সাক্ষাৎকার

‘প্রতিটি জেলায় লোকজ ইনস্টিটিউট হলে লোকসংগীত বেঁচে থাকবে’

বাংলাদেশে কী লোকসংগীত হারিয়ে যাচ্ছে, নাকি আরো সমৃদ্ধ হচ্ছে? লোকসংগীত শিল্পী আব্দুল কুদ্দুস বয়াতী মনে করেন, লোকসংগীত আগের চেয়ে আরো সমৃদ্ধ হচ্ছে৷ তবে লোকসংগীতের প্রকৃত সুদিনের জন্য কিছু কাজ করা দরকার বলে মনে করেন তিনি৷

Bangladesch Folksänger Abdul Kuddus Boyati (DW/S. Kumar Dey)

ডয়চে ভেলে : বাংলাদেশের লোকসংগীতের কোন ধারাটা এখন শক্তিশালী?

আব্দুল কুদ্দুস বয়াতী : আমি মনে করি, সব রাষ্ট্রেরই লুকানো একটা ঐতিহ্য থাকে, যেটা একেবারেই গ্রাম থেকে উঠে আসা সংগীত৷ এখনো যেসব জনপ্রিয় গান দেখবেন, সেসব গান আগের দিনকার গান, গ্রাম থেকে উঠে আসা গান৷ আমি একটা গান গাই, এমন, ‘‘আগের কথা ভাবতে গেলে কিছুই খুঁজে পাই না আর, কই গেল রসে ভরা দিনগুলি আমার৷'' আমি মনে করি আমাদের গ্রামের শিল্পীদের যে সম্মানটুকু পাওয়া উচিত, সেটা পাচ্ছে না৷

লোকসংগীতের মূল উৎস তো গ্রাম৷এখন তো গ্রাম অনেকটা শহরের মতো৷ তাহলে এখন গানের উৎসটা মূলত কোথা থেকে আসে?

গ্রাম তো কখনও শহর হতে পারে না৷ গ্রাম গ্রামই থাকে৷ আমার বাড়ি ভাটি এলাকায়, হাওড় অঞ্চলে৷ সেখানে বহু গ্রাম আছে৷ হয়ত বিদ্যুৎ পৌঁছেছে৷ কিন্তু শহর হয়ে যায়নি৷ আমি তো ২৫/২৬ বছর আগেই গান গেয়েছি, ‘‘এই দিন তো দিন নয়, আরো দিন আছে, এই দিনেরে নিবা তুমরা সেই দিনেরও কাছে৷'' হুমায়ুন আহমেদের লেখা, আমার সুর করা, গাওয়া এবং অভিনয় করা এই গানটা শুনলে বোঝা যায় গ্রামে যদি শহরের ছোঁয়া লাগে, তাহলে আমার লোকসংগীতটাও শহরের ছোঁয়ায় ডিজিটাল হয়ে উঠবে৷ এবং হচ্ছেও৷

অডিও শুনুন 11:01

‘‘জীবন মানেই যন্ত্রণা’’

 

শহরে কি লোকসংগীত তৈরি হচ্ছে?

শহরে ওভাবে তৈরি হচ্ছে না, আবার হচ্ছেও৷ কিভাবে? শহরের অনেক নাট্যকার, সাহিত্যিক আছে, তারা শহরে বসে কাজ করছেন৷ কিন্তু গ্রামের লোকসংগীতকে ওভাবে তুলে ধরছেন না নাটক গান বা লেখার মাধ্যমে৷ আমার গ্রামটা যেভাবে আমার অন্তরে ছবি আঁকা, সেভাবে তারাও গ্রামের চিত্রটা তুলে ধরছে না৷

লোকসংগীত কি নতুন করে তৈরি হচ্ছে, নাকি আগের সেই গানগুলোই বারবার বাজছে বা আমরা গাইছি?

জীবন মানেই যন্ত্রণা৷ একটা লোক আঘাত পাইতে পাইতে কিন্তু গানে আসে৷ তাহলে গান তৈরি হবে না কেন? আঘাত তো প্রায় লোকই পাচ্ছে, তারা গান লিখছে৷ আগেরগুলোও থাকবে, নতুন যেগুলো আসছে, সেগুলোও মানুষ মনে রাখবে৷

বর্তমানের পশ্চিমা দেশের সংস্কৃতির যুগে লোকসংগীত কি তার অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম?

এটা দেখার ভুল৷ শাস্ত্রে একটা কথা বলে, ‘‘মামু এই গ্রামে ব্যাডা ক্যাডা? আমরা৷ চোর ক্যাডা? সেডাও- আমরা৷'' আমাদের সংস্কৃতি যদি আমরা না বাঁচিয়ে রাখি, তাহলে অন্য কেউ বাঁচিয়ে রাখতে পারবে না৷ আমি মনে করি, প্রত্যেকটি মানুষের এটা দায়িত্ব৷ আমি এটাও মনে করি, আমাদের জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার পর একটা লোকসংগীত গাওয়া উচিত৷ অন্যান্য দেশে আমি দেখেছি, জাতীয় সংগীতের পর লোকসংগীত গায়৷ আমি ইংরেজি বুঝি না, বাংলাও ঠিকমতো বলতে পারি না, তবে এই চেতনা আমার আছে, লোকসংগীত মানুষের মুখে মুখে থাকতে হবে৷ আমি যদি সারা রাত গান গাই তবুও আমার বই দেখতে হবে না৷

আমাদের লোকসংগীত শিল্পী বাড়ছে, নাকি কমছে?

