জ্বালানিবিহীন বিশ্বভ্রমণ: ইতিহাস গড়লো সৌরবিমান

শুধুমাত্র সৌরশক্তিতে ভর করে গোটা পৃথিবী প্রদক্ষিণ শেষ করেছে সৌরবিমান সোলার ইম্পাল্স৷ মঙ্গলবার আবুধাবিতে অবতরণ করার মাধ্যমে বিমানটি সৃষ্টি করেছে মহাজগতের এক বিরল ইতিহাস৷

কোনো ধরনের জ্বালানি ছাড়া, শুধুমাত্র সৌরশক্তির ওপর নির্ভর করে পুরো পৃথিবী ঘুরে এলো সুইস বিমান ‘সোলার ইম্পাল্স ২’ ৷ প্রাকৃতিক, কারিগরিসহ নানারকম চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে সাড়ে ষোল মাসের অভিযান শেষে ৪২,০০০ কিলোমিটার আকাশপথ পাড়ি দিয়ে সর্বশেষ উড্ডয়নস্থল কায়রো থেকে আবুধাবি বিমানবন্দরে বিমানটি অবতরণ করান সুইস চালক বার্ট্রান্ড পিকার্ড৷ গত বছরের ৯ই মার্চ এই আবুধাবি থেকেই বিশ্বভ্রমণ শুরু হয়েছিল সোলার ইম্পাল্স ২-এর, যা শেষ হয় ২৬শে জুলাই৷



এই বিশাল যাত্রাপথে বিমানটি উড়াল দিয়েছে মোট ১৭ বার৷ ৪ ঘণ্টা ৪১ মিনিটের ছোট ফ্লাইট থেকে শুরু করে ১১৭ ঘণ্টা ৫২ মিনিটের দীর্ঘ, ক্লান্তিকর যাত্রাও রয়েছে সেই পথে৷ দু’জন প্রতিষ্ঠাতা, প্রকৌশলী-ব্যবসায়ী আন্দ্রে বোর্শবার্গ ও মনোবিশেষজ্ঞ এবং বেলুনচালক বার্ট্রান্ড পিকার্ড মিলে চালিয়েছেন বিমানটি৷ পিকার্ড এর আগে ১৯৯৯ সালে ‘ব্রেইটলিং অরবিটার ৩’ নামে একটি বেলুনে করে একটানা বিশ্বভ্ৰমন করার রেকর্ডও গড়েছিলেন৷

‘ক্লিন এনার্জি’ বা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর নয় এমন শক্তির উৎসকে জনপ্রিয় করতে এই পরীক্ষামূলক প্রকল্পের সূচনা হয় ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে, ‘সোলার ইম্পাল্স ১’ বিমানের প্রথম উড্ডয়নের মধ্যে দিয়ে৷ তারপর অনেক সাফল্য ব্যর্থতার গল্প পেরিয়ে ‘সোলার ইম্পাল্স ২’-এর জন্ম হয় ২০১৪ সালে৷ বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ও দূরপাল্লার যাত্রার পর ২০১৫ সালের ৯ মার্চ আবুধাবি থেকে এটি বিশ্ব প্রদক্ষিণে বের হয়, সেই বছরের আগস্ট মাসের মধ্যে তা সম্পন্ন করার প্রত্যয় নিয়ে৷ তবে ২৮শে জুন জাপানের নাগোয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই পর্যন্ত প্রায় ১১৮ ঘণ্টার এক ফ্লাইটে ৭,২১২ কিলোমিটার অতিক্রম করতে গিয়ে বিমানটির ব্যাটারিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং নতুন করে অর্ডার করতে হয়৷ অবশ্য সেই ফ্লাইটটি জ্বালানিবিহীন যে কোনো বিমানের দীর্ঘতম (সময় ও দূরত্ব – দুই হিসেবেই) উড্ডয়নের রেকর্ড সৃষ্টি করে৷

এরপর ভৌগোলিক ও কারিগরি কারণে ‘সোলার ইম্পাল্স ২’-কে হাওয়াইতেই থাকতে হয় ২০১৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত৷ উত্তর গোলার্ধের দিন ছোট হয়ে আসতে থাকার কারণে বিমানটি সেই বছর আর যাত্রায় ফেরেনি৷ তাই ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে পরীক্ষামূলক ফ্লাইটের মাধ্যমে বিমানটিকে প্রস্তুত করে নেয়া হয় এবং অবশেষে ২৮শে এপ্রিল বিমানটি তার বিশ্বপ্রদক্ষিণ পুনরায় শুরু করে৷

