ডয়চে ভেলের দুই সাংবাদিকের সঙ্গে

চলতি বছরের মে মাসের প্রথম দিকে জার্মানিতে এসেছি৷ তিন মাসের জন্য ডয়চে ভেলে বাংলা বিভাগে৷ গত এক দশকে ঢাকার কোনো নিউজ রুমে এত দীর্ঘ সময় আর কোনোদিনই আমি অনুপস্থিত ছিলাম না৷ ঢাকায় রিপোর্টিং করতাম৷ এখানকার কাজ মূলত ডেস্কে৷

এই দুই সংবাদমাধ্যমের কাজের ধরনে বড় একটা মিলও রয়েছে৷ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম এবং ডয়চে ভেলে বাংলা বিভাগ –উভয়েরই লক্ষ্য মূলত বাংলাদেশি পাঠকরা৷ এরপরও নতুন প্রতিষ্ঠানের কাজে রয়েছে নানামুখী নতুন মাত্রা৷

বিশ্ব | 17.10.2010

সেই সঙ্গে দীর্ঘদিন পর নতুন একটা অফিসে কাজ করায় ভিন্নধর্মী একটা অভিজ্ঞতা তো অবশ্যই হয়েছে৷ আমার কাজ করা এই দুই প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত খবর এবং উপস্থাপনায়ও রয়েছে অনেক পার্থক্য৷

ডয়চে ভেলের বন অফিসেই বহু ভাষার বহু দেশের মানুষ কাজ করেন৷ উঠতে বসতে দেখা হয়ে যায় তাঁদের সাথে৷ এ যেন নতুন নতুন সংস্কৃতিকে কাছে থেকে দেখার সুযোগ৷

জার্মানি এসেছি, সাংবাদিকতা করছি৷ তার মানে এটা নয়, আমার তৈরি করা খবর জার্মানরাও পড়ছে৷ নানামুখী ব্যক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে এই মুহূর্তে কেউ সুযোগ দিলেও হয়ত এখানকার মানুষের জন্য সাংবাদিকতা করার পর্যায়ে আমি নেই৷ অন্তত আমার বিশ্বাসটা এ রকমই৷

জার্মানি ইউরোপ | 16.07.2013
Bremen Nina Haase und Sumi Somaskanda Station 5

নিনা হাসে এবং সুমি সমাস্কান্দা

কারণ বিদেশের সাংবাদিকতা মানে মানে কেবল একটি নতুন ভাষায় নয়৷ ভাষার সঙ্গে থাকা জনগোষ্ঠী, তাঁদের জীবন যাত্রা, ইতিহাস-ঐতিহ্য, রাজনীতি, অর্থনীতি, জলবায়ু – পুরো প্যাকেজ৷ পুরো ব্যপারটাই ভিন্ন৷ এমনকি এখানে মানুষের দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগের ধরনও ভূমিকা রাখে৷

আমার মনে হয়, ভিন্ন দেশ থেকে কেউ এসে কোথাওসাংবাদিকতা করতে এ সব বিষয়ে পড়াশোনা করে আসতে হবে৷ কেউ সেটা করতে চাইলে তা খুবই দীর্ঘমেয়াদি ব্যাপার৷ এরপরও এখানকার একেবারে মূল ধারার সাংবাদিকতা দেখার লোভ ভেতরে ভেতরে ছাড়তে পারিনি৷

তাই ডয়চে ভেলের বাংলা বিভাগের নেতৃস্থানীয়দের এই আগ্রহের কথা বলতে কুণ্ঠিতও হইনি৷ যার ধারাবাহিকতায় জার্মান নির্বাচন ঘিরে এখানকার রাজনীতি নিয়ে বেশ কিছু খবর অনুবাদ করি৷

এর মাঝেই একটি খবর ছিল ‘গ্রীষ্ম-যাত্রায়' বের হচ্ছেন ডয়চে ভেলের দুই প্রতিবেদক৷ এরা হচ্ছেন সুমি সমাস্কান্দা এবং নিনা হাসে৷

