জার্মানিতে আত্মহত্যার প্রবণতা যত, রোখার চেষ্টাও তত

এদেশে বছরে যত মানুষ পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান, তার দ্বিগুণ, অর্থাৎ প্রায় দশ হাজার মানুষ আত্মহত্যা করে থাকেন৷ আত্মহত্যার হার দীর্ঘমেয়াদি সূত্রে কমলেও, ২০২০ সালের মধ্যে তা আরো দশ শতাংশ কমানোর পরিকল্পনা চলেছে৷

যুদ্ধপরবর্তী জার্মানিতে আশির দশকে আত্মহত্যার হার চরমে পৌঁছানোর পর পরের তিন দশকে তা কমে অর্ধেক হয়ে আসে৷ ২০০৭ সাল থেকে কিন্তু আত্মহত্যার হার আবার বাড়ছে৷ বছরে দশ হাজার মানুষের আত্মহত্যা ছাড়াও, আত্মহত্যার প্রচেষ্টা করেন অন্তত এক লক্ষ মানুষ৷

আপনি কী ভাবছেন?

এখানে ক্লিক করুন ও আলোচনায় যোগ দিন

আত্মহত্যার পরিসংখ্যানের অসুবিধা হল এই যে, তা অঙ্কের মতো; অঙ্ক আছে, কিন্তু উত্তরটা নিজেই আঁক কষে বার করে নিতে হয়৷ যেমন জার্মানিতে ৯০ শতাংশ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে কোনো মানসিক রোগের কারণে৷ অথবা: বেশি বয়সের মানুষরাই বেশি আত্মহত্যা করে থাকেন৷ অপরদিকে তরুণ-কিশোরদের মধ্যে দুর্ঘটনার পরেই আত্মহত্যা হল মৃত্যুর অন্যতম কারণ৷ ১৫ থেকে ২৫ বয়সিদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রচেষ্টা সবচেয়ে বেশি; এক্ষেত্রে আবার তরুণ মহিলারাই সবচেয়ে বেশি আত্মহত্যার প্রচেষ্টা করে থাকেন৷ কিন্তু সব মিলিয়ে যারা আত্মহত্যা করেন, তাদের ৭০ শতাংশই পুরুষ৷ আত্মহত্যা করার সময় আত্মহন্তাদের গড় বয়স দাঁড়ায় ৫৭৷

Deutsche Welle DW Arun Chowdhury

অরুণ শঙ্কর চৌধুরী

চিকিৎসকদের মধ্যে আত্মহত্যার হার ও প্রবণতা দেখলে চমকে যেতে হয়: পুরুষ ডাক্তারদের আত্মহত্যার হার সাধারণ নাগরিকদের চেয়ে ৩ দশমিক ৪ গুণ বেশি; মহিলা ডাক্তারদের ক্ষেত্রে তা ৫ দশমিক ৭ গুণ! দেশের কারাগারগুলিতে বন্দিদের মধ্যে আত্মহত্যাই হলো মৃত্যুর প্রথম কারণ৷

১৯৮০ থেকে ২০০৭ অবধি যে আত্মহত্যার সংখ্যা কমে অর্ধেক হয়ে গিয়েছিল,তার একটা কারণ সম্ভবত আশির দশকের সূচনায় জার্মানিতে মানসিক চিকিৎসা সংক্রান্ত সংস্কার৷ সেযাবৎ আরো অনেক ছোট ছোট মানসিক রোগের হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্র সৃষ্টি করা হয়েছে৷ এছাড়া মানসিক বিষাদ, সাইকোসিস বা মনোবৈকল্য ইত্যাদি রোগের জন্য ওষুধপত্রের প্রভূত উন্নতি ঘটেছে৷ সবচেয়ে বড় কথা, সুইসাইড বা আত্মহত্যা আর সমাজে ‘ট্যাবু' নয়, তা নিয়ে কথাবার্তা বলা চলে, সাহায্য খোঁজা ও নেওয়া চলে৷

গায়ানা

ক্যারিবীয় দেশ গায়ানায় আত্মহত্যার হার সবচেয়ে বেশি৷ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে, ২০১২ সালে সেখানকার প্রতি এক লক্ষ মানুষের মধ্যে ৪৪.২ জন আত্মহত্যা করেছে৷ প্রচণ্ড দারিদ্র্য, মাত্রাতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন এর কারণ বলে জানা গেছে৷ তরল বিষ পান করেই গায়ানার মানুষ বেশি আত্মহত্যা করেছে৷

