বিশ্ব

দেখবেন আপনার সন্তানও যেন হঠাৎ হারিয়ে না যায়

সন্তান হারানো যে কোনো বাবা-মায়ের জন্যই অপরিসীম বেদনার৷ অথচ সন্তান কখন যে হারিয়ে যায় অনেক বাবা-মা তা বুঝতেই পারেন না৷ বোঝেন যখন, তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে, সব বন্ধন ছিঁড়ে সন্তান ততক্ষণে চলে গেছে জীবনের ওপারে৷

গুলশান, ঢাকা

গুলশানের রেস্তোরাঁয় হামলা চালানো জঙ্গিদের পরিচয় জেনে অনেকেই বিস্মিত৷ এত ধনাঢ্য, অভিজাত পরিবারের সন্তানরা কী করে জঙ্গি হয়, ইংরেজি মাধ্যমের স্কুল এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা ‘আধুনিক' তরুণরা কিভাবে ধর্মের নামে এত নৃশংসভাবে মানুষ হত্যা করে – তা তারা ভেবেই পাচ্ছেন না৷ অথচ আর্থিক স্বচ্ছলতা এবং ইংরেজিজ্ঞান কখনোই আধুনিকতা আর মানবিক শিক্ষার নিয়ামক নয়৷ ‘জঙ্গি মানেই মাদ্রাসাছাত্র' – এমন ধারনার অসারতার প্রমান তো আমরা অতীতেও অনেকবার পেয়েছি৷

ব্লগার রাজীব হত্যা মামলার আটজন আসামির সাতজনই যে নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র – তা কি আমরা ভুলে গেছি?

আগের হত্যাকাণ্ডগুলোর আসামীদের সঙ্গে গুলশানের রেস্তোরাঁয় হামলাকারীদের বড় একটা পার্থক্য হলো, এই হামলাকারীদের পরিচয় এবং অপরাধ সম্পর্কে কোনো বিভ্রান্তি বা সংশয়ের অবকাশ নেই

আশীষ চক্রবর্ত্তী

আশীষ চক্রবর্ত্তী, ডয়চে ভেলে

এই জঙ্গিরা ‘আত্মস্বীকৃত' জঙ্গি৷ ঘটনাপরম্পরায় এইটুকু অন্তত বলা যেতেই পারে৷

কিন্তু এই তরুণরা কেমন করে হঠাৎ জঙ্গি হয়ে গেল অনেকের কাছে সেটাই যেন বিস্ময়ের৷ তাদের পরিবারও নাকি বিষয়টা বুঝতে পারেনি৷ এক জঙ্গির পরিবারের পক্ষ থেকে সন্তানের নিখোঁজ হওয়ার খবর পুলিশকেও নাকি জানানো হয়েছিল৷ কিন্তু সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, পুলিশ তখন বিষয়টিকে আমলে নেয়নি৷ তাদের মনে হয়েছে, বড় লোকের ছেলেটি হয়ত কোথাও বেড়াতে গেছে, সময়মতো ঠিকই ফিরে আসবে৷

কিন্তু ছেলেটি আর ফেরেনি৷ নিরীহ কিছু মানুষকে মেরে নিজেও মৃত্যুবরণ করেছে৷

প্রশ্ন জাগে, বাবা-মায়ের দায়িত্ব কি শুধু সন্তানের ভরনপোষণ আর লেখাপড়ার খরচ জোগানো? সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কী করছে – এ সব সম্পর্কে উদাসীনতা যে কত বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে তার ভুরি ভুরি দৃষ্টান্ত তো বহুবার আমরা দেখেছি৷ এমন উদাসীনতার কারণেই নেশার রাজ্যে ডুবে নিজের বাবা-মাকেই হত্যা করেছে ঐশী৷ ওর সামনে এখন ফাঁসির দড়ি৷ আদালত শাস্তি মওকুফ না করলে হয়ত কৈশোরেই শেষ হয়ে যাবে একটি জীবন৷

ঐশীর বাবা-মাকে তবু সন্তানের মৃত্যু দেখে যেতে হয়নি৷ জঙ্গিদের মা-বাবাকে তা দেখতে হলো৷ দেখতে হলো প্রায় তাদের সন্তানেরই বয়সের ছেলে ফারাজের মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত৷ দুই বন্ধুর জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছে ফারাজ৷ সারা বিশ্বের গণমাধ্যম তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ৷

অন্যদিকে জঙ্গিরা৷ তাদের পরিচয়, তাদের কৃতকর্ম পরিবারকেও শুধু দুঃখ আর গ্লানিই দিয়েছে৷

এই গ্লানিতে রাষ্ট্র এবং সমাজেরও দায় নিশ্চয়ই আছে৷ কিন্তু পরিবারও দায় এড়াতে পারে না৷ কোনো কিছুই হঠাৎ ঘটে না৷ গুলশানের জাতীয় ট্র্যাজেডি সব পরিবারের জন্যই এক সতর্কবার্তা৷ পরিবারের সবাই, বিশেষ করে বাবা-মা সব সময় উঠতি বয়সের সন্তানদের পাশে থাকুন৷ ওদের ভরসা হয়ে থাকুন, ছায়া হয়ে থাকুন যেন কোনো খরতাপেই কচি কচি জীবনগুলো হঠাৎ জ্বলেপুড়ে শেষ হয়ে না যায়!

লেখকের সঙ্গে আপনি কি একমত? জানান আমাদের, লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

Albanian Shqip

Amharic አማርኛ

Arabic العربية

Bengali বাংলা

Bosnian B/H/S

Bulgarian Български

Chinese (Simplified) 简

Chinese (Traditional) 繁

Croatian Hrvatski

Dari دری

English English

French Français

German Deutsch

Greek Ελληνικά

Hausa Hausa

Hindi हिन्दी

Indonesian Bahasa Indonesia

Kiswahili Kiswahili

Macedonian Македонски

Pashto پښتو

Persian فارسی

Polish Polski

Portuguese Português para África

Portuguese Português do Brasil

Romanian Română

Russian Русский

Serbian Српски/Srpski

Spanish Español

Turkish Türkçe

Ukrainian Українська

Urdu اردو