এরমধ্যে মার্কিন নাগরিক সুমি ২০১১ সাল থেকে ডয়চে ভেলে ইংরেজি বিভাগের উপস্থাপক হিসাবে কাজ করছেন৷ আর নিনা ২০০৫ সাল থেকে ডয়চে ভেলের ইংরেজি এবং জার্মান সংস্করণে প্রতিবেদক, সম্পাদক, অনলাইন লেখক এবং উপস্থাপক হিসাবে কাজ করছেন৷

রাজনীতি

জার্মানির বড় নির্বাচনের বছর

জার্মানিতে চলতি বছর আয়োজন করা হচ্ছে একের পর এক নির্বাচন৷ একদিকে জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল চতুর্থবারের মতো চ্যান্সেলর পদে লড়ছেন, অন্যদিকে পপুলিস্ট পার্টি অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) অভিবাসীবিরোধী অবস্থানের কারণে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে৷ বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এটা নিশ্চিত যে, ২০১৭ সালের শেষে জার্মানির রাজনৈতিক অবস্থা এখনকার মতো থাকবে না৷

রাজনীতি

জুন ১৯: দলের মনোনয়ন জমা দেয়ার দিন ছিল

জার্মানির সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য আবেদনের শেষ দিন ছিল জুন ১৯৷ সেদিন সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে আগ্রহী দলগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়ার আবেদন জানাতে হয়েছে৷

রাজনীতি

জুলাই ৭: কোন কোন দল লড়ছে?

সংসদ নির্বাচনে কোন কোন দল অংশ নিতে পারবে তা ঘোষণা করা হবে এই দিনে৷ যদি কোন দল নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট না হয় তাহলে পরবর্তী চারদিনের মধ্যে জার্মানির সাংবিধানিক আদালতে নালিশ করতে পারবে৷

রাজনীতি

জুলাই ১৭: কারা কারা থাকছেন?

চলতি বছরের ১৭ জুলাইয়ের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের কোন কোন প্রার্থী কোন কোন এলাকায় লড়বেন, তা চূড়ান্ত করতে হবে৷ জার্মানিতে একসঙ্গে দু’টি ভোট দেয়ার সুযোগ রয়েছে৷ প্রথমটি প্রার্থীকে, দ্বিতীয়টি দলকে৷

রাজনীতি

জুলাই ২৭: ব্যালটে নাম উঠানোর লড়াই

যেসব রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিতে সাংবিধানিক আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে, তাদের বিষয়ে রায় ঘোষণা করা হবে এই দিনে৷ ২০১৩ সালে এই পন্থা চালু করা হয়েছিল৷ সেবছর এগারোটি দল আদালতের স্মরণাপন্ন হলেও কেউই মামলা জেতেনি৷

রাজনীতি

আগস্ট ১৩: আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা

জার্মানিতে নির্বাচন শুরুর ছয় সপ্তাহ আগ পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলো আনুষ্ঠানিক প্রচারণার পোস্টার বা টেলিভিশন বিজ্ঞাপন প্রচার করতে পারে না৷ চলতি বছরের জাতীয় নির্বাচনের জন্য আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরুর তারিখ ১৩ আগস্ট৷ এই দিন থেকে দলগুলো তাদের প্রচারণায় কোনো ঘাটতি রাখবে না৷

রাজনীতি

আগস্ট ২০: কে ভোট দিতে পারবেন?

নির্বাচনের মাসখানেক আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তালিকা চূড়ান্ত হবে৷ ভোটার লিস্ট ঘোষণা করবে নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ৷ জার্মানিতে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সি যে কোনো জার্মান নাগরিক ভোট দিতে পারবেন৷ সে হিসেবে চলতি বছর ভোটারের সংখ্যা সাড়ে ৬১ মিলিয়ন৷

রাজনীতি

সেপ্টেম্বর ৩: তিন সপ্তাহ বাকি

এই সময়ের মধ্যে সকল ভোটার পোস্টে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনে ভোট দেয়ার সার্টিফিকেট পাবেন৷ যারা তখন অবধি ভোটার লিস্টে নিজেদের নাম পাননি, তারা রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ পাবেন৷ আর যারা পোস্টের মাধ্যমে ভোট দিতে চান, তারা ব্যালট পেপার চাইতে পারেন৷