উত্তর কোরিয়া

তালিকায় গায়ানার পরেই উত্তর কোরিয়ার অবস্থান৷ প্রতি বছর গড়ে সেখানে প্রায় ১০ হাজার মানুষ আত্মহত্যা করে৷ মানবাধিকার লঙ্ঘন, আর্থিক দৈন্যতা, সরকারি নির্যাতনের ভয় থেকে সৃষ্ট চাপ – এসব কারণে সেদেশের মানুষ আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়৷

দক্ষিণ কোরিয়া

চাকরির চাহিদা পূরণের চাপ এবং পড়ালেখা ও সামাজিক চাপের কারণে দক্ষিণ কোরীয়রা আত্মহত্যা করে থাকে৷ বিশেষ করে নভেম্বরে কলেজ ভর্তি পরীক্ষার আগে আত্মহত্যার হার যায় বেড়ে৷ বিষয়টি এতটাই উদ্বেগজনক যে, সরকার সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোর উপর নজরদারি করে সম্ভাব্য আত্মহত্যা ঠেকানোর পদক্ষেপ নিয়ে থাকে৷ জাতিসংঘের হিসেবে ২০১২ সালে সেদেশে এক লক্ষ জনের মধ্যে ২৮.৯ জন আত্মহত্যা করেছে৷

শ্রীলঙ্কা

দক্ষিণ এশিয়ায় শ্রীলঙ্কাতেই সবচেয়ে বেশি মানুষ আত্মহত্যা করে৷ ২০১২ সালে সে দেশে প্রতি এক লক্ষের মধ্যে ২৮.৮ জন আত্মহত্যা করে৷ দারিদ্র্য ও বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা এর কারণ বলে জানা গেছে৷

লিথুয়েনিয়া

ইউরোপের মধ্যে এই দেশটিতেই আত্মহত্যার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি৷ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে, ২০১২ সালে লিথুয়েনিয়ার এক লক্ষ মানুষের মধ্যে ২৮.২ জন আত্মহত্যা করেছে৷ সামাজিক ও আর্থিক সমস্যাই সেখানকার মানুষের আত্মহত্যার মূল কারণ৷ গত শতকের নব্বইয়ের দশকে দেশটিতে আত্মহত্যার হার আরও বেশি ছিল৷

বাংলাদেশের অবস্থান?

জাতিসংঘের হিসেবে ২০১২ সালে বাংলাদেশের প্রতি এক লক্ষ মানুষের মধ্যে গড়ে ৭.৮ জন আত্মহত্যা করেছে৷ এর মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ৬.৮, আর নারীর সংখ্যা ৮.৭৷ অর্থাৎ নারীরা পুরুষের চেয়ে বেশি সংখ্যায় আত্মহত্যা করেছে৷ যদিও জাতিসংঘের হিসেবে ২০১২ সালে বিশ্বব্যাপী পুরুষদের আত্মহত্যার সংখ্যা মেয়েদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বেশি ছিল৷

চাকরির চাহিদা পূরণের চাপ এবং পড়ালেখা ও সামাজিক চাপের কারণে দক্ষিণ কোরীয়রা আত্মহত্যা করে থাকে৷ বিশেষ করে নভেম্বরে কলেজ ভর্তি পরীক্ষার আগে আত্মহত্যার হার যায় বেড়ে৷ বিষয়টি এতটাই উদ্বেগজনক যে, সরকার সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোর উপর নজরদারি করে সম্ভাব্য আত্মহত্যা ঠেকানোর পদক্ষেপ নিয়ে থাকে৷ জাতিসংঘের হিসেবে ২০১২ সালে সেদেশে এক লক্ষ জনের মধ্যে ২৮.৯ জন আত্মহত্যা করেছে৷

জাতিসংঘের হিসেবে ২০১২ সালে বাংলাদেশের প্রতি এক লক্ষ মানুষের মধ্যে গড়ে ৭.৮ জন আত্মহত্যা করেছে৷ এর মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ৬.৮, আর নারীর সংখ্যা ৮.৭৷ অর্থাৎ নারীরা পুরুষের চেয়ে বেশি সংখ্যায় আত্মহত্যা করেছে৷ যদিও জাতিসংঘের হিসেবে ২০১২ সালে বিশ্বব্যাপী পুরুষদের আত্মহত্যার সংখ্যা মেয়েদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বেশি ছিল৷

যুদ্ধপরবর্তী জার্মানিতে আশির দশকে আত্মহত্যার হার চরমে পৌঁছানোর পর পরের তিন দশকে তা কমে অর্ধেক হয়ে আসে৷ ২০০৭ সাল থেকে কিন্তু আত্মহত্যার হার আবার বাড়ছে৷ বছরে দশ হাজার মানুষের আত্মহত্যা ছাড়াও, আত্মহত্যার প্রচেষ্টা করেন অন্তত এক লক্ষ মানুষ৷