আসলে এটা কমবে, আবার বাড়বে৷ যেমন ধরেন, যে শিল্পী লোকসংগীত গায়, তার দুই চার পাঁচশ' শিষ্যও আছে৷ শিষ্যদের আবার শিষ্য তৈরি হচ্ছে৷ ফলে শিল্পী কমার কথা না৷ এটা আধুনিকতার ছোঁয়া পাইতে পারে৷ এসব কারণে আমি মনে করি, কমে নাই৷

শিল্পীদের মর্যাদা কি আগের মতো আছে?

অবশ্যই আছে৷ বরং আগের থেকে অনেক উন্নত৷ কিন্তু অর্থের দিক দিয়ে নিঃস্ব৷

 

এখন লোকসংগীত বাঁচিয়ে রাখতে মূল ভূমিকা কাদের?

এই ভুমিকা অনেক অনেক মানুষের৷ যেমন ধরেন, নাট্যকাররা গ্রামের জিনিসটা তুলে ধরে এটাকে বাঁচিয়ে রাখছে৷ অনেকে লেখার মাধ্যমে এটাকে বাঁচিয়ে রাখছে৷ আসলে অনেক ধারায় অনেক লোক আছেন৷

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় কি এই কাজে কোনো ভূমিকা রাখছে?

আমি মনে করি, রাখছে৷ কিন্তু আরেকটু সদয় হয়ে থাকলে আরো ভালো হতো৷ সরকার এই ঐতিহ্য ধরে রাখায় ভুমিকা রাখছে৷ যে শিল্পীরা ভাত পাচ্ছে না, তাদের ভাতা দিচ্ছে৷ এটা খুবই ভালো কাজ হচ্ছে৷ আমি মনে করি, শিল্পীরা ভালো আছে৷ 

বর্তমানে লোকসংগীত শিল্পীদের অর্থনৈতিক অবস্থাও খুব বেশি ভাল নয়৷কারণ কী?

আসলে আউল বাউল যে শিল্পীরা, তারা কিন্তু একটু পাগল টাইপের থাকে৷ তারা গানে মুগ্ধ হয়ে থাকে৷ গানেই তার জীবন, গানেই তার মরণ৷ ধরেন, একজন শিল্পী একটা অনুষ্ঠানে গেল ৫০ হাজার টাকা পাইল, এটা তার সঙ্গে থাকা ৮/১০ জনের মধ্যে ভাগ করে দেয়ার পর নিজের কিছু থাকল৷ এরপর ধরেন, ৭ দিন বা ১৫ দিন তার কোনো প্রোগ্রাম নেই৷ এখন এই টাকা দিয়ে কয়দিন চলে? তখন সে একটা কষ্টে পড়ে যায়৷

এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে আপনি মনে করেন?

আমার কথাই বলি৷ আমি কুদ্দুস বয়াতী এক টাকা হাতে নিয়ে এই গান শুরু করেছি৷ গানই আমার পেশা, গানই আমার সব৷ আমি কিন্তু কুদ্দুইচ্চা থেকে কুদ্দুস বয়াতী হয়েছি, সেটা অনেক পরিশ্রম করে৷ প্রতিটি জেলায় যদি একটা করে লোকজ ইনস্টিটিউট করা যায়, সেখানে ওই জেলার শিল্পীদের তালিকা থাকবে, যারা মারা গেছে তার গানগুলো সেখানে সংগৃহীত হবে৷ এখন তো সবকিছু ডিজিটাল হয়ে গেছে, এগুলো সংগ্রহে রাখা তো আরো সহজ৷ আমি নিজেও একটা লোকজ ফাউন্ডেশন করেছি৷ সেখানে লোকজ ইনষ্টিটিউট বা জাদুঘর থাকবে৷ নিজের অর্থ এবং সবার সহযোগিতা নিয়ে এটা আমি শেষ করে যেতে চাই৷

আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

Albanian Shqip

Amharic አማርኛ

Arabic العربية

Bengali বাংলা

Bosnian B/H/S

Bulgarian Български

Chinese (Simplified) 简

Chinese (Traditional) 繁

Croatian Hrvatski

Dari دری

English English

French Français

German Deutsch

Greek Ελληνικά

Hausa Hausa

Hindi हिन्दी

Indonesian Bahasa Indonesia

Kiswahili Kiswahili

Macedonian Македонски

Pashto پښتو

Persian فارسی

Polish Polski

Portuguese Português para África

Portuguese Português do Brasil

Romanian Română

Russian Русский

Serbian Српски/Srpski

Spanish Español

Turkish Türkçe

Ukrainian Українська

Urdu اردو