রাজনীতি

সেপ্টেম্বর ২৪: নির্বাচনের দিন

অবশেষে সেই মহেন্দ্রক্ষণ৷ জার্মানির জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২৪ সেপ্টেম্বর৷ সেদিন সকাল আটটায় নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হবে, চলবে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত৷ ভোটগণনা সেদিনই শেষ হবে এবং নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ রাতে প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণা করবে৷

রাজনীতি

সেপ্টেম্বর ২৫: বিজয়ী এবং বিজিত

সকল প্রতিনিধি এবং দলগত ভোট গণনা শেষে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা দেয়া হবে ২৫ সেপ্টেম্বর৷ যদি কোনো প্রার্থী তাঁর নির্বাচনী এলাকায় জিততে ব্যর্থ হন, তা সত্ত্বেও দলগত জয়ের কারণে তিনি সংসদে একটি আসন পেতে পারেন৷

রাজনীতি

অক্টোবর ২৪: নতুন সাংসদরা সংসদে

নির্বাচন শেষ হওয়ার এক মাসের মধ্যে নতুন সাংসদদের সংসদে মিলিত হওয়ার নিয়ম রয়েছে৷ এ বছর সেই দিনটি হচ্ছে অক্টোবর ২৪৷ সেদিন গোপন ব্যালটের মাধ্যমে জার্মানির পরবর্তী চ্যান্সেলর নির্বাচিত হবেন৷

রাজনীতি

নভেম্বর ২৪: সবকিছু কি সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ হয়েছে?

যদি কেউ জাতীয় নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে চান, তাহলে তার হাতে সময় থাকে নির্বাচন পরবর্তী দুই মাস৷ ভোটাররাসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট যে কেউ নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার রাখেন এই সময়ের মধ্যে৷

‘গ্রীষ্ম-যাত্রা' মূলত ডয়চে ভেলের নিয়মিত আয়োজন৷ প্রতি বছরই গ্রীষ্মে এ ধরনের যাত্রায় বের হয় ডয়চে ভেলের একটি টিম৷

আগামী সেপ্টেম্বরে জার্মানির সংসদের নিম্নকক্ষ বুন্ডেসটাগের নির্বাচন৷ এ উপলক্ষ্য এবারের গ্রীষ্ম-যাত্রায় নির্বাচনের বিষয়টি মাথায় রেখে পরিকল্পনা করা হয়৷ ঠিক করা হয় ছয়টি ইস্যু৷ যেগুলো নিয়ে কথা বলতে ছয়টি শহরকে ধরে মূলত ছয়টি এলাকা ঠিক করা হয়৷

এ সব এলাকায় গিয়ে দুই প্রতিবেদক সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলছেন, নিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মতামত৷  ডয়চে ভেলের বিভিন্ন মাধ্যমের জন্য খবর সংগ্রহ এবং তৈরি করবেন৷

এখানে বলে রাখা ভালো, ডয়চে ভেলের সদরদপ্তর বনে৷ এখানে সব অনলাইন এবং রেডিও-র কার্যালয়৷ আর টিভির কার্যালয় বার্লিনে৷

সুমি সমাস্কান্দা এবং নিনা হাসে নামে দুই প্রতিবেদক তাঁদের যাত্রা শুরু করেন বার্লিন থেকে৷ যে ছয় শহরকে ঘিরে তাঁরা এই গ্রীষ্ম যাত্রায় আবর্তিত হবেন, তার মধ্যে বনের সবচেয়ে কাছের শহর কোলন৷

জার্মানির সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য নর্থরাইন ওয়েস্টফালিয়ার সবচেয়ে বড় শহর কোলন৷ দুই হাজার বছরের পুরাতন এই শহর জার্মান সংস্কৃতিরও অন্যতম কেন্দ্র৷ এই রাজ্যে সবচেয়ে বেশি মুসলমান বাস করে৷ এ কারণে এখানকার জন্য গ্রীষ্ম-যাত্রায় বিষয় ঠিক করা হয় ‘ইসলাম'৷

