জার্মানির রহস্যময় গুহাজগতের রোমাঞ্চ

আজকের যুগেও পৃথিবীর অনেক প্রান্তে মানুষের পা পড়েনি, এমনটা বিশ্বাস করা কঠিন৷ জার্মানির মধ্যে এক আশ্চর্য জলাধারকে ঘিরে এমনই এক রহস্যজনক জগত রয়েছে৷ ডুবুরি গবেষকরা ধীরে ধীরে সেখানে অনুসন্ধান চালাচ্ছেন৷

জার্মানির অন্যতম রহস্যময় জলাধারগুলির একটি হলো ব্লাউটফ৷ সেখানে আজও নতুন করে অনেক কিছু আবিষ্কার করার আছে৷ উপর থেকে যা দেখা যায় না, তা হলো, পানির গভীরে এক লুকানো জগত রয়েছে৷ অসংখ্য গুহা পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত৷ এখনো সব অংশে মানুষ প্রবেশ করেনি৷

সংস্কৃতি

বাচকোভো মনাস্ট্রি

বুলগেরিয়ায় ৮০ লাখ মানুষের বাস৷ অথচ সেখানে মঠের সংখ্যা ২৩৭টি৷ এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই৷ কেননা ১১শ’ বছর আগে বুলগেরিয়া ছিল গোঁড়া খ্রিস্টানদের আখড়া৷ এই মনাস্ট্রিটা ১০৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত৷

সংস্কৃতি

ন্যাশনাল থিয়েটারের সামনের উদ্যান, সোফিয়া

যদিও রাজধানী সোফিয়া হাজার বছরের পুরোনো, কিন্তু একে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যেন এটা একেবারে নতুন এবং চিরসবুজ৷ ন্যাশনাল থিয়েটারের সামনে যে উদ্যানটি রয়েছে সেটা মানুষের আড্ডা দেয়ার জন্য ভীষণ জনপ্রিয়৷

সংস্কৃতি

সন্ত সোফিয়ার মূর্তি

ব্রোঞ্জের এই মূর্তিটিকে এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই৷ এটি দৈর্ঘ্যে ৮ দশমিক ৮ মিটার, ওজন ৫ টন৷ ২০০১ সালে শহরের মেয়র এই মূর্তিটি নির্মাণ করান৷ আপনার কাছে এটিকে সুন্দর মনে হোক আর না হোক এটি সোফিয়ার একটি নতুন ল্যান্ডমার্ক৷

সংস্কৃতি

বানিয়া বাশি মসজিদ, সোফিয়া

৫ শতক ধরে বুলগেরিয়া তুর্কিদের দখলে ছিল৷ এই বিশাল মসজিদটি অটোমান সাম্রাজ্যের কথা মনে করিয়ে দেয়৷ ষোড়শ শতাব্দীতে এটি নিমার্ণ করা হয় এবং এখনও এখানে নামাজ পড়েন মুসল্লিরা৷

সংস্কৃতি

শিপকা পাস এর স্মৃতিস্তম্ভ

১৮৭৮ সালে রাশিয়ার সহযোগিতায় বুলগেরিয়া স্বাধীনতা লাভ করে৷

সংস্কৃতি

ভেলিকো তারনোভো

এই বলকান রেঞ্জ ৬০০ কিলোমিটার বিস্তৃত লম্বা পাহাড়ি রেঞ্জ, যা একই নামে পরিচিত৷ উত্তর ও দক্ষিণে এটি বুলগেরিয়াকে বিভক্ত করেছে৷ বুলগেরিয়ার পুরোনো রাজধানী ভেলিকো তারনোভো, উত্তরে অবস্থিত৷

সংস্কৃতি

ডেভেতাস্কা গুহা

ডেভেতাকি গ্রামের কাছে ডেভেতাস্কা গুহাটি বুলগেরিয়ার অন্যতম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের একটি৷