জানা যায়, এই বিমানটির ককপিট (চালকের কক্ষ) একটি পাবলিক টেলিফোন বক্সের সমান৷ এতে চালককে অধিক উচ্চতায় থাকার সময় অক্সিজেন মাস্ক পরতে হয়৷ এছাড়া চালক এক নাগাড়ে ২০ মিনিটের বেশি ঘুমানোর সময়ও পান না৷

বাংলাদেশে গ্রামীণ শক্তির যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৬ সালে৷ নবায়নযোগ্য জ্বালানির সুবিধা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি৷ শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান৷

সৌরশক্তি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে বেসরকারি সংস্থা ‘রহিমআফরোজ রিনিউবেল এনার্জি’৷ প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে ঢাকার সচিবালয়ের ছাদে সোলার প্যানেল বসিয়েছে৷ তাদের উৎপাদিত বিদ্যুৎ মেগাওয়াট প্রতি নির্দিষ্ট দামে কিনে নেবে ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কর্তৃপক্ষ৷ (ফাইল ফটো)

কোনো ধরনের জ্বালানি ছাড়া, শুধুমাত্র সৌরশক্তির ওপর নির্ভর করে পুরো পৃথিবী ঘুরে এলো সুইস বিমান ‘সোলার ইম্পাল্স ২’ ৷ প্রাকৃতিক, কারিগরিসহ নানারকম চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে সাড়ে ষোল মাসের অভিযান শেষে ৪২,০০০ কিলোমিটার আকাশপথ পাড়ি দিয়ে সর্বশেষ উড্ডয়নস্থল কায়রো থেকে আবুধাবি বিমানবন্দরে বিমানটি অবতরণ করান সুইস চালক বার্ট্রান্ড পিকার্ড৷ গত বছরের ৯ই মার্চ এই আবুধাবি থেকেই বিশ্বভ্রমণ শুরু হয়েছিল সোলার ইম্পাল্স ২-এর, যা শেষ হয় ২৬শে জুলাই৷



এই বিশাল যাত্রাপথে বিমানটি উড়াল দিয়েছে মোট ১৭ বার৷ ৪ ঘণ্টা ৪১ মিনিটের ছোট ফ্লাইট থেকে শুরু করে ১১৭ ঘণ্টা ৫২ মিনিটের দীর্ঘ, ক্লান্তিকর যাত্রাও রয়েছে সেই পথে৷ দু’জন প্রতিষ্ঠাতা, প্রকৌশলী-ব্যবসায়ী আন্দ্রে বোর্শবার্গ ও মনোবিশেষজ্ঞ এবং বেলুনচালক বার্ট্রান্ড পিকার্ড মিলে চালিয়েছেন বিমানটি৷ পিকার্ড এর আগে ১৯৯৯ সালে ‘ব্রেইটলিং অরবিটার ৩’ নামে একটি বেলুনে করে একটানা বিশ্বভ্ৰমন করার রেকর্ডও গড়েছিলেন৷

‘ক্লিন এনার্জি’ বা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর নয় এমন শক্তির উৎসকে জনপ্রিয় করতে এই পরীক্ষামূলক প্রকল্পের সূচনা হয় ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে, ‘সোলার ইম্পাল্স ১’ বিমানের প্রথম উড্ডয়নের মধ্যে দিয়ে৷ তারপর অনেক সাফল্য ব্যর্থতার গল্প পেরিয়ে ‘সোলার ইম্পাল্স ২’-এর জন্ম হয় ২০১৪ সালে৷ বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ও দূরপাল্লার যাত্রার পর ২০১৫ সালের ৯ মার্চ আবুধাবি থেকে এটি বিশ্ব প্রদক্ষিণে বের হয়, সেই বছরের আগস্ট মাসের মধ্যে তা সম্পন্ন করার প্রত্যয় নিয়ে৷ তবে ২৮শে জুন জাপানের নাগোয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই পর্যন্ত প্রায় ১১৮ ঘণ্টার এক ফ্লাইটে ৭,২১২ কিলোমিটার অতিক্রম করতে গিয়ে বিমানটির ব্যাটারিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং নতুন করে অর্ডার করতে হয়৷ অবশ্য সেই ফ্লাইটটি জ্বালানিবিহীন যে কোনো বিমানের দীর্ঘতম (সময় ও দূরত্ব – দুই হিসেবেই) উড্ডয়নের রেকর্ড সৃষ্টি করে৷

