নাইজার মরুভূমিতে উদ্বাস্তুদের লাশ

৩৪ জন মানুষ, তাদের মধ্যে ২০ জন শিশু৷ এদের লাশ খুঁজে পাওয়া গিয়েছে আলজেরিয়া সীমান্তের কাছে৷ মানুষ পাচারকারীরা তাদের ফেলে গিয়েছিল৷ দৃশ্যত জুন মাসের ৬ থেকে ১২ তারিখের মধ্যে তাদের মৃত্যু ঘটে৷

আপনি কী ভাবছেন?

এখানে ক্লিক করুন ও আলোচনায় যোগ দিন

বুধবার নাইজারের জাতীয় টেলিভিশনে এ খবর দেওয়া হয়৷ ১৪ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে পাঁচজন ছিল পুরুষ, ন’জন নারী৷ নাইজার ও আলজেরিয়ার মধ্যে অবস্থিত আসামাক্কা সীমান্ত পারাপার কেন্দ্রের কাছে এই হবু অভিবাসীদের লাশ খুঁজে পাওয়া গিয়েছে, বলে জানিয়েছেন নাইজারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাজুম মোহাম্মেদ৷ সম্ভবত মানুষ পাচারকারীরা তাদের ফেলে রেখে গিয়েছিল, বলে মন্তব্য করেন তিনি; ‘‘সম্ভবত তারা তৃষ্ণায় প্রাণ হারিয়েছে’’৷ দৃশ্যত মাত্র দু’জন উদ্বাস্তু বা শরণার্থীকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে, একজন পুরুষ ও এক ২৬ বছর বয়সি মহিলা, দু’জনেই নাইজারের অধিবাসী৷



বিপজ্জনক পথ

আসামাক্কা নাইজারের উত্তরে; নাইজার আর আলজেরিয়ার মধ্যে একমাত্র সরকারি সীমান্ত পারাপার কেন্দ্র৷ আগাদেজ থেকে ৪৫০ কিলোমিটার উত্তরে আসামাক্কা মধ্য নাইজারের বৃহত্তম শহর৷ সব বাস রুটের শেষ টার্মিনাস৷ এখান থেকে অভিবাসীরা পুরোপুরি মানুষ পাচারকারীদের মর্জির উপর নির্ভর, কেননা এবার তাদের মরুভূমি পার হয়ে ভূমধ্যসাগরের উপকূলে পৌঁছাতে হবে৷

সাম্প্রতিককালে লিবিয়ার মধ্যে দিয়ে যাওয়া ক্রমেই আরো বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে৷ কিন্তু মরক্কো থেকে স্পেনে ঢোকা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ানোর ফলে ইউরোপমুখী অভিবাসীরা সব বিপদ সত্ত্বেও তথাকথিত লিবিয়া রুট বেছে নিচ্ছেন৷ ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম)-এর বিবৃতি অনুযায়ী ২০১৫ সালে ১ লক্ষ বিশ হাজার উদ্বাস্তু আগাদেজ হয়ে উত্তরমুখে যান; ২০১৬ সালে ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল মাসের মধ্যে ৬০ হাজার উদ্বাস্তু আগাদেজ হয়ে লিবিয়ার দিকে যান৷



দক্ষিণে আগাদির থেকে খোলা পিক-আপ ট্রাকে সাহারা মরুভূমি পার করে উদ্বাস্তুদের আলজেরিয়া বা লিবিয়ার ভূমধ্যসাগর উপকূল পর্যন্ত পৌঁছে দিতে মানুষ পাচারকারীরা নাকি মাথাপিছু ৫০০ ইউরো নিয়ে থাকে৷ পথে বালির ঝড়ে পথ হারানোর বিপদ আছে; আছে অপরাপর মানুষপাচারকারীদের তরফ থেকে আক্রমণের আশঙ্কা, এভাবে গাড়িও চুরি হয়ে যেতে পারে, যার পর উদ্বাস্তুদের মরুভূমির মধ্যে ফেলে রেখে উধাও হয় মানুষ পাচারকারীরা৷ পড়ে থাকে কিছু তৃষ্ণার্ত, হতভাগ্য নারী, পুরুষ ও শিশুদের লাশ৷

নিজের দেশ যখন ‘দোজখ’

২০১১ সাল থেকে যুদ্ধ চলছে সিরিয়ায়৷ এ পর্যন্ত কমপক্ষে ২ লক্ষ ৪০ হাজার মানুষ মারা গেছে৷ সিরিয়া না ছাড়লে মৃতদের কাতারে কখন যে নাম লেখাতে হবে কে জানে! দেশ ছেড়ে কোথায় যাওয়া যায়? কোন জায়গাটা জীবন-জীবিকার জন্য সবচেয়ে বেশি নিরাপদ? ইউরোপ৷ তাই অনেকেই আসছেন ইউরোপে৷ ছবিতে দামেস্কের এক আবাসিক এলাকায় প্রেসিডেন্ট বাশারের অনুগত বাহিনীর হামলার পর ধ্বংসস্তূপের মাঝে এখনো কেউ বেঁচে আছেন কিনা দেখছেন সিরীয়রা৷

প্রথম গন্তব্য তুরস্ক

ইউরোপে যাওয়ার উদ্দেশ্যে প্রথমে তুরস্কে যায় সিরীয়রা৷ ইজমিরের কোনো হোটেলে উঠেই তাঁরা শুরু করেন মানবপাচারকারীদের মাধ্যমে সমুদ্রপথে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা৷ যাঁদের হোটেলে ওঠার সাধ্য নেই তাঁরা রাস্তার পাশে কিংবা পার্কে তাঁবু তৈরি করে দু-এক রাত কাটিয়ে নেন৷ ছবির এই মেয়েটির মতো ইউরোপে আসার আগে অনেক সিরীয়কেই ঘুমাতে হয় তুরস্কের রাস্তায়৷

