জার্মানি

জার্মানিতে নির্বাচনের আগে আলোচনায় ‘ফেক নিউজ'

ফেক নিউজ জার্মান নির্বাচনে কোনো বড় ভূমিকা নিতে পারে, এ আশঙ্কা অমূলক প্রমাণিত হয়েছে৷ এছাড়া রাজনীতির খেলায় অপবাদ বা অপপ্রচার নতুন কিছু নয়৷

default

২০১৭ সালের জার্মান নির্বাচনে এ পর্যন্ত কোনো বড় কেলেঙ্কারি মাথা চাড়া দেয়নি ও ২৪শে সেপ্টেম্বর অবধি পরিস্থিতি সেরকমই থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে৷ নিন্দুকরা তখন স্বস্তির নিঃশ্বাস ছেড়ে বলতে পারবেন, ‘‘নাহ, এবারের নির্বাচনে ফেক নিউজ কোনো বড় ভূমিকা নিতে পারেনি৷''

ফেক নিউজ পদবাচ্য সবচেয়ে নজরকাড়া ঘটনাটি ঘটেছে একটি নির্বাচনি পোস্টারকে কেন্দ্র করে৷ চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের সিডিইউ দলের ঐ ‘ফেক' পোস্টারে স্লোগান হিসেবে যা দেখানো হয়েছিল, ‘‘এমন একটি জার্মানির জন্য, যেখানে আমরা সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্যে বাস করি৷''  সেটি আদতে সাবেক পূর্ব জার্মানির কমিউনিস্ট এসইডি দলের একটি পোস্টার থেকে নেওয়া৷ যেহেতু ম্যার্কেল সাবেক পূর্ব জার্মানির মানুষ, সেহেতু এই পন্থায় তাঁকে চিরন্তন কমিউনিস্ট হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল৷ অবশ্যই সে প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে৷ 

জার্মানিতে ফেক নিউজ সংক্রান্ত উদ্বেগ কোনোদিনই আতঙ্কের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি – এবং সেই উদ্বেগের আদত উৎস ছিল ২০১৬ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন৷ বর্তমানে জার্মানির রাজনৈতিক দলগুলি ফেক নিউজ নিয়ে বিশেষ চিন্তিত নয়৷

সিডিইউ

সিডিইউ দলের মূল চিন্তা হল, গণতান্ত্রিক বিতর্কের ধারার উপর ফেক নিউজ কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে৷ সিডিইউ দলের মুখ্য কার্যালয় থেকে ডয়চে ভেলেকে বলা হয় যে, ইন্টারনেটে কোথায় ফেক নিউজ ছড়ানো হচ্ছে, সেদিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখা হচ্ছে৷ একদিকে যেমন ফেক নিউজকে মাত্রাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না, অপরদিকে তেমন ফেক নিউজ সংক্রান্ত গতিবিধিকে নির্দোষ বলেও গণ্য করা হচ্ছে না: ‘‘(ফেক নিউজ) অনাস্থা ছড়ায় ও নাগরিকদের মনে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করে৷'' তবে অপরাপর দলের মতো সিডিইউ একক ফেক নিউজগুলি সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করে না অথবা পালটা পদক্ষেপ নেয় না, বলে দলীয় কার্যালয় থেকে জানানো হয়৷

সবুজ দল 

সবুজরা তাদের ‘ইন্টারনেট দমকলের' উপর ভরসা রাখে৷ এই ‘দমকল' হল মোট ৩,০০০ সদস্যের একটি সীমিত ফেসবুক গোষ্ঠী, যারা দলের দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো ফেক নিউজ ছড়ানো হচ্ছে দেখলেই সতর্ক করে দেয়৷ চলতি নির্বাচনি প্রচার অভিযানে তা দশ-বিশ বার ঘটেছে, বলে ক্যামপেইন পরিচালক রব্যার্ট হাইনরিশ জানালেন৷ তবে সবুজদের ‘দমকল' ইন্টারনেটে যে শুধু আক্রমণের মোকাবিলা করে, এমন নয়, তারা সবুজদের নির্বাচনি বক্তব্যও পেশ করে থাকে – বললেন হাইনরিশ৷

বামদল

ফেক নিউজের ব্যাপারে বামদলেরও কোনো আতঙ্ক নেই৷ ‘‘আমাদের ক্ষেত্রে তা প্রায় ঘটে না, বলা চলে'', জানালেন টোমাস লোমায়ার, যিনি বার্লিনে বামদলের মুখ্য কার্যালয়ে জনসংযোগ সংক্রান্ত গতিবিধির দায়িত্বে৷ কেন যে বামদল ফেক নিউজের লক্ষ্য হয় না, লোমায়ার তা বলতে পারেন না৷ অপরদিকে সাদ্দাম হুসেইনের গণবিধ্বংসী মারণাস্ত্র থাকার ‘ফেক নিউজ' থেকেই যে ইরাক যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, লোমায়ার তা স্মরণ করিয়ে দিলেন৷ কাজেই ফেক নিউজকে নতুন কিছু বলা চলে না৷ 

এসপিডি

ফেক নিউজের ক্ষেত্রে এসপিডি দলের মনোভাব আধা সবুজ দল ও আধা সিডিইউ-এর সঙ্গে মেলে৷ একদিকে যেমন এসপিডি দৃশ্যত সবুজদের মতো সক্রিয় প্রতিরোধে বিশ্বাসী, অপরদিকে তেমন এসপিডি তাদের ফেক নিউজ সংক্রান্ত নীতির খুঁটিনাটি নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা করতে রাজি নয়৷ সিডিইউ-এর মতোই ইন্টারনেটের উপর সতর্ক নজর রাখা হয় ও ক্ষেত্রবিশেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ফেক নিউজের বিরুদ্ধে কী করা হবে বা হবে না – দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে৷

মার্সেল ফ্যুর্স্টেনাউ/এসি

জার্মান নির্বাচন নিয়ে আপনার কোনো প্রশ্ন থাকলে লিখুন নীচে মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

Albanian Shqip

Amharic አማርኛ

Arabic العربية

Bengali বাংলা

Bosnian B/H/S

Bulgarian Български

Chinese (Simplified) 简

Chinese (Traditional) 繁

Croatian Hrvatski

Dari دری

English English

French Français

German Deutsch

Greek Ελληνικά

Hausa Hausa

Hindi हिन्दी

Indonesian Bahasa Indonesia

Kiswahili Kiswahili

Macedonian Македонски

Pashto پښتو

Persian فارسی

Polish Polski

Portuguese Português para África

Portuguese Português do Brasil

Romanian Română

Russian Русский

Serbian Српски/Srpski

Spanish Español

Turkish Türkçe

Ukrainian Українська

Urdu اردو