বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়, ম্যাচ সেরা সাকিব

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্ট বাংলাদেশ জিতেছে ২০ রানে৷ প্রথমবারের মত অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লো টাইগাররা৷ ১০টি উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা সাকিব আল হাসান৷

নিজেদের ৫০তম টেস্টকে স্মরণীয় করে রাখলেন সাকিব আল হাসান এবং তামিম ইকবাল৷ তামিম আর সাকিবের অসাধারণ নৈপুণ্যে বাংলাদেশ দল সৃষ্টি করলো ইতিহাস৷

ডেভিড ওয়ার্নার আর স্টিভ স্মিথের ১৩০ রানের জুটি বাংলাদেশকে প্রায় ছিটকে দিয়েছিল ম্যাচ থেকে৷ কিন্তু সাকিব এই জুটিকে বিচ্ছিন্ন করেন৷ ডেভিড ওয়ার্নারের ব্যাট থেকে এসেছে ১১২ রান৷ স্মিথ আউট হয়েছে ৩৭ রানে৷ তৃতীয় দিনে ২২১ রানে থেমেছিল বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস৷ এরপর ২৬৫ রানের লক্ষ্য নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করছে অস্ট্রেলিয়া৷

মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করার পর শুরুতেই মিরাজ আর সাকিবের বলে অসহায় মনে হয় ব্যাটসম্যানদের৷ আউট হয়ে যান ম্যাথু রেনশ ও ওসমান খাজা৷ ২৮ রানে ২ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া৷ কিন্তু এরপর দলের হাল ধরেন ওয়ার্নার ও স্মিথ৷ দিন শেষে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ২ উইকেট হারিয়ে ১০৯ রান৷ 

এর আগে তামিম ইকবালের ৭৮ আর মুশফিকুর রহিমের ৪১ রানের ওপর ভর করে দ্বিতীয় ইনিংসে ২২১ রান করে স্বাগতিকরা৷ প্রথম সেশনে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল টাইগারদের হাতে৷ তাইজুল আর ইমরুল ফিরে গেলেও শক্ত হাতে হাল ধরেছিলেন তামিম ইকবাল ও অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম৷ দিনের শুরুতে বাংলাদেশকে ৬১ রানে রেখে বিদায় নেন তাইজুল৷ মাত্র ৪ রান করে আউট হন তিনি৷ এরপর ইমরুল কায়েসও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি৷ প্রথম ইনিংসে শূন্য হাতে ফেরা ইমরুল কায়েস দ্বিতীয় ইনিংসে করেছেন মাত্র ২ রান৷

খেলাধুলা

জানুয়ারি ৬-১০, ২০০৫, প্রতিপক্ষ জিম্বাবোয়ে: বাংলাদেশ ২২৬ রানে জয়ী

টাইগাররা প্রথমবারের মতো টেস্ট জয়ের স্বাদ পায় চট্টগ্রামে৷ ২০০৫ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে প্রথম ইনিংসে ৪৮৮ রান তোলে স্বাগতিকরা৷ আর দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে ৯ উইকেটে ২০৪ রান করে৷ প্রথম ইনিংসে জিম্বাবোয়ের স্কোর ছিল ৩১২ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ১৫৪ রান৷

খেলাধুলা

জুলাই ৯-১৩, ২০০৯, প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ: বাংলাদেশ ৯৫ রানে জয়ী

দেশের বাইরে বাংলাদেশ প্রথম টেস্ট জয়ের দেখা পায় ২০০৯ সালের ১৩ জুলাই৷ কিংসটাউনে সেই টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৯৫ রানে হারায় টাইগাররা৷

খেলাধুলা

জুলাই ১৭-২০, ২০০৯, প্রতিপক্ষ ওয়েস্টইন্ডিজ: বাংলাদেশ চার উইকেটে জয়ী

সেবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর ছিল সাফল্যে ঠাসা৷ দ্বিতীয় টেস্টে সেন্ট জর্জেসে স্বাগতিকদের হারায় টাইগাররা, সেবার জিতেছিল চার উইকেটে৷

খেলাধুলা

এপ্রিল ২৫-২৯, ২০১৩, প্রতিপক্ষ জিম্বাবোয়ে: বাংলাদেশ ১৪৩ রানে জয়ী

জিম্বাবোয়ের হারারেতে স্বাগতিকদের আবার ‘বধ’ করে টাইগাররা৷ প্রথম ইনিংসে ৩৯১ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৯ উইকেটে ২৯১ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ৷ জবাবে প্রথম ইনিংসে ২৮২ আর দ্বিতীয় ইনিংসে ২৫৭ রানেই গুটিয়ে যায় জিম্বাবোয়ে৷

খেলাধুলা

অক্টোবর ২৫-২৭, ২০১৪, প্রতিপক্ষ জিম্বাবোয়ে: বাংলাদেশ তিন উইকেটে জয়ী

ঢাকায় বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়৷ তিন দিনে শেষ হওয়া সেই টেস্টে শুরুতে ব্যাট করতে গিয়ে প্রথম ইনিংসে ২৪০ রান করে জিম্বাবোয়ে৷ আর দ্বিতীয় ইনিংসে তাদের সংগ্রহ ছিল ১১৪৷ অন্যদিকে, প্রথম ইনিংসে ২৫৪ আর দ্বিতীয় ইনংসে ৭ উইকেটে ১০৭ রান তুলে জিতে যায় স্বাগতিকরা৷

