বদলে যাচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের জীবনধারা

বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের জীবন বদলে যাচ্ছে৷ নোনা পানির এলাকার মানুষরা এখন তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত৷ চলুন সেই পরিবর্তনের একটি চিত্র আপনাদের জানাই৷

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

চর আত্রা৷ দক্ষিণের নদীতে গড়ে ওঠা একটি চর৷ সেই চরের মানুষের এক সময় ঘর ভর্তি থাকতো সোনালি পাকা ধান৷ পুকুরে মিঠা পানির মাছ৷ আর বাড়ির উঠোনে ঘুরে বেড়াতো নানা রঙের মুরগি৷ ঘূর্ণিঝড় আইলার পর সেখানকার মানুষের উপর নেমে এসেছে এক অভিশাপ৷ এই অভিশাপের জন্য তারা কোন ভাবেই দায়ী নয়৷ পুকুরে মিঠা পানির বদলে নোনা পানি৷ জমিতে উৎপাদন গেছে কমে৷ জীবন চালাতে এখন হিমশিম খেতে হয় সেখানকার মানুষদের৷ তাই তারা এবার ভবিষ্যৎ চিন্তা করে নতুন এক পন্থা গ্রহণ করেছেন৷ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাদের এই চরের অধিকাংশ এলাকা ডুবে যেতে পারে৷ তারা তাই এখন থেকেই তাদের জীবনযাত্রার ব্যবস্থা বদলাতে শুরু করেছেন৷ এখন সেখানে গেলে বাড়ির উঠোনে দেখা মেলে না রঙ বেরঙের মুরগি৷ প্যাক প্যাক শব্দ করে ঘুরে বেড়াতে দেখা যাবে হাঁসের পাল৷ কিন্তু কেন! প্রশ্নের উত্তরে ঐ এলাকার মানুষদের অভিমত, যদি পানি এসে তাদের জমিজমা ভাসিয়ে দেয়, তাহলে মুরগির কি হবে? তাই হাঁস৷ হাঁসেরা ভেসে বেড়াতে পারবে পানিতে৷ উপার্জনে সমস্যা সৃষ্টি হবে না৷ এবার তাহলে একটু তাকানো যাক বাড়ির পাশে৷ সেখানে দেখতে পাবেন লতানো বিভিন্ন গাছ! এ ধরণের এতো গাছ কেন! একই উত্তর৷ এ ধরণের গাছ বন্যার পানিতে নষ্ট হবে না, পানি এলেও গাছ থেকে সব্জি পাওয়া যাবে৷ বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাকে দিয়ে তারা এখন খোঁজ করাচ্ছেন বন্যার পানিতে বেঁচে থাকতে পারে এমন ধানের জাত৷

জানা যায়, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বদলে গেছে উপকূলবর্তী গ্রামগুলোর কৃষি ব্যবস্থা৷ এক সময়ের দুই ও তিন ফসলি জমিগুলো এখন এক ফসলি হয়ে গেছে৷ লবণাক্ততার পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বছরে একটি ফসল চাষ করা যায়৷ অতিবৃষ্টি ও অনাবৃষ্টির কারণেও চাষাবাদে বিঘ্ন ঘটে৷ যে ফসল চাষ করা হয় তা থেকেও আশানুরূপ ফলন আসে না৷ এতে স্থানীয় অনেক কৃষক তাদের পূর্ব পুরুষের পেশা ত্যাগ করে অন্যদিকে ঝুঁকে পড়ছে৷ যাদের নিজস্ব জমি নেই এবং আর্থিক অবস্থা খারাপ তারা দিনমজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছে৷ ভাগ্যান্বেষণে ঢাকায় পাড়ি জমিয়েছে অনেক দরিদ্র কৃষক৷ সমুদ্র তীরবর্তী হওয়ার কারণে প্রতিটি ঘূর্ণিঝড় পটুয়াখালীর উপকূলবর্তী এলাকায় হানা দেয়৷ গ্রামবাসীরা জানায়, সিডরের পর পানি দ্রুত সরে গেলেও ঘূর্ণিঝড় আইলার পর অনেক জমিতে ৭/৮ দিন পানি জমে থাকে৷ এতে জমিগুলো মাত্রাতিরিক্ত লবণাক্ত হয়ে পড়ে৷ লবণাক্ততার কারণে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে বেশির ভাগ পুকুর৷ সে সব এলাকায় খাবার পানির সংকট৷