সংস্কৃতি

প্লোভদিভ

রোমের মত প্লোভদিভ সাতটি পাহাড়ের উপর অবস্থিত৷ তবে বুলগেরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহরটি ৮ হাজার বছরের পুরোনো৷

সংস্কৃতি

প্লোভদিভ অ্যাম্ফিথিয়েটার

এই প্রাচীন মার্বেল থিয়েটারটি রোমানদের অন্যতম সুন্দর নিদর্শনের একটি৷ ত্রাজান সম্রাটের অধীনে থাকাকালীন এটি নির্মিত হয়৷

জার্মানির সেরা ডুবুরি গবেষকদের অনেকেই সেই রহস্য সমাধান করতে চান৷ এমনিতে তাঁরা মিস্ত্রী, ডাক্তার বা অর্থনীতিবিদ হিসেবে কাজ করেন৷ কিন্তু সময় পেলেই তাঁরা এই গুহারাজ্যের রহস্য উন্মোচনে ডুব দেন৷ গুহা গবেষক ইয়খেন মালমান বলেন, ‘‘যেখানে কেউ কখনো যায়নি, সেখানে যাবার রোমাঞ্চই আলাদা৷ সেই সব জায়গা আবিষ্কারই হয়নি৷ ফলে রোমাঞ্চ তো থাকবেই৷’’

পানির নীচে গুহার মধ্যে ডুবুরি হিসেবে বিচরণ করা অত্যন্ত কঠিন কাজ৷ সরু পথে বারবার ওঠানামা করলে চাপ সামলানো মুশকিল হয়ে পড়ে৷ সমস্যা দেখা দিলে ডুবুরিকে সেই পথ দিয়েই আবার ফিরে আসতে হয়৷ বেশ কয়েকজন ব্লাউটফে এভাবে মারা গেছে৷ গুহা গবেষক আন্দ্রেয়াস ক্যুশা বলেন, ‘‘মানুষ নিজেই সবচেয়ে বড় বিপদ, বিশেষ করে তার মাথার মধ্যে যা চলে৷ মানসিকভাবে সে যদি এমন পরিস্থিতি সামলাতে না পারে, তখন মারাত্মক ভয়ের এক চক্র তার মৃত্যুর কারণ হতে পারে৷’’

গবেষকরা এই গুহা ও পানির পথ সম্পর্কে আরও জানতে চান৷ গোটা এলাকার আয়তন ১৬০ কিলোমিটারের বেশি৷ বৃষ্টির পানি চুঁইয়ে ব্লাউটফে জমা হয়৷

অন্বেষণ | 12.04.2016
সংস্কৃতি

শহরে ঢোকার দরজা

খাগড়াছড়ি শহরের প্রবেশমুখে ‘খাগড়াছড়ি গেইট’৷

সংস্কৃতি

পাখির চোখে

কুয়াশায় ঢাকা খাগড়াছড়ি শহরের ‘বার্ডস আই ভিউ’৷ পুরো খাগড়াছড়ি জেলা জুড়ে পাহাড় আর পাহাড় থাকলেও, এর জেলা শহরটি ‍কিন্তু একেবারেই সমতলে অবস্থিত৷

সংস্কৃতি

শীতে শান্ত, বর্ষায় ভয়ংকর

খাগড়াছড়ি শহরের পাশ দিয়ে বয়ে চলা সর্পিল আঁকা বাঁকা পাহাড়ি নদী ‘চেঙ্গী’৷ শীতে পাহাড়ি এ নদী শুকিয়ে গেলেও বর্ষায় পাহাড়ি ঢলে ভয়ংকর রূপ ধারণ করে৷

সংস্কৃতি

নদীর বাণিজ্যিক ব্যবহার

খাগড়াছড়ির চেঙ্গী নদীতে বাঁশের ভেলা৷ খাগড়াছড়ির বিভিন্ন পাহাড় থেকে বাঁশ কেটে এ নদী দিয়ে ভাসিয়ে নেয়া হয় দেশের নানান প্রান্তে৷

