‘তৃণমূল থেকে ফুটবলার তুলে আনার দায়িত্ব ক্লাবগুলোর’

বিশ্ব ফুটবলে বাংলাদেশের ব়্যাংকিং এখন ১৮৮৷ এত খারাপ অবস্থা আগে কখনো হয়নি৷ অথচ গত আট বছর ধরে বাফুফের সভাপতি পদে আছেন বাংলাদেশের ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা কাজী সালাউদ্দিন৷ ব্যর্থতায় তাঁর দায় কতটা?

জনপ্রিয়তার বিচারে ফুটবলের চেয়ে ক্রিকেট অনেকখানি এগিয়ে যাওয়ায় ফুটবল নিয়ে আলোচনা এখন অনেক কমে গেছে৷ তবে সম্প্রতি ভুটানের কাছে হারের পর কিছুদিনের জন্য আবার আলোচনায় এসেছিল ফুটবল৷ আলোচকদের একটি বড় অংশ ফুটবলের এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)-র সভাপতি সালাউদ্দিনকে৷ তৃণমূল থেকে যথেষ্ট ফুটবলার উঠে না আসার কথাও বলছেন কেউ কেউ৷

আপনি কী ভাবছেন?

এখানে ক্লিক করুন ও আলোচনায় যোগ দিন

ডয়চে ভেলেকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ফুটবলের এই পরিণতির কারণগুলো ব্যাখ্যার চেষ্টা করেছেন সালাউদ্দিন৷ তাঁর মতে, প্রতিটি দেশেরই কখনও কখনও এমন সময় আসে যখন মানসম্পন্ন ফুটবলারের সংকট দেখা দেয়৷ এছাড়া অভ্যন্তরীণ সমস্যার কথাও জানান তিনি৷ সালাউদ্দিন বলেন, একবার বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের খেলার আগের দিন বিকালে শেখ জামাল ক্লাব হোটেলে গাড়ি পাঠিয়ে জাতীয় দলের হয়ে খেলা তাদের কয়েকজন ফুটবলারকে জোর করে নিয়ে যায়৷ আরও দু-একটি ক্লাবও মাঝেমধ্যে এমন জোর দেখায়৷

অডিও শুনুন 04:12
এখন লাইভ
04:12 মিনিট
বিষয় | 12.11.2016

Salauddin 1 - MP3-Stereo

তৃণমূল থেকে ফুটবলার উঠে না আসার জন্য ক্লাবগুলোকে দায়ী করেছেন বাফুফে প্রেসিডেন্ট৷ তিনি বলেন, ইউরোপ সহ সারা বিশ্বে তরুণ প্রতিভা খোঁজার কাজগুলো করে ক্লাবগুলো৷ কিন্তু বাংলাদেশের ক্লাবগুলো সেটি করছেনা৷ শেখ জামালের মতো ক্লাব যারা কয়েকবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারাও নতুন কোনো ফুটবলার তৈরি করেনি৷ ‘‘টাকার জোরে তারা (শেখ জামাল) জাতীয় দলের ফুটবলারদের কিনে নিয়ে দল গঠন করে,'' বলেন সালাউদ্দিন৷

তিনি বলেন, ‘‘আমিতো (বাফুফে) একটা অ্যাকাডেমি করে ৩৪-৪০টা ফুটবলার তৈরি করতে পারব৷ কিন্তু ৫০টা ক্লাবের যদি অ্যাকাডেমি থাকে তাহলে তো একসঙ্গে অনেক তরুণ ফুটবলার উঠে আসবে৷''

তবে এই অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে কঠোর হওয়ার আভাস দিলেন বাফুফে প্রেসিডেন্ট৷ তিনি বললেন, কিছুদিনের মধ্যে অনূর্ধ্ব-১৮ ফুটবল লিগ শুরু করবেন৷ প্রত্যেকটি ক্লাবকে বাধ্যতামূলকভাবে সেখানে অংশ নিতে হবে৷ না হলে তাদের লিগে অংশ নিতে দেয়া হবে না বলেও জানান সালাউদ্দিন৷

