বলিউডের পুরুষতান্ত্রিকতাকে একহাত নিলেন কঙ্গনা

নায়কপ্রধান গল্প, তাঁদের স্বেচ্ছাচারিতা, পারিশ্রমিকে বৈষম্য, পরিবারের আধিপত্য, নায়িকাদের পণ্য হিসেবে দেখানো – বলিউডের এমনই সব নির্মম সত্য গানে গানে তুলে ধরেছেন কঙ্গনা রানাউত৷ তুলে ধরেছেন বলিউডের পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতাকে৷

ভারতের কমেডি গ্রুপ অল ইন্ডিয়া বাকচোদ বা এআইবি-এর সঙ্গে মিলে নতুন এই গানে অংশ নিয়েছেন কঙ্গনা৷ ‘কজ আই হ্যাভ ভ্যাজাইনা রে' শিরোনামের এই গানের মাধ্যমে তিনি বলেছেন, নারী এখনও বলিউডে কেবলই পণ্য৷ আত্মমর্যাদা নিয়ে থাকতে চাইলে তাই তাঁদের চলে যেতে হয় পর্দার আড়ালে৷

বলিউডে নায়িকারা এখনও পরিচালকদের কাছে এতই কম গুরুত্বপূর্ণ যে তাঁদের নামও কোনো কোনো ক্ষেত্রে মনে রাখতে পারেন না তাঁরা৷ চরিত্র যা-ই হোক না কেন, পরিচালকের কথামতো চটুল সব সংলাপ আউড়ানো আর গানের কথায় নাচতে হয় তাঁদের৷ স্ক্রিপ্টে এ সবের পরিবর্তন চাইলে পুরুষ পরিচালকের তিরস্কার শুনতে হয়, শুনতে হয় ফিল্ম হিট করানোর বাহানা৷ অথচ ঐ একই দাবি নায়ক করলে তিনি ‘স্মার্ট' বলে বাহবা পান৷

প্রতিষ্ঠিত নায়করা নিজের খুশিমতো শুটিং সেটে হাজির হন, স্ক্রিপ্ট না পড়েই ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে পড়েন৷ কখনও তাঁদের ইচ্ছেমতো নায়িকা নির্ধারণ করা হয়৷ কখনও আবার শুটিং করার পরও সিনেমা থেকে বাদ পড়েন নায়িকারা৷ পঞ্চাষোর্ধ নায়করা এখনও যেখানে দিব্যি তাঁদের অর্ধেক বয়সি নারীদের সঙ্গে সিনেমা করে চলেছেন, সেখানে বিয়ে হলেই নায়িকাদের কপালে আর সিনেমা জুটছে না৷ এ সমস্ত নানা  অসঙ্গতি উঠে এসেছে ভিডিওটিতে৷

মামা-চাচার জোর যে বলিউডেও আছে, সেই প্রসঙ্গও উঠে এসেছে এই গানে৷ যাঁর পারিবারিক ভিত যত মজবুত, তাঁর ক্যারিয়ারও তত স্বর্ণালী ৷ পত্রিকার প্রচ্ছদে নিজের ‘ক্লিভেজ' বা বুকের ভাঁজ দেখাতে যে নায়িকা পিছ-পা হন না, তাঁর চাহিদাও তত বেশি হয়৷

সত্য ও স্পষ্টবাদী হিসেবে খ্যাত কঙ্গনা রানাউতের সঙ্গে এআইবি-র সদস্যরাও অভিনয় করেছেন গানের ভিডিওতে৷

সমাজ

কারিনা কাপুর খান

‘‘ঈশ্বর এটা সৃষ্টি করেছেন৷ মাসিক একটা স্বাভাবিক জিনিস৷ তাই আমরা কীভাবে বলতে পারি যে মাসিক চলাকালীন নারীরা অপবিত্র? কেন মেয়েদের এ কারণে নোংরা ভাবা হবে এবং এই একই কারণে মেয়েরা স্কুলে যেতে পারবে না?

সমাজ

টুইঙ্কেল খান্না

‘‘স্যানিটারি প্যাড নিয়ে এমন আচরণ করা হয় যেন এগুলো রেডিওঅ্যাকটিভ আইসোটোপ বা তেজষ্ক্রিয় পদার্থ৷ দোকানে কিনতে গেলে খবরের কাগজ দিয়ে ঢেকে গোপনে দেয়া হয়৷ এটা কী এমন ব্যাপার যে পুরুষরা যদি এই প্যাকেট সম্পর্কে জেনে ফেলে যে এটা ‘হুইসপার উইথ উইংস’ এবং জানার সাথে তারা ভেঙ্গে পড়বে?’’

সমাজ

কঙ্গনা রানাউত

‘‘মাসিকের রক্ত নিয়ে কেউ যদি কথা বলে সেটা নিয়ে মোটেও আমি বিচলিত হই না৷ কেবল এটাকে বিশাল একটা কিছু না ভাবলেই হলো৷ এর ফলেই আমাদের মধ্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার হওয়ার সামর্থ্য জন্মে৷ পুরুষদের শরীরের নির্গত ফ্লুইড নিয়ে যদি এত কথা না হয়, তাহলে মেয়েদের শরীর নিঃসৃত তরল নিয়ে এত বাড়াবাড়ি করার কিছুই নেই৷’’

সমাজ

গুল পানাগ

‘‘ঋতুস্রাব বা মাসিক খুব স্বাভাবিক একটা প্রক্রিয়া৷ কোনো মেয়ের এটা নিয়ে অস্বস্তিতে পড়ার কারণ নেই৷ এ বিষয়ে নিশ্চুপ থাকা মানে এ বিষয়ে শিক্ষার অধিকার থেকে আমাদের বঞ্চিত করা, যেটা কিনা মেনোপজের আগ পর্যন্ত আমাদের জীবনের মাসিক ঘটনা৷’’

সমাজ

পরিনীতি চোপড়া

‘‘এটা ভীষণ লজ্জাজনক যে পুরুষরা এখনো মাসিক সম্পর্কে সচেতন নয়৷ এটা আরও দুঃখজনক যে তারা এটাকে সমস্যা বলে মনে করে৷ একবিংশ শতাব্দীতেও আমরা এ ধরনের কথা বলছি!’’

সমাজ

কালকি কোচলিন

‘‘যখন আমরা আমাদের মাসিক চলাকালীন সময়টা নির্বিঘ্নে পার করছি, তখন হাজার হাজার মেয়েকে নানা কুসংস্কার ও প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে৷ তাই আমি মেয়েদের বলতে চাই, সব কুসংস্কার ভেঙ্গে সামনে এগিয়ে চল৷’’

সমাজ

শ্রদ্ধা কাপুর

‘‘আমি স্কুলে মাসিক নিয়ে ছেলেদের সঙ্গে মজা করতাম৷ আমার যে মাসিক চলছে সেটাও তাদের জানিয়ে দিতাম৷ তারা বলতো, ‘তুই কীভাবে নির্দ্বিধায় এটা বলিস?’ আমি বলতাম, ‘এই যে আমি বললাম৷’

এএম/ডিজি