গ্রিসের দিকে যাত্রা

তুরস্ক থেকে প্রায় সবাই ছোটেন গ্রিসের দিকে৷ অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত এই দেশটিতে শুধু ইউরোপে প্রবেশের জন্যই আসা৷ আসল লক্ষ্য পশ্চিম ইউরোপের উন্নত দেশগুলো৷ ছবিতে ডিঙ্গি নৌকায় তুরস্ক থেকে গ্রিসের কস দ্বীপের দিকে যাত্রা শুরু করা কয়েকজন সিরীয়৷

মানুষের নীচে মানুষ

কস দ্বীপ থেকে গ্রিসের মূল ভূখণ্ডের দিকে যাচ্ছে একটি ফেরি৷ ১০ ঘণ্টার যাত্রাপথ৷ কোনো জায়গা না পেয়ে যাত্রীদের আসনের নিচেই ঘুমিয়ে নিচ্ছে এক সিরীয় কিশোরী৷

রুদ্ধ সীমান্ত

কস দ্বীপ থেকে মেসিডোনিয়া হয়ে ইডোমেনি শহরে যান অনেকে৷ ‘বলকান রুট’ ব্যবহার করে অনেকে বাধ্য হয়ে সার্বিয়ার দিকেও যান৷ গত মাসে ‘জরুরি অবস্থা’ জারি করে শরণার্থীদের ঠেকাতে সেনাবাহিনীকে কাজে লাগানোরও ঘোষণা দেয় মেসিডোনিয়া৷ সহজে সীমান্ত পার হওয়া যাবে ভেবে শুরু হয় সার্বিয়ার দিকে যাত্রা৷ ছবির এই ট্রেনের মতো অনেক ট্রেনই গিয়েছে এমন মানুষবোঝাই হয়ে৷

বেলগ্রেডে বিশ্রাম

ইউরোপে অভিবাসন প্রত্যাশীদের জন্য সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেড যেন শুধুই বিশ্রামাগার৷ এ শহরে বিশ্রাম নিয়েই সবাই পা বাড়ান প্রকৃত গন্তব্যের দিকে৷ আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের প্রথম ৬ মাসে সিরিয়া থেকে অন্তত ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষ গিয়েছেন বেলগ্রেডে৷ এখানে বেলগ্রেডের এক পার্কে বিশ্রাম নিচ্ছেন কয়েকজন সিরীয় শরণার্থী৷

হাঙ্গেরিতে মানুষের ঢল

সার্বিয়া থেকে শরণার্থীরা যাচ্ছেন হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে৷ বুদাপেস্টও ‘বিশ্রামালয়’৷ তবে হাঙ্গেরি অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে৷হাঙ্গেরি সরকার চায় যাঁরা এসেছেন তাঁরা সেখানেই নাম নথিভূক্ত করাক৷ তা করলে হাঙ্গেরিতেই থাকতে হবে৷ কিন্তু অভিবাসন প্রত্যাশীরা চান জার্মানি যেতে৷ ছবিতে এক কিশোরীর হাতে জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের ছবি৷

উষ্ণ অভ্যর্থনা

হাঙ্গেরি থেকে কয়েক হাজার অভিবাসন প্রত্যাশী চলে এসেছেন অস্ট্রিয়া এবং জার্মানিতে৷ নতুন ঠিকানায় এসে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন অনেকেই৷ অভিবাসনবিরোধী ডানপন্থি দলের শাসনাধীন দেশ হাঙ্গেরি থেকে বেরিয়ে আসতে পারাই তাঁদের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তি৷ জার্মানিতে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ অন্যরকম৷ মিউনিখে শরণার্থীদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়ে বরণ করে নিয়েছেন জার্মানরা!

তারপর.....?

মিউনিখের কেন্দ্রীয় রেল স্টেশনে এক সিরীয় নারী অভিবাসনপ্রত্যাশীর কোলে সন্তানকে তুলে দিচ্ছেন এক জার্মান পুলিশ৷ সাধারণ জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবেই অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বরণ করে নিয়েছে৷ কিন্তু রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়ে গেছে অভিবাসন ইস্যু নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা৷ এত বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীর আগমন অনেক ধরণের সমস্যা তৈরি করতে পারে বলে অনেকের আশঙ্কা৷



এসি/ডিজি (এএফপি, রয়টার্স)

এই লাশiগুলো খুঁজে পাওয়া গেছে আলজেরিয়া সীমান্তের কাছে৷ মানুষ পাচারকারীরাই তাদের ফেলে গিয়েছিল বলে কি আপনি বিশ্বাস করেন? লিখুন নীচের ঘরে৷

বুধবার নাইজারের জাতীয় টেলিভিশনে এ খবর দেওয়া হয়৷ ১৪ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে পাঁচজন ছিল পুরুষ, ন’জন নারী৷ নাইজার ও আলজেরিয়ার মধ্যে অবস্থিত আসামাক্কা সীমান্ত পারাপার কেন্দ্রের কাছে এই হবু অভিবাসীদের লাশ খুঁজে পাওয়া গিয়েছে, বলে জানিয়েছেন নাইজারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাজুম মোহাম্মেদ৷ সম্ভবত মানুষ পাচারকারীরা তাদের ফেলে রেখে গিয়েছিল, বলে মন্তব্য করেন তিনি; ‘‘সম্ভবত তারা তৃষ্ণায় প্রাণ হারিয়েছে’’৷ দৃশ্যত মাত্র দু’জন উদ্বাস্তু বা শরণার্থীকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে, একজন পুরুষ ও এক ২৬ বছর বয়সি মহিলা, দু’জনেই নাইজারের অধিবাসী৷