানুষ চা খেতে শেখে৷ কোন না কম সাড়ে চার হাজার বছর ধরে চা খাচ্ছে মানবজাতি৷ কিন্তু ভারতের ইতিহাসে ভাস্কো ডা গামার আগমন যা, অ্যামেরিকার ইতিহাসে কলম্বাসের আগমন যা, চায়ের ইতিহাসে ১৬১০ সালটা সেইরকম; সে বছর ওলন্দাজরা চা নিয়ে আসে ইউরোপে, শুরু হয় এই চা-বিহীন মহাদেশে চায়ের জয়যাত্রা৷

চায়ের ইতিহাসে সেরকম আরেকটা বছর ছিল ১৯০৮, যখন প্রথম টি-ব্যাগ আবিষ্কৃত হয়, এবার কিন্তু মার্কিন মুলুকে৷ নিউ ইয়র্কের এক চা ব্যবসায়ী, নাম থমাস সালিভান, তাঁর গ্রাহকদের ছোট ছোট সিল্কের ব্যাগে করে চা-এর নমুনা পাঠাচ্ছিলেন৷ ততদিনে ইনফিউসন-এর দিন শুরু হয়ে গেছে: গ্রাহকরা ভাবেন, এ-ও বোধহয় সেরকম কিছু হবে; সিল্কের ব্যাগ সুদ্ধু চা পাতা গরম জলে দিয়ে ফেলেন৷ অপরদিকে সালিভানকে লেখেন, ব্যাগের বুনোটটা বড় আঁট৷ কাজেই সালিভান সিল্কের বদলে মেডিক্যাল গজ দিয়ে নতুন স্যাচেট তৈরি করে চায়ের নমুনা পাঠাতে শুরু করেন৷ শুরু হয় টি-ব্যাগের জয়যাত্রা৷

মজার কথা, ব্রিটেনে ঠিকমতো টি-ব্যাগের চল শুরু হয় কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর, ১৯৫৩ সালে৷ টেটলে কোম্পানি ফ্যাশনটা চালু করে, পরে অন্য কোম্পানিরা তা-তে যোগ দেয়৷ তার ফল: ষাটের দশকের গোড়ায় ব্রিটেনের চায়ের বাজারে টি-ব্যাগের ভাগ ছিল মাত্র তিন শতাংশ; ২০০৭ সালে তা হয়ে দাঁড়িয়েছে ৯৬ শতাংশ! বাজার মাত করা আর কা-কে বলে৷

টি-ব্যাগের কথা তুললাম, কেননা টি-ব্যাগের পিছনে চা শিল্প ও ব্যবসায়ের কতগুলি রহস্য লুকিয়ে আছে৷ চা পাতার কোয়ালিটি অনুযায়ী তার গ্রেড – এবং দাম – নির্ধারিত হয়৷ গোটা পাতা থেকে চায়ের গুঁড়ো; অরেঞ্জ পিকো, ব্রোকেন অরেঞ্জ পিকো থেকে ফ্যানিংস হয়ে ডাস্ট, অর্থাৎ গুঁড়ো চা৷ টি-ব্যাগে ঢোকে প্রধানত সেই সস্তার গুঁড়ো চায়ের ব্লেন্ড, যা মেশানোর জন্য বিশাল মাইনের টি-টেস্টাররা বসে আছেন৷

টি-ব্যাগ দুনিয়া জয় করার মানে সবচেয়ে নিকৃষ্ট মানের চা দুনিয়া জয় করেছে৷ পশ্চিমে টি-ব্যাগের ব্যবহার এখন সর্বত্র; সময়ের অভাবে ইউরোপ-অ্যামেরিকায় টি-ব্যাগ আজ লাইফস্টাইলও বটে৷ ওদিকে উপমহাদেশের মানুষরাও গুঁড়ো চা পছন্দ করেন, তা-তে কড়া লিকার হয় বলে৷ ফলে রুচি ও রেস্ত-সম্পন্নদের পছন্দসই লিফ টি এখন আর চায়ের নীলামে স্পটলাইট জুড়ে থাকে না৷

অরুণ শঙ্কর চৌধুরীর ছবি

অরুণ শঙ্কর চৌধুরী, ডয়চে ভেলে

হয়ত সে কারণেই কলকাতার নীলামে চা-পাতার দাম ২০১৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৬ সালের মার্চ, এই ছ'মাসে কিলো প্রতি চার-পাঁচ টাকা বাড়াতেই ভারতে আনন্দের ধুম পড়ে যায়৷ অথচ ইংল্যান্ডে ৮০টি টি-ব্যাগ – যা-তে ২৫০ গ্রাম চা থাকে – তার দাম ১৯৯৯ সালে ছিল এক পাউন্ড ৮৯ পেন্স; তা ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক পাউন্ড ৯৭ পেন্সে – অর্থাৎ নামমাত্র বেড়েছে৷ যদিও ব্রিটেনের মানুষ দিনে প্রায় সাড়ে ১৬ কোটি কাপ করে চা খেয়ে থাকেন৷

২০১৪-১৫ সালে ভারতে এক কিলো চা-পাতার দাম ছিল ১২৫ টাকার কিছু বেশি৷

সেই সময় ব্রিটেনের পিজি টিপস টি-ব্যাগের চা-পাতা কিলো হিসেবে বিক্রি করলে তার দাম হতো কিলো প্রতি ৭৪৪ টাকা – যদিও তা সস্তার গুঁড়ো চা৷

কথায় বলে না? চায়ের আমি, চায়ের তুমি, দাম দিয়ে যায় চেনা...

তাই কি? জানান আপনার মন্তব্য, নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

Albanian Shqip

Amharic አማርኛ

Arabic العربية

Bengali বাংলা

Bosnian B/H/S

Bulgarian Български

Chinese (Simplified) 简

Chinese (Traditional) 繁

Croatian Hrvatski

Dari دری

English English

French Français

German Deutsch

Greek Ελληνικά

Hausa Hausa

Hindi हिन्दी

Indonesian Bahasa Indonesia

Kiswahili Kiswahili

Macedonian Македонски

Pashto پښتو

Persian فارسی

Polish Polski

Portuguese Português para África

Portuguese Português do Brasil

Romanian Română

Russian Русский

Serbian Српски/Srpski

Spanish Español

Turkish Türkçe

Ukrainian Українська

Urdu اردو