1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

জার্মানির রাজনীতি

ব্যার্নড গ্র্যাসলার/আরবি১ জানুয়ারি ২০১৪

জার্মানির নতুন মহাজোট সরকার সদ্য যাত্রা শুরু করলো৷ ২০১৪ সালে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হবে এই সরকার৷ ইউরো রক্ষা কর্মসূচি, ইন্টারনেটে আড়ি পাতা, বিশ্ব আর্থ সংকট – এই সব কিছুই করতে হবে এ সরকারকে৷

https://p.dw.com/p/1AjVL
ছবি: Reuters

বৃহৎ কোয়ালিশনের বড় বড় কাজেরও সুরাহা করা উচিত৷ তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসীন হয়ে এ কথা বললেন চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল৷ তবে আলৌকিকভাবে কিছু ঘটে যাবে, এমনটি আশা করা ঠিক হবে না৷ ২০১৪ সালে পা দিয়েও গত বছরের মতো অনেক কিছু করতে হবে৷ সামলাতে হবে অনেক সমস্যা৷

কয়েকটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে

চ্যান্সেলর ম্যার্কেল কয়েকটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছেন৷ যেমন শক্তিশালী অর্থনীতি, সুশৃঙ্খল বাজেট, ঋণ ভারের রাশ টানা ইত্যাদি৷ অর্থমন্ত্রী শয়েবলে ছয় বিলিয়ন ইউরোর বেশি ঋণ করবেন না বলে জানিয়েছেন৷ ২০১৫ সালে নতুন কোন ঋণ করা হবে না বলে আশা করেন তিনি৷ তবে অর্থনৈতিক প্রক্রিয়াটা যদি এইভাবেই চলতে থাকে৷

Bundeswehr-Einsatz in Afghanistan
আফগানিস্তান থেকে জার্মান সেনা প্রত্যাহারের কাজ শেষ করা হবে ২০১৪ সালেছবি: dapd

পারমাণবিক জ্বালানি কর্মসূচি থেকে সরে আসা ও বিকল্প জ্বালানি শক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিতে কিছুটা বাধার সম্মুখীন হচ্ছে সরকার৷ জার্মানির আগের সরকার বৃহৎ শিল্প কারখানাগুলিকে পরিবেশ বান্ধব জ্বালানিতে উত্তরণের ব্যাপারে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল৷ এটি দিতে রাজি নয় ব্রাসেলস-এর ইউরোপীয় কমিশন৷ অন্যদিকে সাধারণ ভোক্তাদের জন্য বিদ্যুতের মূল্য কমানো হবে৷ এইসব কারণে আগামী ইস্টারের মধ্যে বিকল্প-জ্বালানি-আইনের সংস্কার করতে হবে৷

প্রতিযোগিতার বাজারে শক্তিশালী হবে অর্থনীতি

জার্মান অর্থনীতিকে প্রতিযোগিতার বাজারে শক্তিশালী হতে হবে৷ ইন্টারনেটের প্রসার ঘটিয়ে এ জন্য পরিকাঠামো সৃষ্টি করতে হবে৷ এমনটাই আশা সরকারের৷

Aussenminister Frank-Walter Steinmeier 17. Dez. 2013
নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রাংক স্টাইনমায়ারছবি: picture-alliance/dpa

অর্থনৈতিক সংকটে পড়া দেশগুলিতে বিপুল পরিমাণে অর্থ সাহায্যের ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷ সেই সব দেশের ক্ষেত্রেই ঝুঁকি নেওয়া হবে, যারা সুশৃঙ্খলিত বাজেট ও প্রতিযোগিতার বাজারে দক্ষতা দেখাতে পারবে৷

ইউরোপে যুব বেকারত্বের হার কমানো ব্যাপারে প্রচেষ্টা চালাবেন ম্যার্কেল৷ এ জন্য অন্যান্য দেশ থেকে যোগ্য তরুণদের জার্মানিতে আসা, চাকরি ও প্রশিক্ষণের সুযোগ সুবিধা করে দেওয়া হবে৷ মে মাসে ইউরোপীয় সংসদের নির্বাচনের আগেই এই পদক্ষেপ নিতে চান ম্যার্কেল৷ কেননা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কট্টর দক্ষিণপন্থি দলগুলি যুব বেকারত্বের সুযোগে সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জন করার চেষ্টা করছে৷

মানুষের কাজের অধিকারকে আধুনিকীকরণ করা হবে৷ কর্মক্ষেত্রে সমানাধিকার প্রতিষ্ঠা করা হবে৷ যাঁরা সাময়িকভাবে কাজ করেন তাঁদের প্রতি স্থায়ী কর্মীদের মতোই আচরণ করা হবে৷ ২০১৫ সাল থেকে জার্মানিব্যাপী ন্যূনতম মজুরি ৮.৫০ ইউরো কার্যকর করা হবে৷

জার্মানিতে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়ছে৷ মানুষের গড় বয়স এখন ৪৫৷ এ কারণে সরকারকে সেবা শুশ্রূষার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের কথা বেশি করে ভাবতে হচ্ছে৷ বর্তমানে সেবা নির্ভর মানুষের সংখ্যা ২.৫ মিলিয়নের মতো৷ এর মধ্যে ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত মানুষও রয়েছেন অনেক৷ কিন্তু সেই তুলনায় পর্যাপ্ত সেবক সেবিকা নেই৷ এজন্য বিদেশ থেকে সেবাকর্মী আনার চেষ্টা করা হবে৷ এছাড়া সেবা-পেশার উন্নতি সাধন করার চেষ্টা করা হবে৷

পররাষ্ট্রনীতিতে কয়েকটি বিষয়ে জোর দেওয়া হবে

আফগানিস্তান থেকে জার্মান সেনা প্রত্যাহারের কাজ শেষ করা হবে ২০১৪ সালে৷ এছাড়া নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপিডির ফ্রাংক স্টাইনমায়ারের অধীনে বিদেশে সামরিক কার্যকলাপের ব্যাপারে জার্মানি অনেকটা সংযমী হবে বলে মনে করা হয়৷

দুটি বিষয় নতুন সরকারকে ব্যতিব্যস্ত রাখবে আগামী বছরে৷ একটি হলো অ্যামেরিকান গোয়েন্দা সংস্থা কর্তৃক আড়িপাতার বিষয়টি নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক৷ এই ঘটনাটির মিটমাটের ব্যাপারে বার্লিন ওয়াশিংটনের কাছ থেকে একটা ইঙ্গিত পাওয়ার আশা করছে৷ উল্লেখ্য, আগামী জুন মাসে জি৮ শীর্ষ বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামার সঙ্গে ম্যার্কেলের দেখা হওয়ার কথা৷

দ্বিতীয়টি হলো গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের বিষয়টি৷ ২০১৪-এর ফেব্রুয়ারি মাসে রাশিয়ায় শীতকালীন অলিম্পিক খেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে৷ সেখানে শুধু খেলাধুলাই নয়, মানবাধিকারের মতো রাজনৈতিক বিষয়গুলিও কিছুটা উত্তাপ ছড়াবে৷ যা হয়ত বার্লিন ও মস্কোর সম্পর্ককে নতুন পরীক্ষার সম্মুখীন করবে৷

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য

এই বিষয়ে আরো তথ্য