পশ্চিমবঙ্গ

নিম্নবিত্তের স্কুল রক্ষা পেল

রাজারহাট এলাকার একটি স্কুল রক্ষা পেল প্রোমোটারের গ্রাস থেকে৷ কারণ স্কুলটির পাশে এসে দাঁড়াল মানুষ, এমনকি প্রশাসনও৷

Indien Kollam Tempel Feuer Ruine (Reuters/J. Dey)

সেদিন ওদের পরীক্ষা ছিল৷ কিন্তু স্কুলের সামনে এসে চোখে জল এসে গিয়েছিল ওদের৷ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ওদের ক্লাসঘর, চেয়ার-টেবিল, ডেস্ক ভেঙে চুরমার৷ মাথার ছাদ ভেঙে পড়েছে, ধসে পড়েছে দেওয়াল৷ পড়ুয়া বাচ্চাদের হাউমাউ কান্নার মধ্যেই ক্কমশ পরিষ্কার হয় পুরো ব্যাপারটা৷ রাজারহাট রোডের ওপর, দশদ্রোণ এলাকায় যে জমির ওপর ১৯৯৭ সালে তৈরি হয়েছিল লীলাবতী মেমোরিয়াল নামে এই স্কুলটা, সেই জমিটির মালিকানা বদল হয়েছে সম্প্রতি৷ প্রোমোটার মিজানুর রহমানের সঙ্গে জমির মালিকের চুক্তি হয়েছিল, নতুন জমিতে নতুন স্কুলবাড়ি তৈরি না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে৷ বিকল্প জায়গার সংস্থানও হয়েছিল, কিন্তু তর সয়নি প্রোমোটারের৷ ভোররাতে ক্রেন, বুলডোজার নিয়ে এসে স্কুলবাড়ি ভাঙা শুরু হয়েছিল৷

খবর পেয়ে দৌড়ে যান প্রধানশিক্ষক কৌশিক ভট্টাচার্য৷ প্রোমোটারের গুণ্ডাবাহিনীর পাহারায় তখন ভাঙচুর চলছে৷ বাধা দিতে গেলে রাস্তায় ফেলে প্রচণ্ড মারধর করা হয় কৌশিকবাবুকে৷ এদিকে খবর ছড়ায় মুখে মুখে৷ স্থানীয় মানুষ, স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকরা এসে ভিড় জমাতে শুরু করলে সদলে গা ঢাকা দেয় ওই প্রোমোটার৷

কিন্তু ততক্ষণে গণরোষের বিস্ফোরণ ঘটেছে৷ রাজারহাট রোড অবরোধ করে বসে পড়েন মানুষজন৷ তাঁদের মধ্যে যেমন অভিভাবকরা ছিলেন, তেমন অসংখ্য স্থানীয় মানুষও সামিল ছিলেন৷ তাঁরা সবাই দাবি তোলেন, প্রোমোটার মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করতে হবে৷ ভেঙে দেওয়া স্কুলবাড়ি নতুন করে বানিয়ে দিতে হবে৷ এর মধ্যেই খবর যায় রাজ্য সচিবালয়ে, মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরেও পৌঁছে যায় এই ঘটনার কথা৷ এর পরই তৎপর হয় পুলিশ৷ গ্রেপ্তার হয় ওই প্রোমোটার এবং স্কুলশিক্ষা দপ্তরের হস্তক্ষেপে সিদ্ধান্ত হয়, ওই ভেঙে দেওয়া স্কুলবাড়িতেই আবার ক্লাস বসবে৷ বলা বাহুল্য, এই সিদ্ধান্ত অনেকটাই প্রতীকী ছিল৷ কারণ, ভেঙে দেওয়া স্কুলবাড়িতে পড়ানোর মতো পরিস্থিতি আর ছিল না৷ তবু ত্রিপলের অস্থায়ী ছাউনি টাঙিয়ে একদিন সকালে ক্লাসও হয় বাচ্চাদের৷ তারপর, নিরাপত্তার কথা ভেবেই সিদ্ধান্ত হয়, যতদিন না ফের ক্লাসঘর তৈরি হচ্ছে, স্কুল ছুটি থাকবে৷ ততক্ষণে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ঘোষণা করেছেন, ওই জায়গাতেই হবে স্কুল৷ সরে যেতে হবে প্রোমাটারকে, বাতিল করতে হবে স্কুলের জমিতে তার উচ্চবিত্ত আবাসন গড়ার পরিকল্পনাকে৷

আপাতভাবে স্থানীয় এই ঘটনা সারা রাজ্যের জন্যেই এক অসাধারণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে, যেখানে জমিলোভী প্রোমোটারকে রুখে দিচ্ছেন স্থানীয় মানুষ এবং নিম্নবিত্ত পরিবারের ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার জন্য তৈরি এক স্কুলের পাশে এসে দাঁড়াচ্ছে সরকার৷ স্কুলটি সরকার অনুমোদিত হলেও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত নয়৷ পড়ুয়াদের থেকে মাসে মাত্র ১০০ টাকা মাইনে নিয়ে কায়ক্লেশে চলত এই স্কুল৷ হঠাৎই সেই অনামী স্কুলটি হয়ে উঠেছে প্রতিবাদের প্রতীক৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

Albanian Shqip

Amharic አማርኛ

Arabic العربية

Bengali বাংলা

Bosnian B/H/S

Bulgarian Български

Chinese (Simplified) 简

Chinese (Traditional) 繁

Croatian Hrvatski

Dari دری

English English

French Français

German Deutsch

Greek Ελληνικά

Hausa Hausa

Hindi हिन्दी

Indonesian Bahasa Indonesia

Kiswahili Kiswahili

Macedonian Македонски

Pashto پښتو

Persian فارسی

Polish Polski

Portuguese Português para África

Portuguese Português do Brasil

Romanian Română

Russian Русский

Serbian Српски/Srpski

Spanish Español

Turkish Türkçe

Ukrainian Українська

Urdu اردو