নেইমার যে মহিলার বল কন্ট্রোল দেখে ধাঁ!

ফুটবল তারকা নেইমার হাঙ্গেরির এক মহিলাকে বলেছিলেন: ‘তোমার মতো বল নিয়ে কসরত দেখাতে পারে, এমন মেয়ে আমি আর কখনো দেখিনি৷' ভদ্রমহিলার নাম কিটি সেস; পেশা ও নেশা: ফ্রিস্টাইল ফুটবল৷

মাথায় কিংবা পায়ে: কিটি সেস বল নিয়ে করতে পারেন না, এমন কিছু নেই৷ হাঙ্গেরির এই মহিলা বিশ্বের সেরা ফুটবল ফ্রিস্টাইল আর্টিস্টদের মধ্যে পড়েন৷

ফ্রিস্টাইলের অর্থ হল, বল নিয়ে কায়দা-কসরত, জাগলিং; তবে আর্টিস্টিক, নান্দনিক, যেন সার্কাস আর ব্যালে নাচ – তবে বল নিয়ে৷ কিটি সেস বলেন, ‘‘মজার কথা, আমি কিন্তু কোনোদিন ফুটবল খেলিনি৷ দশ বছর ধরে কারাটে শিখেছি, যার সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই৷ কিন্তু কেন জানি না, আমার ট্রিকগুলো করতে ভালো লাগে৷ শুধু ট্রিকগুলো; দৌড়নো নয়, টিম প্লে নয়, শুধু ছোট ছোট ড্রিবল আর ট্রিক৷''

DW Euromaxx Fußball Freestylerin Kitti Szasz

২৬ বছর বয়সি কিটির কাছে এই ট্রিকগুলোই এখন তাঁর জীবন৷ দশ বছর আগে তিনি প্রথম ইন্টারনেটে ফুটবল ফ্রিস্টাইলের একটি ভিডিও ক্লিপ দেখেন – সঙ্গে সঙ্গে নিজেও সেটা করার ইচ্ছে হয়৷ ইতিমধ্যে তিনি তাঁর এই হবি বা স্পোর্টকে জীবিকা বানানোর চেষ্টা করছেন৷ কিটি প্রতিদিন বেশ কয়েক ঘণ্টা ট্রেনিং করেন৷ কিটির ভাষায়, ‘‘আজ এটা আমার কাজ, আমার হবি৷ আসলে আমার জীবনে এটা একমাত্র বাঁধাধরা জিনিস যা আমি ভালোবাসি, যার জন্য আমি বেঁচে থাকি৷''

সারা দুনিয়া থেকে কিটি সেস-এর খেলা দেখানোর ডাক আসে, লোকে তাঁকে বুক করে৷ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন – ইতিমধ্যে চারবার বিশ্বচ্যাম্পিয়নের খেতাব অর্জন করেছেন, শেষবার ২০১৩ সালে, টোকিও-য়৷ তবুও: ‘‘ব্রাজিলে নেইমারের সঙ্গে দেখা হওয়াটা নিঃসন্দেহে আমার ফ্রিস্টাইল ক্যারিয়ারের হাইলাইট,'' বললেন কিটি৷ ‘‘আমরা প্রায় দশ মিনিট ধরে একসঙ্গে খেলেছি৷ উনি আমাকে কিছু ট্রিকস দেখিয়েছেন, আমি ওনাকে কিছু ট্রিকস দেখিয়েছি৷ উনি বলেছিলেন, আমার মতো বল নিয়ে খেলতে পারে, এমন মেয়ে উনি নাকি কখনো দেখেননি৷''

Frankreich Paris Saint Germain vs Toulouse Neymar

মাঠে নয়, পথে নামা

বুদাপেস্টের কেন্দ্রীয় এলাকায় কিটি যখন বল নিয়ে পথে নামেন, তখন অনেক পুরুষকে হাঁ করে দেখতে হয়৷ অথচ ফুটবলে আজও পুরুষদেরই প্রাধান্য, অর্থ, সুনাম, প্রতিপত্তি, সবই তাদের৷ ফ্রিস্টাইল মহলে কিটি-র এ ধরনের বৈষম্যের অভিজ্ঞতা হয় নি৷ কিন্তু বাস্তব জীবনে কোনো মহিলা যদি কিটির মতো বল কন্ট্রোল দেখাতে পারেন, তাহলে সারা দুনিয়া অবাক হয়ে দেখবে বৈকি৷ দর্শকদের মন্তব্যেই তা বোঝা যায়৷ এক ব্রিটিশ তরুণ বললেন, ‘‘আমি যখন ছোট ছিলাম, তখন আমি ইটালিতে খেলতাম৷ পরে বিশ বছর বয়স অবধি লন্ডনে আধা-পেশাদার ছিলাম৷ কিন্তু ও যা করছে, তা আমি করতে পারব না৷'' ব্রাজিলের এক টুরিস্ট নিজেই তাজ্জব! ‘‘সাধারণত ছেলেরা মেয়েদের চাইতে ভালো ফুটবল খেলে৷ কিন্তু ওকে দেখে আমার লজ্জা হচ্ছে, কেননা ও ঠিক নেইমারের মতো খেলে৷''

লিগে তিনটি দল

এপ্রিল মাসে তিনটি লিগ টিমে ভারতের সেরা কাবাডি খেলোয়াড়দের নির্বাচিত করা হয়৷

পারলে ধরো আমাকে!