‘ইসলাম কি জার্মানিকে বদলে দিচ্ছে' – এই প্রশ্নের জবাব খোঁজা হয় কোলন এবং আশেপাশের এলাকায়৷

গত ৫ মে কোলনের অদূরে বন শহরে আসেন সুমি৷ ঐ দিন বিকালে তাঁদের সাথে একটি মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে দেখা করার কথা৷ এই এলাকাটির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এখানে প্রচুর মুসলিম বাস করে৷

যাই হোক, এত সব কিছু না জেনেই ঠিকানা ধরে ওই এলাকায় যাই৷ এখানে চমৎকার গণপরিবহন ব্যবস্থা থাকলেও ঠিকানা খুঁজে পেতে সুবিধার জন্য ট্যাক্সিতেই যাই৷ ট্যাক্সিওয়ালা নামিয়ে দেয়ার পর আর কাউকে খুঁজে পাচ্ছিলাম না৷ আশেপাশে কয়েকজনকে পেলাম বটে তবে তাঁরা কেউই ইংরেজি একেবারেই বোঝেন না৷ রীতিমত ইশারা ভাষায় কথা বলার মতো দশা৷

পাশেই একটি মসজিদও খুঁজে পেলাম৷ কাভারেজের বিষয় যেহেতু ইসলাম, তাই ঠিকানা চেক করতে সেখানেও একবার উঁকি দিলাম৷ তবে সেখানেও কাউকে খুঁজে পেলাম না৷

সমাজ

২০০৬ সাল

যুক্তরাষ্ট্রের পত্রিকা ‘ওয়াশিংটন পোস্টে’-র সাংবাদিক সুজান স্মিড, জেমস ভি গ্রিমাল্ডি এবং আর. জেফরি স্মিথ সে বছর পেয়েছিলেন এই পুরস্কার৷ সংস্কারের নামে মার্কিন কংগ্রেসে ওয়াশিংটন লবিস্ট জ্যাক আব্রামোফের দুর্নীতির বিষয়ে প্রতিবেদন করেছিলেন তারা৷

সমাজ

২০০৭ সাল

‘দ্য বার্মিংহ্যাম নিউজ’-এর ব্রেট ব্ল্যাকলেজ পেয়েছিলেন এই পুরস্কার৷ একটি প্রতিবেদনের মাধ্যমে রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের দুর্নীতির তথ্য ফাঁস করে দেন তিনি৷ যার ফলে ঐ চ্যান্সেলরকে বরখাস্ত করা হয়েছিল এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল৷

সমাজ

২০০৮ সাল

এ বছর দু’টি পত্রিকা এ পুরস্কার পায়৷ ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’ পত্রিকার ওয়াল্ট বোগদানিচ এবং জেক হুকার পেয়েছিলেন এ পুরস্কার৷ চীন থেকে আমদানিকৃত ওষুধ ও নিত্য ব্যবহার্য দ্রব্যে বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতি সংক্রান্ত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করেছিলেন তারা৷ এছাড়া ‘শিকাগো ট্রিবিউন’-এর এক প্রতিনিধি জিতেছিলেন এই পুরস্কার৷

সমাজ

২০০৯ সাল

‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর ডেভিড বার্সতো পেয়েছিলেন এ পুরস্কার৷ কিছু অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা রেডিও ও টেলিভিশনে বিশ্লেষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে পেন্টাগনের সমর্থনে ইরাক যুদ্ধকে প্রভাবিত করছে৷ তাদের এসব বক্তব্যের কারণে কত কোম্পানি সুবিধাভোগ করছে তাও তুলে ধরা হয় প্রতিবেদনে৷

সমাজ

২০১০ সাল

‘দ্য ফিলাডেলফিয়া ডেইলি নিউজ’-এর বারবারা ল্যাকার ও ওয়েনডি রুডারম্যান এবং ‘নিউইয়র্ক টাইম ম্যাগাজিন’-এর প্র-পাবলিকার শেরি ফিঙ্ক যৌথভাবে এ পুরস্কার জিতেছিলেন৷ একটি অসৎ পুলিশ দলের মাদক চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার ঘটনাটি উদঘাটন করেন ল্যাকার ও রুডারম্যান৷ ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক হৈ চৈ হয়েছিল৷ ফিঙ্ক ঘূর্ণিঝড় ক্যাটরিনা আঘাত হানার পর রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে চিকিৎসকদের মানসিক অবস্থা নিয়ে একটি প্রতিবেদন করেছিলেন৷

