জঙ্গিদের ছবি প্রকাশ বিতর্ক

তর্ক বা বিতর্ক জঙ্গিদের ছবি প্রকাশ করা, না করা নিয়ে৷ ফ্রান্সের একটি পত্রিকা সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছে, তারা জঙ্গিদের ছবি প্রকাশ করবে না৷ ছবি প্রকাশে জঙ্গিরা উৎসাহিত হয়৷

আপনি কী ভাবছেন?

এখানে ক্লিক করুন ও আলোচনায় যোগ দিন

জঙ্গিদের অন্যতম টার্গেট থাকে যে কোনো উপায়ে আলোচনায় আসা৷ হামলা পরবর্তী ছবি প্রকাশ করলে এতে জঙ্গিদের উদ্দেশ্যকে সফল করে দেয়া হয়৷ ছবি প্রকাশ করা না করা নিয়ে বিতর্ক বাংলাদেশেও আছে৷ যদিও ইউরোপ বা অন্য দেশের চেয়ে বাংলাদেশের বিষয়টি আলাদা৷

ছবি প্রকাশ বা ইউরোপের জঙ্গিদের সঙ্গে বাংলাদেশের জঙ্গিবাদের কিছু মিল থাকলেও, সম্পূর্ণ এক করে দেখার অবকাশ নেই৷ জঙ্গিদের ছবি প্রকাশের বিষয়টিও বিচার করতে হবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে, ইউরোপ বা অন্য দেশের প্রেক্ষাপটে নয়৷ জঙ্গিবাদের ছবি প্রকাশ বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা৷

হামলার শিকার ইউরোপ

প্যারিস, ব্রাসেলস, নিস – ইউরোপের একের পর এক শহরের মানুষ ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছে৷ শোক সামলে নেওয়ার পর বার বার প্রশ্ন উঠেছে, এমন হামলা কি প্রতিরোধ করা যেত? অথবা আরও জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া কি সম্ভব হতো?

জার্মানির ‘জিএসজি ৯’

বন শহরের কাছে জার্মানির বিশেষ কমান্ডো বাহিনী ‘জিএসজি ৯’-এর ঘাঁটি৷ সন্ত্রাস দমনের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এই ইউনিট জার্মানিতে সন্ত্রাসী হামলা ঘটলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়, যেমনটা সম্প্রতি মিউনিখে দেখা গেছে৷ ১৯৭২ সালে মিউনিখ অলিম্পিকের সময় ইসরায়েলি পণবন্দি নাটকের পর এই বাহিনী গঠন করা হয়৷

অস্ট্রিয়ার ‘একো কোবরা’

অস্ট্রিয়ার কেন্দ্রীয় ফেডারেল পুলিশ বাহিনীর এই ইউনিট সন্ত্রাসী হামলা মোকাবিলার জন্য সর্বদা প্রস্তুত৷ জার্মানির মতোই অস্ট্রিয়াও মিউনিখ অলিম্পিকে হামলার পরও নড়েচড়ে বসে৷ ১৯৭৮ সালে প্রথমে ‘জিইকে’ নামের বাহিনী তৈরি হয়৷ ২০০২ সালে তার নাম বদলে রাখা হয় ‘একো কোবরা’৷

ফ্রান্সের ‘জিআইজিএন’

ফ্রান্সের জাতীয় পুলিশ বাহিনীর বিশেষ ‘ইন্টারভেনশন ফোর্স’ সন্ত্রাসী হামলা, জিম্মি পরিস্থিতি, জাতীয় হুমকি ইত্যাদির সময় হস্তক্ষেপ করে৷ এই বাহিনী গঠনের পেছনেও কাজ করেছে ১৯৭২ সালে মিউনিখ হামলার ঘটনা৷ ১৯৭৪ সালে ‘জিআইজিএন’ বাহিনী গড়ে তোলা হয়৷

ইটালির ‘জিআইএস’