আত্মহত্যার পরিসংখ্যানের অসুবিধা হল এই যে, তা অঙ্কের মতো; অঙ্ক আছে, কিন্তু উত্তরটা নিজেই আঁক কষে বার করে নিতে হয়৷ যেমন জার্মানিতে ৯০ শতাংশ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে কোনো মানসিক রোগের কারণে৷ অথবা: বেশি বয়সের মানুষরাই বেশি আত্মহত্যা করে থাকেন৷ অপরদিকে তরুণ-কিশোরদের মধ্যে দুর্ঘটনার পরেই আত্মহত্যা হল মৃত্যুর অন্যতম কারণ৷ ১৫ থেকে ২৫ বয়সিদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রচেষ্টা সবচেয়ে বেশি; এক্ষেত্রে আবার তরুণ মহিলারাই সবচেয়ে বেশি আত্মহত্যার প্রচেষ্টা করে থাকেন৷ কিন্তু সব মিলিয়ে যারা আত্মহত্যা করেন, তাদের ৭০ শতাংশই পুরুষ৷ আত্মহত্যা করার সময় আত্মহন্তাদের গড় বয়স দাঁড়ায় ৫৭৷

Deutsche Welle DW Arun Chowdhury

অরুণ শঙ্কর চৌধুরী

চিকিৎসকদের মধ্যে আত্মহত্যার হার ও প্রবণতা দেখলে চমকে যেতে হয়: পুরুষ ডাক্তারদের আত্মহত্যার হার সাধারণ নাগরিকদের চেয়ে ৩ দশমিক ৪ গুণ বেশি; মহিলা ডাক্তারদের ক্ষেত্রে তা ৫ দশমিক ৭ গুণ! দেশের কারাগারগুলিতে বন্দিদের মধ্যে আত্মহত্যাই হলো মৃত্যুর প্রথম কারণ৷

১৯৮০ থেকে ২০০৭ অবধি যে আত্মহত্যার সংখ্যা কমে অর্ধেক হয়ে গিয়েছিল,তার একটা কারণ সম্ভবত আশির দশকের সূচনায় জার্মানিতে মানসিক চিকিৎসা সংক্রান্ত সংস্কার৷ সেযাবৎ আরো অনেক ছোট ছোট মানসিক রোগের হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্র সৃষ্টি করা হয়েছে৷ এছাড়া মানসিক বিষাদ, সাইকোসিস বা মনোবৈকল্য ইত্যাদি রোগের জন্য ওষুধপত্রের প্রভূত উন্নতি ঘটেছে৷ সবচেয়ে বড় কথা, সুইসাইড বা আত্মহত্যা আর সমাজে ‘ট্যাবু' নয়, তা নিয়ে কথাবার্তা বলা চলে, সাহায্য খোঁজা ও নেওয়া চলে৷

গায়ানা

ক্যারিবীয় দেশ গায়ানায় আত্মহত্যার হার সবচেয়ে বেশি৷ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে, ২০১২ সালে সেখানকার প্রতি এক লক্ষ মানুষের মধ্যে ৪৪.২ জন আত্মহত্যা করেছে৷ প্রচণ্ড দারিদ্র্য, মাত্রাতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন এর কারণ বলে জানা গেছে৷ তরল বিষ পান করেই গায়ানার মানুষ বেশি আত্মহত্যা করেছে৷

উত্তর কোরিয়া

তালিকায় গায়ানার পরেই উত্তর কোরিয়ার অবস্থান৷ প্রতি বছর গড়ে সেখানে প্রায় ১০ হাজার মানুষ আত্মহত্যা করে৷ মানবাধিকার লঙ্ঘন, আর্থিক দৈন্যতা, সরকারি নির্যাতনের ভয় থেকে সৃষ্ট চাপ – এসব কারণে সেদেশের মানুষ আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়৷

দক্ষিণ কোরিয়া

চাকরির চাহিদা পূরণের চাপ এবং পড়ালেখা ও সামাজিক চাপের কারণে দক্ষিণ কোরীয়রা আত্মহত্যা করে থাকে৷ বিশেষ করে নভেম্বরে কলেজ ভর্তি পরীক্ষার আগে আত্মহত্যার হার যায় বেড়ে৷ বিষয়টি এতটাই উদ্বেগজনক যে, সরকার সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোর উপর নজরদারি করে সম্ভাব্য আত্মহত্যা ঠেকানোর পদক্ষেপ নিয়ে থাকে৷ জাতিসংঘের হিসেবে ২০১২ সালে সেদেশে এক লক্ষ জনের মধ্যে ২৮.৯ জন আত্মহত্যা করেছে৷