এরপর ভৌগোলিক ও কারিগরি কারণে ‘সোলার ইম্পাল্স ২’-কে হাওয়াইতেই থাকতে হয় ২০১৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত৷ উত্তর গোলার্ধের দিন ছোট হয়ে আসতে থাকার কারণে বিমানটি সেই বছর আর যাত্রায় ফেরেনি৷ তাই ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে পরীক্ষামূলক ফ্লাইটের মাধ্যমে বিমানটিকে প্রস্তুত করে নেয়া হয় এবং অবশেষে ২৮শে এপ্রিল বিমানটি তার বিশ্বপ্রদক্ষিণ পুনরায় শুরু করে৷

জানা যায়, এই বিমানটির ককপিট (চালকের কক্ষ) একটি পাবলিক টেলিফোন বক্সের সমান৷ এতে চালককে অধিক উচ্চতায় থাকার সময় অক্সিজেন মাস্ক পরতে হয়৷ এছাড়া চালক এক নাগাড়ে ২০ মিনিটের বেশি ঘুমানোর সময়ও পান না৷

সৌরবিপ্লব

বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে কার্যত বিপ্লব এনেছে গ্রামীণ শক্তি৷ গত বছরের শুরুতে দশ লাখ সোলার সিস্টেম স্থাপনের রেকর্ড গড়ে তারা৷ ২০১৫ সাল নাগাদ আরো দশ লাখ সোলার সিস্টেম স্থাপনের রেকর্ড গড়তে চায় তারা৷

শুরুর কথা

বাংলাদেশে গ্রামীণ শক্তির যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৬ সালে৷ নবায়নযোগ্য জ্বালানির সুবিধা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি৷ শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান৷

৬৪ জেলায় কার্যক্রম

বাংলাদেশে ৬৪ জেলাতেই কাজ করছে গ্রামীণ শক্তি৷ ২০১৩ সালে প্রকাশিত হিসেব অনুযায়ী, ইতোমধ্যে ৫০ হাজার গ্রামে সেবা পৌঁছে দিয়েছে সংস্থাটি৷ গ্রামীণ শক্তির মাধ্যমে পাওয়া সৌর প্যানেল ব্যবহার করে লাভবানের সংখ্যা আট মিলিয়নের বেশি৷

শুধু গ্রামীণ শক্তি নয়

গ্রামীণ শক্তি ছাড়াও আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে সৌরশক্তি সেবা প্রদান করছে৷ রয়েছে সরকারি উদ্যোগও৷ সরকারি বিভিন্ন ভবনে সৌরশক্তি ব্যবহারের উদ্যোগও শুরু হয়েছে৷ ঢাকায় পরিসংখ্যান ব্যুরো ভবনের ছাদে সোলার প্যানেল বসানো হয়েছে গত বছর৷ (ফাইল ফটো)

জাতীয় গ্রিডের জন্য সৌরশক্তি

সৌরশক্তি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে বেসরকারি সংস্থা ‘রহিমআফরোজ রিনিউবেল এনার্জি’৷ প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে ঢাকার সচিবালয়ের ছাদে সোলার প্যানেল বসিয়েছে৷ তাদের উৎপাদিত বিদ্যুৎ মেগাওয়াট প্রতি নির্দিষ্ট দামে কিনে নেবে ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কর্তৃপক্ষ৷ (ফাইল ফটো)

সহায়তায় জার্মানি

বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিশেষ করে সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়াতে সহায়তা করছে জার্মান আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থা জিআইজেড৷ সোলার প্যানেলে মূল্য বেশি হওয়ায় শুরুতে ভর্তুকিও দিয়েছে জিআইজেড৷ তবে কিস্তিতে সোলার প্যানেল কেনার সুবিধা থাকায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ সহজেই সেগুলো ব্যবহার করতে পারছে৷ (ফাইল ফটো)

লক্ষ্য অর্ধেক জনশক্তি

২০২১ সাল নাগাদ বাংলাদেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীর কাছে সৌরশক্তির সুবিধা পৌঁছে দিতে চান এই খাতের সংশ্লিষ্টরা৷ ডয়চে ভেলেকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে একথা জানান বাংলাদেশে সৌরশক্তি জনপ্রিয় করার অন্যতম কারিগর দীপাল চন্দ্র বড়ুয়া৷