‘পতিতাবৃত্তি' বেছে নিচ্ছে জার্মানির তরুণ অভিবাসীরা

জার্মানিতে আগত তরুণ অভিবাসীরা নিজ খরচ মেটাতে যৌন কর্মী হতে বাধ্য হচ্ছেন৷ সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জানা যায় এ তথ্য৷ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ‘ইন্টিগ্রেশন' এবং সামাজিক নীতি খাতে অর্থ বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি করেছে জার্মানির বামদল৷

জার্মানির বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা জানিয়েছে, জার্মানিতে তরুণ অভিবাসীদের যৌন পেশায় নিয়োজিত হওয়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে৷ গত সোমবার বার্লিনের ব্রডকাস্টার আরবিবি-র এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এই তথ্য৷ প্রতিবেদনটি প্রস্তুতে বেশ কয়েকটি স্থানীয় দাতব্য সংস্থার সহায়তা নেয়া হয়েছে৷

আপনি কী ভাবছেন?

এখানে ক্লিক করুন ও আলোচনায় যোগ দিন

যৌন পেশায় নিয়োজিত তরুণদের মধ্যে অধিকাংশই মূলত আফগানিস্তান, পাকিস্তান এবং ইরান থেকে এসেছেন৷ দাতব্য সংস্থাগুলো মনে করে, জার্মানির দোদুল্যমান সামাজিক ব্যবস্থা এই বৃদ্ধির পেছনে অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে, কেননা, অল্পবয়সি অভিবাসীদের বয়স ১৮ পার হলেই তারা রাষ্ট্রের সামাজিক সহায়তার বাইরে চলে যায়৷ তখন নিজের খরচ চালাতে তাদের কেউ কেউ দেহব্যবসায় নেমে পড়ে৷

চিকিৎসক থেকে শরণার্থী

সিরিয়ায় রাজধানী দামেস্কে চিকিৎসক হিসেবে ভালোই ছিলেন হামবার আল-ইসা৷ কিন্তু যুদ্ধ শুরুর পর জন্মভূমির সব সুখ ছেড়ে ইউরোপের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমাতে হয় তাঁকে৷

অনেক পথ পেরিয়ে...

মেসিডোনিয়ায় পৌঁছানোর পর সার্বিয়ার সীমান্ত পর্যন্ত যেতে অনেকটা পথ হাঁটতে হয়েছে হামবারকে৷ হেঁটে কোনো শহরে পৌঁছালেই শুরু হতো ইন্টারনেট ক্যাফে খুঁজে বের করার চেষ্টা৷ পেলে প্রথম কাজ কোথায় আছেন, কেমন আছেন সে সম্পর্কে পরিবারকে বিস্তারিত জানানো৷ একা এসেছেন, তাই স্বজনদের তাঁর জন্য খুব চিন্তা৷ তাঁদের চিন্তা দূর করা ও তাঁদের সম্পর্কে জেনে নিজেকে নিশ্চিন্ত রাখতেই পছন্দ করেন হামবার৷

অবশেষে জার্মানিতে...

অনেক দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে অবশেষে জার্মানিতে পৌঁছেছেন হামবার৷ সিরিয়াতে সার্জন হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও নতুন দেশে চাইলেই তো আর চিকিৎসক হিসেবে কাজ শুরু করা যায় না৷ জার্মান ভাষা শিখে নিজেকে তৈরি করতে হবে সবার আগে৷ সেই চেষ্টা চলছে৷ পাশাপাশি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে অনুবাদকের কাজও করছেন৷ তাঁর স্বপ্ন অবশ্য জার্মানিতে বসবাস করা নয়৷ সুসময় ফিরে এলে নিজের দেশেই ফিরতে চান হামবার৷

দেশান্তরী এক আফগান কিশোরী

তোবার বয়স এখন ১৬ বছর৷ আফগানিস্তানের হেরাত থেকে জার্মানিতে এসেছে সে৷ হেরাতে নিয়মিত স্কুলে যেত সে৷ লেখাপড়া করেই প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্নও দেখতো৷ কিন্তু তালেবান বেছে বেছে মেয়েদের স্কুলে হামলা শুরু করায় তোবার পক্ষেও আর দেশে থাকা সম্ভব হয়নি৷

সপরিবারে জার্মানিতে

আফগানিস্তান থেকে জার্মানিতে অবশ্য একা আসেনি তোবা৷ দুই বোন এবং তাঁদের স্বামীও এসেছেন সঙ্গে৷ কাছের এই মানুষগুলো সঙ্গে থাকার কারণেই ইরান, তুরস্ক, গ্রিস এবং বলকান অঞ্চল হয়ে জার্মানিতে পৌঁছাতে পেরেছে তোবা৷

