অন্বেষণ

নেপালে বন সংরক্ষণের কাজে সাধারণ মানুষ

নেপালে দাবানলের কারণে বনাঞ্চল কমে যাওয়ায় জলবায়ু ও প্রকৃতির ক্ষতি হচ্ছে৷ অভিনব এক প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষ প্রশিক্ষণ পেয়ে বন সংরক্ষণের কাজে সক্রিয় হয়ে উঠছে৷ এর ফলে আর্থিক সাহায্যও পাওয়া যাচ্ছে৷

নেপালের জঙ্গল

নেপালের মানুষের জন্য এই কয়েক মাস ছিল সমস্যায় ভরা৷ ভূমিকম্পের ছাপ প্রায় সর্বত্র চোখে পড়ে৷ প্রাচীন রাজধানী ভক্তপুরে সব ঐতিহাসিক ভবন হয় ক্ষতিগ্রস্ত, কিংবা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে৷ তবে এই বিপর্যয় সত্ত্বেও নেপালের মানুষ উৎসবের আনন্দ ভোলেননি৷ এপ্রিল মাসে সেখানে নববর্ষ উৎসব পালিত হয়, নেপালি ভাষায় যার নাম বিসকেট যাত্রা৷ এটাই দেশের সবচেয়ে বড় উৎসব৷

গোটা দেশে দাবানল ছড়িয়ে পড়ছে৷ প্রায়ই ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগানো হয়৷ একের পর পাহাড় নেড়া হয়ে যাচ্ছে৷ রাতেও তার ধ্বংসলীলা স্পষ্ট দেখা যায়৷ পশুপাখি পালাতে না পেরে মারা যায়৷ ফলে অনেক প্রজাতির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে৷ দিনের বেলা গ্রামবাসী অত্যন্ত ক্ষুব্ধ৷ কারণ কিছুদিন আগেই অনেক কষ্ট করে তাঁরা নতুন গাছ লাগিয়েছিলেন৷ তাদেরই একজন তুল মায়া গারুং বলেন, ‘‘আমরা জানি না, কে এর জন্য দায়ী৷ লোকে বলছে, কেউ তার নিজের জমিতে আগুন লাগিয়ে সাফ করছিল, যার ফলে দুর্ঘটনাবশত এখানেও আগুন লেগে যায়৷ দূর থেকে আমরা আগুন দেখে দ্রুত সেখানে গিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করি, কিন্তু পারিনি৷''

আবহাওয়া অত্যন্ত শুষ্ক৷ সবাই বর্ষার অপেক্ষায় রয়েছে৷ সিগারেট বা অসতর্কতার কারণে আগুন ধরে যায়৷ কখনো বা চাষের জমি সৃষ্টি করতে ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগানো হয়৷

বেশ কয়েক বছর ধরে আইসিআইএমওডি নামের সংগঠন পুনর্বনানীকরনের ক্ষেত্রে মানুষকে সাহায্য করছে৷ তাঁরা বিভিন্ন এলাকায় বন সুরক্ষা কমিটি গড়ে সক্রিয় হচ্ছেন৷ প্রকল্পের প্রধান ভাস্কর কারকি বলেন, ‘‘এখানে চাষবাস করা যায় না৷ পানি নেই৷ আমরা এই জমিকে আবার জঙ্গলে পরিণত করার চেষ্টা করছি৷ কমিটিগুলি কিছু প্লান্টেশন করেছে৷ দেখে মনে হচ্ছে সফল৷''

ভিডিও দেখুন 02:51

জার্মানিতে গাছ কাটার চেয়ে লাগানোর সংখ্যাই বেশি

কিন্তু ছাগলরা মাঠে নামলে অনেক সদিচ্ছাই বিফল হয়৷ তারাই চারাগাছের সবচেয়ে বড় শত্রু৷ তাই তাদের আর জঙ্গলে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না৷ নজরদারির মধ্যে তাদের চরে বেড়াতে হচ্ছে৷ তাদের কাছে খোরাক পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে৷