ফ্রান্সের আদলে ইটালিতেও ১৯৭৭ সাল থেকে এক ‘ইন্টারভেনশন ফোর্স’ সক্রিয় রয়েছে৷ সন্ত্রাসী হামলা ঘটলে আকাশপথে দ্রুত মোতায়েন করা যায় এই বিশেষ বাহিনী৷ ভিআইপি-দের সুরক্ষার কাজেও লাগানো হয় এই বাহিনী৷

নেদারল্যান্ডস-এর ‘ডিএসআই’

২০০৬ সালে জাতীয় পুলিশ বাহিনীর ছত্রছায়ায় ‘ডিএসআই’ নামের এই বিশেষ ‘ইন্টারভেনশন ফোর্স’ গঠন করা হয়৷ সন্ত্রাসবাদ ও চরম হিংসার পরিস্থিতিতে এই বাহিনী দ্রুত হস্তক্ষেপ করতে পারে৷ এর আগে বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের প্রক্রিয়ার দুর্বলতা কাটিয়ে তুলতে এই ইউনিট গঠন করা হয়৷

স্পেনের ‘ইউইআই’

স্পেনে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার জন্য ‘ইউইআই’ নামের ‘ইন্টারভেনশন ফোর্স’ কাজ করছে ১৯৭৮ থেকে৷ সন্ত্রাসবাদ থেকে শুরু করে জিম্মি নাটক – যে কোনো ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি সামলাতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এই ইউনিটকে৷ এই বাহিনী সম্পর্কে প্রকাশ্যে বেশি তথ্য প্রকাশ করা হয় না৷

১. গুলশানের হোলি আর্টিজান ট্র্যাজেডির পর জঙ্গিদের লাশের ছবি পত্রিকায় ছাপা হয়েছে৷ হামলার আগে আইএসের পোশাক পরা জঙ্গিদের হাস্যোজ্জ্বল ছবিও ছাপা হয়েছে৷ এই ছবি যদি ছাপা না হতো, তবে কী ঘটত বা ঘটতে পারত? হয়তো জঙ্গিদের আসল পরিচয় জানাই যেত না৷ লাশের ছবি এবং অকাশ, বিকাশ... নাম পুলিশ যা দিয়েছিল, তাই বিশ্বাস করতে হতো৷ অসত্য বিশ্বাস করতে হতো৷

জঙ্গিদের হামলার আগের ছবি প্রকাশিত হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই আসল পরিচিতি প্রকাশিত হয়েছে৷ জানা গেছে, এই জঙ্গিরা আসলে কারা, তাদের সামাজিক অবস্থান কেমন৷ ফলে এক্ষেত্রে ছবি প্রকাশের অপকারিতা বা ক্ষতির চেয়ে উপকারিতাই বেশি বলে ধারণা করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে৷

২. কল্যাণপুরে পুলিশি অভিযানে নিহত জঙ্গিদের লাশের ছবি প্রকাশ করেছে পুলিশ৷ পুলিশের সূত্র ধরেই জঙ্গিদের হামলার আগের হাস্যোজ্জ্বল ছবি প্রকাশিত হয়েছে গণমাধ্যমে৷ লাশের ছবিগুলো ছিল বীভৎস৷ ছবিগুলো প্রকাশ করা হয়েছিল নিহতদের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য৷ হাস্যোজ্জ্বল ছবিগুলো ছাপা হয়েছে, হামলার পরে এই ছবি প্রকাশ করে আইএস দায় স্বীকার করতো, তা বোঝানোর জন্য৷

প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ অনুযায়ী, শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে ‘আল্লাহু আকবর’ বলে একদল অস্ত্রধারী গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালালে অবস্থানরত অজ্ঞাত সংখ্যক অতিথি সেখানে আটকা পড়েন৷

জঙ্গিদের অন্যতম টার্গেট থাকে যে কোনো উপায়ে আলোচনায় আসা৷ হামলা পরবর্তী ছবি প্রকাশ করলে এতে জঙ্গিদের উদ্দেশ্যকে সফল করে দেয়া হয়৷ ছবি প্রকাশ করা না করা নিয়ে বিতর্ক বাংলাদেশেও আছে৷ যদিও ইউরোপ বা অন্য দেশের চেয়ে বাংলাদেশের বিষয়টি আলাদা৷

