জলবায়ু চুক্তি কি পৃথিবী বাঁচানোর জন্য যথেষ্ট?

বৈশ্বিক উষ্ণায়নে রাশ টানতে প্যারিস সম্মেলনে অবশেষে ঐক্য এসেছে৷ সপ্তাহান্তে বিশ্বের ১৯৫টি দেশ একদিকে তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ধরে রাখতে এবং অন্যদিকে জীবাশ্মভিত্তিক জ্বালানির ব্যবহার কমাতে সম্মত হয়েছে৷

‘নেই মামার চেয়ে কানা মামা ভালো' – এ কথা বিশ্বাস করলে প্যারিস সম্মেলনকে সফল বলতেই হয়৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ একাধিক দেশ এই সাফল্যকে সামনে রেখে উচ্ছ্বাস দেখাচ্ছে৷

আপনি কী ভাবছেন?

এখানে ক্লিক করুন ও আলোচনায় যোগ দিন

অন্যদিকে সমালোচকদের মতে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য যতটা উদ্যোগ নেওয়া উচিত, সেই সদিচ্ছা এখনো দেখা যাচ্ছে না৷

জাতিসংঘ প্যারিস সম্মেলনের ফলাফলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছে৷

ওয়ার্লড ইকোনমিক ফোরাম আবার মনে করিয়ে দিয়েছে, যে বিশ্বের ১০ শতাংশ ধনীরাই জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য মূলত দায়ী৷

জলবায়ু পরিবর্তন একটি পরিবারের তিন প্রজন্মের উপর কী প্রভাব ফেলতে পারে, সে বিষয়ে একটি ভিডিও শেয়ার করেছে জাতিসংঘের শিশু কল্যাণ সংস্থা ইউনিসেফ৷

এক ঝলকে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া –

গুগল কোম্পানির প্রধান এরিক স্মিট প্যারিস সম্মেলনের ফলাফলকে স্বাগত জানিয়েছেন৷

ড. মুহাম্মদ ইউনূস মনে করেন, পৃথিবীর সব নাগরিককেই পরিবেশ সংরক্ষণের দায়িত্ব পালন করতে এগিয়ে আসতে হবে৷

২০২৫ সালের মধ্যে (২০০৫ সালের তুলনায়) কার্বন নির্গমনের মাত্রা ২৬ থেকে ২৮ শতাংশ কমিয়ে আনার অঙ্গীকার করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র৷ ২০৩০ সালের মধ্যে সে দেশের জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্রগুলি কার্বন ডাই-অক্সাইড দূষণের মাত্রা ৩২ শতাংশ কমাতে চায়৷

২০৩০ সালের মধ্যে (১৯৯০ সালের তুলনায়) নির্গমনের মাত্রা ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ কমাতে চায় আয়তনের বিচারে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দেশ রাশিয়া৷ অবশ্য অন্যান্য বড় দূষণকারী দেশের অঙ্গীকারের উপর এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নির্ভর করবে৷

২০৩০ সালের মধ্যে ইরান নির্গমনের মাত্রা ৪ শতাংশ কমানোর শর্তহীন অঙ্গীকার করেছে৷ সেইসঙ্গে ‘অন্যায় নিষেধাজ্ঞা’ তুলে নিলে এবং আর্থিক সাহায্য ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি দিলে সে দেশ বাড়তি ৮ শতাংশ নির্গমন কমাতে প্রস্তুত৷

‘নেই মামার চেয়ে কানা মামা ভালো' – এ কথা বিশ্বাস করলে প্যারিস সম্মেলনকে সফল বলতেই হয়৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ একাধিক দেশ এই সাফল্যকে সামনে রেখে উচ্ছ্বাস দেখাচ্ছে৷

অন্যদিকে সমালোচকদের মতে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য যতটা উদ্যোগ নেওয়া উচিত, সেই সদিচ্ছা এখনো দেখা যাচ্ছে না৷

জাতিসংঘ প্যারিস সম্মেলনের ফলাফলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছে৷

ওয়ার্লড ইকোনমিক ফোরাম আবার মনে করিয়ে দিয়েছে, যে বিশ্বের ১০ শতাংশ ধনীরাই জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য মূলত দায়ী৷