বন কমিটিতে এমন সব পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়৷ গ্রামের মানুষ মিটিং-এ নিয়মিত আলোচনা করেন৷ কত পরিমাণ কাঠ কাটা যাবে, দাবানল কীভাবে প্রতিরোধ করা যাবে এবং সেই সব দুষ্কৃতিদের বিরুদ্ধে কী করা হবে, যারা আগুন লাগাচ্ছে৷ প্রায়ই তাঁরা আন্দাজ করতে পারেন, কে এই কুকাজ করেছে – এ সব নিয়ে আলোচনা চলে৷ আজ তাঁরা পরিচয়পত্র বিতরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যাতে জঙ্গলে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা যায়৷

সাফল্য চোখে পড়ার মতো৷ দেখতে প্লান্টেশনের মতো হলেও আসলে কিন্তু নয়৷ গাছপালা দ্রুত বাড়ছে, তাদের ভিতও বেশ শক্তিশালী৷ ভাস্কর কারকি বলেন, সাত-আট বছর আগে এটা নেড়া জমি ছিল৷ স্থানীয় মানুষের হাতে এটা তুলে দেবার পর তারা এক পরিকল্পনা করে সেটা মেনে চলছে৷ দেখতেই পাচ্ছেন, নতুন এই জঙ্গল স্বাভাবিক ছন্দেই আবার ফুলে-ফেঁপে উঠেছে৷''

কোন কাঠ কাটা যাবে, কখন গাছ কাটা যাবে, প্রকল্পের কর্মীরা তা তাঁদের বলে দিয়েছিলেন৷ গ্রামবাসীরা জঙ্গলে শুধু ঝরে পড়া কাঠ সংগ্রহ করেন৷ তাঁরা নিয়ম মেনে চলেন৷

ভিডিও দেখুন 03:24

স্বর্গরাজ্য বাঁচাচ্ছে মর্ত্যের মানুষ

জঙ্গলকে ‘কার্বন সিংক' এবং জলবায়ু রক্ষাকর্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে৷ নেপাল ‘রেড প্লাস' কর্মসূচির জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছে৷ যে সব দেশ ‘কার্বন সিংক' বাড়াতে পারবে, তারা আন্তর্জাতিক তহবিল থেকে অর্থ পাবে৷ তাই এলাকার পরিমাপ চলছে৷ গাছের সংখ্যা, উচ্চতা, ব্যাপ্তি জানার চেষ্টা চলছে৷ প্রকল্পের প্রধান ভাস্কর কারকি বলেন, ‘‘তাঁদের জন্য কার্বন কনসেপ্ট একেবারেই নতুন বিষয়৷ আমরা চাই, জঙ্গলে কার্বন ট্রেন্ড বাড়ছে না কমছে, তাঁরা সেটা জানুন৷ কমিটিতে কার্বনের পরিমাপ, মনিটরিং, রিপোর্টিং-এ জন্য এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷ এর ফলে তাঁদের মধ্যে মালিকানা বোধ জেগে উঠবে৷''

আগামী বছরগুলিতে বার বার ফলাফল খতিয়ে দেখা হবে৷ জঙ্গল বাড়লে বিভিন্ন খাত থেকে অর্থ পাওয়া যাবে৷ দাবানলের মতো কারণে তা কমে গেলে তা জলবায়ু, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্রের ক্ষতি হবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

Albanian Shqip

Amharic አማርኛ

Arabic العربية

Bengali বাংলা

Bosnian B/H/S

Bulgarian Български

Chinese (Simplified) 简

Chinese (Traditional) 繁

Croatian Hrvatski

Dari دری

English English

French Français

German Deutsch

Greek Ελληνικά

Hausa Hausa

Hindi हिन्दी

Indonesian Bahasa Indonesia

Kiswahili Kiswahili

Macedonian Македонски

Pashto پښتو

Persian فارسی

Polish Polski

Portuguese Português para África

Portuguese Português do Brasil

Romanian Română

Russian Русский

Serbian Српски/Srpski

Spanish Español

Turkish Türkçe

Ukrainian Українська

Urdu اردو