খেলাধুলা

নভেম্বর ৩-৭, ২০১৪, প্রতিপক্ষ জিম্বাবোয়ে: বাংলাদেশ ১৬২ রানে জয়ী

খুলনায় জিম্বাবোয়েকে হারায় বাংলাদেশ৷ সেই টেস্ট পাঁচ দিন পর্যন্ত গড়ালেও শেষমেশ তেমন একটা সুবিধা করতে পারেনি জিম্বাবোয়ে৷ ফলাফল স্বাগতিকদের ১৬২ রানের জয়৷

খেলাধুলা

নভেম্বর ১২-১৬, ২০১৪, প্রতিপক্ষ জিম্বাবোয়ে: বাংলাদেশ ১৮৬ রানে জয়ী

আবারো চট্টগ্রামে জিম্বাবোয়েকে হারায় টাইগাররা৷ সেবার ব্যবধান ছিল ১৮৬ রানের৷

খেলাধুলা

অক্টোবর ২৮-৩০, ২০১৬, প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড: বাংলাদেশ ১০৮ রানে জয়ী

এখন পর্যন্ত বড় কোনো ক্রিকেট শক্তির বিরুদ্ধে বাংলাদেশের একমাত্র টেস্ট জয় এটি৷ ঢাকায় ইংল্যান্ডকে নাস্তানাবুদ করে টাইগাররা৷

খেলাধুলা

মার্চ ১৫-১৯, ২০১৭, প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা: বাংলাদেশ ৪ উইকেটে জয়ী

একদিকে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের শততম ম্যাচে জয়, অন্যদিকে প্রথমবারের মত শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে জয়-দুই দিক দিয়েই ঐতিহাসিক বাংলাদেশের এই টেস্ট ম্যাচটি৷ পঞ্চম দিনে ৪ উইকেটে জয় নিশ্চিত করে টাইগাররা৷ ম্যাচ সেরা হয়েছেন তামিম ইকবাল৷

খেলাধুলা

আগস্ট ২৭-৩০, ২০১৭, প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া: বাংলাদেশ ২০ রানে জয়ী

প্রথমবারের মত অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশ ইতিহাস গড়ে৷ এটা ছিল সাকিব ও তামিমের ৫০তম টেস্ট। সাকিব মোট ১০ উইকেট নিয়ে এবং তামিম দুই ইনিংসেই অর্ধশত করে স্মরণীয় করে রাখলেন এই টেস্টকে৷ ম্যাচ সেরা সাকিব আল হাসান৷ দ্রষ্টব্য: ইএসপিএন ক্রিকইনফো থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ছবিঘরটি তৈরি করা হয়েছে৷

তবে মধ্যাহ্ন বিরতির পরই ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশ৷ তামিমের পর সাকিব আল হাসানও খুব দ্রুত আউট হয়ে যান৷ স্কোর বোর্ডে কোনো রান যোগ না করেই ৩ উইকেট হারিয়ে হঠাৎ বিপাকে পড়েছিল বাংলাদেশ৷ ১৮৬/৫ থেকে মুহূর্তেই ১৮৬/৮! ওই সুযোগেই ম্যাচে ফিরে আসে অস্ট্রেলিয়া৷ তবে মেহেদী হাসান মিরাজ চা-বিরতির আগে আর কোনো বিপদ হতে দেননি৷ শফিউলকে নিয়ে বাকি সময়টা কাটিয়ে দিয়েছেন, দলকে এনে দিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ আরও ২৬টি রান৷ প্রথম ইনিংসে ৪৩ রানের লিড নেওয়া বাংলাদেশ জয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়াকে দিয়েছে ২৬৫ রানের লক্ষ্য৷ ন্যাথান লায়ন ৮২ রানে নিয়েছেন ৬ উইকেট৷

মুশফিকের অদ্ভুত আউট:

মুশফিকের আউটটা ছিল একেবারেই অবাক হবার মতো৷ ননস্ট্রাইক প্রান্তে ক্রিজে না থাকার মাশুল গুণতে হয়েছে মুশফিককে৷ লায়নের হাত ছুঁয়ে বল স্টাম্পে যাওয়ায় রানআউট হয়েছেন তিনি৷ 

তামিমের রেকর্ড:

বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তামিম ইকবাল৷ মিরপুরে ক্যারিয়ারের ৫০তম টেস্টে অর্ধশতক তুলে নিয়েছেন দুই ইনিংসেই৷ প্রথম ইনিংসে ৭১ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে করলেন ৭৮৷ টেস্টে তামিম এ নিয়ে দুই ইনিংসেই হাফ সেঞ্চুরির দেখা পেলেন মোট ছয়বার৷

রবিবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হওয়া ম্যাচে সাকিবের ৮৪ এবং তামিমের ৭১ রানের সুবাদে প্রথম ইনিংসে ২৬০ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ৷ জবাবে ২১৭ রানে গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস৷