শ্রীলঙ্কা

দক্ষিণ এশিয়ায় শ্রীলঙ্কাতেই সবচেয়ে বেশি মানুষ আত্মহত্যা করে৷ ২০১২ সালে সে দেশে প্রতি এক লক্ষের মধ্যে ২৮.৮ জন আত্মহত্যা করে৷ দারিদ্র্য ও বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা এর কারণ বলে জানা গেছে৷

লিথুয়েনিয়া

ইউরোপের মধ্যে এই দেশটিতেই আত্মহত্যার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি৷ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে, ২০১২ সালে লিথুয়েনিয়ার এক লক্ষ মানুষের মধ্যে ২৮.২ জন আত্মহত্যা করেছে৷ সামাজিক ও আর্থিক সমস্যাই সেখানকার মানুষের আত্মহত্যার মূল কারণ৷ গত শতকের নব্বইয়ের দশকে দেশটিতে আত্মহত্যার হার আরও বেশি ছিল৷

বাংলাদেশের অবস্থান?

জাতিসংঘের হিসেবে ২০১২ সালে বাংলাদেশের প্রতি এক লক্ষ মানুষের মধ্যে গড়ে ৭.৮ জন আত্মহত্যা করেছে৷ এর মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ৬.৮, আর নারীর সংখ্যা ৮.৭৷ অর্থাৎ নারীরা পুরুষের চেয়ে বেশি সংখ্যায় আত্মহত্যা করেছে৷ যদিও জাতিসংঘের হিসেবে ২০১২ সালে বিশ্বব্যাপী পুরুষদের আত্মহত্যার সংখ্যা মেয়েদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বেশি ছিল৷

জার্মানিতে আত্মহত্যা নিবারণ সমিতি বহুদিন ধরেই আছে, যেমন আছে বিপন্ন ও পীড়িতদের জন্য বিভিন্ন হটলাইন – কেননা যে আত্মহত্যা করার কথা ভাবছে, তার সবচেয়ে আগে প্রয়োজন একজন কথা বলার লোক৷ সমৃদ্ধ সমাজে একাকীত্বের সমস্যাটা ব্যাপক, কাজেই সাইকোথেরাপির সাহায্য নেওয়াই বোধহয় ভালো: মানুষজন আজকাল সে রকম সাহায্য নিতে আগের চেয়ে অনেক কম দ্বিধা করেন৷

মনে রাখতে হবে, বিশেষ করে কম বয়সের মানুষদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রচেষ্টা এক হিসেবে এসওএস, মানে সাহায্য প্রার্থনা: ‘‘আমাকে বাঁচাও!'' কাজেই চিকিৎসক ও মনস্তত্ত্ববিদরা আর এর মধ্যে কোন আত্মহত্যার প্রচেষ্টাটা ‘আন্তরিক', আর কোনটা শুধু মনোযোগ আকর্ষণ করার চেষ্টা, এই অবান্তর ভেদাভেদ করেন না৷ যারা একবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে,তাদের মধ্যে প্রতি তৃতীয়জন আবার আত্মহত্যার চেষ্টা করবে – প্রতি দশজনের একজন কোনো না কোনোদিন সত্যিই আত্মহত্যা করবে৷ এই হলো বাস্তব সত্য৷

কাজেই জার্মানি জুড়ে আছে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন হটলাইন, ক্রাইসিস লাইন, টেলিফোন কাউন্সেলিং – আর সে সব নম্বর হাতের কাছে না থাকলে, ১১২ এমার্জেন্সি তো আছেই!

কেমন আছে নিজের সন্তান ?

অনেক মা-বাবা প্রায়ই জানেন না যে তাদের আদরের সন্তান কেমন আছে৷ ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সিদের মৃত্যুর প্রধান কারণ দুর্ঘটনা আর দ্বিতীয় স্থানেই রয়েছে আত্মহত্যা৷ জার্মানিতে প্রায় প্রতিদিনই দু’একজন আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে৷

শেষ চিঠি

লেনার মা সুজানে বলেন, তাঁর মেয়ে ১৬ বছর বয়সে ব্লেড এবং ছুরি দিয়ে কয়েকবারই আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলো৷ প্রথমদিকে বাবা-মা বা স্কুলের শিক্ষক কেউ সেটা খেয়ালই করেনি৷ চিঠির বাক্সে লেনার লেখা বিদায়ী চিঠি পেয়ে বুঝেছেন, যে তাঁর মেয়ে মানসিক সমস্যায় ভুগছে, জরুরি সাহায্য বা চিকিৎসার প্রয়োজন৷

