ব্লগ

জার্মানিতে কেউ ‘চাষি’ হতে চায় না...

অথচ এ দেশে চাষিরা কিছু দীন-দরিদ্র নন৷ হয় তাঁদের জমিজমা, ট্র্যাক্টর, যন্ত্রপাতি সবই রয়েছে, নয়ত তাঁরা কোনো কৃষিখামারে বেশ ভালো মাইনেতে চাকরি করেন৷ তবুও তরুণ প্রজন্মের অধিকাংশ চাষবাসের দিকে যেতে চান না৷

BdT Deutschland Königssee (Reuters/M. Rehle)

পরিস্থিতি নতুন কিছু নয়৷ বছর পাঁচেক আগে একটা ধুয়ো উঠেছিল যে, জার্মান কৃষিতে একটা ‘নাখভুক্স-প্রবলেম' দেখা দিয়েছে বা দিতে চলেছে৷ ‘নাখভুক্স' বলতে বোঝায় তরুণ প্রজন্ম বা পরের প্রজন্ম – এক কথায় কমবয়সি লোকজন, তা তাঁরা খামারমালিকই হন আর খামারের কর্মচারী বা প্রশিক্ষণার্থীই হন৷

বহু কৃষিজীবী নাকি চিন্তায় পড়েছিলেন, তাঁরা ছেড়ে দেবার পর তাঁদের সাধের খামারের কী হবে, কে তার ভার নেবে অথবা কিনবে৷ ২০১০ সালের একটি জরিপ অনুযায়ী নাকি ৪৫ বছরের বেশি বয়সের খামারমালিকদের ক্ষেত্রে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ মোটামুটি জানতেন, তাঁদের পর কে খামারের দায়িত্ব নেবে৷ খামারগুলোয় ‘আউসসুবিল্ডেন্ডে' বা প্রশিক্ষণার্থীদের সংখ্যাও কমছে বছরের পর বছর৷ ওদিকে জার্মান কৃষিজীবীদের এক-তৃতীয়াংশের বয়স নাকি ৫৫ পেরিয়েছে৷ আগেই বলা হয়েছে, এ সব হল ২০১০ সালের খবর৷

২০১২ সালে দক্ষিণ জার্মানির বাডেন-ভ্যুর্টেমব্যার্গ রাজ্য থেকে খবর আসে, মাত্র ২০ শতাংশ খামারের ক্ষেত্রে বর্তমান কৃষিজীবী অবসর নেবার পর কে খামারের ভার নেবেন, তা নিশ্চিত৷ এর পিছনে যে মানবিক ট্র্যাজেডি লুকিয়ে রয়েছে, তা বোঝা যায় গেবহার্ড হাইম ও তাঁর স্ত্রীর কাহিনি থেকে৷ হাইম দম্পতি বোডেনজে হৃদের কাছে একটি পশুপালনের খামার চালাতেন৷ তাঁদের পাঁচ সন্তানের মধ্যে কেউই সেই খামারের ভার নিতে রাজি নন৷ কৃষিকাজ মানে নাকি বড় বেশি পরিশ্রম, বড় কম অবসর, বড় নীচু পারিশ্রমিক৷ কমবয়সিদের তাতে রুচি নেই৷

পূর্বাঞ্চলে

পুনর্মিলনের পর জার্মানির পূর্বাঞ্চলে এই সমস্যা ধীরে ধীরে আরো সঙ্গীন হয়ে দাঁড়ায়, কেননা কমিউনিস্ট পূর্ব জার্মানিতে চাষ করা হতো কৃষি উৎপাদন সমবায়ের ভিত্তিতে, সরকারি পরিভাষায় যার নাম ছিল এলপিজি৷ পুনর্মিলনের পরেও পূর্বাঞ্চলের খামারগুলো অপেক্ষাকৃত বড় আকারের রয়ে গেছে; কর্মচারীরাই এখানে মূলত খামারের কাজ সারেন৷ কাজেই এখানে ‘নাখভুক্স' বলতে বোঝাবে প্রধানত ট্র্যাক্টর-চালক থেকে শুরু করে ইঞ্জিনিয়ার বা খামার ম্যানেজার অবধি সব ধরনের কর্মচারী৷ ওদিকে পূর্ব জার্মানি থেকে তরুণরা পশ্চিমে পালাতে আকুল৷

বুলগেরিয়া কিংবা রাশিয়ার মতো পুবের কৃষিধর্মী দেশ থেকে লোক এনে কৃষি কর্মচারীর অভাব পূরণের আশা আশাই থেকে গেছে৷ এমনকি সিরিয়া বা ইরাক থেকে সম্প্রতি যে সব উদ্বাস্তুরা এসেছেন, তাদের দিয়েও সে অভাব মেটানো যায়নি, কেননা জার্মান কৃষি অনেক বেশি আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর; উদ্বাস্তুরা কৃষিকাজ বলতে যা বোঝেন, পশ্চিমের আধুনিক কৃষিকাজের সঙ্গে তার সাদৃশ্য কম৷ কাজেই জার্মানির পূর্বাঞ্চলের খামারগুলিতে আরো বড় আকারের যন্ত্রপাতি ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তি নিয়োগ করে পরিস্থিতি সামাল দেবার চেষ্টা করা হয়েছে৷

Deutsche Welle DW Arun Chowdhury (DW/P. Henriksen)

অরুণ শঙ্কর চৌধুরী, ডয়চে ভেলে

আরটিএল টেলিভিশনের একটি প্রোগ্রাম গত কয়েক বছর ধরে জার্মানিকে মাতাচ্ছে; সেটি হলো ‘বাউয়ার্ন সুখ্ট ফ্রাউ', বা ‘চাষি খুঁজছেন সঙ্গিনী'৷ সাথীহীন কৃষিজীবীদের খামারে আসছেন মহিলারা, এই হলো অনুষ্ঠানের কাঠামো৷ জার্মান কৃষিজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি গ্যার্ড সনলাইটনার অনুষ্ঠানটিকে বিশেষভাবে অপছন্দ করতেন৷ তাঁর যুক্তি ছিল, ঐ অনুষ্ঠানে কৃষিজীবীদের স্থূল ও বুদ্ধিহীন হিসেবে দেখানো হয়েছে

সনলাইটনার স্মরণ করিয়ে দেন যে, কৃষি হলো বিশ্ব অর্থনীতির প্রাচীনতম অংশগুলির মধ্যে একটি এবং কৃষি চিরকালই থাকবে, এমনকি মোটর গাড়ি নির্মাণ শিল্প অন্তর্হিত হবার পরেও৷ বিশ্বের জনসংখ্যা বাড়ছে, সেই সঙ্গে বাড়ছে খাদ্যের প্রয়োজন৷ জার্মানি আজ বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম খাদ্য রপ্তানিকারক দেশ৷ সেদেশে কৃষিজীবীদের নিয়ে মশকরা? 

আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

Albanian Shqip

Amharic አማርኛ

Arabic العربية

Bengali বাংলা

Bosnian B/H/S

Bulgarian Български

Chinese (Simplified) 简

Chinese (Traditional) 繁

Croatian Hrvatski

Dari دری

English English

French Français

German Deutsch

Greek Ελληνικά

Hausa Hausa

Hindi हिन्दी

Indonesian Bahasa Indonesia

Kiswahili Kiswahili

Macedonian Македонски

Pashto پښتو

Persian فارسی

Polish Polski

Portuguese Português para África

Portuguese Português do Brasil

Romanian Română

Russian Русский

Serbian Српски/Srpski

Spanish Español

Turkish Türkçe

Ukrainian Українська

Urdu اردو