সমাজ

২০১১ সাল

‘সারাসোতা হেরাল্ড ট্রিবিউন’-এর পেইজি সেন্ট জন সে বছর পুলিৎজার পেয়েছিলেন৷ ফ্লোরিডার বাড়ি মালিকদের সম্পদের ইনস্যুরেন্সে দুর্বলতা সংক্রান্ত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তাঁকে এ পুরস্কার এনে দিয়েছিল৷

সমাজ

২০১২ সাল

‘অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস’-এর ম্যাট অ্যাপুৎসো, অ্যাডাম গোল্ডম্যান, এইলিন সুলিভান এবং ক্রিস হাওলি সে বছর এই পুরস্কার জিতেছিলেন৷ নিউ ইয়র্ক পুলিশ বিভাগের ‘ক্ল্যানডেস্টাইন গুপ্তচর কর্মসূচি’র আওতায় শহরের মুসলিম সম্প্রদায়ের দৈনন্দিন জীবন যাপনের প্রতি নজর রাখা হচ্ছিল, যা প্রকাশ পায় এপি-র ঐ প্রতিবেদনে৷ প্রতিবেদন প্রকাশের পর কংগ্রেস থেকে কেন্দ্রীয় তদন্ত দাবি করা হয়৷

সমাজ

২০১৩ সাল

‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’ এর ডেভিড বার্সতো এবং আলেহান্দ্রা ইয়ানিক ফন বেরত্রাব এই বছর পুরস্কারটি পান৷ মেক্সিকোতে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে কীভাবে ওয়াল-মার্ট ঘুষ দেয়, সেটা নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করেছিলেন তারা৷

সমাজ

২০১৪ সাল

ওয়াশিংটর ডিসির ‘দ্য সেন্টার ফর পাবলিক ইনটিগ্রিটি’-র ক্রিস হামবি জেতেন এই পুরস্কার৷ কয়লা খনির শ্রমিকদের ফুসফুসের রোগ নিয়ে কয়েকজন আইনজীবী ও চিকিৎসকের প্রতারণার চিত্র তুলে ধরেছিলেন তার প্রতিবেদনে৷ যার ফলে ঐ আইনজীবী ও চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল৷

সমাজ

২০১৫ সাল

এ বছর দুইজন জিতেছেন এই পুরস্কার৷ ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর এরিক লিপটন কংগ্রেস নেতা ও অ্যাটর্নি জেনারেলদের লবিস্টরা তাদের কতটা প্রভাবিত করে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনের জন্য এবং ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর এক প্রতিনিধির স্বাস্থ্য সেবা সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনের জন্য৷

সমাজ

২০১৬ সাল

চলতি বছরে ‘ট্যাম্পা বে টাইমস’-এর লিওনোরা লাপিটার ও অ্যান্থনি কর্মিয়ার এবং ‘দ্য সারাসোতা হেরাল্ড ট্রিবিউন’-এর মাইকেল ব্রাগা জিতেছেন এই পুরস্কার৷ ফ্লোরিডা মানসিক হাসপাতালের অবহেলার অমানবিক চিত্র ফুটে উঠেছিল তাদের প্রতিবেদনে৷

ঠিকানা অনুসারে যদিও আমি সঠিক জায়গাতেই আছি৷ তবে বাড়িটি একেবারে জনশূন্য বলে সন্দেহ হয়৷ এদিক ওদিক ঘুরতে থাকি৷

প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা পর ফিরে এসে দেখি দুই নারী বসে আছেন৷ একজনকে ছবিতে দেখা সুমির মতোই মনে হচ্ছে৷ হ্যাঁ, সুমিই৷ অন্যজন হচ্ছেন ম্যাক্সিমিলিয়ানে কোসচিক৷ তিনি ডয়চে ভেলে বন অফিসে কাজ করেন৷ সুমি এই শহরে আসার পর তিনি তাঁর সঙ্গে যোগ দিয়েছেন৷