ছবি প্রকাশ বা ইউরোপের জঙ্গিদের সঙ্গে বাংলাদেশের জঙ্গিবাদের কিছু মিল থাকলেও, সম্পূর্ণ এক করে দেখার অবকাশ নেই৷ জঙ্গিদের ছবি প্রকাশের বিষয়টিও বিচার করতে হবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে, ইউরোপ বা অন্য দেশের প্রেক্ষাপটে নয়৷ জঙ্গিবাদের ছবি প্রকাশ বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা৷

হামলার শিকার ইউরোপ

প্যারিস, ব্রাসেলস, নিস – ইউরোপের একের পর এক শহরের মানুষ ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছে৷ শোক সামলে নেওয়ার পর বার বার প্রশ্ন উঠেছে, এমন হামলা কি প্রতিরোধ করা যেত? অথবা আরও জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া কি সম্ভব হতো?

জার্মানির ‘জিএসজি ৯’

বন শহরের কাছে জার্মানির বিশেষ কমান্ডো বাহিনী ‘জিএসজি ৯’-এর ঘাঁটি৷ সন্ত্রাস দমনের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এই ইউনিট জার্মানিতে সন্ত্রাসী হামলা ঘটলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়, যেমনটা সম্প্রতি মিউনিখে দেখা গেছে৷ ১৯৭২ সালে মিউনিখ অলিম্পিকের সময় ইসরায়েলি পণবন্দি নাটকের পর এই বাহিনী গঠন করা হয়৷

অস্ট্রিয়ার ‘একো কোবরা’

অস্ট্রিয়ার কেন্দ্রীয় ফেডারেল পুলিশ বাহিনীর এই ইউনিট সন্ত্রাসী হামলা মোকাবিলার জন্য সর্বদা প্রস্তুত৷ জার্মানির মতোই অস্ট্রিয়াও মিউনিখ অলিম্পিকে হামলার পরও নড়েচড়ে বসে৷ ১৯৭৮ সালে প্রথমে ‘জিইকে’ নামের বাহিনী তৈরি হয়৷ ২০০২ সালে তার নাম বদলে রাখা হয় ‘একো কোবরা’৷

ফ্রান্সের ‘জিআইজিএন’

ফ্রান্সের জাতীয় পুলিশ বাহিনীর বিশেষ ‘ইন্টারভেনশন ফোর্স’ সন্ত্রাসী হামলা, জিম্মি পরিস্থিতি, জাতীয় হুমকি ইত্যাদির সময় হস্তক্ষেপ করে৷ এই বাহিনী গঠনের পেছনেও কাজ করেছে ১৯৭২ সালে মিউনিখ হামলার ঘটনা৷ ১৯৭৪ সালে ‘জিআইজিএন’ বাহিনী গড়ে তোলা হয়৷

ইটালির ‘জিআইএস’

ফ্রান্সের আদলে ইটালিতেও ১৯৭৭ সাল থেকে এক ‘ইন্টারভেনশন ফোর্স’ সক্রিয় রয়েছে৷ সন্ত্রাসী হামলা ঘটলে আকাশপথে দ্রুত মোতায়েন করা যায় এই বিশেষ বাহিনী৷ ভিআইপি-দের সুরক্ষার কাজেও লাগানো হয় এই বাহিনী৷

নেদারল্যান্ডস-এর ‘ডিএসআই’

২০০৬ সালে জাতীয় পুলিশ বাহিনীর ছত্রছায়ায় ‘ডিএসআই’ নামের এই বিশেষ ‘ইন্টারভেনশন ফোর্স’ গঠন করা হয়৷ সন্ত্রাসবাদ ও চরম হিংসার পরিস্থিতিতে এই বাহিনী দ্রুত হস্তক্ষেপ করতে পারে৷ এর আগে বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের প্রক্রিয়ার দুর্বলতা কাটিয়ে তুলতে এই ইউনিট গঠন করা হয়৷