দুঃস্বপ্নে পোড়া স্কুল, স্বপ্নে সুন্দর আগামী

তালেবান হামলা থেকে বাঁচতে আফগানিস্তান ছেড়ে এলেও স্বনির্ভর হওয়ার স্বপ্ন কিন্তু ছাড়েনি তোবা৷ নিজেকে নতুন করে তৈরি করছে সে৷ জার্মান ভাষা শিখছে৷ স্বাবলম্বী হতে হলে জার্মানিতে ভাষা শেখাটা তো সবার জন্যই জরুরি৷

এক সাংবাদিকের পরিবার

ওপরের ছবির তিনজন জার্মানিতে এসেছেন সিরিয়ার ইদলিব থেকে৷ আহমেদ (মাঝখানে)-এর সঙ্গে তাঁর স্ত্রী হেবা এবং বন্ধু সালেহ৷ সিরিয়ায় সাংবাদিক হিসেবে বেশ কিছুদিন কাজ করেছেন আহমেদ৷

শৈশবেই প্রবাসী

আহমেদ-হেবা দম্পতির এই মেয়েটিও এসেছে জার্মানিতে৷ মাত্র এক বছর বয়সেই শুরু হয়েছে তার প্রবাসজীবন৷ ওর বাবা অবশ্য যুদ্ধ থামলেই ফিরে যেতে চায় সিরিয়ায়৷

আরবিবি জানিয়েছে যে, এই তরুণদের অধিকাংশই বিভিন্ন অনলাইন ফোরাম থেকে খদ্দের যোগাড় করে৷ পাশাপাশি বার্লিনের টিয়ারগার্টেন পার্কও এক ‘মিটিং প্লেস', যেখানে অনেক বয়স্ক জার্মান এ সব অল্পবয়সি অভিবাসীদের সঙ্গে অর্থের বিনিময়ে যৌনমিলনের জন্য সাক্ষাৎ করেন৷

বার্লিনে বাম দলের চেয়ারম্যান ক্যাটরিনা শ্যুবার্ট এই প্রসঙ্গে জানান, অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কারণে অনেক তরুণ, যারা জার্মানিতে অভিবাসন বা অন্য যে কারণেই আসুক না কেন, নিজেদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলছেন৷ ‘‘আমাদের আরো বেশি সাহায্যকারী এবং সংস্থা দরকার, যারা গৃহহীন তরুণদের খেয়াল রাখবে৷ পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মসূচি দরকার, যাতে তারা জার্মান শেখার এবং স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পায়৷''

তবে ‘হিল্ফে ফর ইউঙ্গস' নামের জার্মান দাতব্য সংস্থার চেয়ারম্যান রাল্ফ ব়্যোটেন মনে করেন, এ সমস্যার কারণ যতটা না সামাজিক সুযোগ-সুবিধা পেতে অভিবাসী তরুণদের বাধা, তার চেয়েও বেশি জার্মানির রাজনৈতিক আশ্রয় এবং বিতাড়িতকরণ নীতি৷ তিনি বলেন, ‘‘অল্পবয়সি অভিবাসীদের অধিকাংশেরই জার্মান ভাষা শেখার, স্কুলে যাওয়ার বা কাজ করার অনুমতি নেই৷ তাহলে তাদের হাতে আর কী বিকল্প আছে?''

এআই/এসিবি (এএফপি, কেএনএ, আরবিবি)

প্রতিবেদনটি আপনার কেমন লাগলো? জানিয়ে দিন মন্তব্যের ঘরে৷

যৌনতা এক ‘নিষিদ্ধ’ বিষয়

আরবি, তুর্কি, ইংরেজি, জার্মানসহ মোট ১২টি ভাষায় যৌনতা বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য এবং চিত্রলিপি প্রকাশ করেছে জার্মান সরকার৷ অভিবাসীদের নারী, পুরুষের দেহ সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা দিতেই এই উদ্যোগ৷ কেননা, সরকার মনে করছে, তারা এমন অনেক দেশ থেকে এসেছে, যেখানে যৌনতা নিষিদ্ধ এক বিষয়৷ চলুন দেখে নেই সাইটটিতে ঠিক কী আছে৷

বিভিন্ন যৌন সমস্যার সমাধান

মোট ছয়টি বিভাগে যৌনতা, যৌন মিলন, সম্ভোগের রকমফের, যৌনতা বিষয়ক অধিকারের কথা তুলে ধরা হয়েছে সাইটটিতে৷ তবে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে ‘সেক্স’ বিভাগটি নিয়ে৷ এতে প্রথমবার সেক্স, কুমারিত্ব, যৌনাসন এবং বিভিন্ন যৌন সমস্যার সমাধান চিত্রলিপির মাধ্যমে ব্যাখা করা হয়েছে৷