অনুভূতির প্রকাশ

হাইডেলব্যার্গ ইউনিভার্সিটি ক্লিনিকের প্রফেসার ড. রমুয়াল্ড ব্রুনার বলেন, যদি কেউ নিজের হাত বা পায়ের রগ কেটে ফেলে বা এ ধরনের কিছু একটা করে বসে, তাহলে বুঝতে হবে এটা ওদের রাগ, দুঃখ বা হতাশার প্রকাশ মাত্র৷

নিজেকে কষ্ট দেওয়া

১৪ থেকে ১৬ বছর বয়সি কিশোর-কিশোরীদের ওপর একটি সমীক্ষা চালানো হয় এবং সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের পরিচয় গোপন রাখা হয়৷ সমীক্ষার ফলাফলে ছেলেদের মধ্যে ৮ জন এবং মেয়েদের মধ্যে ১৮ জন স্বীকার করেছে, তাদের এই ছোট্ট জীবনে অন্তত তিনবার হাত পা কেটেছে, নিজেদের কষ্ট দিয়েছে, তাদের জীবনের দুঃখ, কষ্ট বা হতাশা ভুলে যাবার জন্য৷

ইন্টারনেট, ফেসবুক, মোবাইল

আজকের আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির যুগে এই প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা অনেকেই যোগাযোগের জন্য বেছে নেয় কৃত্রিম মাধ্যম ইন্টারনেট, ফেসবুক৷ তাদের মধ্যে অনেকেই ইন্টারনেট নেশাগ্রস্ত৷ এদের অনেকের মতে, মোবাইল ছাড়া জীবন চলাই সম্ভব নয়৷

আসল বন্ধু পাওয়া যায়না

একথা ঠিক, যে আজকের দিনে ইন্টারনেটের মাধ্যমে যোগাযোগ অনেক সহজ হয়েছে এবং ব্যবহারও হচ্ছে৷ কিন্তু শেষ পর্যন্ত এসব যোগাযোগ আসল বন্ধু পেতে কোনো কাজে আসেনা৷ বরং এসব বিষণ্ণতার দিকেই ঠেলে নিয়ে যায় এবং ভয় ও আত্মহত্যার চিন্তা করতে সহায়তা করে৷

বসঃসন্ধিকাল

ছেলে মেয়েদের বসঃসন্ধির সময় ওদের আত্মসম্মানবোধ, অকারণেই মন খারাপ হওয়া বা ঘুমের সমস্যা দেখা দেওয়া প্রাকৃতিক নিয়মেই ঘটে থাকে৷ তবে এ সব সমস্যা যদি ঘনঘন দেখা দেয় বা বাড়াবাড়ি হয়, তাহলে সেটা মানসিক অসুস্থতা বলেই ধরতে হবে এবং চিকিৎসকের সাহায্য নিতে হবে, বলেন ড.ব্রুনার৷

শিক্ষকদের এগিয়ে আসতে হবে

কিশোর-কিশোরীদের এই ধরনের সমস্যায় স্কুলের শিক্ষকদের আরো বেশি এগিয়ে আসতে হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা৷

আলোচনা করতে হবে

মানসিক সমস্যায় শিশু, কিশোর, তরুণ, যুবক, ছোট-বড় অনেকেই ভোগে এবং আত্মহত্যার মতো পথ বেছে নেয়৷ এ ধরনের সমস্যাগুলোর শুরুতেই গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন মনোবিজ্ঞানীরা৷

শরীর চর্চা

রাগ, দুঃখ বা হতাশা থেকে সহজে বের হওয়ার উপায় শারীরিকভাবে বা অন্য কোনোভাবে ব্যস্ত থাকা৷ কোনো কাজে যুক্ত হওয়া৷ হতে পারে খেলাধুলা বা যে কোনো ধরনের শরীরচর্চা৷ হতে পারে বাগানের কাজে কাউকে সাহায্য করা, যে কাজ সত্যিকার অর্থেই মনকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে পারে৷

হাইডেলব্যার্গ ইউনিভার্সিটি ক্লিনিকের প্রফেসার ড. রমুয়াল্ড ব্রুনার বলেন, যদি কেউ নিজের হাত বা পায়ের রগ কেটে ফেলে বা এ ধরনের কিছু একটা করে বসে, তাহলে বুঝতে হবে এটা ওদের রাগ, দুঃখ বা হতাশার প্রকাশ মাত্র৷