বাফুফে সভাপতি বলেন, তৃণমূল থেকে ফুটবলার তুলে আনার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ এতদিন ফেডারেশনের ছিল না৷ ফিফার বর্তমান প্রশাসন কিছু টাকা দিয়েছে৷ এছাড়া নিজেরা কয়েকজন মিলে ব্যক্তিগত উদ্যোগে তহবিল জোগাড় করছেন বলেও জানান সালাউদ্দিন৷ জানুয়ারি মাস থেকে বয়সভিত্তিক দলগুলোর জন্য আবাসিক ক্যাম্প শুরুর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে৷ ফলে দুই-তিন বছরের মধ্যে তৃণমূল থেকে ফুটবলার উঠে আসবে বলে আশা করছেন তিনি৷

অডিও শুনুন 09:33
এখন লাইভ
09:33 মিনিট
বিষয় | 12.11.2016

Salauddin 2 - MP3-Stereo

সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করা ফিফার প্রতিনিধি মাইক ফিস্টারের একটি বক্তব্য উল্লেখ করে বাফুফে প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের ফুটবলের সুদিনের স্বপ্ন দেখালেন সাক্ষাৎকারে৷ ফিস্টার বলেছিলেন, ‘‘বাংলাদেশের মতো একবার একই পরিস্থিতিতে পড়েছিল জার্মানি৷ ২০০০ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে তারা গ্রুপ পর্যায় পেরোতে পারেনি৷ তারপর তারা বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করে এগিয়ে এখন তারা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন৷'' তবে বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নতি করা তাঁর একার পক্ষে সম্ভব নয় বলে জানান তিনি৷ এজন্য সালাউদ্দিন ক্লাব ও খেলোয়াড়দের সহায়তা চেয়েছেন আর মিডিয়ার পক্ষ থেকে ‘গঠনমূলক সমালোচনা' প্রত্যাশা করেছেন৷

সাম্প্রতিক সময়ে তাঁকে নিয়ে হওয়া সমালোচনার প্রসঙ্গে সালাউদ্দিন জানান, বাংলাদেশের সবশেষ কোচ বেলজিয়ামের টম সেইন্টফিট চলে যাবার সময় তাঁকে (সালাউদ্দিনকে) বলেছেন, ‘‘ভুটানের সঙ্গে হারের পর ভেবেছিলাম সবাই আমাকে আর খেলোয়াড়দের দায়ী করবে৷ কিন্তু দেখলাম সবাই প্রেসিডেন্টের (বাফুফে সভাপতি) সমালোচনা করছে৷'' বাফুফে সভাপতির চাকরিকে সেইন্টফিট ‘উচ্চ ঝুঁকির চাকরি' বলেছেন - বলেও দাবি করেছেন সালাউদ্দিন ৷

২০০৮ সালে বাফুফের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর মাঠে ফুটবল নিয়মিত করা তাঁর একটি বড় সাফল্য বলে জানান তিনি৷ ‘‘আমি যখন সভাপতি হয়ে আসি তখন মাঠে ফুটবল ছিল না৷ ফুটবলাররা বাফুফে অফিসের সামনে মিছিল মিটিং করতো লিগের জন্য৷ কারণ, লিগ না হলে তো ফুটবলাররা টাকা পায় না৷ আমার মনে হয় আমি এক্ষেত্রে সফল, কারণ, এখন মাঠে ফুটবল আছে৷'' তিনি বলেন, বাফুফের একক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে তিনটি লিগ আয়োজন করা৷ এগুলো হলো প্রফেশনাল লিগ, দ্বিতীয় বিভাগ লিগ ও পাইওনিয়ার লিগ (অনুর্ধ্ব-১৬)৷

আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

খেলাধুলা

১৯৫০-এর বিশ্বকাপের সেই অঘটন

সেবার ফুটবল পরাশক্তি ইংল্যান্ডকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র৷ চুনোপুঁটির কাছে ব্রিটিশ সিংহদের পরাজয়ের খবরটি প্রথমে টেলিপ্রিন্টারে যখন ইংল্যান্ডের এক সংবাদপত্রের অফিসে পৌঁছালো, এক সাংবাদিক নাকি ছাপার ভুল ভেবে ম্যাচের ফলাফল লিখেছিলেন ইংল্যান্ড ১০ যুক্তরাষ্ট্র্র ১৷ সেই ম্যাচে একটি পেনাল্টি ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন মার্কিন গোলরক্ষক ফ্র্যাংক বোরঘি৷ এই খেলা নিয়ে মুভিও হয়েছে, নাম ‘দ্য গেম অফ আওয়ার লাইভস’৷

খেলাধুলা

উত্তর কোরিয়ার ইটালি ‘বধ’