আকার গুরুত্বপূর্ণ নয়, যৌনাঙ্গচ্ছেদ নিষিদ্ধ

ওয়েবসাইটটির ‘বডি’ অংশে নারী-পুরুষের দেহের ধরন, যৌনাঙ্গ, বীর্য ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিত ধারণা দেয়া হয়েছে৷ পুরুষাঙ্গের আকার বা গড়ন যে যৌন সুখের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়, তা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে এই বিভাগে৷ রয়েছে নারীর যৌনাঙ্গচ্ছেদ যে ইউরোপে পুরোপুরি নিষিদ্ধ, সেই কথাও৷

গর্ভধারণ ও যৌন মিলন

সন্তান জন্মদানের পুরো প্রক্রিয়া এই বিভাগে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে৷ সাথে গর্ভধারণের পর কতদিন এবং কিভাবে যৌন সম্পর্ক অব্যাহত রাখা যায়, তা-ও জানানো হয়েছে৷ বলা হয়েছে, কেউ যদি ভুল করে গর্ভধারণ করেন, তাহলে চাইলে গর্ভপাত না করে বাচ্চাটি জন্মের পর দত্তক দেয়া যেতে পারে৷ তবে গর্ভপাতে কোনো বাধা নেই৷

কনডম যেভাবে পরবেন

কখনো জানতে চেয়েছেন কনডম কী? ওয়েবসাইটটির এই বিভাগে কনডম ব্যবহারের উপায় চিত্রলিপিতে পরিষ্কারভাবে দেখানো হয়েছে৷ পাশাপাশি অনিরাপদ যৌন জীবনের ফলে নারী ও পুরুষের কী কী রোগ হতে পারে এবং কী করলে তা থেকে মুক্তি সম্ভব, সে কথাও জানানো হয়েছে৷

সঙ্গীকে দোষ না দিয়ে কথা বলুন

হোক সে যৌন জীবন কিংবা যৌথ সম্পর্কের অন্য কোনো দিক, যে কোনো বিষয়ে সঙ্গীর সঙ্গে সময় নিয়ে খোলামেলা আলোচনার পরামর্শ দেয়া হয়েছে ওয়েবসাইটে৷ তবে আলোচনায় একে-অপরকে দোষ না দিয়ে বরং কার কী প্রত্যাশা সেদিকে গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে৷ প্রয়োজনে সমস্যা সমাধানে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়ার উপায়ও জানানো হয়েছে সাইটটিতে৷

যৌনসম্মতির বয়স ১৮ বছর

জার্মানিতে ১৪ বা ১৫ বছরের একটি ছেলে বা মেয়ে একই বয়সের সঙ্গীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করতে পারে৷ কিন্তু সেই বয়সের একটি ছেলে বা মেয়ের সঙ্গে ১৬ বা তার বেশি বয়সের কেউ যৌন সম্পর্কে জড়ালে সেটা অপরাধ৷ এমনকি কম বয়সি সঙ্গী সম্মতি দিলেও৷ যৌন মিলনের জন্য নিরাপদ বয়স কমপক্ষে আঠারো৷

অভিবাসীদের কি যৌন শিক্ষার দরকার আছে?

এই প্রশ্নটা অনেকেই করছেন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে৷ এর মানে কি অভিবাসীরা যৌন মিলন সম্পর্কে অজ্ঞাত? এ সব প্রশ্নের জবাবে নির্মাতার জানিয়েছেন, বিশ্বের অনেক দেশে যৌনতা নিয়ে আলোচনা এক ‘নিষিদ্ধ বিষয়’৷ তাই দরকার এমন একটা সাইট৷ বাংলা ভাষাতেও এ রকম একটি সাইটের দরকার বলে ফেসবুকে লিখেছেন একাধিক বাংলা ব্লগার৷

চিত্রলিপির ‘কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষ, শেতাঙ্গ নারী’

ওয়েবসাইটটিতে প্রদর্শিত যৌন মিলনের কিছু চিত্রলিপিতে পুরুষকে কৃষ্ণবর্ণে এবং নারীকে শ্বেতবর্ণে দেখানো হয়েছে৷ আর এটা নিয়েও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে আপত্তি করেছেন অনেকে৷ কারো কারো মতে, শরণার্থী বা অভিবাসীদের যৌনশিক্ষা, যেমন কনডম পরানো শেখানোর মাধ্যমে আসলে বোঝানো হয়েছে যে, তারা কিছুই জানে না, যা একধরনের ‘বৈষম্যমূলক মনোভাব’৷

যারা তৈরি করেছেন

বেলজিয়ামের একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার সহযোগিতা নিয়ে জার্মানির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যশিক্ষা কেন্দ্র ‘জানজু ডটডিই’ ওয়েবসাইটটি তৈরি করেছে৷ এ জন্য সময় লেগেছে তিন বছর৷ মূলত অভিবাসীদের বিভিন্ন প্রশ্ন এবং প্রয়োজনীয়তা যাচাই করে সাইটটি তৈরি করা হয়৷ তিন সপ্তাহ আগে প্রকাশের পর থেকে প্রতিদিন গড়ে ২০ হাজার মানুষ এটি ‘ভিজিট’ করছেন৷