বিজ্ঞান পরিবেশ | 07.01.2014

যুদ্ধপরবর্তী জার্মানিতে আশির দশকে আত্মহত্যার হার চরমে পৌঁছানোর পর পরের তিন দশকে তা কমে অর্ধেক হয়ে আসে৷ ২০০৭ সাল থেকে কিন্তু আত্মহত্যার হার আবার বাড়ছে৷ বছরে দশ হাজার মানুষের আত্মহত্যা ছাড়াও, আত্মহত্যার প্রচেষ্টা করেন অন্তত এক লক্ষ মানুষ৷

আত্মহত্যার পরিসংখ্যানের অসুবিধা হল এই যে, তা অঙ্কের মতো; অঙ্ক আছে, কিন্তু উত্তরটা নিজেই আঁক কষে বার করে নিতে হয়৷ যেমন জার্মানিতে ৯০ শতাংশ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে কোনো মানসিক রোগের কারণে৷ অথবা: বেশি বয়সের মানুষরাই বেশি আত্মহত্যা করে থাকেন৷ অপরদিকে তরুণ-কিশোরদের মধ্যে দুর্ঘটনার পরেই আত্মহত্যা হল মৃত্যুর অন্যতম কারণ৷ ১৫ থেকে ২৫ বয়সিদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রচেষ্টা সবচেয়ে বেশি; এক্ষেত্রে আবার তরুণ মহিলারাই সবচেয়ে বেশি আত্মহত্যার প্রচেষ্টা করে থাকেন৷ কিন্তু সব মিলিয়ে যারা আত্মহত্যা করেন, তাদের ৭০ শতাংশই পুরুষ৷ আত্মহত্যা করার সময় আত্মহন্তাদের গড় বয়স দাঁড়ায় ৫৭৷

Deutsche Welle DW Arun Chowdhury

অরুণ শঙ্কর চৌধুরী

চিকিৎসকদের মধ্যে আত্মহত্যার হার ও প্রবণতা দেখলে চমকে যেতে হয়: পুরুষ ডাক্তারদের আত্মহত্যার হার সাধারণ নাগরিকদের চেয়ে ৩ দশমিক ৪ গুণ বেশি; মহিলা ডাক্তারদের ক্ষেত্রে তা ৫ দশমিক ৭ গুণ! দেশের কারাগারগুলিতে বন্দিদের মধ্যে আত্মহত্যাই হলো মৃত্যুর প্রথম কারণ৷

১৯৮০ থেকে ২০০৭ অবধি যে আত্মহত্যার সংখ্যা কমে অর্ধেক হয়ে গিয়েছিল,তার একটা কারণ সম্ভবত আশির দশকের সূচনায় জার্মানিতে মানসিক চিকিৎসা সংক্রান্ত সংস্কার৷ সেযাবৎ আরো অনেক ছোট ছোট মানসিক রোগের হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্র সৃষ্টি করা হয়েছে৷ এছাড়া মানসিক বিষাদ, সাইকোসিস বা মনোবৈকল্য ইত্যাদি রোগের জন্য ওষুধপত্রের প্রভূত উন্নতি ঘটেছে৷ সবচেয়ে বড় কথা, সুইসাইড বা আত্মহত্যা আর সমাজে ‘ট্যাবু' নয়, তা নিয়ে কথাবার্তা বলা চলে, সাহায্য খোঁজা ও নেওয়া চলে৷

গায়ানা

ক্যারিবীয় দেশ গায়ানায় আত্মহত্যার হার সবচেয়ে বেশি৷ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে, ২০১২ সালে সেখানকার প্রতি এক লক্ষ মানুষের মধ্যে ৪৪.২ জন আত্মহত্যা করেছে৷ প্রচণ্ড দারিদ্র্য, মাত্রাতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন এর কারণ বলে জানা গেছে৷ তরল বিষ পান করেই গায়ানার মানুষ বেশি আত্মহত্যা করেছে৷

উত্তর কোরিয়া

তালিকায় গায়ানার পরেই উত্তর কোরিয়ার অবস্থান৷ প্রতি বছর গড়ে সেখানে প্রায় ১০ হাজার মানুষ আত্মহত্যা করে৷ মানবাধিকার লঙ্ঘন, আর্থিক দৈন্যতা, সরকারি নির্যাতনের ভয় থেকে সৃষ্ট চাপ – এসব কারণে সেদেশের মানুষ আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়৷

