1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

ফরমালিন বন্ধে নির্দেশনা

হারুন উর রশীদ স্বপন, ঢাকা১৬ জুলাই ২০১৪

ফলে ফরমালিনের ব্যবহার বন্ধ করতে সরকারকে পাঁচ দফা নির্দেশনা দিয়েছে হাই কোর্ট৷ এর মধ্যে একটি হলো ছয় মাসের মধ্যে সব স্থল ও সমুদ্রবন্দরে ‘কেমিকেল টেস্ট ইউনিট' স্থাপন করতে হবে৷

https://p.dw.com/p/1CdbF
Bangladesch Litschies Ernte
ছবি: DW/M. Mamun

‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ' ২০১০ সালে ফলে ফরমালিনের ব্যবহার বন্ধে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করে৷ ঐ আবেদনের শুনানি শেষে ২০১০ সালের ১০ মে হাই কোর্ট একটি রুল দেয়৷ ২০১২ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের বেঞ্চ ফরমালিনসহ ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার বন্ধে ৫ দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দেন৷ মঙ্গলবার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে৷

রায়ে বলা হয়েছে, ছয় মাসের মধ্যে দেশের সব স্থল ও সমুদ্রবন্দরে ‘কেমিকেল টেস্ট ইউনিট' স্থাপন করতে হবে, যেন আমদানি করা ফল রাসায়নিক পরীক্ষার পর বাজারে ছাড়া হয় এবং রাসায়নিক দ্রব্য মেশানো কোনো ফল দেশে প্রবেশ করতে না পারে৷

আমে ফরমালিনসহ সবধরনের রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার বন্ধে রাজশাহীসহ দেশের অন্যান্য আম উৎপাদনকারী এলাকায় আমের মৌসুমে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করতে হবে৷

কমিটি করে সারাবছর সব ফলের বাজার ও সংরক্ষণাগার পর্যবেক্ষণ করতে হবে যেন কেউ রাসায়নিক দ্রব্য মিশিয়ে ফল বিক্রি করতে না পারে৷

ফলে রাসায়নিক দ্রব্য মেশানোর বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি সার্কুলার জারি করতে বলেছে হাইকোর্ট, যাতে এর মূল হোতাদের বিচার করা যায়৷

অবশ্য এরইমধ্যে ফরমালিনের অপব্যবহার রোধে সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবনের বিধান রেখে গত ৩০ জুন ‘ফরমালিন নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৪' এর চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা৷ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২০ লাখ টাকা জরিমানার বিধানও রাখা হয়েছে খসড়া আইনে৷

Symbolbild Indien Mädchen Hausarbeit Hausmädchen Ausbeutung
রায়ে বলা হয়েছে, কমিটি করে সারাবছর সব ফলের বাজার ও সংরক্ষণাগার পর্যবেক্ষণ করতে হবেছবি: NOAH SEELAM/AFP/Getty Images

এই আইন পাস হলে লাইসেন্স ছাড়া কেউ ফরমালিন আমদানি, উৎপাদন, পরিবহণ, মজুদ, বিক্রয় ও ব্যবহার করতে পারবে না৷ লাইসেন্স প্রাপ্তরা ফরমালিনের হিসাব দেখাতে বাধ্য থাকবেন এবং নিয়মিত ফরমালিন কেনাবেচার হিসাব রাখবেন৷

নীতিমালা নেই

বাংলাদেশে ফরমালিন আমদানিতে এখনো কোনো নীতিমালা নেই৷ আমদানি নীতি অনুযায়ী কোনো কারণ দেখানো ছাড়াই ফরমালিন আমদানি করা যায়৷ তবে সাধারণত মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্য ফরমালিন আমদানির কথা বলা হয়৷ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী গত অর্থবছরে ৩৮টি প্রতিষ্ঠান ২০৫ টন ফরমালিন আমদানি করেছে৷

বাংলাদেশ পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের হিসাব অনুযায়ী বছরে বাংলাদেশে ফরমালিনের চাহিদা ৫০ টনের বেশি নয়৷ অথচ আমদানি করা হচ্ছে চাহিদার চেয়ে চার গুণ বেশি৷ এই বাড়তি ফরমালিন ফলমূলে ব্যবহার করা হয়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ৷

বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব পাবলিক হেলথ দুই বছর ধরে ৫০টি পণ্যের ১০,২৮৯টি নমুনা পরীক্ষা করে৷ নমুনায় দেখা যায়, বাংলাদেশে বহুল প্রচলিত ৫০টি পণ্যের ৪৭টিতে মানব শরীরের জন্য ক্ষতিকর মাত্রার চেয়েও বেশি মাত্রার ফরমালিনের মিশ্রণ রয়েছে৷ পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন রাজধানীর বিভিন্ন বাজার থেকে সংগৃহীত আম, লিচু ও জামে বিষাক্ত ফরমালিনের উপস্থিতি পেয়েছে৷

গত ১১ জুন থেকে পুলিশ ঢাকায় ফরমালিন বিরোধী অভিযান শুরু করার পর ব্যবসায়ীদের চাপের মুখে তা থমকে গেছে৷ হাইকোর্টে রিটকারী আইনজীবী মনজিল মোরসেদ ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘হাইকোর্ট নিয়মিত পদক্ষেপের কথা বলেছেন৷ সুবিধা অনুযায়ী অনিয়মিত কোনো ব্যবস্থা নয়৷''

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য

এই বিষয়ে আরো তথ্য