এই অঘটনের সাক্ষী ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ আসর৷ ১৯৩৪ এবং ১৯৩৮-এ বিশ্বকাপ জেতা ইটালি ওই ম্যাচে পুঁচকে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে ড্র করলেই চলে যেতো দ্বিতীয় রাউন্ডে৷ কিন্তু প্যাক দো ইকের গোলে জয় পেয়ে যায় উত্তর কোরিয়া৷ এমন ইতিহাস গড়া গোলে জন্য সরকারের কাছ থেকে একটি গাড়ি উপহার পেয়েছিলেন প্যাক৷

খেলাধুলা

ব্রাজিলের সর্বনাশ

১৯৫০ সালের বিশ্বকাপ আসরটি হয়েছিল ব্রাজিলে৷ ব্রাজিল তখন দুর্দান্ত দল৷ দুর্দান্ত খেলে চ্যাম্পিয়ন হওয়া প্রায় নিশ্চিতই করে ফেলেছিল তারা৷ রিও ডি জানেরোর মারাকানা স্টেডিয়ামে সেদিন উরুগুয়ের সঙ্গে ড্র করলেই হতো৷ কিন্তু ২ লাখ ব্রাজিলীয় দর্শকের উল্লাস মাটি করে ২-১ গোলে হেরে যায় ব্রাজিল৷

খেলাধুলা

কোথায় আলবেনিয়া, কোথায় জার্মানি!

১৯৬৮ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাই পর্ব৷ আলবেনিয়ার মুখোমুখি জার্মানি (তখন পশ্চিম জার্মানি)৷ না জিতলে মূল পর্বে খেলতে পারবে না জার্মানরা৷ সত্যিই জেতা হলো না৷ আলবেনিয়ার সঙ্গে ড্র করে মূল পর্বের আগেই ছিটকে পড়ল জার্মানি৷

খেলাধুলা

জার্মানির স্বপ্নভঙ্গ

১৯৯২ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল৷ জার্মানির মুখোমুখি ডেনমার্ক৷ জার্মানরাই ছিল ফেবারিট৷ কিন্তু জার্মানদের ২-০ গোলে হারিয়ে ডেনিশরাই হয়ে গেল চ্যাম্পিয়ন৷ জার্মানির ওই দলটিই কিন্তু ১৯৯০ সালে বিশ্বকাপ জিতেছিল৷

খেলাধুলা

২০০২ বিশ্বকাপ সেনেগালের চমক

সে আসরের প্রথম ম্যাচ৷ ১৯৯৮ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ বিশ্বকাপে নবাগত সেনেগাল৷ ফ্রান্স ড্র করতে পারে এমন কথাও কেউ ভাবেননি৷ কিন্তু সেনেগালের কাছে ১-০ গোলে হেরে গেল ফ্রান্স৷ ফরাসি তারকা ফুটবলার জিনেদিন জিদান অবশ্য ইনজুরির জন্য সেই ম্যাচে খেলেননি৷

খেলাধুলা

আর্জেন্টিনার হার

১৯৯০ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচটায় খেলেছিল আগের বারের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং সে আসরের নবাগত ক্যামেরুন৷ আর্জেন্টিনার অধিনায়ক মারাদোনাকে আগে নিষ্ক্রিয় করার সব চেষ্টাই করেছেন সেদিন ক্যামেরুনের খেলোয়াড়াররা এবং তাতে সাফল্যও পেয়েছেন৷ মিলানে ক্যামেরুনের কাছে ১-০ গোলের হারটা হজম করতে আর্জেন্টাইনদের খুব কষ্ট হয়েছিল৷

খেলাধুলা

এবং ব্রাজিলের ৭ গোল হজম

২০১৪ বিশ্বকাপের ব্রাজিল-জার্মানি ম্যাচটিকে অনেক ফুটবল বিশেষজ্ঞই অঘটনের তালিকায় রাখেন না৷ তাঁরা মনে করেন, ফুটবলের দুই পরাশক্তির ম্যাচের ফলাফল ৭-১ হলে সেটাকে পরাজিত দলের জন্য বিপর্যয় বলা যায়, তবে অঘটন সেটা নয়৷ তবে বিশেষজ্ঞরা যা-ই বলুন, পাঁচবারের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের এক ম্যাচে ৭ গোল খাওয়া নিশ্চয়ই ফুটবল ইতিহাসে লিখে রাখার মতো ঘটনা৷