1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

পর্যটন ও পরিবেশ সংরক্ষণের উদ্যোগ

কিলিয়ান শ্যুৎসে / এসি৩০ নভেম্বর ২০১৩

ডমিনিকান রিপাবলিকের পুন্টা কানা সৈকত হল ক্যারিবিয়ানে ছুটি কাটানোর আদর্শ জায়গা৷ অথচ এই ‘মাস ট্যুরিজম’ পরিবেশ কিংবা জলবায়ুর পক্ষে ভালো নয়৷

https://p.dw.com/p/1AQYQ
ডমিনিকান রিপাবলিকের একটি সৈকতছবি: Ronald Saunders / CC BY-SA 2.0

দারিদ্র্য, দুঃখদুর্দশার পরিবর্তে ‘সান অ্যান্ড স্যান্ড' কার না ভালো লাগে, উন্নয়নশীল দেশের পরিবর্তে স্বপ্নের সৈকত? তাই ডমিনিকান রিপাবলিকের বিচগুলিতে প্রতিবছর ভিড় করেন ত্রিশ লাখ পর্যটক৷ তাঁরা যে সব অল-ইনক্লুসিভ ফাইভ-স্টার হোটেলে বাস করেন, সেগুলোর জ্বালানির খিদে আবার বিপুল: তার প্রমাণ, এই হোটেলগুলো থেকে বছরে আট লাখ টন কার্বন ডাইঅক্সাইড নির্গত হয় : যা কিনা জার্মানি থেকে পুন্টা কানা যাওয়ার এক হাজার জাম্বোজেটের কার্বন নির্গমনের সমান৷

এ ধরনের ‘মাস ট্যুরিজম' বা বিপুল সংখ্যায় পর্যটক আসাটা পরিবেশ কিংবা জলবায়ুর পক্ষে ভালো নয়৷ ‘গ্রুপো পুন্টা কানা' ঠিক তারই বিরুদ্ধে বহুদিন ধরে সক্রিয়৷ পর্যটন সংস্থাটি এই এলাকার সেরা ট্যুরিস্ট এজেন্সিগুলির মধ্যে পড়ে৷ সংস্থাটি তিনটি হোটেল, আটটি রেস্তরাঁ, চারটি গল্ফ কোর্সের মালিক – এবং সবচেয়ে বড় কথা, তাদের একটি নিজস্ব ‘বায়োমাস' কারখানা আছে, যেখানে ২০১২ সাল যাবৎ প্রতিদিন বিশ টন অবধি উদ্ভিদ আবর্জনা ছোট ছোট করে কেটে তারপর পোড়ানো হয়৷

গ্রুপো পুন্টা কানা-র নাওডি মেনেজেস বলেন: ‘‘আমরা বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তি পরীক্ষা করে দেখেছি, জরিপ চালিয়েছি, তারপর এই চুল্লিটি বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি৷ এর বিরাট সুবিধা হল, আমরা নিজেরাই প্রয়োজনীয় ‘বায়োমাস' সরবরাহ করতে পারি৷ ফলে আমরা অন্যের উপর, তাদের ঠিক করা দামের উপর নির্ভরশীল নই৷''

কাজের ধরনটা অতি সোজা: গ্রুপো পুন্টা কানা-র হোটেলের বাগান, গল্ফ কোর্স ইত্যাদিতে প্রচুর গাছপালা, ঝোপঝাড় আছে, যেগুলো নিয়মিত ছাঁটা হয় এবং তা থেকে উদ্ভিদ আবর্জনা পাওয়া যায়৷ ক্যারিবিয়ানের প্রখর সূর্যালোকে সেটা শীঘ্রই খুব ভালো জ্বালানিতে পরিণত হয়৷

Der Blick aus meinem Fenster Mario Cabral Dominikanische Republik
‘মাস ট্যুরিজম’ পরিবেশ কিংবা জলবায়ুর জন্য ভালো নয়ছবি: Mario Cabral

বায়োমাস বয়লারটির চুল্লিতে যে পরিমাণ তাপ ও বাষ্প সৃষ্টি হয়, তাতে পুন্টা কানা-র গোটা লন্ড্রির কাজ চলে যায়৷ কর্মীরা এখানে ছ'হাজার হোটেল রুম থেকে আসা বিছানার চাদর, বাথরুমের তোয়ালে ইত্যাদি ধোয়ার এবং ড্রায়ারে শুকনোর ব্যবস্থা করেন৷ পুন্টা কানা ছাড়া অন্যান্য সংস্থার হোটেল থেকেও এখানে ময়লা কাপড় পাঠানো হয়, কেননা এখানে লন্ড্রির কাজ করা হয় পরিবেশবান্ধব অথচ সস্তা উপায়ে৷

পুন্টা কানা-র হোটেলগুলোতেও পরিবেশ সচেতনতার পরিচয় পাওয়া যায়৷ রান্নাঘরে সকালের নাস্তার ফেলে দেওয়া আবর্জনা আলাদা আলাদা করে ফেলা হয়: বাঁ দিকে অর্গানিক, ডানদিকে প্লাস্টিক এবং কাগজ৷ জার্মানিতে এটা স্বাভাবিক হলেও ডমিনিকান রিপাবলিকে কয়েক বছর আগেও ‘ওয়েস্ট সেপারেশন' বা আবর্জনা আলাদা করা কিংবা রিসাইক্লিং করা প্রায় অজ্ঞাত ছিল৷

বেঞ্জামিন হুলেফেল্ড যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছেন৷ আদতে তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, কিন্তু গত চার বছর ধরে পরিবেশ সংরক্ষণই তাঁর একমাত্র লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ গ্রুপো পুন্টা কানা-র একটি পরিবেশ ফাউন্ডেশন আছে: পুন্টা কানা ইকোলজিকাল ফাউন্ডেশন৷ এখানে তিনি এক অন্য ধরনের বায়ো-কম্পোস্টের ধারণা চালু করেছেন৷ বেঞ্জামিন হুলেফেল্ড বলেন: ‘‘এটি হল ক্যালিফর্নিয়ার রেড উইগলার ওয়র্ম৷ এই কেঁচোগুলো মৃত জৈব পদার্থকে সারে পরিণত করে৷ আমাদের পক্ষে এটা খুব ভালো, কেননা রান্নাঘরের জৈব আবর্জনা প্রায়ই ফেলে দেওয়া হয়৷ কেঁচোগুলো সেই পদার্থকে হজম করে সারে পরিণত করে এবং তা থেকে যে উচ্চমানের প্রাকৃতিক জৈব সার সৃষ্টি হয়, তা আমরা ব্যবহার করতে পারি৷''

বিশেষ করে গল্ফ কোর্সগুলোতে৷ আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে সেই কেঁচো যুক্ত মাটি ঘাসের উপর ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে৷ তা থেকে ‘পাসপালুম' নামের যে বস্তুটি সৃষ্টি হয়, তা একটি পুষ্টিকর সার, যেটা ঘাসের শিকড়ে পৌঁছে গল্ফ কোর্সের মাঠে সবুজ, সুস্থ ঘনঘাস বুনে দেয়৷

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য

এই বিষয়ে আরো তথ্য