স্পেনের ‘ইউইআই’

স্পেনে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার জন্য ‘ইউইআই’ নামের ‘ইন্টারভেনশন ফোর্স’ কাজ করছে ১৯৭৮ থেকে৷ সন্ত্রাসবাদ থেকে শুরু করে জিম্মি নাটক – যে কোনো ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি সামলাতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এই ইউনিটকে৷ এই বাহিনী সম্পর্কে প্রকাশ্যে বেশি তথ্য প্রকাশ করা হয় না৷

১. গুলশানের হোলি আর্টিজান ট্র্যাজেডির পর জঙ্গিদের লাশের ছবি পত্রিকায় ছাপা হয়েছে৷ হামলার আগে আইএসের পোশাক পরা জঙ্গিদের হাস্যোজ্জ্বল ছবিও ছাপা হয়েছে৷ এই ছবি যদি ছাপা না হতো, তবে কী ঘটত বা ঘটতে পারত? হয়তো জঙ্গিদের আসল পরিচয় জানাই যেত না৷ লাশের ছবি এবং অকাশ, বিকাশ... নাম পুলিশ যা দিয়েছিল, তাই বিশ্বাস করতে হতো৷ অসত্য বিশ্বাস করতে হতো৷

জঙ্গিদের হামলার আগের ছবি প্রকাশিত হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই আসল পরিচিতি প্রকাশিত হয়েছে৷ জানা গেছে, এই জঙ্গিরা আসলে কারা, তাদের সামাজিক অবস্থান কেমন৷ ফলে এক্ষেত্রে ছবি প্রকাশের অপকারিতা বা ক্ষতির চেয়ে উপকারিতাই বেশি বলে ধারণা করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে৷

২. কল্যাণপুরে পুলিশি অভিযানে নিহত জঙ্গিদের লাশের ছবি প্রকাশ করেছে পুলিশ৷ পুলিশের সূত্র ধরেই জঙ্গিদের হামলার আগের হাস্যোজ্জ্বল ছবি প্রকাশিত হয়েছে গণমাধ্যমে৷ লাশের ছবিগুলো ছিল বীভৎস৷ ছবিগুলো প্রকাশ করা হয়েছিল নিহতদের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য৷ হাস্যোজ্জ্বল ছবিগুলো ছাপা হয়েছে, হামলার পরে এই ছবি প্রকাশ করে আইএস দায় স্বীকার করতো, তা বোঝানোর জন্য৷

হামলার আগের ছবি প্রকাশ নিয়ে সমালোচনা হয়েছে এভাবে যে, জঙ্গিদের এসব হিরোইজমের ছবি দেখে অনেকে উৎসাহিত হতে পারে, সুতরাং এমন ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়া উচিত নয়৷ কথাটা উড়িয়ে দেয়ার মতো নয়৷ গভীরভাবে চিন্তা করতে হবে, একটি ছবি প্রকাশ করে, কোনোভাবে জঙ্গিবাদ উৎসাহিত করা হচ্ছে কিনা৷ পুলিশ যে লাশের বীভৎস ছবি প্রকাশ করেছে তার আদৌ দরকার ছিল কিনা৷ এক্ষেত্রে অধিকাংশ জঙ্গির পরিচয় কিন্তু পুলিশ জেনেছে আঙুলের ছাপের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রে থাকা আঙ্গুলের ছাপ মিলিয়ে৷ এই কাজটি ছবি প্রকাশের আগেও বা ছবি প্রকাশ না প্রকাশ করেও করা যেতো৷ আঙুলের ছাপ মিলিয়ে যদি কাউকে শনাক্ত করা না যেতো, তখন হয়ত ছবি প্রকাশের প্রসঙ্গ আসতে পারত৷

ঘটনার শুরু

প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ অনুযায়ী, শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে ‘আল্লাহু আকবর’ বলে একদল অস্ত্রধারী গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালালে অবস্থানরত অজ্ঞাত সংখ্যক অতিথি সেখানে আটকা পড়েন৷