উদ্বেগজনক বিষয় হচ্ছে সমুদ্র-উচ্চতা এক মিটার বৃদ্ধি পেলে আমাদের দেশের ১৮ শতাংশ পানিতে নিমজ্জিত হবে এবং সরাসরি ১১ শতাংশ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে৷ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে প্রায় একশ' কোটি মানুষ উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে বলে আশঙ্কা৷ বাংলাদেশের প্রতি ৭ জনে একজন জলবায়ু পরিবর্তনের শিকারে পরিণত হবে৷

এ অবস্থা মোকাবিলায় বাংলাদেশ সবগুলো বড় নদী ক্যাপিটাল ড্রেজিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ ফলে নদীগুলোর স্বাভাবিক গতি বজায় থাকবে, নদীর পানি ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, বন্যা নিয়ন্ত্রণ হবে, ডুবে যাওয়া কৃষি জমি পুনরুজ্জীবিত হবে৷ নদীগুলো নৌ-চলাচলের উপযোগী থাকবে৷ মাটির বাঁধ নির্মাণ করা হবে এবং সেগুলোকে সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে উঁচু করা হবে৷ ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের জন্য ঘরবাড়ি নির্মাণ করা হবে যাতে তারা শহরগুলোতে ভিড় না জমায়৷

কিন্তু মারণসংকট জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য বহুলাংশে দায়ী যে দেশগুলো তারা আগামী সাত ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনে কি করবে? তারা কি এই পরিবর্তন মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবার ঘোষণা দেবে? এখন বাংলাদেশের মত স্বল্পোন্নত দেশগুলো সেই ঘোষণার অপেক্ষায়৷

প্রতিবেদক: সাগর সরওয়ার

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

এ অবস্থা মোকাবিলায় বাংলাদেশ সবগুলো বড় নদী ক্যাপিটাল ড্রেজিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ ফলে নদীগুলোর স্বাভাবিক গতি বজায় থাকবে, নদীর পানি ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, বন্যা নিয়ন্ত্রণ হবে, ডুবে যাওয়া কৃষি জমি পুনরুজ্জীবিত হবে৷ নদীগুলো নৌ-চলাচলের উপযোগী থাকবে৷ মাটির বাঁধ নির্মাণ করা হবে এবং সেগুলোকে সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে উঁচু করা হবে৷ ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের জন্য ঘরবাড়ি নির্মাণ করা হবে যাতে তারা শহরগুলোতে ভিড় না জমায়৷

কিন্তু মারণসংকট জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য বহুলাংশে দায়ী যে দেশগুলো তারা আগামী সাত ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনে কি করবে? তারা কি এই পরিবর্তন মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবার ঘোষণা দেবে? এখন বাংলাদেশের মত স্বল্পোন্নত দেশগুলো সেই ঘোষণার অপেক্ষায়৷

প্রতিবেদক: সাগর সরওয়ার

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

চর আত্রা৷ দক্ষিণের নদীতে গড়ে ওঠা একটি চর৷ সেই চরের মানুষের এক সময় ঘর ভর্তি থাকতো সোনালি পাকা ধান৷ পুকুরে মিঠা পানির মাছ৷ আর বাড়ির উঠোনে ঘুরে বেড়াতো নানা রঙের মুরগি৷ ঘূর্ণিঝড় আইলার পর সেখানকার মানুষের উপর নেমে এসেছে এক অভিশাপ৷ এই অভিশাপের জন্য তারা কোন ভাবেই দায়ী নয়৷ পুকুরে মিঠা পানির বদলে নোনা পানি৷ জমিতে উৎপাদন গেছে কমে৷ জীবন চালাতে এখন হিমশিম খেতে হয় সেখানকার মানুষদের৷ তাই তারা এবার ভবিষ্যৎ চিন্তা করে নতুন এক পন্থা গ্রহণ করেছেন৷ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাদের এই চরের অধিকাংশ এলাকা ডুবে যেতে পারে৷ তারা তাই এখন থেকেই তাদের জীবনযাত্রার ব্যবস্থা বদলাতে শুরু করেছেন৷ এখন সেখানে গেলে বাড়ির উঠোনে দেখা মেলে না রঙ বেরঙের মুরগি৷ প্যাক প্যাক শব্দ করে ঘুরে বেড়াতে দেখা যাবে হাঁসের পাল৷ কিন্তু কেন! প্রশ্নের উত্তরে ঐ এলাকার মানুষদের অভিমত, যদি পানি এসে তাদের জমিজমা ভাসিয়ে দেয়, তাহলে মুরগির কি হবে? তাই হাঁস৷ হাঁসেরা ভেসে বেড়াতে পারবে পানিতে৷ উপার্জনে সমস্যা সৃষ্টি হবে না৷ এবার তাহলে একটু তাকানো যাক বাড়ির পাশে৷ সেখানে দেখতে পাবেন লতানো বিভিন্ন গাছ! এ ধরণের এতো গাছ কেন! একই উত্তর৷ এ ধরণের গাছ বন্যার পানিতে নষ্ট হবে না, পানি এলেও গাছ থেকে সব্জি পাওয়া যাবে৷ বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাকে দিয়ে তারা এখন খোঁজ করাচ্ছেন বন্যার পানিতে বেঁচে থাকতে পারে এমন ধানের জাত৷