জলবায়ু পরিবর্তন একটি পরিবারের তিন প্রজন্মের উপর কী প্রভাব ফেলতে পারে, সে বিষয়ে একটি ভিডিও শেয়ার করেছে জাতিসংঘের শিশু কল্যাণ সংস্থা ইউনিসেফ৷

এক ঝলকে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া –

গুগল কোম্পানির প্রধান এরিক স্মিট প্যারিস সম্মেলনের ফলাফলকে স্বাগত জানিয়েছেন৷

ড. মুহাম্মদ ইউনূস মনে করেন, পৃথিবীর সব নাগরিককেই পরিবেশ সংরক্ষণের দায়িত্ব পালন করতে এগিয়ে আসতে হবে৷

চীন

বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশের প্রশাসন ২০৩০ সাল নাগাদ ‘কার্বন ইনটেনসিটি’ ২০০৫ সালের তুলনায় ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ কমানোর লক্ষ্যমাত্রা স্থির করতে চায়৷ সেইসঙ্গে জীবাশ্মভিত্তিক নয়, এমন জ্বালানির অনুপাত বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করতে চায় চীন৷

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

২০২৫ সালের মধ্যে (২০০৫ সালের তুলনায়) কার্বন নির্গমনের মাত্রা ২৬ থেকে ২৮ শতাংশ কমিয়ে আনার অঙ্গীকার করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র৷ ২০৩০ সালের মধ্যে সে দেশের জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্রগুলি কার্বন ডাই-অক্সাইড দূষণের মাত্রা ৩২ শতাংশ কমাতে চায়৷

ইউরোপীয় ইউনিয়ন

২৮ সদস্যের এই রাষ্ট্রজোট ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নির্গমনের মাত্রা ১৯৯০ সালের তুলনায় কমপক্ষে ৪০ শতাংশ কমাতে চায়৷ পুনর্ব্যবহারযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার ২৭ শতাংশ বাড়ানোরও লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে ইইউ৷

ভারত

২০৩০ সালের মধ্যে (২০০৫ সালের তুলনায়) ‘কার্বন ইনটেনসিটি’ ৩৫ শতাংশ কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে ভারতের৷ সেইসঙ্গে জ্বালানির চাহিদার ৪০ শতাংশ পুনর্ব্যবহারযোগ্য জ্বালানি দিয়ে মেটাতে চায় বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম জনবহুল এই দেশ৷

রাশিয়া

২০৩০ সালের মধ্যে (১৯৯০ সালের তুলনায়) নির্গমনের মাত্রা ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ কমাতে চায় আয়তনের বিচারে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দেশ রাশিয়া৷ অবশ্য অন্যান্য বড় দূষণকারী দেশের অঙ্গীকারের উপর এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নির্ভর করবে৷

জাপান

২০৩০ সালের মধ্যে (২০১৩ সালের তুলনায়) নির্গমনের মাত্রা ২৬ শতাংশ কমানোর অঙ্গীকার করেছে জাপান৷ তবে ফুকুশিমা বিপর্যয় সত্ত্বেও আবার ২০ থেকে ২২ শতাংশ পরমাণু বিদ্যুতের উপর নির্ভর করছে সে দেশ৷ বিকল্প জ্বালানির অনুপাত বাড়িয়ে ২২ থেকে ২৪ শতাংশে আনতে চায় জাপান৷

ব্রাজিল

প্রথম ধাপে ২০২৫ সালের মধ্যে (২০০৫ সালের তুলনায়) নির্গমনের মাত্রা ৩৭ শতাংশ কমাতে চায় ব্রাজিল৷ ২০৩০ সালের মধ্যে সেই মাত্রা বাড়িয়ে ৪৩ শতাংশে আনার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে সে দেশ৷

ইরান

২০৩০ সালের মধ্যে ইরান নির্গমনের মাত্রা ৪ শতাংশ কমানোর শর্তহীন অঙ্গীকার করেছে৷ সেইসঙ্গে ‘অন্যায় নিষেধাজ্ঞা’ তুলে নিলে এবং আর্থিক সাহায্য ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি দিলে সে দেশ বাড়তি ৮ শতাংশ নির্গমন কমাতে প্রস্তুত৷

কি বন্ধুরা, আপনার কী মত? জলবায়ু চুক্তি কি পৃথিবী বাঁচানোর জন্য যথেষ্ট? জানান নীচের ঘরে৷

সংকলন: সঞ্জীব বর্মন

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