এবার আমাদের তিনজনের অপেক্ষা শুরু হলো৷ কিছুক্ষণ পর আফ্রিকান কিছু সাংবাদিক আসলেন৷ আসলেন ডয়চে ভেলে অন্য বিভাগের কয়েকজন সহকর্মীও৷

কথা প্রসঙ্গে জানলাম, এখানে মার্শাল আর্টের দুই শিফটের আমরা থাকবো৷ এর জন্য কর্তৃপক্ষ থেকে পূর্বানুমতিও নেয়া হয়েছে৷ এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, জার্মানিতে অনুমতি ব্যতীত বাচ্চাদের ছবি তোলা যায় না৷ এটা কঠোরভাবে মানা হয়৷ অবশ্য এখানকার সমাজে ঘুরে আমার মনে হয়েছে, বাচ্চাদের সব বিষয়েই তাঁরা খুব স্পর্শকাতর৷

যাই হোক, যেহেতু একটা শিফট বাচ্চাদের, তাই অনুমতির বিষয়টা আরো যত্ন করে নেয়া হয়েছে৷ ঘণ্টাখানেক পর ক্লাবের লোকজন আসে৷ খোলে দরজা৷ আমরা ভেতরে যাই৷ কিছুক্ষণের মধ্যেই অভিভাবকদের সাথে শিশুরাও আসতে শুরু করেন৷

ম্যাক্স ক্যামেরা খুলে ছবি নিতে শুরু করেন৷ তাঁর দেখাদেখি ছবি নিতে থাকি আমিও৷ এভাবে গল্পে-আড্ডা-কাজে কেটে যায় আধা ঘণ্টা৷ এর মধ্যে শিশুদের সংখ্যাও বেড়ে অনেক হয়ে যায়৷ মাঝখানে তারা শরীরচর্চা করছে, প্র্যাকটিস করছে৷ একপাশে সারি বেঁধে বসে আছেন অভিভাবকরা৷

হঠাৎ করে এক লোক এসে ছবি তোলার বিষয়ে আপত্তি জানান৷ জার্মান ভাষায় আপত্তি৷ আমি কিছুই বুঝিনি৷ উদ্বেগ দেখি দুই প্রতিবেদকের চোখে মুখে৷ পরে নিনা ও ম্যাক্স আমাকে বুঝিয়ে বলেন৷

এক অভিভাবকের আপত্তির পর তারা জানান, ক্লাব কর্তৃপক্ষ থেকে অনুমতি নেয়া হয়েছে৷ এরপর ওই অভিভাবক বলেন, না, আমার বাচ্চা, আমি আপত্তি করার পর আপনি আর ছবি তুলতে পারেন না৷

DW | Muha Suliman

সুলাইমান নিলয়, ডয়চে ভেলে

ক্লাব কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তাঁরা জানায়, এভাবে তাঁরা অতীতে অনেককে অনুমতি দিয়েছেন৷ কিন্তু কেউ আপত্তি করেনি৷ কেউ আপত্তি করতে পারে বলে তাঁরা ভাবেনওনি৷

এরপর যেটা দেখলাম, দুই মারকুটে সাংবাদিক তাঁদের সব জিনিসপত্র গুটিয়ে নিলেন৷ এসে বসে পড়লেন বাইরের দুর্বা ঘাসে৷ আমি ভাবছিলাম, জার্মানির সেই আইনের কথা৷ যেখানে বলা হয়েছে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা থাকবে৷ তবে ব্যক্তির অধিকার তারও উপরে৷

অলস আড্ডার মাঝে আমরা তিন জন বের হলাম৷ খেয়ে আসলাম হালকা নাস্তা৷ এক সময় শেষ হয়ে যায় শিশুদের সেই সেশন৷ আমরা ফিরে আসি ক্লাবে৷

এবারে মার্শাল আর্টের শিক্ষার্থীরা নানা বয়সের৷ ১৫-১৬ থেকে শুরু করে একেবারে পরিণত বয়সের ছেলে মেয়েও আছেন৷ ম্যাক্স ভিডিও ক্যামেরা নিয়ে নানাভাবে ছবি নিচ্ছিলেন৷ মাঝে মাঝেই মোবাইল ফোনে তুলছিলেন স্থির ছবিও৷ এরপরই কাজ করছিলেন ফোনে৷