জানা যায়, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বদলে গেছে উপকূলবর্তী গ্রামগুলোর কৃষি ব্যবস্থা৷ এক সময়ের দুই ও তিন ফসলি জমিগুলো এখন এক ফসলি হয়ে গেছে৷ লবণাক্ততার পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বছরে একটি ফসল চাষ করা যায়৷ অতিবৃষ্টি ও অনাবৃষ্টির কারণেও চাষাবাদে বিঘ্ন ঘটে৷ যে ফসল চাষ করা হয় তা থেকেও আশানুরূপ ফলন আসে না৷ এতে স্থানীয় অনেক কৃষক তাদের পূর্ব পুরুষের পেশা ত্যাগ করে অন্যদিকে ঝুঁকে পড়ছে৷ যাদের নিজস্ব জমি নেই এবং আর্থিক অবস্থা খারাপ তারা দিনমজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছে৷ ভাগ্যান্বেষণে ঢাকায় পাড়ি জমিয়েছে অনেক দরিদ্র কৃষক৷ সমুদ্র তীরবর্তী হওয়ার কারণে প্রতিটি ঘূর্ণিঝড় পটুয়াখালীর উপকূলবর্তী এলাকায় হানা দেয়৷ গ্রামবাসীরা জানায়, সিডরের পর পানি দ্রুত সরে গেলেও ঘূর্ণিঝড় আইলার পর অনেক জমিতে ৭/৮ দিন পানি জমে থাকে৷ এতে জমিগুলো মাত্রাতিরিক্ত লবণাক্ত হয়ে পড়ে৷ লবণাক্ততার কারণে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে বেশির ভাগ পুকুর৷ সে সব এলাকায় খাবার পানির সংকট৷

উদ্বেগজনক বিষয় হচ্ছে সমুদ্র-উচ্চতা এক মিটার বৃদ্ধি পেলে আমাদের দেশের ১৮ শতাংশ পানিতে নিমজ্জিত হবে এবং সরাসরি ১১ শতাংশ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে৷ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে প্রায় একশ' কোটি মানুষ উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে বলে আশঙ্কা৷ বাংলাদেশের প্রতি ৭ জনে একজন জলবায়ু পরিবর্তনের শিকারে পরিণত হবে৷

এ অবস্থা মোকাবিলায় বাংলাদেশ সবগুলো বড় নদী ক্যাপিটাল ড্রেজিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ ফলে নদীগুলোর স্বাভাবিক গতি বজায় থাকবে, নদীর পানি ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, বন্যা নিয়ন্ত্রণ হবে, ডুবে যাওয়া কৃষি জমি পুনরুজ্জীবিত হবে৷ নদীগুলো নৌ-চলাচলের উপযোগী থাকবে৷ মাটির বাঁধ নির্মাণ করা হবে এবং সেগুলোকে সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে উঁচু করা হবে৷ ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের জন্য ঘরবাড়ি নির্মাণ করা হবে যাতে তারা শহরগুলোতে ভিড় না জমায়৷

কিন্তু মারণসংকট জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য বহুলাংশে দায়ী যে দেশগুলো তারা আগামী সাত ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনে কি করবে? তারা কি এই পরিবর্তন মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবার ঘোষণা দেবে? এখন বাংলাদেশের মত স্বল্পোন্নত দেশগুলো সেই ঘোষণার অপেক্ষায়৷

প্রতিবেদক: সাগর সরওয়ার

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

সংশ্লিষ্ট বিষয়

6 ছবি
মিডিয়া সেন্টার | 1 ঘণ্টা আগে

রাজনীতিবিদদের বিতর্কিত পোশাক

খেলাধুলা | 2 ঘণ্টা আগে

মাঠে দুর্দান্ত ব্রাজিল, ২ গোল