সংস্কৃতি

দুর্গম পথ

পুরো খাগড়াছড়ি জেলাজুড়েই আছে এমন দুর্গম পাহাড়ি পথ৷ আঁকা বাঁকা এ সব পথে চলতে চারপাশের প্রাকৃতিক দৃশ্য মুগ্ধ করে পর্যটকদের৷

সংস্কৃতি

বিভিন্ন নৃ-গোষ্ঠীর জীবন দেখা

খাগড়াছড়ি শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার নুনছড়ি এলাকায় ‘দেবতার পাহাড়’৷ দুর্গম এ পাহাড়ে দেখা মিলবে এ সব এলাকায় বসবাসরত নৃ-গোষ্ঠী, তাঁদের সংগ্রামী জীবনধারা৷

সংস্কৃতি

দেবতার পুকুর

নুনছড়ি এলাকার দেবতার পাহাড়ের চূড়ায় দেবতার পুকুর৷ এর আরেক নাম ‘মাতাই পুখিরি’৷ ত্রিপুরা ভাষায় ‘মাতাই’ শব্দের অর্থ দেবতা আর ‘পুখিরি’ শব্দের অর্থ পুকুর৷ স্থানীয়দের বিশ্বাস, দেবতার আশীর্বাদে পাহাড় চূড়ার এ পুকুরের পানি কখনো কমে না৷ দেবতার পুকুরের পাড়েই আছে একটি শিব মন্দির৷ এই মন্দিরকে ঘিরেই প্রতিবছর চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষ্যে সেখানে বসে তীর্থ মেলা৷

সংস্কৃতি

রিসাং ঝরনা

খাগড়াছড়ি শহর থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে মনোরম প্রাকৃতিক ঝরনা রিসাং৷ বিশাল পাথুরে জায়গার এক প্রান্ত থেকে অঝোরে বইছে এই জলপ্রপাত৷ রিসাংয়ের চারপাশে পাহাড়ের নিস্তব্ধতা ভেঙে অবিরাম বয়ে চলছে রিসাংয়ের জলধারা৷ শীতের শুরু থেকে গ্রীষ্ম পর্যন্ত ঝরনায় পানির প্রবাহ কম থাকে, বর্ষায়ে বেড়ে যায়৷

সংস্কৃতি

আলুটিলা পাহাড়

খাগড়াছড়ির আলুটিলা পাহাড়ে সূর্যাস্ত৷ শহর থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরের এ পাহাড় থেকে খাগড়াছড়ি শহর আর চেঙ্গী নদীকে পাখির চোখে দেখা যায়৷

সংস্কৃতি

প্রাচীন গুহা

আলুটিলা পাহাড়ের নীচে প্রাচীন গুহা৷ পাহাড়ের চূড়া থেকে ২৬৬টি ধাপের একটি সিঁড়ি নেমে গেছে গুহাপথের মুখে৷ গুহার ভেতর দিয়ে বয়ে চলছে শীতল জলধারা৷

সংস্কৃতি

গুহায় অ্যাডভেঞ্চার

আলুটিলা গুহাপথে পর্যটক৷ এ গুহার একপ্রান্ত থেকে ঢুকে অন্য প্রান্তে পায়ে হেঁটে পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ১৫ মিনিট৷ ঘুটঘুটে অন্ধকার এ গুহায় প্রবেশ করতে হয় মশাল নিয়ে৷ প্রবেশ পথেই কিনতে পাওয়া যায় এ মশাল৷

সংস্কৃতি

ঝুলন্ত সেতু

খাগড়াছড়ি শহরের পাশেই জেলা পরিষদের হর্টিকালচার পার্ক৷ লেক ঘেরা এ জায়গাটির মূল আকর্ষণ দোদুল্যমান ঝুলন্ত সেতু৷