কয়েকবারই দুইজন পিটিসিরও কাজ করছিলেন৷ নিনা দাঁড়াচ্ছেন ক্যামেরার সামনে৷ আর ম্যাক্স পেছনে৷ পিটিসি দিচ্ছিলেন দুই ভাষাতেই৷ জার্মান এবং ইংরেজি৷

মাঝে মাঝে সুযোগমতো তাঁরা মার্শাল আর্টের প্রশিক্ষক, প্রশিক্ষণার্থীদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছিলেন৷ ৩৬০ ডিগ্রি ভিডিও তাঁরা ধারন করেন৷

আরো ঘণ্টা দেড়েক এভাবেই কাটলো৷ এরপর আমাদের বের হওয়ার সময় হলো৷ বের হতে হতে দেখি টুইটারে আমাকে ট্যাগ করে আমার একটি ছবি দিয়েছে নিনা৷ আরো বেশ কিছু টুইট করেছে তাঁরা৷

আলাপে আলাপে জানা গেলো, খবরে ব্যবহারের ছবির পাশাপাশি তাঁরা ডয়চে ভেলের ফেসবুক, টুইটারের জন্য ছবি এবং ছোট ছোট ভিডিও ক্লিপ নিয়েছেন৷ এর মধ্যে পোস্টও করেছেন অনেকগুলো৷ রসদ নেন ইংরেজি ও জার্মান সংস্করনের অনলাইনে লেখার৷ তাঁরা মূলত টিভির জন্যই কাজ করছেন৷ আমাদের টিভি সাংবাদিকদের গতানুগতিক কাজের বাইরে এতগুলো কাজ সামাল দেয়ায় আমি বেশ চমৎকৃত হয়েছি৷

একটা কথা বলতেই হবে নিনা-ম্যাক্সদের কাজের গতি এবং দক্ষতা আমাকে মুগ্ধ করেছে৷

আমাদের দেশেও অনেক দক্ষ সাংবাদিক রয়েছেন৷ যাঁরা হয়ত নিনা বা ম্যাক্সের চেয়েও বেশি যোগ্যতাসম্পন্ন৷ তাঁদের সাথে কাজ করার সৌভাগ্য আমার হয়নি৷ টিভি সাংবাদিকদের কথা বলায় তাঁরা ক্ষিপ্ত হতে পারেন৷

বিষয়টাকে অন্যভাবেও দেখা যায়৷ তাঁদেরকে যদি অনলাইন সাংবাদিক ভাবি৷ তাহলে অনলাইনের কাজও আমরা কত কম করি৷ অনলাইনে যদি তাঁদের সম পরিমাণ কাজও আমরা করে থাকি, তাহলেও এর বাইরে দুই দুইটা ভাষার জন্য টিভি রিপোর্টের কাজ করা আমার মতো অযোগ্যের পক্ষে সম্ভব নয়৷ অন্তত এই মুহূর্তে৷

প্রথম দিকে বলেছিলাম, ভিন্ন দেশে ভিন্ন সংস্কৃতিতে কাজের ক্ষেত্রে অনেক কিছুর জন্য নতুন করে প্রস্তুতি নিতে হয়৷ নিনাও হয়ত নিয়েছে৷ আমার মতো তিনিও জার্মান নন৷ তিনি এসেছেন দূরের দেশ অ্যামেরিকা থেকে৷ মুগ্ধ হওয়ার এটাও একটা কারণ৷ মুগ্ধতা নিয়ে ফিরতে ফিরতে এই দুই সাংবাদিকের সঙ্গে আরো কথা বললাম৷ তাঁদের ছোট ছোট দু'টো সাক্ষাৎকারও নিলাম৷ হয়ত কেবলই নিজের জন্য৷ আগামী দিনে তাঁদের ক্ষিপ্রতা যদি একটু গতিও বাড়ায়, সেই প্রত্যাশায়৷

আরো প্রতিবেদন...