দক্ষিণ কোরিয়া

চাকরির চাহিদা পূরণের চাপ এবং পড়ালেখা ও সামাজিক চাপের কারণে দক্ষিণ কোরীয়রা আত্মহত্যা করে থাকে৷ বিশেষ করে নভেম্বরে কলেজ ভর্তি পরীক্ষার আগে আত্মহত্যার হার যায় বেড়ে৷ বিষয়টি এতটাই উদ্বেগজনক যে, সরকার সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোর উপর নজরদারি করে সম্ভাব্য আত্মহত্যা ঠেকানোর পদক্ষেপ নিয়ে থাকে৷ জাতিসংঘের হিসেবে ২০১২ সালে সেদেশে এক লক্ষ জনের মধ্যে ২৮.৯ জন আত্মহত্যা করেছে৷

শ্রীলঙ্কা

দক্ষিণ এশিয়ায় শ্রীলঙ্কাতেই সবচেয়ে বেশি মানুষ আত্মহত্যা করে৷ ২০১২ সালে সে দেশে প্রতি এক লক্ষের মধ্যে ২৮.৮ জন আত্মহত্যা করে৷ দারিদ্র্য ও বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা এর কারণ বলে জানা গেছে৷

লিথুয়েনিয়া

ইউরোপের মধ্যে এই দেশটিতেই আত্মহত্যার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি৷ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে, ২০১২ সালে লিথুয়েনিয়ার এক লক্ষ মানুষের মধ্যে ২৮.২ জন আত্মহত্যা করেছে৷ সামাজিক ও আর্থিক সমস্যাই সেখানকার মানুষের আত্মহত্যার মূল কারণ৷ গত শতকের নব্বইয়ের দশকে দেশটিতে আত্মহত্যার হার আরও বেশি ছিল৷

বাংলাদেশের অবস্থান?

জাতিসংঘের হিসেবে ২০১২ সালে বাংলাদেশের প্রতি এক লক্ষ মানুষের মধ্যে গড়ে ৭.৮ জন আত্মহত্যা করেছে৷ এর মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ৬.৮, আর নারীর সংখ্যা ৮.৭৷ অর্থাৎ নারীরা পুরুষের চেয়ে বেশি সংখ্যায় আত্মহত্যা করেছে৷ যদিও জাতিসংঘের হিসেবে ২০১২ সালে বিশ্বব্যাপী পুরুষদের আত্মহত্যার সংখ্যা মেয়েদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বেশি ছিল৷

জার্মানিতে আত্মহত্যা নিবারণ সমিতি বহুদিন ধরেই আছে, যেমন আছে বিপন্ন ও পীড়িতদের জন্য বিভিন্ন হটলাইন – কেননা যে আত্মহত্যা করার কথা ভাবছে, তার সবচেয়ে আগে প্রয়োজন একজন কথা বলার লোক৷ সমৃদ্ধ সমাজে একাকীত্বের সমস্যাটা ব্যাপক, কাজেই সাইকোথেরাপির সাহায্য নেওয়াই বোধহয় ভালো: মানুষজন আজকাল সে রকম সাহায্য নিতে আগের চেয়ে অনেক কম দ্বিধা করেন৷

মনে রাখতে হবে, বিশেষ করে কম বয়সের মানুষদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রচেষ্টা এক হিসেবে এসওএস, মানে সাহায্য প্রার্থনা: ‘‘আমাকে বাঁচাও!'' কাজেই চিকিৎসক ও মনস্তত্ত্ববিদরা আর এর মধ্যে কোন আত্মহত্যার প্রচেষ্টাটা ‘আন্তরিক', আর কোনটা শুধু মনোযোগ আকর্ষণ করার চেষ্টা, এই অবান্তর ভেদাভেদ করেন না৷ যারা একবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে,তাদের মধ্যে প্রতি তৃতীয়জন আবার আত্মহত্যার চেষ্টা করবে – প্রতি দশজনের একজন কোনো না কোনোদিন সত্যিই আত্মহত্যা করবে৷ এই হলো বাস্তব সত্য৷

কাজেই জার্মানি জুড়ে আছে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন হটলাইন, ক্রাইসিস লাইন, টেলিফোন কাউন্সেলিং – আর সে সব নম্বর হাতের কাছে না থাকলে, ১১২ এমার্জেন্সি তো আছেই!

কেমন আছে নিজের সন্তান ?

