বিজ্ঞান ও পরিবেশ

পাউরুটির জন্যও কি বিশ্বের তাপমাত্রা বাড়ছে?

শুধু মোটরগাড়ি বা হিটিং বা এয়ারকন্ডিশনারই নয় – পাউরুটিও পরিবেশের পক্ষে ক্ষতিকর হতে পারে৷ তার কারণ, গম চাষে কৃত্রিম সারের ব্যবহার৷ যদিও তার বিকল্প আছে৷

default

বিশ্বের উষ্ণায়নের সঙ্গে পাউরুটির সংযোগ এতদিনে গবেষকদের কাছে পরিষ্কার হয়েছে৷ ‘নেচার প্ল্যান্টস' নামের পত্রিকাটিতে প্রকাশিত একটি নতুন সমীক্ষায় গমের বীজ থেকে প্রাতরাশের পাউরুটি অবধি পুরো প্রক্রিয়াটির পরিবেশগত প্রভাব বিশ্লেষণ করে দেখা হয়েছে৷

দেখা গেছে, গমের দানা হিসেবেই পাউরুটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে – এবং তার কারণ হলো একটি রাসায়নিক সার, যার নাম অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট৷ রুটি তৈরির প্রক্রিয়ায় সামগ্রিকভাবে যে পরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত হয়, তার প্রায় অর্ধেক আসে এই অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট থেকে৷

গবেষকরা বলছেন যে, মানুষজনকে পাউরুটি খাওয়া থেকে বিরত করা এই সমীক্ষার লক্ষ্য নয়৷ বরং গ্রাহকরা যাতে আরো বেশি স্বচ্ছতা ও টেকসই পণ্য দাবি করেন, সেই উৎসাহ দেওয়াই হল সমীক্ষার উদ্দেশ্য৷ স্রেফ মনোযোগ আকর্ষণ করার জন্য রুটির মতো একটি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য বেছে নেওয়া হয়েছে – ডয়চে ভেলেকে বলেন লিয়াম গাউচার, যিনি শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও এই সমীক্ষার মুখ্য রচয়িতা৷

রুটি-রোজগার

উত্তর ভারতে রুটি বলতে বোঝায় হাতে গড়া গমের রুটি৷ পশ্চিমে কিন্তু রুটি বলতে বোঝায় পাউরুটি, যা এখানে মানুষজনের প্রাত্যহিক  খাদ্য৷ শুধু যুক্তরাজ্যে প্রতিদিন এক কোটি দশ লক্ষ রুটির ‘লোফ' খাওয়া হয়৷ ২০১৬ সালে ইউরোপীয়রা মাথাপিছু গড়ে ৬৩ কিলোগ্রাম করে রুটি খেয়েছেন (‘ব্রেড ইনিশিয়েটিভ' গোষ্ঠীর পরিসংখ্যান)৷

গাউচার ও তাঁর সতীর্থরা উৎপাদনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে রুটি তৈরির প্রতিটি পর্যায়ের ডাটা সংগ্রহ করেছেন৷ তবে রুটি সংক্রান্ত গ্যাস নির্গমনের ৬০ শতাংশই যে আসে গমের চাষ থেকে, এই তথ্যে কেউই বিশেষ আশ্চর্য হননি৷ আসল চমকটা ছিল এই যে, রুটি সংক্রান্ত গ্যাস নির্গমনের ৪৩ শতাংশ আসে মাত্র একটি রাসায়নিক সার থেকে, যার নাম অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট৷

অরগ্যানিক বনাম সিন্থেটিক সার

মিনারাল, অর্থাৎ খনিজ সার আর সিন্থেটিক অর্থাৎ কৃত্রিমভাবে তৈরি সার, এই দু'টির উৎপাদনে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি শক্তির প্রয়োজন পড়ে৷ এছাড়া এই সব সার যখন মাটিতে মিশে যায়, তখন তা থেকে নাইট্রাস অক্সাইড গ্যাস নির্গত হয়৷

রুটি সংক্রান্ত গ্যাস নির্গমনের ৪৩ শতাংশ আসে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট থেকে

রুটি সংক্রান্ত গ্যাস নির্গমনের ৪৩ শতাংশ আসে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট থেকে

নাইট্রাস অক্সাইড (এন-টু-ও) এমন একটি গ্রিনহাউস গ্যাস, যা পরিবেশের পক্ষে কার্বন ডাই অক্সাইড (সিও-টু) গ্যাসের চেয়ে ৩০০ গুণ বেশি ক্ষতিকারক৷ মিথেন ও নাইট্রাস অক্সাইড মিলে বিশ্বের উষ্ণায়নের প্রায় এক-চতুর্থাংশের জন্য দায়ী – আর এই দু'টি গ্যাস প্রধানত আধুনিক কৃষিকাজ থেকে নির্গত হয়৷

দায়িত্ব কার?

২০১৫ সালের মধ্যে পৃথিবীর জনসংখ্যা দাঁড়াবে ১,০০০ কোটির কাছাকাছি – বলছে জাতিসংঘ৷ কৃত্রিম সারের প্রবক্তাদের যুক্তি হলো এই যে, এই পরিমাণ মানুষকে খাওয়ানোর জন্য খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে হবে৷

গাউচার ও তাঁর গবেষকরা চান যে, সকলেই খাদ্য উৎপাদনের পরিবেশগত প্রভাব কমানোর দায়িত্ব নিন৷ কৃষিজীবীরা ‘প্রিসিজন এগ্রিকালচার' বা ‘স্যাটেলাইট ফার্মিং'-এর পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন; সার উৎপাদকরা তারা যে পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করেন, তা কমাতে পারেন; এমনকি গ্রাহকরাও আরো সচেতনভাবে রুটি কিনতে পারেন৷

গাউচারের মতে কৃত্রিম সারের বদলে অরগ্যানিক বা জৈব সার ব্যবহার করার জন্য আর্থিক অনুদান বা ছাড় দিয়েও ইতিবাচক ফল পাওয়া যেতে পারে৷ এছাড়া রুটি তো শুধু একা নয়, সেই সঙ্গে মাংসের মতো আরো অনেক খাদ্যপণ্য আছে, যাদের উৎপাদন রুটির চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতিকারক৷

ইরেনে বানোস রুইজ/এসি

দেবারতি গুহ

নির্বাচিত প্রতিবেদন

Albanian Shqip

Amharic አማርኛ

Arabic العربية

Bengali বাংলা

Bosnian B/H/S

Bulgarian Български

Chinese (Simplified) 简

Chinese (Traditional) 繁

Croatian Hrvatski

Dari دری

English English

French Français

German Deutsch

Greek Ελληνικά

Hausa Hausa

Hindi हिन्दी

Indonesian Bahasa Indonesia

Kiswahili Kiswahili

Macedonian Македонски

Pashto پښتو

Persian فارسی

Polish Polski

Portuguese Português para África

Portuguese Português do Brasil

Romanian Română

Russian Русский

Serbian Српски/Srpski

Spanish Español

Turkish Türkçe

Ukrainian Українська

Urdu اردو