দুই পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু

পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে নিহত হন বনানী থানার ওসি সালাউদ্দিন ও গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম৷

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য

কমান্ডো অভিযান চালিয়ে ১৩ জিম্মিকে জীবিত উদ্ধারের পাশাপাশি ছ'জন হামলাকারীকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷ বলেছেন, বাকি কয়েকজনকে হয়তো বাঁচানো যায়নি৷ এই জঙ্গি হামলায় জড়িত একজন ধরা পড়েছে বলেও শনিবার সকালে এক অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন তিনি৷

এ যেন দুঃস্বপ্ন

কমান্ডো অভিযানে মুক্ত গুলশানের ক্যাফে থেকে উদ্ধার পাওয়া ব্যক্তিদের ১২ ঘণ্টার ‘দুঃস্বপ্ন’ কাটছে না৷ তাঁদের চোখে মুখে ক্লান্তি ও ভীতির ছাপ৷ তারা বলছিলেন, কয়েকজনের মৃতদেহ দেখেছেন, অনেক জায়গায় রক্তের ছাপ৷

প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য

তাঁরা বলছেন, জিম্মিকারীরা বাংলাদেশি মুসলমানদের সুরা পড়তে বলে৷ সুরা পড়তে পারার পর তাঁদেরকে রাতে খেতেও দেওয়া হয়৷ যাঁরা হিজাব পরা ছিল, তাঁদের বাড়তি খাতির করা হয়৷

আইএস-এর দায় স্বীকার

তথাকথিত ইসলামিক স্টেট বা আইএস এই হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছে বলে সাইট ইন্টিলিজেন্স গ্রুপ জানিয়েছে৷ এই জঙ্গি দলের মুখপত্র আমাক নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে এ সব খবরে দাবি করা হয় যে, ‘তাদের’ এই হামলায় ২৪ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ৪০ জন৷

কমান্ডো অভিযান

সকাল ৭ টা ৩০ মিনিটে রাতভর গুলশানের হোলি আর্টিজান রেস্টুরেন্ট সংলগ্ন এলাকা ঘিরে রাখার পর যৌথ সেনা, নৌ, পুলিশ, র‍্যাব এবং বিজিবির সমন্বয়ে যৌথ কমান্ডো দল গুলশানে অভিযানের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেয়৷ ৮ টা ১৫ মিনিটে প্রথম দফায় নারী ও শিশুসহ ৬ জনকে উদ্ধার করা হয়৷

ভবনের নিয়ন্ত্রণ ও আতঙ্কের অবসান

৮ টা ৫৫ মিনিটে ভবনের নিয়ন্ত্রণ নেয় অভিযানকারীরা৷ গোয়েন্দা দল ভবনের ভেতর বিস্ফোরকের জন্য তল্লাশি শুরু করে৷ ৯ টা ১৫ মিনিটে ১২ ঘণ্টার রক্তাক্ত জিম্মি সংকটের অবসান হয়৷

সুতরাং ছবি প্রকাশ নিয়ে গণমাধ্যম এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সবারই নতুন করে চিন্তা করে দেখার সুযোগ আছে৷

৩. বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে জঙ্গিদের ছবি প্রকাশ করা বা না করার চেয়ে অনেক বেশি জরুরি জনআস্থা অর্জনের পদক্ষেপ নেয়া৷ আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শুধু খারাপ কাজই করেন না, অনেক ভালোও কাজ করেন৷ যোগ্যতা দক্ষতা নিয়ে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রশ্ন নেই৷ তারপরও জনআস্থায় ঘাটতি প্রবল৷ পুলিশ যা করে, যা বলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে জনগণ পুরোপুরি বিশ্বাস করেন না৷ ‘সত্যিই কি এমন হয়েছে'- প্রশ্ন জাগে জনমনে৷

সাদা চোখে দেখলে কয়েকটি কারণে এই সন্দেহ তৈরি হয়-

ক. বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে বাধ্য হয়ে অনেকে সমর্থন করলেও, ক্রসফায়ারের গল্প বাংলাদেশের একজন মানুষও বিশ্বাস করেন না৷

