আলাপ

দেশের উন্নয়নে প্রবাসীদের ঘরমুখো করতে সচেষ্ট ভারত

প্রবাসী ভারতীয় দিবস পালিত হয় প্রতি বছরের ৯ই জানুয়ারি৷ এই দিনটি বেছে নেওয়ার কারণ ঐতিহাসিক৷ ১৯১৫ সালের এই দিনটিতেই মহাত্মা গান্ধী দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ফিরে এসেছিলেন ভারতে৷ তাই তো প্রবাসী ভারতীয় দিবস একটি মিলন মঞ্চ৷

যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদী

এই দিনটি পালনের সার্থকতা অনাবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে স্বদেশের নৈকট্য ও আবেগ জিইয়ে রাখা৷ প্রবাসী এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের সঙ্গে ভারতের বর্তমান সরকারের যোগাযোগকে পাকাপোক্ত করা, তৈরি করা একটি সেতুবন্ধন৷ উদ্দেশ্য স্বদেশের কাছে তাঁদের কী প্রত্যাশা, বিদেশে তাঁদের সমস্যা সমাধানে সরকার কীভাবে সাহায্য করতে পারে ইত্যাদি নিয়ে আলাপ-আলোচনা করা৷

গত বছর প্রধানমন্ত্রী মোদীর নিজের রাজ্য গুজরাটে পালিত হয় এই দিনটি৷ এনআরআই-দের কীভাবে আরো বেশি সুযোগ-সুবিধা এবং অধিকার দেওয়া যায়, সেবিষয়ে সরকারের ভাবনা-চিন্তার একটা রূপরেখা তুলে ধরেন মোদী স্বয়ং৷ আসলে মোদী ক্ষমতায় আসার পর তাঁর বিদেশ সফরের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক কর্মসূচির অন্যতম অঙ্গ হলো প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো৷

ভারতের সার্বিক উন্নয়নে তাঁরাও কিন্তু মোদীর ডাকে ইতিবাচক সাড়াই দিয়েছেন৷ শুধু বিনিয়োগ নয়, শিক্ষা ও গবেষণা ক্ষেত্রেও তাঁরা সহযোগিতার হাত বাড়াতে চেয়েছেন৷ প্রবাসী ভারতীয় দিবসের এত গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও এ বছর, মানে ২০১৬ সালে, এই দিবসটি পালিত হয়নি৷ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ অবশ্য গত বছরেই এর কারণ ব্যাখ্যা করেছিলেন৷ বলেছিলেন, এই দিবস পালনে কিছুটা পরিবর্তন করা হয়েছে৷ কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে এবার থেকে প্রতি দু’বছর অন্তর বিভিন্ন রাজ্যে পালা করে তার আয়োজন করা হবে৷ রাজ্যগুলি অবশ্য আলাদাভাবেও প্রবাসী ভারতীয় দিবসের আয়োজন করতে পারে৷ যেমন বাঙালি অনাবাসীদের নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে, পাঞ্জাবি অনাবাসীদের নিয়ে পাঞ্জাবে, গুজরাটিদের নিয়ে গুজরাটে এই দিনটি পালন হতে পারে৷

প্রশ্ন উঠতে পারে, অনাবাসী ভারতীয় বা এনআরআই কারা? আর ভারতীয় বংশোদ্ভূত বা ওভারসিজ সিটিজেন অফ ইন্ডিয়াই বা কারা? এ সম্পর্কে এক আলাপচারিতায় মিনিস্ট্রি অফ ওভারসিজ ইন্ডিয়ান অ্যাফেয়ার্স-এর সদ্য অবসরপ্রাপ্ত সচিব এ. দিদার সিং ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘অনাবাসী ভারতীয় এবং বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের মধ্যে একটা পার্থক্য আছে৷ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, যেসব ভারতীয় পাসপোর্টধারী ব্যবসা, চাকরি, গবেষণা, পড়াশুনা বা অন্য কোনো কারণে ছ’মাসের বেশি সময় ধরে বিদেশে রয়েছেন, তাঁরাই এনআরআই৷ আর যেসব ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের বিদেশি পাসপোর্ট আছে, তাঁরা গণ্য হবেন ওভারসিজ সিটিজেন অফ ইন্ডিয়া হিসেবে৷’’

সাধারণত এঁদের জন্য ওভারসিজ সিটিজেন অফ ইন্ডিয়া বা ওসিআই কার্ড ইস্যু করা হয়ে থাকে৷ শুধু তাই নয়, ফটোসহ সেই কার্ডের স্টিকার সেঁটে দেওয়া হতো তাঁদের বিদেশি পাসপোর্টে৷ এখন শুধু কার্ডটি থাকলেই চলে৷ এতে করে তাঁরা যতবার খুশি ভারতে আসতে পারেন৷ বিদেশি নাগরিকদের মতো পুলিশের কাছে রিপোর্টও তাঁদের করতে হয় না৷

দিল্লিতে এবং বিদেশে ভারতীয় দূতাবাস থেকে এই ওসিআই কার্ডের জন্য আবেদনপত্র সংগ্রহ করা যায়৷ একমাত্র পাকিস্তান ও বাংলাদেশ পাসপোর্টধারী ছাড়া, অথবা এই দুই দেশের সঙ্গে অতীত সম্পর্ক না থাকলে, আবেদন করলেই ওসিআই কার্ড পেতে পারেন এঁরা৷