অনেক মা-বাবা প্রায়ই জানেন না যে তাদের আদরের সন্তান কেমন আছে৷ ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সিদের মৃত্যুর প্রধান কারণ দুর্ঘটনা আর দ্বিতীয় স্থানেই রয়েছে আত্মহত্যা৷ জার্মানিতে প্রায় প্রতিদিনই দু’একজন আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে৷

শেষ চিঠি

লেনার মা সুজানে বলেন, তাঁর মেয়ে ১৬ বছর বয়সে ব্লেড এবং ছুরি দিয়ে কয়েকবারই আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলো৷ প্রথমদিকে বাবা-মা বা স্কুলের শিক্ষক কেউ সেটা খেয়ালই করেনি৷ চিঠির বাক্সে লেনার লেখা বিদায়ী চিঠি পেয়ে বুঝেছেন, যে তাঁর মেয়ে মানসিক সমস্যায় ভুগছে, জরুরি সাহায্য বা চিকিৎসার প্রয়োজন৷

অনুভূতির প্রকাশ

হাইডেলব্যার্গ ইউনিভার্সিটি ক্লিনিকের প্রফেসার ড. রমুয়াল্ড ব্রুনার বলেন, যদি কেউ নিজের হাত বা পায়ের রগ কেটে ফেলে বা এ ধরনের কিছু একটা করে বসে, তাহলে বুঝতে হবে এটা ওদের রাগ, দুঃখ বা হতাশার প্রকাশ মাত্র৷

নিজেকে কষ্ট দেওয়া

১৪ থেকে ১৬ বছর বয়সি কিশোর-কিশোরীদের ওপর একটি সমীক্ষা চালানো হয় এবং সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের পরিচয় গোপন রাখা হয়৷ সমীক্ষার ফলাফলে ছেলেদের মধ্যে ৮ জন এবং মেয়েদের মধ্যে ১৮ জন স্বীকার করেছে, তাদের এই ছোট্ট জীবনে অন্তত তিনবার হাত পা কেটেছে, নিজেদের কষ্ট দিয়েছে, তাদের জীবনের দুঃখ, কষ্ট বা হতাশা ভুলে যাবার জন্য৷

ইন্টারনেট, ফেসবুক, মোবাইল

আজকের আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির যুগে এই প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা অনেকেই যোগাযোগের জন্য বেছে নেয় কৃত্রিম মাধ্যম ইন্টারনেট, ফেসবুক৷ তাদের মধ্যে অনেকেই ইন্টারনেট নেশাগ্রস্ত৷ এদের অনেকের মতে, মোবাইল ছাড়া জীবন চলাই সম্ভব নয়৷

আসল বন্ধু পাওয়া যায়না

একথা ঠিক, যে আজকের দিনে ইন্টারনেটের মাধ্যমে যোগাযোগ অনেক সহজ হয়েছে এবং ব্যবহারও হচ্ছে৷ কিন্তু শেষ পর্যন্ত এসব যোগাযোগ আসল বন্ধু পেতে কোনো কাজে আসেনা৷ বরং এসব বিষণ্ণতার দিকেই ঠেলে নিয়ে যায় এবং ভয় ও আত্মহত্যার চিন্তা করতে সহায়তা করে৷

বসঃসন্ধিকাল

ছেলে মেয়েদের বসঃসন্ধির সময় ওদের আত্মসম্মানবোধ, অকারণেই মন খারাপ হওয়া বা ঘুমের সমস্যা দেখা দেওয়া প্রাকৃতিক নিয়মেই ঘটে থাকে৷ তবে এ সব সমস্যা যদি ঘনঘন দেখা দেয় বা বাড়াবাড়ি হয়, তাহলে সেটা মানসিক অসুস্থতা বলেই ধরতে হবে এবং চিকিৎসকের সাহায্য নিতে হবে, বলেন ড.ব্রুনার৷

শিক্ষকদের এগিয়ে আসতে হবে

কিশোর-কিশোরীদের এই ধরনের সমস্যায় স্কুলের শিক্ষকদের আরো বেশি এগিয়ে আসতে হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা৷

আলোচনা করতে হবে

মানসিক সমস্যায় শিশু, কিশোর, তরুণ, যুবক, ছোট-বড় অনেকেই ভোগে এবং আত্মহত্যার মতো পথ বেছে নেয়৷ এ ধরনের সমস্যাগুলোর শুরুতেই গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন মনোবিজ্ঞানীরা৷

শরীর চর্চা

রাগ, দুঃখ বা হতাশা থেকে সহজে বের হওয়ার উপায় শারীরিকভাবে বা অন্য কোনোভাবে ব্যস্ত থাকা৷ কোনো কাজে যুক্ত হওয়া৷ হতে পারে খেলাধুলা বা যে কোনো ধরনের শরীরচর্চা৷ হতে পারে বাগানের কাজে কাউকে সাহায্য করা, যে কাজ সত্যিকার অর্থেই মনকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে পারে৷

এ বিষয়ে আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের ঘরে৷