খ. আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অনেক নীতি নৈতিকতাহীন কাজ করে৷ তাদের অনেকেই অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত৷

গ. যোগ্যতা-দক্ষতার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অনেক ভালো কাজ করে৷ এসব কাজের প্রেক্ষিতে যতটা প্রশংসিত হওয়ার কথা, জনআস্থা বৃদ্ধি পাওয়ার কথা, বাস্তবে তা হয় না৷ এর কারণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাস্তবে যা করে, তার সঙ্গে আরও কিছু গল্প তৈরি করে৷ এতে জনআস্থা বৃদ্ধি না পেয়ে আরও কমে যায়৷

৪. জঙ্গিবাদ ইস্যুতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম, দৃষ্টিভঙ্গি নতুন করে পর্যালোচনা করা দরকার৷ গণমাধ্যমের সঙ্গে বৈরিতার পরিবর্তে, হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন অতি জরুরি৷ গণমাধ্যম কোন ছবি প্রকাশ করবে, কোন ছবি প্রকাশ করবে না- চাপিয়ে দেয়া সিদ্ধান্তে তা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না৷ দেশ ও জনগণের স্বার্থে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক দিয়ে তা করতে হবে৷ হাসনাত করিম, তাহমিদ হাসিব ও জঙ্গির ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তদন্তে প্রভাব পড়া কোনোভাবেই উচিত নয়৷ ছবি প্রকাশ না করলেই যে তদন্ত সম্পূর্ণ সঠিক পথে চলত বা চলবে, সেই বিশ্বাসও জনগণের নেই৷ প্রশাসনের ওপর যেহেতু আস্থা কম, জনগণ আস্থা রাখতে চায় গণমাধ্যমের ওপর৷ জনগণের চাওয়া গণমাধ্যম সব প্রকাশ করে দিক, যাতে কিছু গোপন করা না যায়৷ জনআস্থার প্রতিফলন যে গণমাধ্যমে সব সময় ঘটে, তা-ও নয়৷

Bangladesh Journalist Golam Mortoza

গোলাম মোর্তোজা, সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদক এবং টিভি টকশো-র মডারেটর

৫. বর্তমান পৃথিবীর জঙ্গি তত্ত্বে ছবি একটি ছোট বিতর্ক৷ বাংলাদেশসহ পৃথিবীর যে সমস্ত দেশ জঙ্গিবাদে আক্রান্ত, তাদের গতানুগতিক ধারার বাইরে নতুন করে নীতিনির্ধারণ করতে হবে৷ ফ্রান্সের গণমাধ্যম ছবি প্রকাশ না করলেও জঙ্গি সংকট থেকে মুক্ত হতে পারবেনা৷ অ্যামেরিকার ভুল যুদ্ধ নীতিকে অন্ধভাবে সমর্থন করতে গিয়ে জঙ্গিবাদের থাবায় ধরা পড়েছে ইউরোপ৷ জঙ্গি নিয়ে রাজনৈতিক সুবিধার রাজনীতি করতে গিয়ে সংকটে পড়েছে বাংলাদেশ৷

ছবি প্রকাশ বা বিক্ষিপ্তভাবে একেক সময় একেকটি বিষয় সামনে না এনে সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতির মূল্যায়ন জরুরি৷ জঙ্গিবাদের জন্ম ও বিস্তাররোধ করণীয় নির্ধারণ না করে, জঙ্গিবাদের থাবা থেকে মুক্তি মিলবে না৷

আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

জঙ্গিদের অন্যতম টার্গেট থাকে যে কোনো উপায়ে আলোচনায় আসা৷ হামলা পরবর্তী ছবি প্রকাশ করলে এতে জঙ্গিদের উদ্দেশ্যকে সফল করে দেয়া হয়৷ ছবি প্রকাশ করা না করা নিয়ে বিতর্ক বাংলাদেশেও আছে৷ যদিও ইউরোপ বা অন্য দেশের চেয়ে বাংলাদেশের বিষয়টি আলাদা৷