সংস্কৃতি

নৃ-গোষ্ঠীর বাস

খাগড়াছড়ি জেলায় চাকমা, ত্রিপুরা, মারমাসহ নানান ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষেরা বাস করেন৷ জেলার সর্বত্রই পর্যটকদের জন্য এ সব নৃ-গোষ্ঠীর জীবনধারা দেখার সুযোগ আছে৷

সংস্কৃতি

জুম চাষ

খাগড়াছড়ির পাহাড়ে জুম চাষের জন্য পাহাড় প্রস্তুত করছেন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীরা মানুষেরা৷

সংস্কৃতি

সবুজ পাহাড়

জুমের ফসলে ছেয়ে গেছে পাহাড়৷ জেলার সর্বত্রই দেখা যায় জুমের ফসলে ভরপুর সবুজ এরকম পাহাড়৷

সংস্কৃতি

তামাক চাষ

খাগড়াছড়ির দীঘি-নালায় মাইনি নদীর তীরে তামাক চাষ৷ স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হলেও আগাম ঋণপ্রাপ্তি ও ক্ষেত থেকেই বিক্রির সুযোগ থাকায় ব্যাপকহারে তামাক চাষে ঝুঁকছেন খাগড়াছড়ির পাহাড়ি কৃষকরা৷

ডাইভার প্রোপালশন ভেহিকেলে চেপে পানির নীচে ২০ মিটার গভীরে যাওয়া যায়৷ সেখানে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ গুহার প্রবেশপথ৷ উলটো দিকের স্রোত সেখানে বেশ শক্তিশালী৷ তার চাপে ডুবুরিদের দেয়ালের সঙ্গে ধাক্কা খাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে৷ প্রবেশপথের অন্যদিকে অন্ধকার৷ প্রায় এক ঘণ্টা পর ডুবুরিরা প্রথম বার মাথা তুললেন৷

বিশাল খোলা জায়গাটির নাম ম্যোরিকে ক্যাথিড্রাল৷ মাটির ৪০ মিটার নীচে এই জায়গাটি বাইরের জগত থেকে বিচ্ছিন্ন৷ ডুবুরিদের কিছু হলে বাইরে থেকে সাহায্য পাবার কোনো আশা নেই৷ কিন্তু কৌতূহলের বশে তাঁরা এগিয়ে চলেছেন৷ তাঁরা নতুন পথ ও অন্যান্য গুহার সঙ্গে সংযোগ খুঁজে পেতে চান৷ কয়েক বছর আগে গবেষকরা প্রথমবার এই গোপন পথের অস্তিত্ব জানতে পারেন৷

পাথরের অদ্ভুত কারুকর্যভরা জাদুময় এক জগতের মধ্য দিয়ে হেঁটে চলার রোমাঞ্চই আলাদা৷ আন্দ্রেয়াস ক্যুশা বলেন, ‘‘মনে সব সময়ে উত্তেজনা কাজ করে৷ বিশাল এই প্যাসেজের মধ্য দিয়ে যেতে যেতে প্রথমে কোনো উপলব্ধি হয় না৷ আবিষ্কারের দু-একদিন পর মনে সেই বোধ আসে৷ কারণ, এখানে যে এমন অপরূপ সুন্দর কিছু থাকতে পারে, কেউ তা ভাবেনি৷’’

অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় এই মানুষগুলি এই পাতাল জগতের সামগ্রিক পরিমাপ করতে চান৷ তার জন্য জমির উপর থেকে প্রবেশের এক পথের প্রয়োজন রয়েছে, যাতে সব সাজসরঞ্জাম পৌঁছানো যায়৷ বিশেষ ড্রিলিং যন্ত্রের সাহায্যে মাটিতে প্রায় ২০ মিটার গভীর এক গর্ত খোঁড়া হয়েছে৷ ‘স্টেয়ারওয়ে টু হেভেন’ নামের এক সদ্য-আবিষ্কৃত গুহায় বেরিয়ে আসতে চান তাঁরা৷ সেই লক্ষ্য কি সফল হবে?