দ্বৈত নাগরিকত্বের স্বীকৃতি না হলেও এই কার্ড থাকলে প্রবাসী ভারতীয়দের অনুরূপ সুযোগ-সুবিধা এঁরা পাবেন৷ যেমন ভারতে থাকার, কাজ করার, পড়াশুনা করার, বিনিয়োগ করার, বিষয় সম্পত্তি কেনার অথবা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার৷ এক কথায়, সব অধিকারই পাবেন৷ পাবেন না শুধু কৃষি ও প্লান্টেশন বা বাগিচা কেনার অধিকার আর পাবেন না রাজনৈতিক অধিকার, যেমন ভোটাধিকার এবং নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অধিকার৷ অর্থাৎ তাঁরা সংসদ সদস্য হতে পারবেন না৷ তবে করের ক্ষেত্রে আয়করসহ অন্যান্য কর প্রযোজ্য হবে তাঁদের ওপর৷ কিছু ক্ষেত্রে অবশ্য বাড়তি সুবিধাও পান তাঁরা৷

সম্প্রতি অনাবাসী ভারতীয়দের বিশেষ সুবিধা দিতে সংশোধন করা হয়েছে ভারতীয় নাগরিকত্ব আইন৷ চূড়ান্ত ব্যবস্থা হয়ে গেলে তাঁরা বিদেশে বসেই দেশের নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন৷ এতে করে আগের মতো দেশে এসে নির্দিষ্ট ভোট কেন্দ্রে গিয়ে আর ভোট দিতে হবে না৷ নির্বাচন কমিশন এঁদের জন্য ই-ব্যালট পেপারের সুপারিশ করেছেন, যা অনাবাসী ভারতীয়রা ই-মেলেই পাবেন এবং সেটা পূরণ করে ডাকযোগে পাঠালেই চলবে৷ ‘‘আগে কোনো অনাবাসী ভারতীয় তাঁর শেষ বাসস্থানের ভোট কেন্দ্রে তিন মাসের বেশি না থাকলে, সেই কেন্দ্রের ভোটার তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হতো৷’’ ডয়চে ভেলেকে এ কথা বলেন মিনিস্ট্রি অফ ওভারসিজ ইন্ডিয়ান অ্যাফেয়ার্স-এর প্রাক্তন শীর্ষকর্তা দিদার সিং৷

প্রবাসী ভারতীয় দিবসের বিশেষ তাত্পর্য সম্পর্কে তাঁর কাছে জানতে চাইলে তিনি ভারতের উন্নয়নের অ্যাজেন্ডায় এঁদের যুক্ত করা, কাছে টানার কথা তুলে ধরেন৷ বিশেষজ্ঞ জ্ঞান ও উচ্চ-প্রযুক্তি দিয়ে স্বদেশে অবদান রাখতে তাঁদের উৎসাহিত করাও এর লক্ষ্য৷ জানতে চেয়েছিলাম, সার্ক দেশগুলিতে অনাবাসী ভারতীয়দের জন্য কি বাড়তি কোনো সুবিধার সংস্থান আছে? দিদার সিং-এর জবাব, ‘‘না, সব সমান৷’’

অনাবাসী ভারতীয়দের সংখ্যা বর্তমানে এক কোটি দশ লাখ ছাড়িয়ে গেছে৷ এঁদের মধ্যে প্রায় ৬০ লাখ আছে উপসাগরীয় ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে৷ সবথেকে বেশি সংখ্যক কেরালা, গুজরাট ও পাঞ্জাবের মানুষ, যাঁদের অধিকাংশ নিযুক্ত আছেন নির্মাণ শিল্প, তেল-গ্যাস ও ফিনান্সিয়াল ক্ষেত্রে৷ কর্মরত ভারতীয় শ্রমিকদের ন্যায্য বেতন, সুযোগ-সুবিধা এবং সামাজিক সুরক্ষার দিকে লক্ষ্য রাখার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে আছে একটি বিভাগ৷ তবে কিছু কিছু দেশে এমন নিয়মবিধি আছে যা মানবাধিকারের সীমা লঙ্ঘন করে৷ যেমন কাতারের কাফালা স্পনসরশিপ সিস্টেম৷ এই ব্যবস্থার সংশোধন না করলে ভারতীয় কর্মীরা সমস্যা পড়বে৷ তাই খুব শীঘ্রই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওভারসিজ বিভাগ এ ব্যপারে হস্তক্ষেপ করবে, জানান দিদার সিং৷ তাঁর কথায়, ‘‘বিদেশে উচ্চ মেধার বহু ভারতীয় রয়ে গেছেন৷ স্বদেশের উন্নয়নে এই মানবসম্পদকে, তাঁদের সেই প্রতিভাকে কাজে লাগানো, তাঁদের ঘরমুখি করাই সরকারের আসল লক্ষ্য৷’’

আগামী প্রবাসী ভারতীয় দিবস পালিত হবে বেঙ্গালুরুতে ২০১৭ সালের ৭ থেকে ৯ জানুয়ারি, কথা প্রসঙ্গে এ তথ্যও জানিয়ে দেন মিনিস্ট্রি অফ ওভারসিজ ইন্ডিয়ান অ্যাফেয়ার্স-এর প্রাক্তন এই সচিব৷

আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

Albanian Shqip

Amharic አማርኛ

Arabic العربية

Bengali বাংলা

Bosnian B/H/S

Bulgarian Български

Chinese (Simplified) 简

Chinese (Traditional) 繁

Croatian Hrvatski

Dari دری

English English

French Français

German Deutsch

Greek Ελληνικά

Hausa Hausa

Hindi हिन्दी

Indonesian Bahasa Indonesia

Kiswahili Kiswahili

Macedonian Македонски

Pashto پښتو

Persian فارسی

Polish Polski

Portuguese Português para África

Portuguese Português do Brasil

Romanian Română

Russian Русский

Serbian Српски/Srpski

Spanish Español

Turkish Türkçe

Ukrainian Українська

Urdu اردو