প্রাচীন ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় খেলা কাবাডি৷ খেলায় দু’টি দল এবং প্রতি দলে সাতজন করে খেলোয়াড় থাকে৷ প্রথম দল থেকে একজন করে খেলোয়াড় দু’দলের মধ্যকার সীমারেখা পার হয়ে দ্বিতীয় দলের যত বেশি খেলোয়াড়কে ছুঁয়ে ফিরে আসতে পারবে, তত বেশি পয়েন্ট৷ তবে ফিরে আসার সময় বিপক্ষ দলের খেলোয়াড়রা তাকে ধরে ফেললে সে যাবে ‘আউট’ হয়ে৷

বিপক্ষ দলের আক্রমণ

বিপক্ষ দলের খেলোয়াড়দের প্রথম লক্ষ্য হলো প্রথম দলের যে খেলোয়াড় তাদের ছুঁতে আসসে তাকে ধরে রাখা৷ তাকে নিজেদের সীমারেখার ভেতর, অর্থাৎ প্রথম দলের খেলোয়াড়কে সীমারেখা ছোঁয়ার আগে আটকে দিতে পারলে তবেই তারা পয়েন্ট পাবে৷ এরপর এই দ্বিতীয় দল থেকে একজন খেলোয়াড় যাবে প্রথম দলের খেলোয়াড়দের ধরতে৷

কাবাডি কাবাডি কাবাডি....

এই খেলায় প্রচুর কসরত আর শক্তির প্রয়োজন৷ কিছুটা রাগবি আর ফুটবলের মতো৷ তার ওপর ৪০ মিনিটের এই খেলায় রয়েছে মাত্র দু’টো বিরতি৷ এছাড়া যে খেলোয়াড় প্রতিপক্ষ দলকে ছুঁতে যাবে তার অনেক দম থাকতে হবে, কেননা একনাগাড়ে, দম না ফেলে ‘কাবাডি কাবাডি’ বলে যেতে হবে তাকে৷

নারী শক্তি

যদিও ভারতে ক্রিকেট বা ফুটবলের মতো কাবাডির জনপ্রিয়তা নেই৷ তবুও ‘ফায়ার বার্ডস’ দলের অধিনায়ক মমতা পূজারি এখন দেশের চেনা মুখ৷ তিনি বলছেন, কাবাডি এখন নারী শক্তির প্রতীক৷ কাবাডি লিগ অনুষ্ঠিত হওয়ার পরই এই পরিবর্তন এসেছে বলে জানালেন তিনি৷

রেকর্ড দর্শক

কাবাডি প্রমিলা লিগের প্রথম দু’টি খেলা ভারতে দেখেছেন ৩ কোটি ৮০ লাখ মানুষ৷ স্টার ইন্ডিয়া টিভি চ্যানেল জানিয়েছে, ভারতের আরো কোনো প্রমিলা খেলায় এত বিপুল দর্শক চাহিদা দেখা যায়নি৷

কিটি সেস দেখাতে চান যে, ফ্রিস্টাইল ফুটবল শুধু পুরুষদের জন্য নয়৷ তিনি সারা বিশ্বের কমবয়সি মেয়েদের রোল মডেল হতে চান৷ যে কারণে চারবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবার পরেও তিনি আগামী বছর ফুটবল ফ্রিস্টাইল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন প্রতিযোগিতায় নামতে চলেছেন৷ কিটি বললেন, ‘‘আমার ২৬ বছর বয়স হয়েছে৷ আমি জানি না আর কতোদিন আমি এটা চালিয়ে যেতে পারব, কতোদিন প্রতিযোগিতায় নামতে পারব৷ আমার যেরকম মনে হয়, সেরকম ট্রিকগুলো করার চেষ্টা করি৷ আরেকবার জিতি আর না জিতি, আমি সুখি৷''

সক্রিয় প্রতিযোগী হিসেবে ক্যারিয়ার শেষ করার পর কিটি সেস ট্রেনার হিসেবে কাজ করতে চান৷ আগামীতে সুইডেন ও চীনে তাঁর বল নিয়ে ভেলকি দেখা যাবে৷

ফিলিপ ক্রেচমার/এসি

সংশ্লিষ্ট বিষয়